প্রশ্ন করলেই রাজরোষ! স্বাধীন মিডিয়াকে কেন ভয় পাচ্ছে মোদি সরকার?

News Click Vs Central Govt : সরকারের সমালোচনা করলেই হয় সিবিআই, নয় ইডি না হলে আয়কর দফতরের হানা।

inscript
৩ মিনিট
প্রশ্ন করলেই রাজরোষ! স্বাধীন মিডিয়াকে কেন ভয় পাচ্ছে মোদি সরকার?

কিছুকাল আগেই গুজরাত হিংসার উপর বিবিসি-এর তথ্যচিত্র ভারতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। টুইটার-ইউটিউব থেকে লিঙ্ক সরাতে বলে কেন্দ্র সরকার। একটি তথ্যচিত্র, যাতে গুজরাতে ও দেশের অন্যতম ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হানাহানির কথা বলা আছে, তা সরিয়ে ফেলতে একেবারে সরকারি তরফে এত কেন তোড়জোড়? বিবিসি-র মতো আন্তর্জাতিক মিডিয়ার উপর কেন কোপ মোদি সরকারের? কারণ একটিই। ওই তথ্যচিত্রে গুজরাতের হিংসার পিছনে মোদিকেই দায়ী করা হয়।

বিবিসি লিঙ্ক সরিয়ে নেয়। কিন্তু তাতেও রেহাই মেলেনি। মুম্ৱই এবং দিল্লিতে বিবিসির অফিসে আয়কর দফতর হানা দেয়। ৭২ ঘণ্টা ধরে কর্মী, সাংবাদিকদের জেরা করা হয়, একাধিক তথ্য, নথি, ই-মেল পরীক্ষা করে দেখা হয় খুঁটিয়ে। মোবাইল এবং ল্যাপটপ ক্লোন করে নেওয়া হয়। সব কিছুই চলে আসে কেন্দ্রের মুঠোতে। বিবিসি থেকে কলকাতা টিভি বা নিউজ ক্লিকের দফতর। সরকারের সমালোচনা করলেই হয় সিবিআই, নয় ইডি না হলে আয়কর দফতরের হানা।

অগাস্টে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে নিউ ইয়র্ক টাইমস। আ গ্লোবাল ওয়েব অফ চাইনিজ প্রোপাগান্ডা লিডস টু আ ইউএস টেক মুগল...এই রিপোর্টের সূত্র ধরেই মঙ্গলবার কাকভোরে নিউজ ক্লিক-এর একাধিক সাংবাদিকের বাড়িতে কেন্দ্রীয় এজেন্সি হানা দেয়। এই সাংবাদিকদের মধ্যেই রয়েছেন বাংলা যা ভাবছে-র নিয়মিত মুখ সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতা।

নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর মতো কাগজও ছাপছে, নেভেল রায় সিংঘম এবং তাঁর নিউজ ক্লিক চিনের একটা ভয়ঙ্কর হাতিয়ার, যা নাকি চিনের রাজনৈতিক এজেন্ডা বিশ্ব জুড়ে প্রচার করে। নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর অনেক আগে থেকেই অবশ্য ভারত বলে আসছে নিউজ ক্লিক বিপজ্জকনক ওয়েব মিডিয়া। নিউ ইয়র্ক টাইমস নিজেই কখনও প্রোপাগান্ডাধর্মী। কখনও আবার সেই কাগজের রিপোর্টই রাজনৈতিক হাতিয়ার, সেই খবরের ভিত্তিতেই সাংবাদিকদের বাড়িতে এজেন্সির তল্লাশি চলে।

প্রসঙ্গত, পরঞ্জয় সাম্প্রতিক অতীতে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন করে দাবি করেন যে, তাঁর ফোন পেগাসাস স্পাইওয়্যার দিয়ে হ্যাক করা হয়েছে। আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে টানা লিখে গেছেন পরঞ্জয়। হিন্ডেনবার্গও তাঁর নাম উল্লেখ করেছে আদানির কীর্তিফাঁসে। মিডিয়া এথিক্স, ফেসবুক মুখ ও মুখোশের মতো বিতর্কিত বইয়ের লেখক সাংবাদিক পরঞ্জয় দীর্ঘকাল ধরেই আদানি গোষ্ঠী, ও তাদের শাসক ঘনিষ্ঠতার বিরুদ্ধে সরব। রবি নায়ার ও পরঞ্জয়ের বই 'দ্য রাফাল ডিল: ফ্লাইং লাইজ?’ নিয়েও প্রভূত তর্ক হয়। শাসকের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিয়েও নিবিড় কাজ করেছেন তিনি।

পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতা নিজেই জানিয়েছিলেন ২০১৮ সালের মে মাস থেকে নিউজক্লিক পোর্টাল পরিচালনা, মালিকানা এবং পরিচালনাকারী সংস্থার পরামর্শদাতা (কনসালট্যান্ট) ছিলেন তিনি। এই পাঁচ বছর ধরে তাঁর সাম্মানিকই তিনি গ্রহণ করেছেন। তিনি করও দেন, নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন। পরঞ্জয়ের দাবি, তিনি PPK নিউজক্লিক স্টুডিও প্রাইভেট লিমিটেডের কর্মচারী নন, সম্পাদক মণ্ডলী বা পোর্টালে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার অংশও তিনি নন।

নিউজক্লিকের অফিস এবং এর প্রধান সম্পাদক প্রবীর পুরকায়স্থর বাড়িতে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট অভিযান চালায়। গত বছর, দক্ষিণ দিল্লির সাকেত এলাকায় অবস্থিত ৪.৫২ কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট এবং ৪১ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট ঘিরে অভিযোগ ওঠে প্রবীর পুরকায়স্থর বিরুদ্ধে। প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA) অনুযায়ী, এই সাড়ে চার কোটি টাকার সম্পত্তি সোজা পথে উপার্জিত আয়ের অংশ নয় বলে অভিযোগ। ইডির মতে, ২০১৮ থেকে ২০২১ পর্যন্ত নিউজক্লিক জাস্টিস অ্যান্ড এডুকেশন ফান্ড ইনক ইউএসএ, দ্য ট্রাইকন্টিনেন্টাল লিমিটেড ইনক ইউএসএ, জিএসএএন এলএলসি ইউএসএ, সেন্ট্রো পপুলার, ডি মিডাস থেকে ৭৬.৮৪ কোটি, ১.৬১ কোটি, ২৬.৯৮ লাখ এবং ২.০৩ লাখের 'এক্সপোর্ট রেমিট্যান্স' গ্রহণ করেছে। অথচ এই সংস্থাগুলিতে নিউজক্লিক কোনও পরিষেবাই দেয়নি। ইডির সন্দেহ, জাস্টিস অ্যান্ড এডুকেশন ফান্ড ইনকর্পোরেটেড ইউএসএ-এর মাধ্যমে পাঠানো অনুদানগুলি আসলে সিংঘমের। সিংঘম প্রবীর পুরকায়স্থের 'ঘনিষ্ঠ' এবং 'চিনের বিশ্বস্ত'। ইডির অভিযোগ, সিংঘম এই নিউজ পোর্টালের বিষয়বস্তুকে প্রভাবিত করছে এবং 'পেইড নিউজ' প্রচার করা হচ্ছে। সাকেতের ওই ফ্ল্যাটের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংস্কারের জন্য বিপুল অনুদানও নাকি চিনেরই সৌজন্যে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতাদের হেনস্থা করছে যারা তাঁরাই কেন ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল রিপোর্টের পর ফেসবুকের পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর আঁখি দাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি? কেন আদানির বিরুদ্ধে ওঠা ভূরি ভূরি অভিযোগ নিয়ে সরকার এখনও নীরব? আঁখি দাস বিজেপির হয়ে ভোট প্রোপাগান্ডায় সাহায্য করেছিলেন বলে?

উত্তর খুঁজবে বাংলা যা ভাবছে। দেখুন আজ সন্ধ্যায়। সাংবাদিক, বিশ্লেষকরা কী বলছেন? আজকের পর্ব, প্রশ্ন করলেই রাজরোষ? প্রতি সোম, বুধ, শুক্র সন্ধে ৭ টা থেকে - কলকাতা ২৪x৭ এর ইউটিউব চ্যানেল এবং inscript.me এর ফেসবুক পেজে চোখ রাখুন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।