ঋত্বিক ঘটকের বাড়ি থেকে মুছে দিতে হবে তাঁরই পোস্টার! কেন এমন নির্দেশ বাংলাদেশে?

Ritwik Ghatak Bangladesh Home: বাড়িটি সংস্কারের দাবি তুলেছিলেন রাজশাহীর সংস্কৃতিকর্মীরা। অভিযোগ, গত ৬ অগাস্ট বাড়িটি পুরোপুরি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

inscript
৩ মিনিট
ঋত্বিক ঘটকের বাড়ি থেকে মুছে দিতে হবে তাঁরই পোস্টার! কেন এমন নির্দেশ বাংলাদেশে?

দেশভাগের ঘা চিরকাল জিরোতে দেয়নি তাঁকে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের নাড়ি ছিঁড়ে যাওয়ার যন্ত্রণাই তাঁকে আপোষহীন এক শিল্পী করে তুলেছিল, যে শিল্পী কখনও মাথা নুইয়ে তাঁত বোনেননি। সেই কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্বিক কুমার ঘটকের পৈতৃক ভিটে, ওপার বাংলার রাজশাহীতে। সেই ভিটের দেওয়াল থেকে তাঁরই তৈরি সিনেমার আঁকা পোস্টার মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে! দেশভাগ হয়েছে, বিশ্বাস করেননি ঋত্বিক। আসলে ভাগ তো কবেই হয়ে গেছে চেতনায়, বিশ্বাসে!

শতবর্ষে পা দিচ্ছেন ঋত্বিক ঘটক। জন্মদিন উপলক্ষ্যে রাজশাহীর সেই বাড়ির দেয়ালে মেঘে ঢাকা তারা, অযান্ত্রিক, বাড়ি থেকে পালিয়ে-এর মতো সব সিনেমার পোস্টার আঁকা হয়েছিল দেওয়ালে। ৯৯তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে ঋত্বিক ঘটকের সেই সমস্ত সিনেমার পোস্টারের ছবি দেওয়াল থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল রাজশাহীর ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সত্যজিৎ, ঋত্বিক নন; মধ্যবিত্ত সমাজকে থাপ্পড় কষিয়েছিলেন মৃণাল সেনই!

Mrinal Sen: ১৯৮২ সালে মৃণাল সেন তৈরি করলেন ‘খারিজ’। অনেকের মতে এই ছবি নাকি তৎকালীন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের ভিত্তিটাকেই নাড়িয়ে দিয়েছিল।

রাজশাহী নগরের মিঞাপাড়ায় ঋত্বিক ঘটকের এই পৈতৃক বাড়িটি অবস্থিত। রাজশাহীর এই বাড়িতেই শৈশব, কৈশোর ও তারুণ্যের কিছু বছর কাটিয়েছেন ঋত্বিক ঘটক। এই বাড়িতে থাকারকালীনই রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল ও রাজশাহী কলেজে পড়েছেন ঋত্বিক। রাজশাহী কলেজ ও মিঞাপাড়ার সাধারণ গ্রন্থাগার মাঠে সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে নাট্যচর্চা করেছেন। ওই সময় ‘অভিধারা’ নামে সাহিত্যের কাগজ সম্পাদনা করেন ঋত্বিক। তাঁকে ঘিরেই তখন রাজশাহীতে সাহিত্য ও নাট্য আন্দোলন নতুন দিশা পায়। এ বাড়িতে থেকেছেন ঋত্বিক ঘটকের ভাইঝি মহাশ্বেতা দেবীও। দীর্ঘকাল ধরেই এই ঐতিহাসিক বাড়িটি সংস্কারের দাবি তুলেছিলেন রাজশাহীর সংস্কৃতিকর্মীরা। অভিযোগ, গত ৬ অগাস্ট বাড়িটি পুরোপুরি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজশাহীর সাংস্কৃতিক কর্মীদের অভিযোগ, রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের লোকজনই বাড়িটি ভেঙে ফেলেছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'ভাবা প্র্যাকটিস' নয়, আজ ঋত্বিককে ভুলতে পারলেই কেন সুবিধা বাঙালির?

Ritwik Ghatak: ঋত্বিক তাঁর সময়ের থেকে এগিয়েছিলেন প্রায় এক দশক। আর তার জন্যই ঋত্বিকের অন্ধকার, অসম্পূর্ণ জায়গাগুলো দুনিয়ার কাছে আজও আলোচনার, রহস্যের।

ঋত্বিকে ঘটকের পরিবার কলকাতায় চলে যাওয়ার পরে ১৯৮৯ সালে তৎকালীন সরকার এই বাড়ির ৩৪% জমি রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে ইজারা দিয়েছিল। ঋত্বিক ঘটকের এই বাড়ির উত্তর অংশে গড়ে তোলা হয় হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের নতুন বিল্ডিং, আর দক্ষিণ অংশে থেকে যায় ঋত্বিক ঘটকের স্মৃতিবিজড়িত পুরনো বাড়ি। ২০১৯ সালে বাড়িটির একাংশ ভেঙে সাইকেল গ্যারেজ তৈরির অভিযোগ উঠেছিল কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তখন রাজশাহীসহ সারা বাংলাদেশে এই ঘটনার প্রতিবাদ হয়। ২০২০ সালে বাড়িটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় রাজশাহী জেলা প্রশাসন।

প্রথম আলো জানাচ্ছে, রাজশাহীর ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরেই ঋত্বিক ঘটকের বাড়ি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে আর হাসিনা সরকারও তাতে সাড়াও দিয়েছিল। তবে এর বিরোধিতা করেছিল হোমিওপ্যাথি কলেজ। ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটি প্রতিবছরই কিংবদন্তি শিল্পীর জন্মদিনে এই স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির উঠোনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। অভিযোগ, গত ৬ ও ৭ অগাস্ট বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ৪ নভেম্বর ওই ভাঙা বাড়ির ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়

ঋত্বিক ঘটকের দক্ষিণ দিকের ভেঙে ফেলা এই বাড়ির দেওয়ালে ঋত্বিক ঘটকের নানা সিনেমার পোস্টার আঁকা হয়েছিল। ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হোসেন মাসুদের অভিযোগ, শেষ দিনের অনুষ্ঠান চলাকালীন হোমিওপ্যাথি কলেজের একজন পিওন এসে তাঁকে জানান, হাসপাতালের অধ্যক্ষ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন। অধ্যক্ষ তাঁকে বলেন, দক্ষিণের দেওয়ালে 'কীসব' আঁকা হয়েছে, তা যেন মুছে দিয়ে যান সোসাইটির লোকেরা। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপিও জমা দিয়েছে সোসাইটি। প্রথম আলো-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোমিওপ্যাথিক কলেজের অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, মাহমুদ হোসেন বলেছিলেন, অনুষ্ঠান শেষে কলেজ যেরকম ছিল, সেরকমই করে দিয়ে যাবেন তারা। এ ছাড়া নাকি কোনও কথাই হয়নি তাঁদের।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।