এতদিনে যুদ্ধের ইতি! গ্রেফতার করা হবে ভ্লাদিমির পুতিনকে?
Arrest Warrant Against Putin: ভোভা-বেলোভা জানিয়েছিলেন, তিনি বিধ্বস্ত ইউক্রেনীয় বন্দর শহর মারিওপোল থেকে এক ১৫ বছর বয়সী শিশুকে দত্তক নিয়েছেন।

যুদ্ধের বর্ষপূর্তি ঘটেছে। আর এই এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে ইউক্রেন। বাড়ি, হাসপাতাল, স্কুল সবটাই গুঁড়িয়ে গিয়েছে। ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়েছেন মানুষ। পোষ্যকে আঁকড়ে লুকিয়ে থেকেছেন অজস্র জনগণ। আর শিশুরা? এই গুলি বোমার জঙ্গলে কীভাবে বেড়ে উঠল তারা এই এক বছরে? নির্বাসন দেওয়া হয়েছে শিশুদের, যাদের নিরাপদ বাসযোগ্য জীবন পাওয়ার কথা ছিল, তাদেরই চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে রাশিয়া, ফেলেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি পুতিন। আর এই যুদ্ধাপরাধের জন্য ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ঘোষণা করল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। ইউক্রেনের শিশুদের বেআইনিভাবে নির্বাসনের অভিযোগ রয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে। হেগের আইসিসি জানিয়েছে, তারা এই একই অভিযোগে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির শিশু অধিকার কমিশনার মারিয়া ভোভা-বেলোভার বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি করেছে।
মস্কো অবশ্য এই পরোয়ানাকে কোনও গুরুত্ব দিতেই নারাজ। রাশিয়া আইসিসির অংশীদারই নয়, তাই পুতিনকে আদৌ কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর মতো ক্ষমতা এই আদালতের আছে কিনা, প্রশ্ন তুলেছে রাশিয়া। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন স্বাভাবিকভাবেই আইসিসির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে, ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লোদিমির জেলেনস্কি এই গ্রেফতারি পরোয়ানাকে 'ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত' বলেই মনে করছেন।
যে মুহূর্তে আন্তর্জাতিক আদালত এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তার ঠিক কিছু আগেই দু'টি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে। চিনের নেতা শি জিনপিংয়ের মস্কো সফর এবং কিয়েভের বাহিনীর জন্য আরও যুদ্ধবিমান সহ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলতে পারে এমন দু'টি বিষয়ে খবর আসার পরপরই আদালতের এই পরোয়ানা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Vladimir Putin Russia: ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছিল পুতিন খুব অসুস্থ, সম্ভবত মৃতও। তবে মৃত্যু গোপন করার জন্য রাষ্ট্রপতির 'ডামি' ব্যবহার করা হচ্ছে।
আদালত বলছে, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে ১৬,০০০ এরও বেশি ইউক্রেনীয় শিশুকে রাশিয়ায় নির্বাসিত করা হয়েছে। অনেক শিশুকেই নানা প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। আইসিসির প্রসিকিউটর করিম খান জানাচ্ছেন, শিশুরা সমাজে সবচেয়ে সঙ্কটে থাকা অংশ। তাই শিশুদের বিরুদ্ধে এই হেনস্থা ও অপরাধ ক্ষমাহীন। সেই কারণে আদালতের ১২০ টিরও বেশি সদস্য দেশে পা রাখলে গ্রেফতার করা হবে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতিকে।
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পুতিনের সঙ্গে এক বৈঠকের সময়, ভোভা-বেলোভা জানিয়েছিলেন, তিনি বিধ্বস্ত ইউক্রেনীয় বন্দর শহর মারিওপোল থেকে এক ১৫ বছর বয়সী শিশুকে দত্তক নিয়েছেন। তিনি পুতিনকে বলেছিলেন, "এখন আমি জানি ডনবাসের একজন সন্তানের মা হওয়ার অর্থ কী- এটি কঠিন কাজ কিন্তু আমরা একে অপরকে ভালোবাসি, এটা নিশ্চিত।" ভোভা-বেলোভা আরও জানিয়েছিলেন, শিশুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাদের পুনর্বাসন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Putin Girlfriend Secret Palace : দেশের দিকে তাঁর নজর নেই; বরং নিজের বহুচর্চিত ‘প্রেমিকা’র সঙ্গেই গোপনে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রের বর্তমান প্রধান পুতিনের জন্য এই গ্রেফতারি পরোয়ানা যে আইসিসির এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ, তা বলাই বাহুল্য। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত, ICC হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জঘন্য অপরাধের নিষ্পত্তির জন্য এক শেষ অবলম্বন। কোনও দেশ যখন সন্দেহভাজন অপরাধীদের বিচার করতে পারে না বা বিচার করে না, তখন মাঠে নামে এই আন্তর্জাতিক আদালত।
ইউক্রেনের পশ্চিমি মিত্রপক্ষ দেশগুলিও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই পরোয়ানাকে 'ন্যায়সঙ্গত' বলেই মনে করছেন, যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজে আইসিসির সদস্য নয়। ব্রিটেনও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে ক্রেমলিন এই পরোয়ানা খারিজ করে দিয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়ে দিয়েছেন, আরও বিভিন্ন দেশের মতো রাশিয়াও এই আদালতের এক্তিয়ার স্বীকার করে না এবং তাই আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এই আদালতের সিদ্ধান্ত বাতিল। রাশিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ এই পরোয়ানাকে 'টয়লেট পেপার' বলে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি।
সম্প্রতিই বেইজিং এবং মস্কো ঘোষণা করে যে চিনের নেতা এবং কূটনৈতিক মিত্র শি এই দুই রাষ্ট্রশক্তির সম্পর্কের এক নয়া যুগের সূচনাকারী কিছু চুক্তিতে সই করতে আগামী সপ্তাহেই রাশিয়ায় থাকবেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিনের বিরুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন জোগাতে অস্ত্র জোগান দেওয়ার অভিযোগও এনেছে।
রাশিয়া বা ইউক্রেন কেউই আইসিসির সদস্য নয়, তবে কিয়েভ আদালতের এই পরোয়ানা স্বীকার করেছে। রাশিয়া তার সেনাদের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইউক্রেনে এখনও যুদ্ধ চলছে। ইউক্রেন জানিয়েছে, স্লোভাকিয়া ১৩টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান দান করতে চলেছে ইউক্রেনকে। ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমি মিত্র শক্তিদের কাছে যুদ্ধবিমান চেয়েছে। মার্কিন মুলুকে তৈরি এফ-১৬ আধুনিক বিমান চাইছে ইউক্রেন।















