ছোট্ট ফলেই লুকিয়ে আছে ক্যান্সারের যম! লাল, সবুজ নাকি কালো, কোন আঙুরে বেশি উপকার?

Green, black or red grapes : সবুজ, কালো কিংবা লাল যে কোনও আঙুর রাখুন খাদ্যতালিকায়, পান দারুন উপকার

inscript
৩ মিনিট
ছোট্ট ফলেই লুকিয়ে আছে ক্যান্সারের যম! লাল, সবুজ নাকি কালো, কোন আঙুরে বেশি উপকার?

কথায় বলে, ‘আঙুর ফল টক’! মরশুমের প্রথম প্রথম আঙুর কিনলে অবশ্য সত্যিই টকে যায় দাঁত, তবে আদতে আঙুরকে কেবল টক ফল হিসেবে চিহ্নিত করলে খুবই অন্যায় হবে। এই ফলের রয়েছে হাজার গুণাগুণ। সুস্বাদু কিসমিস থেকে শুরু করে দামী ওয়াইন, সবেতেই ব্যবহার করা হয় আঙুরকে। তবে আঙুর বলতেই আমাদের চিরাচরিত সবুজ রঙের আঙুরের কথাই প্রথমে মাথায় আসে। কিন্তু জানেন কি এছাড়াও আরো দুটি রঙের আঙুর পাওয়া যায় বাজারে। লাল এবং কালো রঙের আঙুরের চাহিদাও এখন তুঙ্গে। বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য সচেতন প্রজন্ম তাই ডায়েট চার্ট মেনেই ফল খাওয়া নির্ধারণ করে। আর এর পিছনে থাকে নির্দিষ্ট হেলথ বেনিফিটস্।

সারা বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ফল আঙুর। সব রঙের আঙুরেই থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন কে, সি, বি১, বি৬, পটাশিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ। তবে জানেন কি চিরাচরিত যে সবুজ আঙুর আমরা বেশি খাই তার থেকেও বেশি স্বাস্থ্যকর বলা হয় কালো আঙুরকে। এর কারণ সবুজ আঙুরের তুলনায় কালো আঙুরে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন সি বেশি পরিমাণে থাকে। সুপরিচিত ডায়েটিশিয়ান এবং পুষ্টিবিদ অবনি কৌল বলেছেন, “আঙুর আপনার ত্বক, হৃদপিণ্ড এবং রক্তনালীগুলির জন্য স্বাস্থ্যকর বলে মনে করা হয়। আঙুরের মধ্যে, সবুজ আঙ্গুরের তুলনায় কালো এবং লাল আঙ্গুরকে স্বাস্থ্যকর বলে মনে করা হয়”। আসুন দেখে নেওয়া যাক বিশেষজ্ঞদের মতে কোন রঙের আঙুরের মধ্যে কী কী উপাদান থাকে, এবং সেগুলো কী উপকার করে।

১. সবুজ আঙুর

এই ধরনের আঙুরই সবথেকে বেশি পরিমাণে খাওয়া হয়। বাংলা তথা গোটা ভারতের বাজারে সবুজ আঙুরের যোগান সবথেকে বেশি। একে স্থান বিশেষে আবার সাদা বা হলুদ আঙ্গুর নামেও ডাকা হয়। এগুলি মূলত মিষ্টি, ডেজার্ট আইটেম, স্যালাড, স্মুদি এবং বেকড পণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দেখতে ঠিক চেরির মতো, বাংলায় অবহেলিত এই ফলেই রয়েছে হাজার রোগের নিরাময়

Bengal Currant or Karamcha : এর বৈজ্ঞানিক নাম Carissa carandus। আর ইংরেজিতে বলা হয় Bengal Current। আর বাংলায় কী বলে?

