বিধানসভায় হাতাহাতি শাসক বিরোধীর, বাংলার লজ্জার ট্র্যাডিশন চলছেই

Aritra Dasgupta
৩ মিনিট
বিধানসভায় হাতাহাতি শাসক বিরোধীর, বাংলার লজ্জার ট্র্যাডিশন চলছেই

রামপুরহাট গণহত্যা কাণ্ড নিয়ে আলোচনার মাঝেই নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের শেষ লগ্নে রামপুরহাট-বগতুই কাণ্ড নিয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল ও বিজেপি বিধায়করা।

রামপুরহাট গণহত্যা কাণ্ডে সরকারের ব্যর্থতা ও শাসক দল তৃণমূলের অভিযুক্ত থাকার অভিযোগে বিধানসভার ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা। সিটের ব্যর্থতা ও মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে ও সরব হয় বিজেপি। সোমবার অধিবেশন চলাকালীন স্পিকার বিমান বন্দোপাধ্যায় বিজেপি বিধায়কদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ আপনারা গত কয়েকদিন ধরে অধিবেশনের কাজ চালাতে সমস্যা তৈরি করেছেন।স্লোগান দিয়েছেন, চিৎকার করেছেন। ওয়াক আউট করেছেন।পুলিশ বাজেটে ও আপনারা উপস্থিত থাকেননি’। এরপরেই ওয়েলে নেমে প্রতিবাদ শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা।এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল বিধায়কদের সঙ্গে হাতাহাতি হয় তাঁদের। বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে অশান্তিতে আহত হন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, বিজেপি বিধায়কদের চশমা ভেঙে গিয়েছে। আহত হয়েছেন বিজেপি বিধায়ক মনোজ টিজ্ঞা। গোটা ঘটনায় বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী, মনোজ টিগগা, নরহরি মাহাত, শংকর ঘোষ, দীপক বর্মণকে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব আনে তৃণমূল। সেই প্রস্তাবে সায় দিয়ে বিজেপির পাঁচ বিধায়ককে সাসপেন্ড করেন বিধানসভার অধ্যক্ষ। দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক সংবাদদাতা জয়ন্ত ঘোষালের মতে, ‘পশ্চিমবঙ্গে এই ঘটনা প্রথম নয়। চিত্তরঞ্জন দাশের আমলে পুরসভাতে ও এই ধরনের অশান্তি হত। কিন্তু মাঝখানে এসব আর হয়নি। এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। শাসক এবং বিরোধী দুইদলের কাছেই নাগরিক দাবি থাকে উন্নয়ন, শিল্প, চাকরি। সেখানে এই নৈরাজ্যের ঘটনা রাজ্যের ভাবমূর্তিকেই কলঙ্কিত করবে। এপ্রিলেই বিশ্ব বাংলা সন্মেলন। সেখানে একাধিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা আছে। এই পরিস্থিতি দেখলে কোনও শিল্পগোষ্ঠী বিনিয়োগে রাজি হবে না যা আখেরে আমাদের ক্ষতি। সরকার-বিরোধী উভয়কেই এই বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে’।

কিন্তু বিধানসভার ইতিহাসে এই শাসক- বিরোধী অশান্তি, ভাঙচুর নতুন নয়। অতীতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা এই ঘটনার সাক্ষী থেকেছে।

২০০৬ সালে তৃণমূলের বিধানসভা ভাঙচুর

২০০৬ সালে সিঙ্গুরে টাটার জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে সরগরম পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি। ২০০৬ এর ৩০ নভেম্বর তৎকালীন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুর যেতে চাইলে তাঁকে পথে পুলিশ ফিরিয়ে দেয়। তারপরেই সোজা বিধানসভায় চলে যান মমতা। সেখানে বিধানসভায় ঢোকার সময় মমতার সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের একপ্রস্থ ধস্তাধস্তি হয়। দলনেত্রীকে আটকানোর ঘটনায় দ্রুত মেজাজ হারান তৃণমূল বিধায়করা। সেদিন শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিধানসভায় ভাঙচুর চালায় তৃণমূল কংগ্রেস। সেই ঘটনায় কংগ্রেসের এক বিধায়ককে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। আক্রান্ত হন সিপিএমের জাহানরা খান। বিধানসভার প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে সেদিন বিধানসভার দরজা সাধারণের জন্য খুলে দিয়েছিলেন স্পিকার হাসিম আব্দুল হালিম। যদি ও পরবর্তীকালে এই ঘটনায় জড়িয়ে থাকার কথা অস্বীকার করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

