তৃণমূল ছাড়ছেন দেবাংশু? হঠাৎ জল্পনার আড়ালে অন‍্য কোনও ইঙ্গিত?

Debangshu Bhattacharya: দল ছাড়ছেন দেবাংশু? আচমকা মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গ ছাড়ছেন সোশ্যাল মাধ্যমে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই মুখ?

Ramen Das
৩ মিনিট
তৃণমূল ছাড়ছেন দেবাংশু? হঠাৎ জল্পনার আড়ালে অন‍্য কোনও ইঙ্গিত?

ফের ভাঙছে তৃণমূল! আবারও সাড়া ফেলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের অন্দরের বিতর্ক! শীতলতার নভেম্বর-শেষে ফের এই প্রশ্নেই উত্তাল হলো বঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এবার জল্পনা বাড়ালেন তৃণমূলের অন্যতম যুব নেতা, মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য।

কী করেছেন তিনি? কেন শুরু হলো জল্পনা?

একটি ফেসবুক আপডেট ঘিরে শুরু হয় জল্পনা। দেবাংশু জানান, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ছেন তিনি। ''লেফট অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস'', ওই যুবনেতার এই পোস্টের পরেই উত্তাল হয় পরিস্থিতি। হঠাৎ এই পরিচিত মুখের দল ছাড়ার সোশ্যাল নির্দেশের পরেই বিতর্ক তৈরি হয়। তাহলে কি দল ছাড়ছেন দেবাংশু? আচমকা মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গ ছাড়ছেন সোশ্যাল মাধ্যমে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই মুখ!

যদিও খানিকক্ষণ পরেই ওই পোস্ট ডিলিট করেন তিনি। তৃণমূলের পক্ষ থেকে কুণাল ঘোষ সমাজমাধ্যমে জানান, 'অতিরিক্ত জল্পনা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক।' যদিও এরপরেও থামেনি জল্পনা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হাই কোর্টের সঙ্গে সংঘাতে জয় মমতারই! 'দুয়ারে রেশন' যেভাবে ছিনিয়ে নিল রাজ‍্য

Duare Ration: যতদিন না এই মামলার চূড়ান্ত নির্দেশ আসছে, ততদিন সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ বহাল থাকবে।

কারণ, প্রশ্ন উঠেছে অন্য জায়গায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মান-অভিমানের পালার নেপথ্যে রয়েছে কমিটি বিতর্ক। প্রকাশ্যে এসেছে একটি সিদ্ধান্তের খবর। যেখানে দেখা যাচ্ছে, বুধবার যুব তৃণমূলের তরফে ৪৭ জনের রাজ্য কমিটি তৈরি হয়েছে। সেই কমিটিতে সভানেত্রী হিসেবে ফের রয়েছেন অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ। চার জন সহ-সভাপতি হয়েছেন, তাঁরা হলেন, অভিনেতা-বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী, স্বর্ণকমল সাহার ছেলে অর্পণ সাহা, শুভঙ্কর সিংহ, সুশান্ত মাহাতো। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ১৭ জন। ৮ জন হয়েছেন একজিকিউটিভ কমিটির সদস্য। এই দীর্ঘ তালিকার কোথাও নাম নেই দেবাংশু ভট্টাচার্যর। আর এখানেই উঠেছে প্রশ্ন। মাত্র দু'বছরেই মোহভঙ্গ! যুব তৃণমূল থেকে ব্রাত্য একদা অভিষেকের কাছের লোক? যদিও এই বিষয়ে মুখ খোলেননি দেবাংশু। উপরন্তু সেই ফেসবুক পোস্ট বা আপডেট ডিলিট করেছেন এই নেতা। এরপরেই দলের হয়ে সওয়াল করছেন এমন এক বিতর্কসভার বক্তব্য সোশ্যাল মাধ্যমে পোস্ট করেছেন তিনি।

দলবদলের ইঙ্গিত?

এই পোস্টের পরেই শুরু হয়েছে ফের দলবদলের প্রসঙ্গ। আবার কি ভাঙছে তৃণমূল? যদি এই প্রশ্নের আবহে জল্পনা ওড়াচ্ছে তৃণমূল।

দেবাংশুর সুদিন কি আগত?

এই জল্পনা এবং একাধিক বিতর্কের মধ্যেও উঠে এসেছে অন্য সম্ভাবনাও। তৃণমূলের একটি অংশের তরফে ইনস্ক্রিপ্ট-এর কাছে দাবি করা হয়েছে যে, যুব তৃণমূল নয় এবার মূল তৃণমূলের আরও বড় কোনও পদে উঠে আসতে পারে দেবাংশুর নাম। অর্থাৎ, দলের একাধিক সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে, মুখপাত্রের মধ্যে তিনি অন্যতম থাকলেও আরও কোনও ভালো পদে দেখা যেতে পারে তাঁকে। কারণ হিসেবে ওই অংশের দাবি, তিনি ২০১৯-এর আগে থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরে দিনের দিনের দিন ভালো বক্তা হিসেবে উঠে এসেছেন তিনি। ব্রিগেড সমাবেশের মঞ্চ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছের হয়ে উঠেছেন এই তরুণ নেতা। ঠিক এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে এবং দলের এই পরিস্থিতিতে হুগলির ছেলে দেবাংশুকে সরিয়ে দেওয়ার ভুল করবেন না নেতৃত্ব, দাবি অংশেরই।

যদিও বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। গত বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরেই দলের অবস্থান এবং দলে বেনোজলের প্রভাব নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। আবার দলত্যাগী একাধিক নেতাকে দলে ফেরানো প্রসঙ্গে শুয়ে থাকার বিষয়েও বিতর্ক বাড়ান এই নেতা। এই তরুণ তুর্কির খেলা হবে স্লোগান, নির্বাচনের আগের কবিতা দলের তরফে গান তৈরি করার কথাও বারবার বাড়িয়েছে উত্তাপ। ২০১৯ থেকে ২০২২। দেবাংশু তৃণমূল-সমাজে হয়ে উঠেছেন অনন্য, পরিচিত মুখ। যদিও একাধিক যুব তৃণমূল নেতা বা দলের একটা অংশের মধ্যে জনপ্রিয় নন দেবাংশু। অনেকের কাছেই খুব একটা ভালো হয়ে উঠতে পারেননি তিনি। সূত্রের খবর, দেবাংশহর অতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠা। কম সময়ের মধ্যে পরিচিতি খুব একটা ভালো চোখে নেননি অনেকেই। এই কোন্দলের কথাও শোনা যায় বারবার।

যদিও তাঁকে নিয়ে বিতর্ক বাড়লেই তরুণ দেবাংশু ডিলিট-পথেই হাঁটতে থাকেন বারবার। সম্প্রতি, পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিয়ে বিড়ম্বনার মধ্যেই মুখ খোলেন এই নেতা। সেই মন্তব্যেও হয় বিতর্ক। এবার ফের! একটি পোস্ট বাড়িয়ে দিল জল্পনা। কী হবে, ভালো না মন্দ! এই বিষয়ে প্রশ্ন উঠলেও দেবাংশু যে শীতকালেও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ালেন, এই বিষয়ে দ্বিমত নেই করছেন না কেউই।

লিখেছেন
Ramen Das
Ramen Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।