বোনকে আদর, মোদিকে আলিঙ্গন! প্রকাশ্যে ভালোবেসেই তবে ভারতকে জুড়বেন রাহুল?

Rahul Gandhi - Priyanka Gandhi: রাহুল গান্ধী বোনকে স্নেহের আদরে জড়িয়ে ধরেচ্ছেন। গালে চুমু খেয়েছেন, আলতো করে ঘেঁটে দিয়েছেন বোনের চুল।

Madhurima Dutta
৩ মিনিট
বোনকে আদর, মোদিকে আলিঙ্গন! প্রকাশ্যে ভালোবেসেই তবে ভারতকে জুড়বেন রাহুল?

ভারতকে জুড়তে চাইছেন রাহুল। কোন ভারতকে? অসহিষ্ণু, ঘৃণার চাদরে মোড়া, একে অন্যকে আড়চোখে দেখার ভারতকে? নাকি সেই ভারতকে যেখানে 'সনাতন' বলতে শুধু ধর্মকে বোঝানো হয় না। সনাতন বলতে বোঝানো হয় বন্ধনকে, মানুষে মানুষে জড়িয়ে থাকার, শ্রদ্ধা-ভালোবাসার নিবিড় ছায়ার তলে গড়ে ওঠা একখণ্ড ভূমিকেই কি জুড়তে চাইছেন রাহুল? প্রকাশ্যে খুন-জখম নয় বরং প্রকাশ্যে ভালোবাসার কথাই কি বলতে চাইছেন কংগ্রেসের নেতা? উত্তরপ্রদেশে পৌঁছে গিয়েছে কংগ্রেসের ভারত জোড়ো যাত্রা। সেই উত্তরপ্রদেশ যেখানে নিজেদের সমস্ত গড়ই ধসে পড়েছে কংগ্রেসের। সেই উত্তরপ্রদেশ যেখানে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা এবং ধর্ষণের পরের নির্লিপ্ততা দেশকে অবাক হতে অভ্যস্ত করে দিয়েছে। সেই উত্তরপ্রদেশ যেখানে বাবরি-অযোধ্যার পাশা খেলা দেখেছে ভারতবর্ষ, সেই উত্তরপ্রদেশ যেখানে ভালোবাসা নয়, বুলডোজারের বাণীই শোনা যায় কান পাতলে। রাহুল গান্ধী আর তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এই যোগীর গড়েই ভালোবাসার বুনোফুল ফুটিয়েছেন। স্নিগ্ধ-নরম, অথচ কী উজ্জ্বল! মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশে প্রবেশের পর ভারত জোড়ো যাত্রার মাঝেই ভাই-বোনের ভালোবাসার কিছু মুহূর্ত দেশকে থমকে দিয়েছে। খুব পরিচিত, অথচ ভুলতে বসা দৃশ্যই দিয়েই তবে দেশকে সেলাই করতে চাইছেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা?

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা দাদাকে বলেছেন, 'যোদ্ধা'। বলেছেন 'সত্যের ঢাল' পরে রয়েছেন রাহুল এবং কাউকে তাই ভয় পান না তিনি। রাহুল গান্ধী বোনকে স্নেহের আদরে জড়িয়ে ধরেছেন। গালে চুমু খেয়েছেন, আলতো করে ঘেঁটে দিয়েছেন বোনের চুল। প্রিয়াঙ্কাও হেসে খিলখিলিয়ে উঠেছেন। দাদাকে আরও ভরসা জুগিয়েছেন। মোবাইলে, টিভিতে এই দৃশ্য দেখতে দেখতে চরম উত্তেজিত মানুষও হালকা হেসেছেন, শান্ত হয়েছেন পলক-ক্ষণের জন্য। উত্তরপ্রদেশে ভারত জোড়ো যাত্রার সময় হাতে হাত ধরে হেঁটেছেন প্রিয়াঙ্কা আর রাহুল। ভাইবোনের হাত ধরার উষ্ণতা কি তবে ভরসার ভুলে যাওয়া অর্থই শেখাচ্ছে দেশকে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অলক্ষ্যেই ম্যাজিক করছেন রাহুল! হিংসার বিরুদ্ধে মানুষকে জুড়বে ভারত জোড়ো যাত্রাই?

Bharat Jodo Yatra: হিংসা-দ্বেষের বদলে যদি ভালবাসা দিয়ে এই দেশকে অখণ্ড রাখা যায়, যদি মানুষে মানুষে ভেদাভেদকে দূর করে 'বিবিধের মাঝে মিলনকে' দেখা যায়, তাহলে ক্ষতি কী!

