জরায়ু বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন ভারতীয় মহিলাদের একাংশ, যে ভয়াবহ পরিণাম হতে পারে

সাম্প্রতিককালে জরায়ু বাদ দেওয়ার রীতি যেভাবে বাড়ছে, তা অত্যন্ত চিন্তার। তাঁদের শারিরীক ক্ষতিও হচ্ছে ব্যাপকভাবে। মহিলারা যত না বেশি স্বেচ্ছায় জরায়ু বাদ দিচ্ছেন, তার থেকেও বেশি তাঁরা বাধ্য হচ্ছেন জরায়ু বাদ দিতে।

Madhurima Pattanayak
৪ মিনিট
জরায়ু বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন ভারতীয় মহিলাদের একাংশ, যে ভয়াবহ পরিণাম হতে পারে

ভারতে বড় অংশের মহিলারা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জরায়ু বাদ দিচ্ছেন নিজেদের, যাঁদের অধিকাংশরই বয়স পনেরো থেকে উনপঞ্চাশের মধ্যে। জরায়ু বাদ দেওয়ার এই পদ্ধতিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে হিস্টেরেক্টোমি। জরায়ু বাদ দিতে চাওয়ার মূল কারণ, ঋতুস্রাব বন্ধ করতে চান তাঁরা। কারণ ঋতুস্রাবের সময় অনেক মহিলাই অসহ্য পেটের যন্ত্রণায় ভোগেন, একাধিক শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি শারীরিক দুর্বলতাও দেখা যায়, ফলে কাজের জায়গায় তাঁদের অসুবিধে হয়।

এই সমস্ত মহিলাদের অনেকেই দিনমজুর। কেউ বা কোনও মালিকের অধীনে চাষের জমিতে কাজ করে জীবিকানির্বাহ করেন। ভারী জিনিস বইতে হয় তাঁদের রোজই। ঋতুস্রাবের ওই দিনগুলোতেও তার ব্যতিক্রম ঘটে না। সংসার টানতেই তাঁরা মূলত এই পথে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

দেখা যাচ্ছে, এই ধরনের ঘটনায় এগিয়ে রয়েছে মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থান। মহারাষ্ট্রর বিড জেলায় বিপুল পরিমাণে আখের চাষ হয়। এই অঞ্চলে জলাভাবের কারণে চাষবাসের ক্ষতিও হয় যথেষ্ঠ। তার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের অভাবে এখানকার বেশিরভাগ মানুষকে চাষবাস করেই জীবিকানির্বাহ করতে হয়। তবে চাষের জমিগুলি ধনী মালিকদের কুক্ষিগত। মহিলাদের কাজে নেওয়ার আগে জমির মালিকরা নিশ্চিত হতে চান, সেই মহিলারা জরায়ু বাদ দিয়েছেন কি না। কারণ জমিতে কাজ করা খেটে খাওয়া মহিলাদের ছুটি তাঁরা দেবেন না, এমনকী ঋতুস্রাবের সময়েও না।

ঋতুস্রাবের কয়েক দিন তাঁরা ছুটি পান না। অনেক মহিলাই অতিরিক্ত রক্তপাতের সম্মুখীন হন ঋতুস্রাবের সময়। সঙ্গী হয় অসহ্য যন্ত্রণা, গা-হাতে-পায়ে ব্যথা, বমি-বমি ভাব। পেটে অসহ্য যন্ত্রণা, শারীরিক কষ্ট নিয়েই তাঁরা কাজ করতে বাধ্য হন। এদিকে শৌচালয় ব্যবহার করতেও মহিলাদের অনেকটা দূরে হেঁটে যেতে হয়, ফিরতে সামান্য দেরি হলেও মালিকরা বেতন কাটতে পিছপা হন না। তাই যদি জমিতে কাজ করতেই হয়, আগে বাদ দিতে হবে জরায়ু।

চাষের কাজে সেই মহিলাদেরই নেওয়া হয়, যারা অস্ত্রোপচার করে জরায়ু বাদ দিয়েছেন। আর দরিদ্র মহিলারাও কর্মসংস্থানের অভাবে বাধ্য হন সেইসব মালিকদের অধীনে কাজ করতে। আর্থসামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা মহিলারা তাই নিজেদের কর্মক্ষমতা এবং আয় বাড়াতে মনে করেন, জরায়ু কেটে বাদ দেওয়াই একমাত্র সমাধান। এই মহিলাদের মধ্যে অশিক্ষার হার বেশি, স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা বোঝেন না জরায়ু বাদ দেওয়ার দীর্ঘস্থায়ী কুফল কী কী হতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যৌনাঙ্গে নৃশংস কোপ, তবু যেভাবে বেঁচে থাকে নারীর কামনা

