ওপেনহাইমারকে 'গোপন চিঠি' পাঠিয়েছিলেন জওহরলাল নেহরু! কী ছিল ওই চিঠিতে?

Robert J Oppenheimer: যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ওপেনহাইমারের সঙ্গে ভাবা দেখা করেন এবং দু'জন ভালো বন্ধু হয়ে ওঠেন।

inscript
৩ মিনিট
ওপেনহাইমারকে 'গোপন চিঠি' পাঠিয়েছিলেন জওহরলাল নেহরু! কী ছিল ওই চিঠিতে?

পরমাণু বোমা তৈরি করেছিলেন। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, ক্ষমতা, আমাদের বিপন্নতায় এর কী প্রভাব পড়েছিল, তার জন্য আর কোনও ব্যাখ্যার প্রয়োজনই নেই। একটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার সারা বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছিল আসলে কত নড়বড়ে আমাদের বেঁচে থাকা, প্রতিবাদ। ক্রিস্টোফার নোলানের সর্বশেষ চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তুই এই বোমা আর তার আবিষ্কারক রবার্ট জে ওপেনহেইমার। আমেরিকান পদার্থবিদ ওপেনহাইমার ছিলেন 'পরমাণু বোমার জনক'। স্বাভাবিকভাবেই সিনেমাটি মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে গুগল কেঁপে উঠেছে এই বিজ্ঞানীর তথ্যের সার্চে। বিজ্ঞানী ওপেনহাইমারের জীবন নিয়ে নতুন করে ফের আগ্রহ দেখা দিয়েছে যার ফলে নিত্য নতুন বিষয় উঠে আসছে যা এই সময়ের নিরিখে বিচার করতে গিয়ে বদলে যাচ্ছে কূটনৈতিক বোঝাপড়া। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বই দাবি করেছে, ওপেনহাইমারকে ভারতে চলে আসতে বলা হয়েছিল। ভারতবর্ষ চেয়েছিল পাকাপাকিভাবে ওপেনহাইমার এখানেই থেকে যান। এই জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বিজ্ঞানীকে। এমনই দাবি করেছেন লেখক বখতিয়ার কে দাদাভয়। হোমি জাহাঙ্গীর ভাবার একটি ৭২৩ পৃষ্ঠার জীবনী লিখেছেন তিনি। এই বছরের এপ্রিলে প্রকাশিত হয়েছে সেই বই। বইটির ছত্রে ছত্রে ওপেনহাইমার এবং ভাবার মধ্যেকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে।

লেখক ওই বই, অর্থাৎ ‘হোমি জে ভাবা : আ লাইফ’-এ বলেছেন, সম্ভাবনা রয়েছে যে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ওপেনহাইমারের সঙ্গে ভাবা দেখা করেন এবং দু'জন ভালো বন্ধু হয়ে ওঠেন। ভাবা ছিলেন ভারতের পরমাণু প্রকল্পের জনক। প্রায়শই একসঙ্গেই খাওয়াদাওয়া করতেন ওপেনহাইমার ও ভাবা। বিষয়টা খুব একটা আশ্চর্য হওয়ার মতো ছিল না। ওপেনহাইমার ভাবার মতোই একজন অত্যন্ত সংস্কৃতিবান মানুষ ছিলেন। ওপেনহাইমার সংস্কৃত পড়েছিলেন এবং ল্যাটিন আর গ্রিক ভাষাও জানতেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আতঙ্ক বিশ্বজুড়ে! ভয়াবহ পরমাণু যুদ্ধর সম্ভাবনা কতটা জোরালো হচ্ছে?

Nuclear war: নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে এই মুহূর্তে পুতিন পরমাণু যুদ্ধর হুমকি দিচ্ছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে আমেরিকা তাঁর তৈরি পারমাণবিক বোমা ফেলার পর ওপেনহাইমার এর পরিণতি দেখে স্তব্ধ হয়ে যান। যখন বোমা তৈরি হচ্ছে, এই ভয়াবহ বস্তুটি তৈরির বিষয়ে তাঁর সহকর্মীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই নৈতিক দ্বিধা দেখা দেয়। বিজ্ঞানকে এভাবে ধ্বংসের কাজে ব্যবহার, তার অভাবনীয় পরিণতি ভাবিয়েছিল বিজ্ঞানীদের। গীতা পড়েছেন ওপেনহাইমার। সহকর্মীদের আশ্বস্ত করেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, তাঁরা কেবল নিজেদের কাজটিই করছেন। অস্ত্রটি কীভাবে ব্যবহার করা উচিত সে সম্পর্কে কে কী সিদ্ধান্ত নেবে এর জন্য তাঁরা দায়ী নন। কিন্তু পরমাণু বোমা তৈরির কাজ হয়ে যাওয়ার পর চিন্তা পরিবর্তন করেন ওপেনহাইমার। আরও অন্যান্য অস্ত্র, বিশেষত হাইড্রোজেন বোমা তৈরির বিরুদ্ধে যুক্তি দেখান তিনি। নিজের এই পালটে যাওয়া মতাদর্শের কারণে ওপেনহাইমারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে সরকার। ১৯৫৪ সালে মার্কিন সরকার ওপেনহাইমারের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র কেড়ে নেয় এবং নীতিগত কোনও সিদ্ধান্তে এরপর আর যুক্ত করা হয়নি বিজ্ঞানীকে। ওপেনহাইমার এবং তাঁর স্ত্রী ক্যাথরিনের বিরুদ্ধে কমিউনিস্টদের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