২০১২ সালে বিধানসভায় বাম- তৃণমূল দ্বন্দ্ব

২০১২ সালের ১১ ডিসেম্বর সিপিএম- তৃণমূল অশান্তিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। সিপিএমের দেবলীনা হেমব্রমের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তৃণমূলের মাহামুদা খাতুন।এরপরেই ঘটনা গড়ায় হাতাহাতিতে। দেবলীনা হেমব্রমকে শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তাঁর পেটে ঘুসি মারা হয়। এই ঘটনায় আহত হন সিপিএম বিধায়ক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়। হাতাহাতিতে চোয়াল ভেঙে যায় তাঁর। তৃণমূলের তরফে আক্রান্ত হন বিধায়ক ধীমান রায়। গোটা ঘটনায় স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তিন বাম বিধায়ককে সাসপেন্ড করেন।

২০১৭ সালে বাম- কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের বচসা

২০১৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। সম্পত্তি ভাংচুরের বিহিতের জন্য বিধানসভায় বিল পেশ হয়। সেই বিল নিয়ে আলোচনার মাঝেই শাসক তৃণমূল ও বিরোধীদল বাম- কংগ্রেসের ঝামেলা শুরু হয়। বিধানসভা ভাঙচুরের ছবি নিয়ে বিধানসভায় আসেন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান। বিরোধী দলনেতাকে স্পিকার ছবি সাঁটানো পোস্টার খুলে ফেলতে বলেন। বিলের বিরোধিতা করে নোটিশ দেন আব্দুল মান্নান। মান্নানের নোটিশ খারিজ করেন অধ্যক্ষ। এরপরেই স্পিকারের ন্যায়দণ্ড তুলে নেন কংগ্রেসের মনোজ চক্রবর্তী। হাঙ্গামা শুরু হয় বিধানসভার ভেতরে। গোটা ঘটনায় আব্দুল মান্নানকে দায়ী করে তাঁকে সাসপেন্ড করেন অধ্যক্ষ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিধানসভায় বিল পেশ করেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

লিখেছেন
Aritra Dasgupta
Aritra Dasgupta
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

তিন দিনে তিনবার আটক রাহুল, রাজঘাটে বিরোধীদের ধর্না: SIR নিয়ে সংঘাত কোথায় গিয়ে ঠেকল?

Rahul Gandhi SIR protest: গত তিন দিন ধরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে দিল্লি। মঙ্গলবার সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের দিকে পদযাত্রা দিয়ে শুরু হয় এই প্রতিরোধ। পুলিশ বাধা দিলে রাহুল গান্ধী ব্যারিকেডে উঠে জাতীয় পতাকা নাড়ান এবং সহকর্মীদের নিয়ে ঢুকে পড়েন সংলগ্ন আকাশবাণী ভবনে।

বেঙ্গালুরুতে জনতার ট্রাইব্যুনাল, এসআইআর-এর বিরুদ্ধে সরব প্রকাশ রাজ-ধ্রুব রাঠী

Bengaluru Protest Against SIR: এসআইআর-এর বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে পথে নামলেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করলেন প্রকাশ রাজ, ধ্রুব রাঠী-সহ প্রতিবাদীরা। ‘পিপলস ট্রাইব্যুনাল’-এ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ উঠল?

