কেন ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন সন্দেহজনক?

Special Intensive Revision : ওই খসড়া তালিকা অনুযায়ী, বিহারের জামুই জেলায় চৌডিহা পঞ্চায়েতের আমিন গ্রামের ২৩০ জন বাসিন্দার ঠিকানা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ নম্বর বাড়ি।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
কেন ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন সন্দেহজনক?

বিহারে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬৫ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে তোলপাড় সারাদেশ। এই ঘটনায় সংসদেও সরব হয়েছেন বিরোধীরা। এত কম সময়ে তালিকা প্রকাশের বিরোধিতা করেছেন তাঁরা। রিভিশনে ভুল থাকার সম্ভাবনা দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ এবং সচেতন নাগরিক সমাজ।

১২ অগাস্ট সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, 'নাগরিকত্ব প্রমাণে আধার কার্ড যথেষ্ট নয়'। কার্যত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকেই মান্যতা দিল সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচন কমিশন আগেই দাবি করেছিল, 'তালিকা ত্রুটিমুক্ত করাই ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধনের উদ্দেশ্য'।

সম্প্রতি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী একই নম্বরে একাধিক ভোটারের নাম থাকার বিষয়টি তথ্য সহ দেখিয়ে দিয়েছেন এবং ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলেছেন। সেখানে রাহুল গান্ধীও দাবি করেছেন, এসআইআর প্রাতিষ্ঠানিক চুরি। নির্বাচন কমিশন বিজেপির সঙ্গে মিলিতভাবে এই ভোটচুরি করেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
WB Electoral Roll : নির্বাচন কমিশনের অভূতপূর্ব নির্বাচনী তালিকা সংশোধন এবার বঙ্গেও

West Bengal Election : ভারতের নির্বাচন কমিশন রাজ্যের আধিকারিকদের জানিয়েছেন, নির্বাচনী তালিকার বিতর্কিত স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হবে শীঘ্রই।

পশ্চিমবঙ্গেও ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কথা জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, বিহারে করেছে বাংলায় করতে দেব না।

বিহারের মতো সারাদেশেই এই বিশেষ নিবিড় সংশোধনের মাধ্যমে নাগরিক অধিকার খর্ব করা হবে বলে মনে করছেন দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। দীপঙ্কর ভট্টাচার্য ইনস্ক্রিপ্টকে বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের এই কর্মসূচীকে এনআরসি-র থেকেও ভয়ঙ্কর।

বিহারে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর নির্বাচন কমিশন যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে দেখা গিয়েছে, কারও বাড়ির নম্বর ০। কারও ০০, কারোর আবার আবার ০০০। তালিকায় এমন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষ। ওই খসড়া তালিকা অনুযায়ী, বিহারের জামুই জেলায় চৌডিহা পঞ্চায়েতের আমিন গ্রামের ২৩০ জন বাসিন্দার ঠিকানা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ নম্বর বাড়ি। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, রিভিশনের জন্য কোনো নির্বাচনী আধিকারিকই নাকি আসেননি। বিরোধীদের সংশয় কি তাহলে সত্য? নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তালিকা কি শুধুই মনগড়া? প্রশ্ন হলো, যদি তাই হয়, তাহলে তা কীসের স্বার্থে করা?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন রাজ্যের সরকারী আধিকারিকদের বরখাস্ত করছে নির্বাচন কমিশন?

West Bengal Election: তাঁরা দায়িত্ত্বে থাকাকালীনই ভোটার তথ্য যাচাই এবং সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অসততা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারচুপির তথ্য সামনে এসেছে। এই তথ্য পাওয়ার পরই পদক্ষেপ করে কমিশন।

এই প্রসঙ্গে অমর্ত্য সেন এক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, তড়িঘড়ি ভোটার তালিকার সংশোধনে বড়সড় ভুল থেকে যেতে পারে। দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কারণ, তাঁদের পক্ষে চটজলদি নথি জোগাড় করা কঠিন। এবং এই ভুল সংশোধনে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আরও ভুল ঢুকে পড়লে পরিণতি ভয়ঙ্কর হতে পারে।

এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কেন? এতদিন ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হতো না। কিন্তু বিহারে ভোটার তালিকায় সংশোধনের ক্ষেত্রে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়া হয়েছিল। স্বাধীনতার পর আজ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা সংশোধন হয়নি বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। এমনকি ২০০৩ সালেও এই পদ্ধতি মেনে কাজ হয়নি। এছাড়া আজ পর্যন্ত ১৮ বছর বয়সি কোনো ব্যাক্তি ভোটার তালিকায় তাঁর নাম তুলতে চাইলে, ফর্ম নম্বর ৬ জমা করতে হতো। অন্যদের করতে হতো না। অথচ এই বিশেষ নিবিড় সংশোধনীতে প্রতিটি ভোটারকেই ফর্ম নম্বর ৬ জমা করতে বলা হয়েছে।

রিপোর্টাস কালেক্টিভ প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে, উত্তরপ্রদেশে ১,০০০-এরও বেশি ভোটারকে বিহারের বাল্মীকিনগর আসনের নতুন তালিকায় অবৈধভাবে তালিকাভুক্ত করেছে। দেখা গিয়েছে, ভোটারদের নাম, তাঁদের বয়স দুটি ডাটাবেসেই হুবহু এক ছিল। শুধুমাত্র, তাদের ঠিকানা আলাদা ছিল। হাজার হাজার ভোটারের নামের বানানে ১-৩টি অক্ষর পরিবর্তন করে নতুন তালিকায় নিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই ভাবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে, দুটি ডাটাবেসের বয়সেও সামান্য এদিক ওদিকে করে নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। রিপোর্টার্স কালেক্টিভের ওই প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, নতুন ভোটার তালিকায় বেশিরভাগ নামই কোনো প্রমাণপত্র ছাড়া যুক্ত করা হয়েছে। ওই সংবাদমাধ্যম এমন ৫,০০০-এরও বেশি সন্দেহজনক, জাল ভোটারের প্রমাণ পেয়েছে বলে দাবি করেছে।

সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যম ইলেকশন কমিশনের বিরুদ্ধে আরও কিছু গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। যেমন, ৯ আগস্ট ২০২৫ সালে স্ক্রোলের একটি প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, রাহুল গান্ধীর ভোট চুরি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের পর, নির্বাচন কমিশন বিহারের ভোটার তালিকা অনলাইনে স্ক্যান করা যাবে এমন ছবি সরিয়ে শুধুমাত্র দৃশযোগ্য ছবি দিয়ে রেখেছে। যাতে কেউ স্ক্যান করে তথ্য জানতে না পারে। নিউজলন্ড্রি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিহারের ভোটার তালিকায় ১০ জনের নাম শুধু একটি যতিচিহ্ন দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছিল।

এর জন্যই ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে জমছে প্রশ্নের পাহাড়। কার স্বার্থ রাখতে এই কর্মসূচী নিয়েছে নির্বাচন কমিশন? প্রশ্ন উঠছে দেশজুড়ে।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ট্রাম্পের হারের ৫ কারণ: কেন মুখ ফিরিয়ে নিলেন মার্কিন ভোটাররা?

US Midterm Elections: আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ট্রাম্পের নীতি—রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পাঁচটি মূল কারণ কী কী?

পিস বন্ড কী, কেন দিতে হয়? নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ঔপনিবেশিক আমলের আইন

Peace Bond: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলেই কি দিতে হবে পিস বন্ড? AISA-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে বিতর্কে ঔপনিবেশিক আমলের প্রতিরোধমূলক আইন। ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীন ভারত, CrPC থেকে BNSS—কীভাবে বদলেছে এই আইনি ব্যবস্থা? কেন কাউকে ১০ হাজার টাকার মুচলেকা দিতে বলা হয়? কী বলছে আইন?

রামলীলা ময়দানের সভায় ভিড় দেখাতে এআই ছবি? কতটা সত্যি?

Ramlila Maidan AI image controversy: দিল্লির রামলীলা ময়দানে ১ নভেম্বরের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশে ভিড় ও এআই ছবি ব্যবহার নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বিতর্ক তুঙ্গে। ভাইরাল ছবিগুলোর সত্যতা কী?

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?