এই গোটা ঘটনাটিই জানতেন ভাবা। বইটির লেখক লিখছেন, হোমি ভাবার পীড়াপীড়িতেই ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ওপেনহাইমারকে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ১৯৫৪ সালে যখন ওপেনহাইমারের নিরাপত্তা কেড়ে নেয় মার্কিন মুলুক তখন সম্ভবত ভাবার হস্তক্ষেপেই জওহরলাল নেহরু তাঁকে একাধিকবার ভারত সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, যদি ওপেনহাইমারের ইচ্ছা হয় তবে পাকাপাকিভাবেই এদেশে চলে এসে থাকতে পারেন তিনি, জানিয়েছিলেন নেহরু। তবে এই প্রস্তাবে সাড়া দেননি ওপেনহাইমার। তিনি মনে করেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি না মেলা পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে ঠিক হবে না। তাতে তাঁর বিরুদ্ধেই সন্দেহ আরও বেড়ে যাবে।

লেখিকা নয়নতারা সেহগালও তাঁর বই 'জওহরলাল নেহরু: সিভিলাইজিং আ স্যাভেজ ওয়ার্ল্ড' বইতে লিখছেন, নেহরু তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের স্নায়ুযুদ্ধের শক্তিগুলির বিরুদ্ধে তৃতীয় বিশ্বের শক্তিগুলিকে একত্রিত করার জন্য জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। লেখিকার মতে, ওপেনহাইমার বাঙালি কবি এবং শিক্ষাবিদ অমিয় চক্রবর্তীর মাধ্যমে একটি গোপন বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন নেহরুকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
স্পাই নাকি প্রেমিক? পারমাণবিক বোমার সূত্র ‘পাচারের অভিযোগে’ মরতে হয়েছিল যাঁদের

The Rosenberg Trial: ইলেকট্রিক চেয়ারে বসিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল রোজেনবার্গ দম্পতিকে। জুলিয়াস রোজেনবার্গ ও এথেল রোজেনবার্গ। পরমাণু বোমার সূত্র পাচারে একমাত্র প্রাণদণ্ড পাওয়া আসামী।

ওপেনহাইমার বিশ্বাস করতেন, আমেরিকা থোরিয়াম পাওয়ার আশায় ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলছে। যদিও থোরিয়াম ইউরেনিয়ামের মতো বোমা তৈরির উৎকৃষ্ট কাঁচামাল না। তবে থোরিয়াম অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারতে মেলে প্রচুর পরিমাণে। এই মুহূর্তে ভারতেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি থোরিয়াম মেলে।

ওপেনহাইমার নিজে নেহরুকে জানাতে চেয়েছিলেন যে, পরমাণু বোমাতে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এবং মারাত্মক প্রকৃতির কাজ করা হচ্ছে, যে প্রক্রিয়াতে ধাপে ধাপে আমেরিকা ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংসের যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কেন নেহরুকে এমন বার্তা দিলেন ওপেনহাইমার?

লেখিকার মতে ওপেনহাইমার চেয়েছিলেন, মানবতার নামে ভারতকে তার বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার জন্য এবং কোনও জাতীয় বা আন্তর্জাতিক চাপের দ্বারা প্রভাবিত না হতে হয়। মজার বিষয় হলো, ১৯৫০-এর দশকে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কত থোরিয়াম সরবরাহ করেছিল তা জানার জন্য কোনও আইনি রেকর্ড নেই। যদিও ১৯৫০ এবং ১৯৮০-র দশকে আমেরিকার গমের সরবরাহের তথ্য রয়েছে সবটুকু।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।