ভেঙে পড়ল সূর্যের এক জ্বলন্ত অংশ! ছিটকে আসবে কি পৃথিবীর দিকেই?

Sun Breaks Off: সৌরশিখা হলো সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে বাইরের দিকে প্রসারিত একটি বড় উজ্জ্বল অংশ।

সূর্য, মহাকাশের এমন এক রহস্য যাকে ঘিরে প্রবল কৌতূহল থাকলেও রহস্যভেদের উপায় নেই। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বারেবারে মুগ্ধ করেছে সূর্য, ধারেকাছে যাওয়ার, সূর্যকে নিয়ে নানাভাবে, নানা দিক দিয়ে গবেষণা সবই চলছে। সম্পতি একটি নতুন বিষয় রীতিমতো চমকে দিয়েছে বিজ্ঞানীদের! শুধু চমকে দেওয়া নয়, আশঙ্কার উদ্রেকও করেছে। সূর্যের গা থেকে একটি বিশাল অংশ খসে গিয়েছে! সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সেই অংশটি তার উত্তর মেরুতে টর্নেডোর মতো ঘূর্ণায়মান বলয় সৃষ্টি করেছে। কীভাবে সম্ভব হলো এমন ঘটনা? বিজ্ঞানীরা তা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করছেন, আর সেই চেষ্টাতেই যে ভিডিওটি প্রকাশ পেয়েছে তা বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে মহাকাশপ্রেমী সকলকেই অবাক করেছে।

অসাধারণ এই ঘটনাটি NASA-র জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে। গত সপ্তাহে মহাকাশ আবহাওয়ার পূর্বাভাসদাতা ডাঃ তামিথা স্কোভ তা টুইটারে শেয়ার করেন। সূর্যের গা থেকে সৌর অগ্নিশিখা নির্গত হয় যা কখনও সখনও পৃথিবীর যোগাযোগকেও প্রভাবিত করে। তাই স্বাভাবিকভাবেই বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাটি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

সূর্যের উত্তর দিকের এক সৌরশিখা সূর্যের দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া সেই অংশটি এবার বিশালাকার এই নক্ষত্রের উত্তর মেরুর চারপাশে একটি বিশাল মেরু ঘূর্ণি তৈরি করেছে। নাসা বলছে, সৌরশিখা হলো সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে বাইরের দিকে প্রসারিত একটি বড় উজ্জ্বল অংশ। অতীতেও এরকম বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে কিন্তু এবারের বিষয়টি বিজ্ঞানীদেরও অবাক করেছে।

আরও পড়ুন- পৃথিবীর মতো নক্ষত্রেও হয় ভূমিকম্প? মহাকাশ থেকে যে তথ্য পাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা

 

বিজ্ঞানীরা বলছেন, Solar Polar Vortex-এর বিশদ পর্যবেক্ষণ করে জানা গেছে, আনুমানিক ৬০ ডিগ্রি অক্ষাংশে মেরুটি প্রদক্ষিণ করতে ওই সৌরশিখার প্রায় ৮ ঘণ্টা সময় লেগেছে। অর্থাৎ এই ঘটনায় অনুভূমিক বাতাসের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৯৬ কিলোমিটার বা ৬০ মাইল!

ইউএস ন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফিয়ারিক রিসার্চের সৌর পদার্থবিদ স্কট ম্যাকিনটোশ বেশ কয়েক দশক ধরে সূর্যকে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি জানাচ্ছেন, সূর্যের একটি টুকরো ভেঙে যাওয়ার পরে সেই অংশের এমন ঘূর্ণি তিনি আগে কখনও দেখেননি। এই অংশটি কি আরও ছিটকে পৃথিবীর দিকেও ছুটে আসতে পারে?

মহাকাশ বিজ্ঞানীরা অদ্ভুত ঘটনা এবং এর ফলাফল বিশ্লেষণ করছেন। আরও বিশদে জানতে এবং পরিষ্কার চিত্র পেতে নিরন্তর পর্যবেক্ষণই একমাত্র পথ। চব্বিশ ঘণ্টাই সূর্যকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাই এই সৌরশিখা আমাদের গ্রহের উপর কী প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে উত্তর পেয়ে অপেক্ষা করতে হবে এখনও।

More Articles