গবেষণা অনুসারে, এক কাপ সবুজ আঙুরের রসে প্রায় ১০৪ গ্রাম ক্যালোরি, ১.৪ গ্রাম প্রোটিন, ০.২ গ্রাম ফ্যাট এবং ২৭.৩ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। সবুজ আঙুর ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং পটাসিয়ামের দারুণ উৎস। এই ভিটামিন সি হল এমন এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ইমিউন ফাংশন সঠিক রাখতে এবং ত্বকের জেল্লা ফেরাতে সাহায্য করে। অপরদিকে এর মধ্যে থাকা ভিটামিন কে রক্ত ​​​​জমাট বাঁধতে দেয় না, এবং হাড় ক্ষয় রোধ করে। এছাড়া পটাসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হার্টের রোগ নিরাময়ে সহায়তা করে।

২. কালো আঙুর

কালো আঙুরকে অনেকেই বেগুনি আঙুর বলেন। বাইরে থেকে দেখতে অনেকটা কাল জামের মতো হয়। আঙুরের মধ্যে সবচেয়ে উপকারী বলা হয় এই ধরনের প্রকারভেদকে। এগুলি মূলত উচ্চ ট্যানিন সামগ্রীর কারণে রেড ওয়াইন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

এক কাপ কালো আঙুরের রসে প্রায় ১০৪ গ্রাম ক্যালোরি, ১.১ গ্রাম প্রোটিন, ০.২ গ্রাম ফ্যাট এবং ২৭.৩ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে। কালো আঙুর স্বাস্থ্যকর কারণ এগুলি সবুজ আঙুরের মতোই ভিটামিন সি এবং ভিটামিন কে-এর একটি ভাল উৎস। তবে, এগুলিতে রেসভেরাট্রলও রয়েছে, একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা প্রদাহ হ্রাস, হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং নির্দিষ্ট ধরণের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মাত্র এক কেজি কিনতে গিয়েই দেউলিয়া! জানেন বাজারের সবচেয়ে দামী সবজি কোনটা?

World’s Most Expensive Vegetable : বিশ্ব বাজারে সবচেয়ে দামী সবজি হিসাবে বিবেচনা করা হয় একেই। দামও আকাশ ছোঁয়া। যা কিনতে রীতিমতো বিপাকে পড়তে হবে আপনাদেরও। প্রতি কেজির দাম ৮৫০০০ টাকা থেকে এক লক্ষ টাকা।

৩. লাল আঙুর

লাল আঙুর, যা ক্রিমসন বা বারগান্ডি আঙুর নামেও পরিচিত। এটি সাধারণত ফলের স্যালাড, জ্যাম এবং জেলিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এগুলি কালো আঙুরের মতোই রেড ওয়াইন তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়।

এক কাপ লাল আঙুরের রসের মধ্যে প্রায় ১০৪ গ্রাম ক্যালোরি, ১.১ গ্রাম প্রোটিন, ০.২ গ্রাম ফ্যাট এবং ২৭.৩ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে। লাল আঙুরও কালো আঙুরের মতো ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং রেসভেরাট্রোলের একটি ভালো উৎস।

কোন রঙের আঙুর সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর?

যদিও তিনটি জাতের আঙুরই মোটামুটি একই রকম পুষ্টির সুবিধা দেয়, তবুও কালো রঙের আঙুর এবং লাল আঙুরে রেভেরাট্রল থাকে, যা সবুজ আঙুরের থেকে এদের আলাদা করে। এছাড়া কালো এবং লাল উভয় আঙুরেই ফেনোলিক অ্যাসিড, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং রেসভেরাট্রল নামক তিন ধরণের পলিফেনল থাকে। পুষ্টিবিদদের মতে এই রেসভেরাট্রল বিভিন্ন ভাবে স্বাস্থ্যের উপকার করতে পারে। দেহের কোনও অংশের প্রদাহ হ্রাস, হৃদরোগের উন্নতি এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। তাই চিকিৎসকেরা সবুজ আঙুরের তুলনায় কালো এবং লাল আঙুর খাওয়ায় বেশি জোর দেন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।