যৌনাঙ্গের বিভিন্ন অংশ কেটে ফেললে, মেয়েটি যে কেবল যৌন সুখ থেকে বঞ্চিত হয়, এমনই নয়। যৌনস্বাস্থ্য, সার্বিক স্বাস্থ্য, বৈবাহিক জীবন ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

জরায়ু বাদ দেওয়ার পর প্রাথমিক ফল হিসেবে ঋতুস্রাব বন্ধ হয় এবং একাধিক হরমোনের পরিমাণ ও কাজের মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখা যায়। পাশাপাশি ত্বরান্বিত হয় বার্ধক্য। কিন্তু তার থেকেও বেশি ক্ষতি হয়, যখন খুব অল্প বয়সেই ডায়াবেটিস মেলিটাস, অস্টিওপোরোসিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, হৃদরোগের মতো একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তাঁদের।

অস্টিওপোরোসিস মূলত দেখা যায় মেনোপজে়র পর, অর্থাৎ, যখন ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায় একটা বয়সের পর। হাড়ে ক্যালশিয়ামের ঘনত্ব কমে, হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়। ফলে ছিদ্র তৈরি হয় হাড়ে, একেই বলে অস্টিওপোরোসিস। এর ফলে খুব সহজেই হাড় ভেঙে যেতে পারে, হাড়ে ফাটল ধরতে পারে। পাশাপাশি হাড়ে ক্যালশিয়ামের ঘনত্ব কমায় হাড়ে ব্যথা শুরু হয়, যাকে বলে অস্টিওআর্থ্রাইটিস। এছাড়াও দু'টি হাড়ের সংযোগস্থল ক্ষয়প্রাপ্ত হতে শুরু করে।

এমনিতেই ঋতুস্রাব পাকাপাকিভাবে বন্ধ হওয়ার পর অস্টিওপোরোসিস এবং অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো অসুখের কবলে পড়েন অনেক মহিলাই। ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে এই রোগে জর্জরিত হওয়ার প্রবণতা বেশি। কারণ গ্রাম ও শহর নির্বিশেষে সব বয়সের ভারতীয় মহিলাদের শরীরে ভিটামিন ডি ও ক্যালশিয়ামের অভাব চোখে পড়ে।

২০২১ সালে ফ্রন্টিয়ার্স ইন এন্ডোক্রাইনোলজি জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে পঁচাশি শতাংশ ভারতীয়র মধ্যে ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় এই বছরেই প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বাহাত্তর শতাংশ ভারতীয় মহিলার শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি রয়েছে। এই রকম অবস্থায় জরায়ু বাদ দিলে অসুস্থতার হার আরও বাড়বে মহিলাদের মধ্যে, সম্মুখীন হতে হবে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার।

জরায়ু বাদ দিলে দেখা যায় নানা রকম মানসিক অসুস্থতা। যার মধ্যে অন্যতম অবসাদ বা ডিপ্রেশন, দুশ্চিন্তা এবং রাগের প্রবণতা। পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মানসিক অবসাদে ভোগার প্রবণতা অনেক বেশি। যার মূল কারণ হরমোন এবং বিভিন্ন নিউরোট্রান্সমিটারের আদান-প্রদান। কিন্তু তার পাশাপাশি আর্থসামাজিক, পারিবারিক, এমনকী, সাংস্কৃতিক কারণও ভূমিকা পালন করে।

প্রত্যন্ত গ্রামে আর্থসামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া মহিলারা যখন মালিকদের হাতে অত্যাচারিত হন, উদয়াস্ত খেটেও যখন দিনে কোনওমতে দুশো টাকা রোজগার করেন, পাশাপাশি সংসারের কাজও করতে বাধ্য হন, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের মধ্যে মানসিক অবসাদের শিকার হওয়ার প্রবণতা বেশি হবে। মানসিক অবসাদ, হতাশা, দুশ্চিন্তাকে 'বড়লোকি অসুখ' বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু বিভিন্ন কারণেই এই সমস্যাগুলিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ জর্জরিত হয়। সচেতনতার অভাবে সমাজের তথাকথিত শিক্ষিত মানুষের মধ্যে অধিকাংশরই মানসিক রোগ সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই। সেখানে প্রত্যন্ত গ্রামের গরিব মহিলাদের মধ্যে সেই বিষয়ে শিক্ষা ও সচেতনতা থাকবে, তা আশা করা অন্যায়।

সমস্যা কেবল এটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়। জরায়ু বাদ দেওয়ার ফলে যখন ইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্যে বিঘ্ন ঘটে তখন ঘুমের ব্যঘাত ঘটা, অতিরিক্ত গরম লাগা, ঘাম হওয়া, মূত্রত্যাগে সমস্যাও দেখা যায়। এছাড়াও বিঘ্নিত হয় স্বাভাবিক যৌনজীবন। যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়ার পাশাপাশি, যৌন মিলনের সময় অকথ্য পেটে ব্যথার শিকার হন মহিলারা।

