পরিবারে টানাপোড়েন চরমে! কেন পরিবার ছাড়ার ঘোষণা লালু কন্যা রোহিনির?

Lalu Prasad’s family politics: রোহিনির অভিযোগ, “যারা সঞ্জয় আর রামিজের নাম নেন, তাঁদের পরিবারে থাকতে দেওয়া হয় না। অপমান করা হয়।”

inscript
২ মিনিট
পরিবারে টানাপোড়েন চরমে! কেন পরিবার ছাড়ার ঘোষণা লালু কন্যা রোহিনির?

বিহার নির্বাচনের ফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই আরজেডি শিবিরে যেন একের পর এক ধাক্কা। দল বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছে, আর সেই আঘাতের মাঝেই সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ ঘটালেন লালুপ্রসাদ যাদবের মেয়ে রোহিনি আচার্য। সরাসরি ঘোষণা করলেন, “আমি রাজনীতি ছাড়ছি। আর আমি এই পরিবারেও থাকছি না।” এই কথাই যথেষ্ট ছিল তোলপাড় ফেলে দেওয়ার জন্য।

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডি মাত্র ২৫টি আসন পাওয়ার পরই রোহিনি এক্স-এ পরপর কয়েকটি পোস্ট করেন। একটি পোস্টে তিনি স্পষ্ট বলেন, পরিবারে তাঁর আর কোনো জায়গা নেই। রাজনীতি থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দলের ভেতরে কয়েকজনের ইচ্ছেতেই তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তাঁর পোস্টে উঠে আসে দু'টি নাম— ১) সঞ্জয় যাদব: তেজস্বী যাদবের ঘনিষ্ঠ, আরজেডির রাজ্যসভার সাংসদ, ২) রামিজ: তেজস্বীর পুরনো বন্ধু ও প্রভাবশালী সহচর। রোহিনির অভিযোগ, “যারা সঞ্জয় আর রামিজের নাম নেন, তাঁদের পরিবারে থাকতে দেওয়া হয় না। অপমান করা হয়।” এমনকি তিনি লেখেন, “যা কিছু হচ্ছে, আমি সব দোষ নিজের কাঁধে নিচ্ছি। এটাই তাঁরা চেয়েছিলেন।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এত বড় পরাজয় আগে একবারই দেখেছিলেন লালুপ্রসাদ যাদব

RJD Faces Its Second Worst Defeat: এনডিএ-র বিশাল জয় নীতীশকে ক্ষমতায় আনে, সেবার আরজেডি মাত্র ৫৫টি আসন ধরে রাখতে পেরেছিল। সে সময় তেজস্বী যাদবের মা রাবড়ী দেবী মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। আরজেডির যাদব ভোটে কার্যত ধস নামে।

তিনি পেশায় একজন ডাক্তার। ২০২২ সালে তিনি নিজের কিডনি দান করেছিলেন লালু প্রসাদ যাদবকে। সিঙ্গাপুরে থাকেন স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে। ২০২৪ সালে সারণ থেকে লোকসভায় লড়েছিলেন, তবে সে বার তিনি হেরে গিয়েছিলেন। পরিবারের প্রতি তাঁর অবদান সবসময়ই আলোচনায় ছিল, তাই তাঁর আজকের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

লালু পরিবারে ভাঙনের খবর নতুন নয়। এর আগে বড় ছেলে তেজপ্রতাপ যাদবের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। এবার সেই ফাটল আরও স্পষ্ট করে দিলেন রোহিনি। কিছুদিন আগেই তিনি তেজস্বী-সহ পরিবারের কয়েক সদস্যকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আনফলো করেছিলেন। নির্বাচনের সময়েও তাঁকে প্রচারে খুব একটা দেখা যায়নি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মহিলাদের ভোটই বিহারের ‘গেমচেঞ্জার’?

Bihar Election 2025: নির্বাচনের ঠিক আগে ১.২০ কোটি মহিলাকে ১০,০০০ টাকা করে ‘সিড ক্যাপিটাল’ দেওয়া হয়েছে। এটি আসলে সরকারি ঋণ, তবে অনেকেই নির্বাচনী প্রচারে প্রকাশ্যে বলছেন, “ফিরিয়ে দিতে হবে না।”

তেজপ্রতাপ তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একদিন একটি ছবি পোস্ট করেন একজন মহিলার সঙ্গে এবং দাবি করা হয়, তাঁদের নাকি ১২ বছরের সম্পর্ক। ছবিটি ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে হইচই পড়ে যায়। এর পর পরই লালুপ্রসাদ যাদব বলেন, তেজপ্রতাপের আচরণ আর পরিবারের মূল্যবোধ একসঙ্গে যায় না। এই কারণেই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং পরিবারের তরফেও দূরে রাখা হয়। তেজপ্রতাপ অভিযোগ করেন, তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল। ওই ছবি এডিট করা। তাঁকে মানহানি করার জন্য ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাকে আর আমার ভাই তেজস্বীকে নিয়ে কিছু লোক মিথ্যে গুজব ছড়াচ্ছে।”

তার আগে বিগত কয়েক মাস ধরেই তেজপ্রতাপকে পরিবার ও দলের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা যাচ্ছিল। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক ভাইবোনকে আনফলো করেছিলেন। এমনকি দলের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, নির্বাচনের ফলের পর এমনই এক সময়ে যখন দল পুনর্গঠনের ভাবনা শুরু করেছে, তখন রোহিনির মতো প্রভাবশালী মুখের প্রকাশ্যে পরিবার ত্যাগ ঘোষণা রাজনীতির মাঠে বেশ প্রভাব ফেলতে চলেছে। বিহারের রাজনীতিতে লালু পরিবার সবসময়ই খবরের কেন্দ্রে থাকে। কিন্তু এই প্রথম পরিবারের ভেতরকার কলহ এক সদস্য নিজেই প্রকাশ্যে এনে দিলেন। আরজেডির পরাজয়ের চেয়েও বড় আলোচনার বিষয় এখন রোহিনির এই সিদ্ধান্ত। আরজেডি-র ভেতর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, তেজস্বীর নেতৃত্ব কি চ্যালেঞ্জের মুখে? এই প্রশ্ন এখন ঘুরছে পাটনা থেকে দিল্লি— সব রাজনৈতিক স্তরেই।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।