প্রথম দিনেই ব্লকবাস্টার 'জওয়ান', বলিউডের 'ফার্স্টবয়' মাত দিল কোন কোন ছবিকে?

Jawan box office collection: ভোর চারটে-পাঁচটায় উঠে সিনেমাহলে লাইন দিচ্ছেন দর্শক। নাচে-উল্লাসে ভাসছে প্রেক্ষাগৃহ। শাহরুখ ম্যাজিক, তার সঙ্গে দক্ষিণী ছবির জাদু, একসঙ্গে মিশলে যে বিস্ফোরণটা ঘটতে পারে, তেমনটাই ঘটছে ঠিক।

Sohini Das
৪ মিনিট
প্রথম দিনেই ব্লকবাস্টার 'জওয়ান', বলিউডের 'ফার্স্টবয়' মাত দিল কোন কোন ছবিকে?

মধ্যবিত্তের আজও 'স্বর্গ' নেই, সময়বিশেষে 'স্যারিডন'ও নেই। কিন্তু শাহরুখ খান তো রয়েছেন। আজও যিনি পর্দায় এলেই ম্যাজিক হয়। হ্যাঁ, যাদুকরের আরেক নাম ভারতবাসীর কাছে শাহরুখও বটে। সেই যাদুকর হলে এসেছেন মাত্র দু'দিন হল। এর মধ্যেই সর্বকালের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে পড়ার মুখে। শাহরুখ খানের কামব্যাক ছবি 'পাঠান' বক্সঅফিসে হইচই ফেলে দিয়েছিল। তবে অচিরেই বোঝা গেল, 'পাঠান' ছিল ট্রেলর মাত্র। আজীবন ধরে রোমান্সের দেবতা যে শাহরুখ খান, ষাটের দোরগোরায় এসে রীতিমতো অ্যাকশন হিরো হিসেবে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করলেন তিনি। আর সেই ভিতটাই যেন গড়ে দিয়ে গেল 'পাঠান'। আর সেই পথ ধরেই অ্য়াকশনে, হাতিয়ারে মারকাটারি ছবিতে সাবালক হলেন শাহরুখ-ভক্তেরা। আর তা যে হয়েছে, তার প্রমাণ বক্স অফিস। মাত্র দ্বিতীয় দিনেই তাই ১২৭ কোটি টাকার ব্যবসা করে ফেলল 'জওয়ান'।

বহু দিন ধরেই নিন্দুকেরা বলছেন, বলিউড যেন ঝিমিয়ে পড়েছে। ওয়েবসিরিজ, ওয়েবসিনেমা এসে ছিনিয়ে নিচ্ছে হলে গিয়ে সিনেমা দেখার বাজার। তার উপর আজকালকার ছবির বিষয়বস্তুও তথৈবচ। হয় পুরনো বলিউডি ছবি, নয়তো দক্ষিণী ছবি, এই দুই ধরনের সিনেমার রিমেক করেই বলিউড টিকে আছে। সে জন্যই 'বাহুবলী', 'পুষ্পা' কিংবা 'আরআরআর' এলে পাগল হয়ে যান দর্শক। ছোটেন হলে। অতিমারি, লকডাউন পরবর্তী সময়ে সেই ধারা অনেকটা ভেঙেছিল 'পাঠান'। নতুন অবতারে শাহরুখকে দেখতে হলমুখো হয়েছিল যে দর্শক, সেই দর্শকই শাহরুখের জওয়ান দেখতে ভেঙে ফেলল সর্বকালের রেকর্ড। বিভিন্ন অনলাইন সাইটগুলিতে 'জওয়ান' ছবির টিকিট বুকিং পরিস্থিতির দিকে তাকালে চোখ কপালে উঠবেই। প্রায় প্রতিটি মাল্টিপ্লেক্সেই দিনে সাত-আটটা করে শো রাখা হয়েছে জওয়ানের। আর প্রতিটি শো-ই হাউজফুল। টিকিটের বিপুল দাম, কানায় কানায় পূর্ণ হল- তার পরোয়া না-করেই 'জওয়ান' দেখতে মেঘ-বৃষ্টি-রোদ মাথায় করে হলে ছুটছেন দর্শক। একেও যদি ম্যাজিক না-বলেন, তো কাকে বলবেন।

