২৬ হাজার চাকরি বাতিলের মধ্যে রেহাই শুধু এক জনের! কীভাবে বাঁচলেন সোমা?

West Bengal SSC Recruitment Case: সোমবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ শাব্বির রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ এই চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে। তবে সেই রায় থেকে ছাড় পেয়েছেন সোমা দাস।

Sohini Das
৩ মিনিট
২৬ হাজার চাকরি বাতিলের মধ্যে রেহাই শুধু এক জনের! কীভাবে বাঁচলেন সোমা?

এক ধাক্কায় ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল। কলকাতা হাইকোর্টের এক রায়ে জীবিকাহীন হয়ে গেলেন পশ্চিমবঙ্গের ২৬ হাজার শিক্ষক। কলকাতা হাইকোর্ট সোমবার জানিয়ে দিল ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পাওয়া প্রায় ২৬ হাজার চাকরির কোনও বৈধতা নেই। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষক হিসেবে প্রাপ্ত বেতনও তাদের সুদ-সহ ফেরতের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এই নির্দেশের আওতায় পড়েননি শুধু একজন। তিনি সোমা দাস। তাঁর চাকরি বহাল থাকবে বলেই জানিয়ে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

লোকসভা ভোট শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ আগামী ২৬ এপ্রিল। তার আগেই নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে ভয়াবহ রায় দিয়ে বসল কলকাতা হাইকোর্ট। এমনিতেই হাজারও দুর্নীতি মামলায় চাপে তৃণমূল সরকার। তার মধ্যে ভোটের আগে আরও উদ্বেগ বাড়ালো হাইকোর্টের নতুন রায়। সোমবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ শাব্বির রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ এই চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে। তবে সেই রায় থেকে ছাড় পেয়েছেন সোমা দাস। মানবিক কারণেই তাঁর নিয়োগ বাতিল হচ্ছে না বলে জানিয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভোটের মুখে ২৬,০০০ চাকরি বাতিল! SSC-তে যোগ্য প্রার্থীরা আর কোনওদিন চাকরি পাবেন?

SSC Recruitment Scam: চার সপ্তাহের মধ্যে সুদ-সহ বেতন ফেরত দিতে হবে সকলকে। বছরে ১২ শতাংশ সুদে এই টাকা ফেরত দিতে হবে।

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে শোরগোল চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। এর আগে প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে একই রকম সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল হাইকোর্ট। প্রায় ৩৬ হাজার প্রাইমারি শিক্ষকের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই মামলায় অবশ্য উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিক স্থগিতাদেশ পড়লেও সেই মামলা এখনও চলছে। এবার কপাল পুড়ল এসএসসি-র প্যানেলে চাকরি পাওয়া ২৫,৭৫৩ জন শিক্ষকের। এদিকে, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাননি, এমন অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন অসংখ্য চাকরিপ্রার্থী। ধর্মতলার গান্ধীমূর্তির সামনে সেই কবে থেকে ধর্না চলছে তাদের। সেই ধর্নামঞ্চে এক সময় দেখা গিয়েছিল বীরভূমের মেয়ে সোমাকেও।

শুধু চাকরির লড়াই নয়, তার সঙ্গেই সোমাকে লড়তে হয়েছে জীবনের লড়াই। ২০১৬ সালে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের (এসএলএসটি) পরীক্ষায় বসেন সোমা। সেই নিয়োগের মেধাতালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তাঁকে চাকরি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয় হাইকোর্টে। তার মধ্যেই ২০১৯ সালে ক্যানসার ধরা পড়ে তাঁর। সে বছর ফেব্রুয়ারি থেকে ব্লাড ক্যানসারে ভুগছেন নলহাটির পাইকপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আশ্রমপাড়া গ্রামের মেয়ে সোমা। কিন্তু চাকরির লড়াই ছেড়ে দেননি সোমা। বরং চাকরির দাবিতে রোদ, ঝড়, বৃষ্টি মাথায় নিয়েই দিনের পর দিন কলকাতার রাস্তায় ধর্না, অবস্থান বিক্ষোভ করে গিয়েছেন অসুস্থ সোমা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শেষ এসএসসি-তদন্ত, যে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল সিবিআইয়ের হাতে

SSC Scam: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কলকাতায় সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দেয় ইডি। চারটি চার্জশিটেই নাম রয়েছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের।

শিক্ষক নিয়োগ মামলায় চাকরিপ্রার্থীদের মসিহা হয়ে সামনে এসেছেন বর্তমান বিজেপি নেতা ও লোকসভা ভোটের প্রার্থী অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তার এজলাসে একাধিক বার এসেছেন সোমা, জানিয়েছেন নিজের বঞ্চনার কথা। মামলাকারীদের থেকেই সোমার শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পারেন প্রাক্তন বিচারপতি। সব শুনে রাজ্য সরকারের কাছে সোমার চাকরির আবেদন জানান অভিজিৎবাবু। প্রাক্তন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুরোধ রাখে সরকার। সোমাকে নিয়োগ দিয়েছিল কমিশন। ২০২২ সালে হাই কোর্টের অনুরোধ মেনে ক্যানসার আক্রান্ত সোমাকে চাকরির সুপারিশপত্র দেয় কমিশন। বীরভূমেই তাঁকে চাকরি দেওয়া হয়। বীরভূমের নলহাটি-১ ব্লকের মধুরা হাই স্কুলে বাংলার শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন সোমা।

সেই থেকেই ওই স্কুলে চাকরি করছেন সোমা। তবে নিয়োগ পেয়েও সহ-আন্দোলনকারীদের ভোলেননি সোমা। বরং তাঁদের নিয়োগের জন্য লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। বারবার ধর্নামঞ্চেও এসেছেন। সোমবার এসএসসি মামলার ২৮১ পাতার রায়ে বিচারপতিরা জানাচ্ছেন, সোমা দাস ক্যানসার আক্রান্ত, তাই মানবিকতার স্বার্থে তাঁর চাকরি বাতিল করা হয়নি। তিনি আগের মতোই শিক্ষিকা হিসেবে চাকরি করবেন।

২৫,৭৫৩ জন এসএসসি শিক্ষকের কপাল পুড়লেও নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের ফল পেয়েছেন অসুস্থ সোমা। বর্তমান পরিস্থিতিতেও বহাল থাকছে তাঁর চাকরি। সে খবর আনন্দের হলেও সহযোদ্ধাদের জন্য উদ্বেগ কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে সোমাকে। তাঁর বক্তব্য যোগ্য প্রার্থীরা যেন চাকরি পান, সেটাই তাঁর চাওয়ার।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।