অনুব্রতর তিন ‘ব্যথা’, চিঠির আড়ালে দেখা দিলেন চিররসিক কেষ্ট?

অতীতে বিরোধীদের ‘গুড় বাতাসা’ খাওয়ানো বা ‘শুঁটিয়ে লাল করে’ দেওয়ার মতো শ্লেষাত্মক বাক্য শোনা গেছে তাঁর গলায়, এবার প্লেটোয় মজলেন অনুব্রত। ২২ এপ্রিল এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে নিউ টাউনের ফ্ল্যাটে ফেরার পরেই সিবিআই তাঁকে তলব করে চিঠি পাঠায়। ২৩ এপ্রিল বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে তাঁকে নিজাম প্যালেসে পৌঁছনোর নির্দেশ দেন তাঁরা। কিন্তু এবারও অনুব্রত মন্ডল শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে সিবিআইয়ের জেরা এড়িয়ে যান। ইতিপূর্বে তাঁর ডাক্তাররা জানিয়েছেন, এপিডিডিমাইটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার ফলে তাঁর দুটো অণ্ডকোষের অবস্থাই উদ্বেগজনক। এছাড়াও তাঁরা জানিয়েছেন, হার্টের সমস্যা রয়েছে অনুব্রতর।

গত ২০ এপ্রিল চিকিৎসকদের নির্দেশে সিটি অ্যানজিও করার উদ্দেশ্যে অনুব্রতকে এসএসকেএম-এর উডবার্ন ব্লক থেকে অ্যানেক্স রামরিক হাসপাতালের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। এর ঠিক তিনদিনের মাথায় তাঁর শারীরিক অবস্থার খানিক উন্নতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এসএসকেএমের ডাক্তারেরা। তবু এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি সেরে ওঠেননি তিনি। চিকিৎসকদের নির্দেশে এখন কেষ্টর হাঁটাচলা করা সম্পূর্ণভাবে বারণ। আগামী চার সপ্তাহ তাঁকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।  এরই মধ্যে গরু পাচার কাণ্ডে মুখোমুখি জেরার উদ্দেশ্যে সিবিআই তাঁদের সদর দপ্তরে তলব করে তাঁকে। কিন্তু তার উত্তরে তাঁদের এক দীর্ঘ চিঠি পাঠান কেষ্ট, যা রসবোধে পরিপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।

অনুব্রত তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, "তিনটে ‘পি’ রয়েছে, যা নিয়ে যে কোনও হোমোস্যাপিয়েন্স ভয় পায়, আতঙ্কে থাকে। সেই তিন ‘পি’ হল, পেইন অফ দ্যা টুথ, মানে দাঁতে ব্যথা। পেইন অফ দ্য রেকটাম, মানে মলদ্বারে যন্ত্রণা। আর পেইন অফ দ্য স্ক্রোটা, মানে অণ্ডকোষে ব্যথা।" এছাড়াও বীরভূমের জেলা সভাপতি সেই চিঠিতে জানিয়েছেন, আইনের শাসনের প্রতি তাঁর অগাধ আস্থা রয়েছে, আর তার উদাহরণ হিসেবেই তিনি প্লেটো এবং অ্যারিস্টটল নামক দুই গ্রিক দার্শনিকের প্রসঙ্গ এনেছেন।

আরও পড়ুন: অণ্ডকোষ থেকে হার্টের সমস্যা, অনুব্রতর অসুখ আর সারে না

চিঠির শেষে তিনি সিবিআই কর্তাদের অনুরোধ জানিয়েছেন, তাঁরা যেন ২১ মে-র পর তাঁর রাজারহাটের ফ্ল্যাটে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি এও জানিয়েছেন যে, জিজ্ঞাসাবাদের আগে তাঁরা চাইলে তাঁর ঘর এবং দেহ তল্লাশি করে দেখতে পারেন। ইতিপূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীর সিবিআই তলবকে কেন্দ্র করে বিস্তর নাটকীয়তার সাক্ষী থেকেছেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। কিন্তু এমন ঘটনা সম্ভবত প্রথমবার ঘটল, এমনটাই মনে করছেন অনেকে। অনেকে এও মনে করছেন যে, এই চিঠি অনুব্রতর লেখা নয়। তাঁদের মতে, কোনও আইনজীবীকে দিয়ে লেখানো হয়েছে এমন চিঠি। প্রসঙ্গত, সিবিআইয়ের তরফে অনুব্রতর পাসপোর্ট চাওয়া হয়েছে। এছাড়াও কলকাতার বিভিন্ন বিমানবন্দরগুলো ষকে সতর্ক করে দিয়ে তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা।

ইতিপূর্বে অনুব্রতর বিভিন্ন শ্লেষাত্মক মন্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বস্তুত, কেষ্ট মুখ খুললেই সেই ভিডিও নিমেষের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ২০২০ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি-র কিছু কর্মী, সমর্থকের সঙ্গে বিশ্বভারতী-র পড়ুয়াদের সংঘাতের ঘটনার প্রেক্ষিতে শিক্ষাঙ্গণে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের ‘শুঁটিয়ে লাল করে’ দেওয়ার নিদান দেন তিনি। এছাড়াও বিজেপির এককালীন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ‘পাতা’-র নেশা করেন কি না, সে-বিষয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। নেট নাগরিকদের একাংশের মতে, কেষ্ট মানেই ‘মিম কন্টেন্ট’। ইতিপূর্বে সামাজিক মাধ্যমে তাঁর শ্লেষাত্মক বাক্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে অজস্র মিম এবং ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও।

রাজনীতির ময়দানে অনুব্রতর দাপট দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বীরভূমে তৃণমূলের মসনদ কার্যত একা হাতেই সামলাচ্ছেন তিনি। কিন্তু এত কিছুর পরেও তাঁর রসবোধে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি, এমনটাই মনে করছেন অনেকে। রাজনৈতিক দাপটের সঙ্গে কেষ্টর রসবোধও যেন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

 

More Articles

;