বিয়ে বাড়িতে ব্যাপক ডিজে! যে কোনও মুহূর্তে হার্ট অ্যাটাক কাড়বে আপনার প্রাণ

DJ Sound and Heart Attack: যখন কোনও ব্যক্তি উচ্চস্বরে সঙ্গীতের সংস্পর্শে আসেন, তখন হৃদস্পন্দন দ্রুত বৃদ্ধি পায়, ঠিক যেমন জগিং বা শারীরিক কসরতের সময় বেড়ে যায়।

inscript
৩ মিনিট
বিয়ে বাড়িতে ব্যাপক ডিজে! যে কোনও মুহূর্তে হার্ট অ্যাটাক কাড়বে আপনার প্রাণ

গত কয়েক মাসের মধ্যে খবরের শিরোনামে এসেছিল কয়েকটি অদ্ভুত মৃত্যুর ঘটনা। হৃদরোগ আসে হঠাৎই, তবে তা এতটাও যে আকস্মিক হতে পারে ভাবতে পারেননি অনেকেই। গত ৪ মার্চ বিহারের সীতামারহির বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী সুরেন্দ্র কুমার কনের সঙ্গে মাল্যদান পর্ব সাঙ্গ করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তেলেঙ্গানায় আত্মীয়ের বিয়েতে নাচতে গিয়ে ১৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি হঠাৎই পড়ে যান এবং তাঁর মৃত্যু ঘটে। গত বছরের ২৫ নভেম্বর বারাণসীর পিপলানি কাটরায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচতে গিয়ে হার্টঅ্যাটাক হয়ে মৃত্যু ঘটে এক ব্যক্তির। এই সবক'টি ঘটনাতেই খলনায়ক একই, ডিজে বক্স! বারাণসীর ওই বিয়ের অনুষ্ঠানের ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই ব্যক্তি সকলের সঙ্গেই নাচছিলেন, হঠাৎ মাটিতে পড়ে যান তিনি। বিহারের বিয়ের ঘটনাতেও মৃতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বর মালাবদল অনুষ্ঠানে তীব্র ডিজে মিউজিকে অস্বস্তি বোধ করার পরেই পড়ে যান।

২০১৯ সালের নভেম্বরে ইউরোপীয় হার্ট জার্নালে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছিল। সেই গবেষণা জানিয়েছিল, যে কোনও ধরনের সঙ্গীত, তা উচ্চস্বরে হোক বা নরম, একজন ব্যক্তিকে দুর্বল করে তুলতে পারে। গবেষকরা ৫০০ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের উপর গবেষণা চালান যাদের বাস বা কাজ ব্যস্ত বাজার এলাকায়। এরা সকলেই ক্রমাগত উচ্চস্বরে শব্দের সংস্পর্শে ছিলেন। পাঁচ বছর ধরে পরিচালিত এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, যাদের হৃদরোগের কোনও উপসর্গই নেই তারাও কার্ডিওভাসকুলার রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সুস্মিতা সেনের হার্ট অ্যাটাক! কেন চরম 'ফিট' মানুষও আক্রান্ত হচ্ছেন হৃদরোগে?

Sushmita Sen Heart Attack: সুস্মিতা সেন ২০১৪ সালে অ্যাডিসন'স ডিজিজ নামে একটি অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত হন এবং সেই চিকিত্সার অংশ হিসাবে তাঁকে স্টেরয়েড নিতে হয়েছে বেশ।

কার্ডিওভাসকুলার রোগের (বায়ু দূষণ সহ) কারণ হতে পারে এমন অন্যান্য বিষয়গুলির সঙ্গে তুলনা করার পরে গবেষকরা দেখেছেন যে ২৪ ঘণ্টায় গড় শব্দস্তরে প্রতি ৫ ডেসিবেল বৃদ্ধি হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং অন্যান্য গুরুতর হৃদরোগ ৩৪% বাড়িয়ে তোলে। এটি অ্যামিগডালাকেও (মস্তিষ্কের ধূসর পদার্থ) প্রভাবিত করে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘক্ষণ তীব্র শব্দের মধ্যে থাকার ফলে এই অংশটি সঙ্কুচিত হয়। যার ফলে খিটখিটে ভাব, মেজাজ পরিবর্তনের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

জার্মানির মেইনজ ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টারে ৩৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সী প্রায় ১৫,০০০ মানুষের উপরও এমনই এক সমীক্ষা করা হয়েছিল। সমীক্ষা বলছে, গান হোক বা আওয়াজ, একটা নির্দিষ্ট সীমার পরে তা বাড়লে মানুষের হৃদয়ে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। যখন কোনও ব্যক্তি উচ্চস্বরে সঙ্গীতের সংস্পর্শে আসেন, তখন হৃদস্পন্দন দ্রুত বৃদ্ধি পায়, ঠিক যেমন জগিং বা শারীরিক কসরতের সময় বেড়ে যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আয়ু কমছে ভারতীয়দের! প্রতিদিন কত কদম হাঁটলেই কমতে পারে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা?

Heart Attack: ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে একটি ভুল ধারণাও রয়েছে যে, সারাদিনে গৃহস্থালির কাজের মাধ্যমে যথেষ্ট শারীরিক খাটাখাটনি হয়ে যায় তাঁদের।

অনিয়মিত হৃদস্পন্দনকে অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন (AFib) বলা হয় এবং এর কারণে হার্ট অ্যাটাক, ব্রেন স্ট্রোক এবং রক্ত ​​জমাট বাঁধার মতো বিপদ ঘটতে পারে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, রক্তচাপ বাড়ায় এমন যেকোনও কাজ বা ঘটনা ফাইব্রিলেশন ঘটাতে পারে। জোরে গান বা মিউজিকও একই কাণ্ড ঘটায়। এতে হৃৎপিণ্ডের উপরের দুই প্রকোষ্ঠে ঠিকমতো রক্ত পৌঁছয় না, যার কারণে নিচের প্রকোষ্ঠের রক্তপ্রবাহও ব্যাহত হয় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

খুব বেশি মাত্রায় শব্দ কানের সংবেদনশীল কোশকে ক্লান্ত করে। খুব বেশি সময় ধরে এমন বাজনা চললে কানের সেই কোশ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার ফলে শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়। বেশিরভাগ গবেষণাই বলছে, ৬০ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ মানুষের কানের জন্য স্বাভাবিক। দীর্ঘক্ষণ হেডফোন ব্যবহার করা বা কনসার্ট, বার এবং ক্লাব বা বিয়ের অনুষ্ঠানে দীর্ঘক্ষণ বেশি শব্দের মধ্যে রইলে হতে পারে ভয়ঙ্কর বিপদ।

১৫ মিনিটের বেশি ১০০ ডেসিবেল শব্দ বা তার বেশি গান শোনা বা আওয়াজ থেকে বিরত থাকতে হবে, নাহলে শ্রবণ ক্ষমতা চলে যেতে পারে। ৫০-৭০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ হার্ট ও মনকে প্রভাবিত করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, উচ্চস্বরে মিউজিক এবং অন্যান্য বিনোদনমূলক শব্দের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ থাকার ফলে প্রতি দুইজনের মধ্যে একজনের শ্রবণশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি রয়েছে। গত বছর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিরাপদ আওয়াজের প্রেক্ষিতে জানিয়েছিল, ১২ থেকে ৩৫ বছর বয়সী মানুষ যারা মিউজিক ক্লাব বা কনসার্টে যান তারা শ্রবণ সমস্যার সম্মুখীন হন। এর মধ্যে, প্রায় ৪০ শতাংশ কিশোর এবং তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাব পড়ে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।