৭ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে অ্যাটলি কুমার পরিচালিত ছবি 'জওয়ান'। মুক্তি পাওয়ার এক সপ্তাহ আগে থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল অ্যাডভান্স বুকিং। ভারত-পাক ম্যাচের টিকিট বিক্রি করতে গিয়ে যেমন কালঘাম অবস্থা বিসিসিআইয়ের, তার চেয়েও শোচনীয় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে প্রেক্ষাগৃহগুলিকে। হ্যাঁ, মুক্তির দু-দিন পার হয়ে গেলেও দর্শকের উত্তেজনায় কিছুমাত্র রাশ টানা যায়নি। ভোর চারটে-পাঁচটায় উঠে সিনেমাহলে লাইন দিচ্ছেন দর্শক। নাচে-উল্লাসে ভাসছে প্রেক্ষাগৃহ। শাহরুখ ম্যাজিক, তার সঙ্গে দক্ষিণী ছবির জাদু, একসঙ্গে মিশলে যে বিস্ফোরণটা ঘটতে পারে, তেমনটাই ঘটছে ঠিক। শুধুমাত্র একটি বা দু'টি রাজ্যে নয়, গোটা ভারত জুড়েই ছবিটা একই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জওয়ানে দ্বৈত ভূমিকায় শাহরুখ! চেনেন ১৭ বছর ধরে বাদশার সঙ্গী এই বডি ডাবলকে?

SRK's Body Double Prashant Walde in Jawan: কিং খানের বডি ডাবল প্রশান্ত দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সুপারস্টারের সঙ্গে এই কাজটি করে চলেছেন। জওয়ান সিনেমাতেও আছেন তিনি।

প্রথম দিনেই প্রায় ৭৫ কোটি টাকার ব্যবসা করে ফেলেছিল জওয়ান। শনিবার, দ্বিতীয় দিনেও বজায় রইল সেই ধারাবাহিকতা। এ দিনও কম করে হলেও ৫০-৫৩ কোটির মতো ব্যবসা তো করেইছে 'জওয়ান'। একবার নয়, একাধিক বার হলে গিয়ে টিকিট কেটে জওয়ান দেখছেন দর্শক। হিসেব বলছে, মাত্র দু'দিনে ছবির আয় দাঁড়াবে ১২৭ কোটি টাকায়। এ দৃশ্য হিন্দি ছবির দুনিয়ায় শেষ কবে দেখেছিল দেশ, বলা কঠিন। কিন্তু শাহরুখ খান মানেই যেন সব অসম্ভব সম্ভব। আজ থেকে নয়, সেই কবে থেকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নিজের জন্ম শহর দিল্লিতেই কোণঠাসা শাহরুখ! কেন দেখানো হচ্ছে না জওয়ান?

SRK's Jawan Movie Release: জওয়ান মুক্তি পাচ্ছে ৭ তারিখ, বৃহস্পতিবার। মানে ওই সপ্তাহান্তে হল উপচে পড়া ভিড় হবেই!

শুধু হিন্দিতেই নয়, তামিল ও তেলুগু ভাষাতে জওয়ান দেখতেও উপচে পড়ছে হলগুলি। শুরুর ছবিটা যদি এটা হয়, তাহলে আগামিদিনে কোথায় গিয়ে পৌঁছবে 'জওয়ান' সিনেমার ভবিষ্য়ৎ, ভাবলে হিন্দি ছবি নিয়ে আশা জাগে বইকি। এই যে বাঁধভাঙা জনপ্রিয়তা, জওয়ান ছবির জন্য মানুষের আবেগকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কিং খান নিজে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দর্শকদের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, জানিয়েছেন, "যতদিন না দর্শকদের কাছে ফের নয়া অবতারে ধরা দিচ্ছেন শাহরুখ, ততদিন জওয়ান-পার্টি চলুক।"