মোদির ২৫ বছর: গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে ভারতের দীর্ঘতম সরকারপ্রধান

Modi's Quarter Century in Power: ৭ অক্টোবর ২০২৬, গুজরাটের ভূমিকম্পোত্তর পুনর্গঠন থেকে ক্ষমতার শীর্ষে, টানা ২৫ বছর সরকারপ্রধানের পদে রেকর্ড গড়লেন নরেন্দ্র মোদি। গত ১০ জুন, তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নেহরুর ৪,৩৯৮ দিনের রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছেন। তাঁর আমলে ভারতের জিডিপি হয়েছে তিনগুণ, বৈদেশিক রফতানি পৌঁছেছে বিলিয়ন ডলারের হিসাবে, কিন্তু শিক্ষিত যুবদের বেকারত্বও হয়েছে আকাশছোঁয়া, তাঁর করা নোটবাতিলে দরিদ্রতমরা হয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত, একাডেমিক ফ্রিডমের প্রশ্নে দেশের নাম ডুবেছে বারবার। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, মোদিযুগের অর্জন, ব্যর্থতা ও গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের হিসাব।

গাজা ধ্বংসের তিন বছর: স্কুল নেই, শিক্ষক নেই, হারিয়ে যাচ্ছে একটি প্রজন্ম

Gaza education crisis: ইউনিসেফের হিসেব অনুযায়ী, গাজার ৪ থেকে ১৭ বছর বয়সি প্রায় ৭ লক্ষ শিশু টানা তিন শিক্ষাবর্ষ ধরে নিয়মিত স্কুলশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়েও গাজার প্রায় ৪ লক্ষ ২০ হাজার শিশু সরাসরি স্কুলে গিয়ে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল।

এসআইআর: সর্বোচ্চ আদালতের ভূমিকা নিয়েও কথা হোক

SIR controversy: নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যখন একের পর এক অভিযোগ উঠছে, তখন সুপ্রিম কোর্টের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও কি প্রশ্ন উঠবে না? ফর্ম ৬, ভোটার তালিকা থেকে বাদ এবং ট্রাইবুনালে দীর্ঘসূত্রিতার মতো ঘটনায় সর্বোচ্চ আদালত কি তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে?

নেহা বোরার সভার পরেই যাদবপুরে কমিটি ভাঙল! রাজনৈতিক অনুষ্ঠান ঘিরে কেন তুঙ্গে বিতর্ক?

Neha Bora Jadavpur University: আয়োজক ছাত্র সংগঠন আইসার যাদবপুর ইউনিট দাবি করেছে যে তারা যথাযথ নিয়ম মেনে ২০ সেপ্টেম্বরই আবেদনপত্র জমা দিয়েছিল এবং ২৫ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট কমিটি থেকে অনুষ্ঠানটির অনুমোদনও পেয়েছিল। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দেবজিৎ দত্ত দাবি করেন, এই ধরনের কোনো ফাইল বা অনুমতির চিঠি তাঁর দপ্তরে পৌঁছয়নি।

এসআইআর ফর্ম ৭ বিতর্ক, ৩০ জন মুসলিম ভোটারের নাম বাদের অভিযোগে এফআইআর

SIR Form 7 Controversy: হায়দরাবাদে এসআইআর-এ ফর্ম ৭ নিয়ে বিতর্ক। ৩০ জন মুসলিম ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন করার অভিযোগে বিজেপির এক বুথ এজেন্টের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। নির্বাচন আধিকারিকদের যাচাইয়ে ওই ভোটারদের ঠিকানায় থাকার প্রমাণ মেলে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বামের যে ভোট রামে গিয়েছে, তার অধিকাংশই ফেরানো যাবে বলে মনে করি: দীপ্সিতা

Dipsita Dhar Interview: ৮০ শতাংশ মানুষ মমতার বিরুদ্ধে ক্রোধ এবং ঘৃণায় বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন। বাকি ২০ শতাংশ দিয়েছিলেন ‘হিন্দুত্বের’ কারণে। সিপিএমের নেত্রী মনে করেন, সেই ৮০ শতাংশ মানুষকে বুঝিয়ে ফেরানো সম্ভব।