জরায়ু বাদ দেওয়ার যে প্রচলন নজরে পড়ছে বিগত কয়েক বছরে, সেখানে কিন্তু ইন্ধন জুগিয়েছে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ক্রম-উত্থান। সরকারি হাসপাতালে খুব সহজে জরায়ু বাদ দেওয়ার অস্ত্রোপচার করা যায় না, বেসরকারি হাসপাতালে সে সমস্যা একেবারেই নেই। যে-সমস্ত মহিলারা ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত যন্ত্রণা বা অতিরিক্ত রক্তপাতের সম্মুখীন হন, বেসরকারি হাসপাতালে গেলে তাঁদের নানা অজুহাত দেখিয়ে বোঝানো হয়, জরায়ু কেটে দেওয়াই একমাত্র সমাধান। বেসরকারি হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচার করাতে গেলে খরচ পড়ে কমপক্ষে তিরিশ থেকে পঁয়ত্রিশহাজার। ফলে অর্থের লোভেই সেখানকার ডাক্তাররা গ্রামের মহিলাদের ক্যান্সার ও অন্যান্য জটিল রোগের ভয় দেখিয়ে জরায়ু বাদ দিতে বাধ্য করেন।

সাম্প্রতিককালে জরায়ু বাদ দেওয়ার রীতি যেভাবে বাড়ছে, তা অত্যন্ত চিন্তার। তাঁদের শারিরীক ক্ষতিও হচ্ছে ব্যাপকভাবে। মহিলারা যত না বেশি স্বেচ্ছায় জরায়ু বাদ দিচ্ছেন, তার থেকেও বেশি তাঁরা বাধ্য হচ্ছেন জরায়ু বাদ দিতে। সমাজকর্মীদের মতে, এটি একপ্রকার দাসত্ব। এতে মহিলারা নিজের অজান্তেই শোষণ এবং বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

করোনা সেরে গেলেও পিছু ছাড়ছে না ক্লান্তি! লং কোভিড নিয়ে নতুন গবেষণায় কী জানা গেল?

Long COVID: করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার পরেও অনেকের শরীরে থেকে যাচ্ছে ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ও স্মৃতিশক্তির সমস্যা। লং কোভিড নিয়ে নতুন মার্কিন গবেষণায় দেখা গেল, তিন বছরে প্রায় অর্ধেক রোগীর উপসর্গ কমেছে এবং এক-চতুর্থাংশ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু কোন ধরনের উপসর্গ থাকলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি? কী বলছে গবেষণা?

কলকাতা বন্দরে উদ্ধার সাড়ে ১৩ কোটি টাকার ই-সিগারেট, শরীরের কী কী ক্ষতি করে এই ইলেকট্রনিক সিগারেট?

E-Cigarette Side Effects: কলকাতা বন্দরে প্রায় ৫৫ হাজার ই-সিগারেট উদ্ধার করেছে রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর (DRI)। উদ্ধার হওয়া পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩.৫ কোটি টাকা। ভারতে নিষিদ্ধ এই ইলেকট্রনিক সিগারেট শরীরের কী কী ক্ষতি করতে পারে?

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর হতে পারে?

Fatty liver: ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর? অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে এই পরীক্ষাধীন ওষুধ লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে? প্রাণীর শরীরে আশাব্যঞ্জক ফল মিললেও মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা কি প্রমাণিত হয়েছে? ভবিষ্যতে কি গুরুতর ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন দিশা দেখাতে পারবে DT-109?

ইউক্রেনকে বিসর্জন দিয়ে পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প?

Trump Putin relationship: ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠতা বর্তমান বিশ্বরাজনীতির জটিল সমীকরণকে নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে?

বাংলার স্বাস্থ‍্যরক্ষায় সরকারি স্বাস্থ্যব‍্যবস্থা সংহত হওয়া জরুরি: অভিজিৎ চৌধুরী

Abhijit Chowdhury Interview: তিনি বাঙালির ‘লিভারের ডাক্তারবাবু’ বলেই সমধিক পরিচিত। দীর্ঘদিন সরকারি ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। অবসরের পরেও জড়িয়ে রয়েছেন চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে। সোনারপুরে গড়ে তুলেছেন ‘লিভার ফাউন্ডেশন’। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে তাঁর পরবর্তী স্টেশন ‘স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়’।

হঠাৎ হৃদযন্ত্র বন্ধ হলে কী করবেন? নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর জেনে নিন CPR-এর জরুরি নিয়ম

How to perform CPR: ধরুন, হঠাৎ কেউ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। ডাকলেও সাড়া দিচ্ছেন না, স্বাভাবিকভাবে শ্বাসও নিচ্ছেন না। এমন অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় নেই। তাহলে, কী করবেন তখন?

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।