দুটো-চারটে নয়, হাজারটা হাত রয়েছে দেবীর! কেন দক্ষিণ ভারতেও এত জনপ্রিয় বাংলার এই কালী?

Hajar Haath Kali : দেবীর অস্ত্র ও মুকুট, এমনকী মাথার ছাতা সবই রুপোর তৈরি, অবাক করবে হাওড়ার হাজার হাত কালীর রহস্য

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
দুটো-চারটে নয়, হাজারটা হাত রয়েছে দেবীর! কেন দক্ষিণ ভারতেও এত জনপ্রিয় বাংলার এই কালী?

কালীকে কলকাত্তায়ালী বললে যে বিশেষ ভুল হয় না তা অবশ্য সকলেই কমবেশি জানেন। কালী প্রসঙ্গে আলোচনা উঠলে বারবার কলকাতা শহরের নাম যেন চলেই আসে। তবে, সারা বাংলা জুড়েই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এমন বেশ কিছু কালীর রহস্য যা আজও অবাক করে। সেই ইতিহাস শুনলে গায়ে কাঁটা দেয়। দেবীর রুদ্র মূর্তির ব্যাখ্যা মেলে বিভিন্ন প্রকারে। কলকাতার কালী বলতেই প্রথমে মাথায় আসে, কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর অথবা ঠনঠনিয়ার প্রসঙ্গ। কিন্তু ভক্তি এবং ভক্তের জোর ছড়িয়ে গিয়েছে পার্শ্ববর্তী জেলা শহরেও। প্রচলিত কালী রূপের ধারণা বারবার ভেঙেচুরে যায় সেখানে।

দেবীর রুদ্র রূপ, বিবসনা, চার হাত, হাতে রয়েছে অস্ত্র এবং কাটা মুন্ড। এই রূপেই তিনি স্বয়ং শিবের বুকের ওপর দন্ডায়মান, এবং জিভ কাটা। তবে এই রূপের আধার কোনও ধ্রুবক যে নয়, তা অবশ্য বিভিন্ন জায়গায় বোঝা যায়। কখনও দেবী ধরা দেন শান্ত মূর্তিতে, কখনও আবার হাতের সংখ্যা কমে দুই অথবা বেড়ে আট হয়ে যায়। তবে আজ যে কালীর প্রসঙ্গে আলোচনা করা হবে তাঁর কিন্তু একটা দুটো নয়, মোট হাজারখানা হাত রয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিশ্বাসে মিলায় চাকরি? মন্দার বাজারেও নাকি ষোলো আনা মানতেই চাকরি দেয় এই ‘সার্ভিস কালী’!

Service Kali : এই পরিস্থিতিতে চাকরির আশায় দিকে দিকে সংস্কারকে আঁকড়ে ধরতে চাইছে মানুষ। আর আবারও ফিরে ফিরে আসছে এই সার্ভিস কালীর প্রসঙ্গ।

শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি, হাজার হাতেই আত্মপ্রকাশ বাংলার এই কালী মূর্তির। কথিত আছে, অসুর নিধনের সময় মা দুর্গা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপ ধারণ করেছিলেন। মার্কণ্ডেয় চণ্ডীর দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ নম্বর শ্লোকে বর্ণনা রয়েছে সহস্ত্র হাত দেবীমূর্তির। যে মূর্তির বিশালাকার রূপ দেখে স্বয়ং মহিষাসুর চমকে উঠেছিলেন এবং তাঁর হাতে বধ হয়েছিলেন। দেবীর এই রুপটিই হাজার হাত কালী নামে পরিচিত। হাওড়ার শিবপুরের ওলাবিবিতলায় ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হয়ে আসছে এই হাজার হাতের মা কালীর পুজো।

সময়টা ১৮৭০ সাল। শিবপুরের ওলাবিবিতলার মুখোপাধ্যায় বাড়ির ছেলে আশুতোষ মুখোপাধ্যায় মা চন্ডীর স্বপ্নাদেশে কালির ওই রূপটি দেখতে পান।কলকাতার চোরবাগানের তান্ত্রিক মতে কিছু পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। তবে স্বপ্নে যে জায়গায়ই দেখেন তা অবশ্য হাওড়ায়। তবে দেবীর ওই বিশাল রূপ প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা ছিল না তাঁর তখন। অবশেষে স্থানীয় হালদার পরিবার পাশে এসে দাঁড়ায়। হালদারদের থেকে মাত্র ১২৫ টাকায় তিন কাঠা জমি তিনি কেনেন তিনি। এরপর বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত হয় হাজার হাত কালী মায়ের মূর্তি। মন্দির নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হতে লেগেছিল প্রায় দশ বছর। ১৮৮০ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শিব নয়, পায়ের নীচে থাকে অসুর, সিংহ! চমকে দেবে ৩০০ বছরের পুরনো বাংলার এই কালীর রহস্য

Balurghat Kali Puja : দোল উৎসবের সময় হয় এই বিশেষ পুজো, অবাক করবে বাংলার তিনশ বছরের পুরনো এই কালীর রহস্য

যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, সেই সময় মন্দিরের আশেপাশের এলাকা জঙ্গলাবৃত্ত থাকায় এই মন্দিরে পুজো দিয়ে যেতেন ডাকাত ও দস্যুরা। তবে সময়ের সঙ্গে সেই ইতিহাস ম্লান হয়ে গিয়েছে। ডাকাতদের উৎপাত কমতেই দেবী সাধারণ মানুষের আরাধ্য হয়ে উঠেছেন। শোনা যায়, আজ থেকে প্রায় ৬০ বছর আগে, কৃষ্ণা সুব্রহ্মণ্যম নামে এখানকার এক দক্ষিণ ভারতীয় ভক্ত অন্ধ হয়ে যান, দ্বারস্থ হন দেবীর। ওই যে ভক্তির জোর, আর সেই জোরেই দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি দক্ষিণ ভারতে বাংলার এই দেবীর প্রচার চালানো শুরু করেছেন। যার জেরে এখন এই মন্দিরের প্রচুর দক্ষিণ ভারতীয় ভক্ত। তাঁরা শ্রাবণ মাসে শুক্লপক্ষের শুক্রবারে দক্ষিণ ভারত থেকে এই মন্দিরে এসে দেবীর পুজো দিয়ে থাকেন অনেকেই।

হাজার হাত কালীর মূল বৈশিষ্ট্য হল, আজ বলে নয় কোনওদিনই এখানে বলির প্রথা ছিল না। এখানকার দেবীর অস্ত্র ও মুকুট তৈরি হয়েছে ১২ কেজি রুপো দিয়ে। এছাড়াও রুপো দিয়ে তৈরি হয়েছে দেবীর মাথার ছাতা। চণ্ডীপুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, কুমোরটুলির শিল্পী প্রিয়নাথ পাল তৈরি করে দেন দেবীর এই হাজার হাত। দেবী নীলবর্ণা, মহাদেব নয় সিংহের ওপর পা তুলে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। এখানে প্রতিদিন সকাল ৬টা ৩০, দুপুর ২টো এবং রাত ৮টা ৩০-এ পুজো হয়। দেবীর নৈবেদ্যতে থাকে মাছ, ভাত, ফল-মিষ্টি। রাতের আরতির পর হয় প্রসাদ বিতরণ।এখনও হাওড়ার মুখোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যরাই দেবীর সেবার কাজ করেন।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।