প্রমাণ নেই, তবু নীতীশের বিজেপি-ওয়াপসি প্রচারে ব্যস্ত কেন গোদি মিডিয়া?

Rumour of Nitish Kumar Joining NDA: বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং বলছেন, "নীতীশের জন্য আমাদের দরজা এখনও বন্ধ। তবে আমি কর্মীমাত্র। দলের কথাই শেষ কথা।"

Sindhu Som
৩ মিনিট
প্রমাণ নেই, তবু নীতীশের বিজেপি-ওয়াপসি প্রচারে ব্যস্ত কেন গোদি মিডিয়া?

নির্বাচনের আগে আরও একবার লালুপ্রসাদ যাদব ও নীতীশ কুমারের সম্পর্কে ভাঙন প্রচারে উদগ্রীব গোদি মিডিয়া। এ'পর্যন্ত এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যার ভিত্তিতে এই কথা সত্যি বলে দাবি করা সম্ভব। তবু প্রচার করা হচ্ছে, নীতীশ বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। এই জল্পনার নেপথ্যে লালু-কন্যা রোহিণীর তিনটি ট্যুইট রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। পাটনা রাজভবনে গত শুক্রবার, প্রজাতন্ত্র দিবসে 'হাই টি' অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নীতীশ। কিন্তু দেখা যায়নি তেজস্বী যাদবকে। এই ঘটনা গোদি মিডিয়ার প্রচারে আরও ইন্ধন জুগিয়েছে।

সম্প্রতি এক্স হ্যান্ডেল থেকে লালু প্রসাদ যাদবের কন্যা রোহিণী আচার্য তিনটি ট্যুইট করেন। যার সারমর্ম, "সমাজবাদী বলে নিজেকে যাঁরা পরিচয় দেন, তাদেরও মতাদর্শ সুবিধা বুঝে পালটে যায় আজকাল। অন্যের সমালোচনা করায় ব্যস্ত এই সব মানুষেরা নিজেদের ত্রুটিগুলি দেখতে পান না। ওঁর কোনও সন্তান যোগ্য উত্তরসূরী হয়নি, এতে অন্যদের উপর রাগ দেখিয়ে লাভ কী?” মনে করা হচ্ছে, কাপুরি ঠাকুরের শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে নীতিশ রাজনীতিতে স্বজন-পোষণ নিয়ে যে কটাক্ষ করেন, তারই জবাবে ট্যুইট তিনটি করেছিলেন রোহিণী। কিন্তু, কিছুক্ষণের মধ্যে সেগুলি মুছে ফেলেন তিনি। এরপরই গোদি মিডিয়া প্রচার শুরু করে নীতীশ বিজেপি-তে যোগ দিচ্ছেন। রাহুলের 'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা'র আমন্ত্রণ খারিজ করেছেন নীতীশ─বারবার এই কথাকেই তুলে ধরছে তারা।

বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং বলছেন, "নীতীশের জন্য আমাদের দরজা এখনও বন্ধ। তবে আমি কর্মীমাত্র। দলের কথাই শেষ কথা।" এর আগেও এমন গুঞ্জন উঠেছিল। নীতীশকে এ'ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে নীতীশ একে 'ফালতু কথা' বলে উড়িয়ে দেন। বিজেপি নেতা সুশীল মোদি বলেছিলেন, “নীতীশ যদি ক্ষমা চেয়ে নাকখত দেন, তাও তাঁকে ফেরাবে না বিজেপি। ওঁর ক্ষমতা কী? দু'টো ভোট সংগ্রহ করার ক্ষমতা নেই। ফিরিয়ে কী লাভ?” তারপরেও আবার নীতীশ বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন─এমন হাওয়া তৈরি করা হচ্ছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলায় ঢুকেই থমকে গেল কংগ্রেসের 'ন্যায় যাত্রা'! কেন তড়িঘড়ি দিল্লি ফিরলেন রাহুল?

