চাঁদের গুঁড়ো দিয়ে পৃথিবী বাঁচানোর ভাবনা! কেন এমন উদ্ভট রাস্তা বেছে নিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা?

Moon Dust for Protecting Earth Global Warming : চাঁদের গুঁড়ো হয়তো এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। এই গুঁড়ো ছড়িয়ে দিলেই নিস্তার মিলবে বিশ্ব উষ্ণায়ন থেকে!

inscript
৩ মিনিট
চাঁদের গুঁড়ো দিয়ে পৃথিবী বাঁচানোর ভাবনা! কেন এমন উদ্ভট রাস্তা বেছে নিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা?

জানুয়ারি পেরিয়ে ধীরে ধীরে ফেব্রুয়ারিও দিন শেষ হয়ে আসার পালা। একটা একটা করে দিন এগোচ্ছে, আর ঠাণ্ডার দাপট কমছে। গরমও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। আর কয়েকটা সপ্তাহ পরই সূর্যের প্রখর তেজের জেরে নাভিশ্বাস উঠবে মানুষের। এখন থেকেই প্রমাদ গুনছেন বিজ্ঞানী, পরিবেশবিদরা। তাঁদের আশঙ্কা, সময় যত এগোচ্ছে, গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়নের ঝড়ও তত শক্তি বাড়াচ্ছে। পৃথিবী ক্রমশ গরম হয়ে পড়ছে। ফলে একের পর এক দুর্যোগ বেড়েই চলেছে। কী করে এর থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, সেটা নিয়েই ভাবনাচিন্তায় গবেষকরা।

তবে তার মধ্যেই নতুন একটি গবেষণা হাজির হল বিজ্ঞানের দুনিয়ায়। বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, পৃথিবীর এই ক্রমবর্ধমান গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে তার নিজের উপগ্রহ! হ্যাঁ, কথা হচ্ছে চাঁদকে নিয়েই। সেই বিশেষ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলছেন, চাঁদের গুঁড়ো হয়তো এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। এই গুঁড়ো ছড়িয়ে দিলেই খানিক নিস্তার মিলবে বিশ্ব উষ্ণায়ন থেকে। আর তার জন্য চাঁদের মাটিতে খোদাই চালাতে হবে!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভেঙে পড়ল সূর্যের এক জ্বলন্ত অংশ! ছিটকে আসবে কি পৃথিবীর দিকেই?

Sun Breaks Off: সৌরশিখা হলো সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে বাইরের দিকে প্রসারিত একটি বড় উজ্জ্বল অংশ।

হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। চাঁদের মাটিতে খোদাই চালিয়ে সেই গুঁড়ো নিয়ে আসার কথাই বলেছেন বিজ্ঞানীরা। আন্তর্জাতিক জার্নাল পিএলওএস ক্লাইমেটে (PLOS Climate) এই বিশেষ গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। উটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ, বিজ্ঞানী বেন ব্রমলের নেতৃত্বে গবেষকদের একটি দল দীর্ঘদিন ধরে এই গবেষণা করেছেন। তারপরই এই সিদ্ধান্তে এসেছেন তাঁরা। কিন্তু কেন এমন ভাবনা?

কলকারখানা, গাড়ির ধোঁয়া ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে আমাদের পরিবেশে গ্রিন হাউজ গ্যাসের সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে। আর এগুলোই একটু একটু করে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে একটা আলাদা স্তর তৈরি করছে। এদিকে বিপুল পরিমাণে গাছ কাটার ফলে কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো গ্রিন হাউজ গ্যাসের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। এর ফলে সূর্যের আলো পৃথিবীতে প্রবেশ করে বটে। কিন্তু গরমের ফলে ভূপৃষ্ঠ থেকে যে তাপ বিকিরণ হয় সেটি বেরোতে পারে না। গ্রিন হাউজ গ্যাসের স্তরেই ধাক্কা খেয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে। এভাবেই গ্রিন হাউজ এফেক্টের ফলে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা বেড়েই চলেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে তার ক্ষতিকারক প্রভাবও পড়ছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নীল আর্মস্ট্রং নাকি চাঁদে পা রেখে মুখে পুরছেন এই দোকানের পান, এক খিলি ১০০১!

বাঙালির এই তাম্বুলবিলাসের ঐতিহ্যই কি কল্পতরুর এত রমরমার একটা বড় কারণ? সে যাই হোক মোদ্দা কথা হল নো কম্প্রোমাইজ ইউএসপি নিয়ে বাঙালিকে তাম্বুল বিলাসের স্বর্গীয় অনুভূতি উপহার দিয়ে চলেছে কল্পতরু।

তবে এর সঙ্গে চাঁদের গুঁড়োর কী সম্পর্ক? বিজ্ঞানী বেন ব্রমলে এবং তাঁর টিম জানিয়েছে, উল্কাপাত বা অন্যান্য কারণে চাঁদের মাটিতে ধুলোর অভাব নেই। প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া সেই ধুলোর একটি নির্দিষ্ট মাপের আকার আছে। সেই গুঁড়ো সংগ্রহ করে সরাসরি পৃথিবীর দিকে পাঠানো যায়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে, একেবারে চাঁদের গুঁড়োর চাদর তৈরি করে দেওয়া যায়। এর ফলে কী হবে? বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, এর ফলে সূর্যের থেকে যে পরিমাণ তাপ আসে, তার বেশ কিছুটা অংশ সেই ডাস্ট পার্টিকলে ধাক্কা খেয়ে বাইরে বেরিয়ে যাবে। ফলে পৃথিবীর ভেতর খানিকটা কম তাপ ঢুকবে। ফলে আমাদের ধরিত্রী আর গরম হবে না।

কিন্তু চাঁদের গুঁড়োই কেন? বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন জিনিস নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছেন। তার মধ্যে কয়লার গুঁড়ো ও সমুদ্রের নুনও ছিল। তাঁরা দেখেছেন, সূর্য থেকে আসা বিপুল আলো আর তাপের কিছুটা অংশকে প্রতিফলিত করার ক্ষমতা সবার নেই। একটি নির্দিষ্ট মাপের কণাই এই কাজটি করতে পারবে। সামুদ্রিক নুন কিংবা কয়লার গুঁড়ো তার আশেপাশে আসছিল। কিন্তু বিজ্ঞানীরা দেখলেন, চাঁদের গুঁড়োর কণার মাপ একদম ঠিকঠাক। তাই একেই বেছে নিয়েছেন তাঁরা।

কিন্তু বিজ্ঞানীরা তো এমন উদ্ভট চিন্তা বলে দিলেন, কিন্তু চাঁদ থেকে সেই গুঁড়ো আনবে কে? চাঁদের মাটিতে খোদাই করা। সেই গুঁড়ো একসঙ্গে করে পৃথিবীর দিকে সঠিক গতিতে নিয়ে আসা – এই পুরো কাজটি যথেষ্ট মুশকিল। তাছাড়াও যদি এই কাজটি সম্ভব করা যায়, তাহলেও সমস্যা থাকবে একটা। গবেষকদের বক্তব্য, চাঁদের গুঁড়োর ‘মেঘ’ তৈরি করলে পৃথিবীর স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতে একটু হলেও ব্যাঘাত ঘটবে। ফলে চাষাবাদের ক্ষতি হবে। তবে অন্যান্য পরীক্ষাও চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। বিকল্প উপায় বের হলে সেদিকেই ঝুঁকবেন বিজ্ঞানীরা।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।