প্রথম দিনের নিরিখে এমন মারকাটারি লাভের মুখ দেখেছে হাতে গোনা কয়েকটা হিন্দি ছবিই। প্রথম দিনে 'পাঠান' ছবির বক্স অফিস কালেকশন ছিল ৫৫ কোটির কাছাকাছি। 'কেজিএফ টু' প্রথম দিনে করেছিল ৫২.৪০ কোটির ব্যবসা। 'ওয়্যার' ছবির প্রথম দিনের কালেকশন ছিল ৫০.৬৫ কোটি, ঠাগস অব হিন্দুস্তান করেছিল ৪৮.২৫ কোটির ব্যবসা। ভারত করেছিল ৪১.৬৫ কোটি, 'বাহুবলি ২' করে ৪০.৭৫ কোটির ব্যবসা, সলমন খান-সোনম কপূর অভিনীত 'প্রেম রতন ধন পায়ো' ছবির প্রথম দিনের কালেকশন ছিল ৩৯.৩০ কোটি টাকা। সানি দেওয়ালের কামব্যাক ছবি 'গদর ২'-ও দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে। সেই ছবি প্রথম দিনে করেছে ৩৯ কোটির ব্যবসা। ভাইজান অভিনীত সুলতান প্রথম দিনে করেছিল ৩৬.৬০ কোটির ব্যবসা। আর এই সমস্ত সিনেমার বক্স অফিসকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রেকর্ড গড়ে ফেলেছে জওয়ান। প্রথম দিনেই ৭৫ কোটি টাকার ব্যবসা, মুখের কথা নাকি। গোটা ভারতবর্ষে তো বটেই, শুধু বাংলার সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখলেও অবাক হতে হয়। এত দিনের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে সেই সব অখ্যাত প্রেক্ষাগৃহেও সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করেছে 'জওয়ান'-ই। শাহরুখ খান বলে কথা, এমনটাই বোধহয় প্রত্যাশা ছিল প্রযোজনা সংস্থা রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের। না, শুধুই প্রত্যাশা বললে আসলে ভুল হবে, একে এক ধরনের আত্মবিশ্বাসও বলতে পারেন। কারণ শুধু নায়ক নন, এই ছবির প্রযোজকও খোদ শাহরুখ এবং তাঁর স্ত্রী গৌরী খান।

এই ছবিতে দর্শকদের জন্য এক এক্কে দুই অবতারে ধরা দিয়েছেন বলিউড বাদশা। একাধারে তিনি হিরো, একাধারে তিনি ভিলেন। কাকে ছেড়ে কাকে দেখবেন দর্শক। গোড়া থেকেই ভক্তদের কাছে এক বিপুল পরিমাণ উত্তেজনা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে জওয়ান। ধীরে ধীরে সুতো ছেড়েছেন প্রযোজক-পরিচালক এবং ছবির নেপথ্যে থাকা টিম। 'জওয়ান' নিয়ে হইচই শুরু হয়ে গিয়েছিল 'পাঠান' মুক্তির আগে থেকেই। প্রচারের সেই স্ট্র্যাটেজি যে কাজে এসেছে, তা বলে দিচ্ছে বক্সঅফিসই। শুধু যে বক্সঅফিস কথা বলছে, তা নয়। সমস্ত ছবিবোদ্ধা মহল থেকেই এখনও পর্যন্ত ভালো ' রিভিউ' পেয়েছে জওয়ান। ফলে শুধুই যে শাহরুখ ম্যাজিকেই ব্লকবাস্টার জওয়ান, তা বলার কিন্তু জো নেই। ছবির নিজস্ব মেধা এবং বিষয়বস্তুর জোরেও সুপারডুপার হিট 'জওয়ান'। আর নিখাদ শাহরুখভক্ত যাঁরা, যাঁরা শুধুমাত্র শাহরুখকে দেখতেই হলমুখো হবেন, তাঁদের জন্যে ছবি জুড়ে ডবল বোনাঞ্জা অফার তো রয়েইছে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।