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশই বলছেন, চোখের সামনে নিয়মিত যা ঘটে- মানুষ একসময় তাতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। যদি চুরি, মারামারি, ঘৃণার বাক্যবাণ- সে সামনে হোক বা সোশ্যাল মিডিয়াতে- রোজের ঘটনা হয়ে যায়, উঠতে বসতে যদি এই জিনিসই চোখের সামনে আসে একটা সময় তা চোখ সওয়া হয়ে যায় স্বাভাবিক ছন্দেই। তখন বিপরীত দৃশ্য দেখলে একটু নজর কাড়ে। ভারত জোড়ো যাত্রার এই ভালোবাসার দৃশ্যপট আসলে খুব চেনা- কিন্তু কবে শেষ ভারত এমন দৃশ্য দেখেছে মনে করতে হলে কপালে ভাঁজ পড়বে। আর এটাই কংগ্রেসের অস্ত্র। ভারত জুড়তে হলে ভারতের মানুষকে জুড়তে হবে। মানুষের মধ্যে যে সন্দেহ-ঘৃণার দেওয়াল গড়ে উঠেছে বেশ কিছুকাল ধরে, তার ঠিক উলটোপিঠে খাড়া করতে হবে মানবিক অনুভবের স্তম্ভ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদি নন, বাজপেয়ীই প্রকৃত বিজেপি! অটল বিহারীর স্মৃতিসৌধে গিয়ে কোন বার্তা দিলেন রাহুল?

Bharat Jodo Yatra: বাজপেয়ী নিজেই একবার একটি সাক্ষাত্কারে জানিয়েছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা করাতে তাঁকে কীভাবে সাহায্য করেছিলেন রাজীব গান্ধী।

বেশ কয়েক বছর আগে প্রবীণ ভারতীয় সাংবাদিক সঈদ নকভি বলেছিলেন, জনসমক্ষে কথা বলা রাহুলের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। ব্যক্তিগত পরিসরে রাহুল একেবারে অন্য মানুষ। বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ, অন্যের কথা শুনতে ভালোবাসেন। কিন্তু জনসাধারণের সামনে কথা বলার সময় তাঁর ওই ম্যাজিক কাজ করে না। “তিনি একজন খুব ভদ্র এবং স্নেহশীল ব্যক্তি। মাঝে মাঝে আমি তাঁকে বলিও যে তিনি একটু বেশিই স্নেহশীল। রাজনীতিতে আপনাকে স্নেহশীল হতে হবেই তবে অতিরিক্ত নয়,” আজ জাজিরাকে বলেছিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কমল নাথ, যিনি রাহুলকে শৈশব থেকেই চেনেন।

রাহুল এই স্নেহশীলতাকে দুর্বলতা নয়, অস্ত্র করে ফেললেন। সাম্প্রতিককালে রাহুল যতবার জনসাধারণের মাঝে গিয়েছেন, তাঁর নিজস্বতা বজায় রেখেই তিনি সহজ হতে পেরেছেন, অন্যের কথা শুনেছেন, নিজের কথাও শুনিয়েছেন। সর্বোপরি, রাহুলের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অন্যতম দিক হয়ে উঠেছে তাঁর এই স্নেহশীলতা। শুধু বোনের প্রতি নয়, মায়ের গায়ে চাদর জড়িয়ে দেওয়া হোক বা আলতো করে গাল টিপে দেওয়া- রাহুল ভারতীয় 'সন্তান' হয়ে উঠেছেন তাঁর 'বিদেশি' আভিজাত্য ছেড়ে। ২০১৯ সালে বিরোধী দলের সবচেয়ে তুখোড় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নরেন্দ্র মোদিকেও ভালোবাসতে চেয়েছিলেন রাহুল। সংসদের মধ্যে রাহুল গান্ধী জড়িয়ে ধরেছিলেন নরেন্দ্র মোদিকে। বলেছিলেন, নরেন্দ্র মোদি খুব রেগেছিলেন, তাই তাঁকে একটু নরম করে ভালোবাসার স্বাদ দিতে চেয়েছিলেন রাহুল।

রাহুল বলেছিলেন, তাঁর মনে হয়েছিল, নরেন্দ্র মোদি রাগে এতই অন্ধ হয়ে আছেন যে এই সুন্দর পৃথিবীটাকে দেখতেও পাচ্ছেন না অন্য চোখে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, রাহুল গান্ধী যেভাবে ভারতকে দেখেন সেভাবে যদি একজন রাজনৈতিক নেতা দেখেন তাহলে তা ভোটবাক্সের আদৌ কোনও সুবিধা করে না। রাহুল গান্ধী মূলগত জায়গা থেকে ভারতকে দেখছেন। গাছের পাতায় জল ঢালার বদলে শিকড়ে গিয়ে রোগের গোড়া খুঁজতে চাইছেন। আজকের ভারত কি এভাবে চলে আর? এই গভীরতাকে ছোঁয়ার মতো জায়গায় কি নাগরিকরাও আর আছেন? রাহুলের প্রকাশ্যে ভালোবাসার প্রদর্শন ভারতের মাটি খুঁড়ে সেই ভালোবাসার বাঁধনের সন্ধানেই যাত্রা। একজন 'ভারতীয় সন্তান' হয়ে ওঠা, একজন 'ভারতীয় ভাই' হয়ে ওঠার শাশ্বত ধারাকে বয়ে নিয়ে যেতে চলার, সহজ হওয়ার যে রাস্তা তা কি আদৌ ভারতকে বাঁচানোর পথ? অথবা এটাই ভারতকে বাঁচানোর একমাত্র পথ! উত্তর একদিন ভালোবাসাই দেবে, বেঁচে থাকলে।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।