Bharat Jodo Nyay Yatra: কোচবিহার থেকে হঠাৎ করেই গুরুত্বপূর্ণ কারণে দিল্লি ফিরে যেতে হল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধিকে।

আরজেডি সাংসদ মনোজ কুমার ঝা বলেছেন, ‘‘আমরা বিহারের জনগণের কল্যাণার্থে এবং বিজেপিকে পরাজিত করতে একসঙ্গে সরকার গঠন করেছি। কিন্তু নীতীশকে নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা জনজীবনকে প্রভাবিত করছে। শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রীই বিভ্রান্তি দূর করতে পারেন। আমরা আশা করি শীঘ্রই তিনি তা করবেন।’’ ২০১৭ সালে আরজেডি-কংগ্রেস জোট ত্যাগ করে বিজেপির সঙ্গে সরকার গঠন করেছিল নীতীশ নেতৃত্বাধীন জেডিইউ। ২০২২ সালে অগাস্টে আবার বিজেপি-বিরোধী জোটে ফেরেন তিনি।

ইন্ডিয়া ব্লক গঠনে নীতীশের বড় অবদান রয়েছে। কংগ্রেস-বিরোধী দলগুলিকেও একত্রে জোটে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত না হওয়ায় নীতীশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। বিহারে লোকসভা নির্বাচনের ৪০টি আসন রয়েছে। ২০১৯-এ যার ৩৩টি দখল করেছিল বিজেপি-জেইউডি জোট। ফলে নির্বাচনের আগে নীতীশের অবস্থান লোকসভা ভোটে বিহারের ভাগ্য নির্ণয় করবে অনেকখানি। তাই নীতিশকে ইন্ডিয়া জোটের যেমন প্রয়োজন, ঠিক তেমনই প্রয়োজন বিজেপির। প্রয়োজন হলে 'বন্ধ দরজা' খোলার আশ্বাসও দিয়ে রেখেছে তারা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, নীতীশ ইন্ডিয়া জোট ছেড়ে গেলে জোটের ক্ষতি তো হবেই না, উল্টে লাভ হবে। ঘনিষ্ঠ মহলে নাকি মমতা জানিয়েছেন, নীতীশ বিহারের জনতার চোখে অপ্রিয় হয়ে পড়েছেন। বেরিয়ে গেলে তেজস্বীদের কাজ করতে সুবিধা হবে। একসঙ্গে লড়লেও বিহারে ৫-৭টার বেশি আসন পাওয়া যেত না। তাই বিহারে যদি রাজনৈতিক বদলও হয়, তাতে ‘ইন্ডিয়া’র কোনও ক্ষতি হবে না।

এনডিএ জোট আর ইন্ডিয়া জোটের কিছু বৈশিষ্ট্যগত ফারাক রয়েছে। এনডিএ-র একমাত্র মুখ নরেন্দ্র মোদি। তাঁর কথাই শেষ কথা। বিজেপির মতামতের উপরে কথা বলার সাধ্য নেই কারও। ইন্ডিয়া জোটে নানা মতাদর্শের দল রয়েছে। তারা সবাই যে সব সময় কংগ্রেসের সমর্থক, তাও নয়। বিভিন্ন সময়ে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করে থাকে তারা। নীতীশের অবস্থান স্বতন্ত্র হতেই পারে। যে কোনও দলের স্বতন্ত্র চিন্তাভাবনাকে মর্যাদা দেয় ইন্ডিয়া জোট। আর কথা বলার স্বাধীনতা নিয়েই গোদি মিডিয়ার মাথাব্যথা। একে বারবার জোটের দুর্বলতা বলে তুলে ধরতে চায় তারা। জোটের সুস্থ মত বিনিময়কেই ভাঙন হিসেবে তুলে ধরে গোদি মিডিয়া।

নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদি রামমন্দিরে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেছেন। ভাষণে তিনি বলেছেন, রামের পুজো করলেই সমস্ত সমাস্যা দূর হবে। রাম যদি সবই দেবেন, তাহলে নীতীশকে চাইছে কেন বিজেপি?

লিখেছেন
Sindhu Som
Sindhu Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।