প্রথম দিনেই ব্লকবাস্টার 'জওয়ান', বলিউডের 'ফার্স্টবয়' মাত দিল কোন কোন ছবিকে?
Jawan box office collection: ভোর চারটে-পাঁচটায় উঠে সিনেমাহলে লাইন দিচ্ছেন দর্শক। নাচে-উল্লাসে ভাসছে প্রেক্ষাগৃহ। শাহরুখ ম্যাজিক, তার সঙ্গে দক্ষিণী ছবির জাদু, একসঙ্গে মিশলে যে বিস্ফোরণটা ঘটতে পারে, তেমনটাই ঘটছে ঠিক।

মধ্যবিত্তের আজও 'স্বর্গ' নেই, সময়বিশেষে 'স্যারিডন'ও নেই। কিন্তু শাহরুখ খান তো রয়েছেন। আজও যিনি পর্দায় এলেই ম্যাজিক হয়। হ্যাঁ, যাদুকরের আরেক নাম ভারতবাসীর কাছে শাহরুখও বটে। সেই যাদুকর হলে এসেছেন মাত্র দু'দিন হল। এর মধ্যেই সর্বকালের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে পড়ার মুখে। শাহরুখ খানের কামব্যাক ছবি 'পাঠান' বক্সঅফিসে হইচই ফেলে দিয়েছিল। তবে অচিরেই বোঝা গেল, 'পাঠান' ছিল ট্রেলর মাত্র। আজীবন ধরে রোমান্সের দেবতা যে শাহরুখ খান, ষাটের দোরগোরায় এসে রীতিমতো অ্যাকশন হিরো হিসেবে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করলেন তিনি। আর সেই ভিতটাই যেন গড়ে দিয়ে গেল 'পাঠান'। আর সেই পথ ধরেই অ্য়াকশনে, হাতিয়ারে মারকাটারি ছবিতে সাবালক হলেন শাহরুখ-ভক্তেরা। আর তা যে হয়েছে, তার প্রমাণ বক্স অফিস। মাত্র দ্বিতীয় দিনেই তাই ১২৭ কোটি টাকার ব্যবসা করে ফেলল 'জওয়ান'।
বহু দিন ধরেই নিন্দুকেরা বলছেন, বলিউড যেন ঝিমিয়ে পড়েছে। ওয়েবসিরিজ, ওয়েবসিনেমা এসে ছিনিয়ে নিচ্ছে হলে গিয়ে সিনেমা দেখার বাজার। তার উপর আজকালকার ছবির বিষয়বস্তুও তথৈবচ। হয় পুরনো বলিউডি ছবি, নয়তো দক্ষিণী ছবি, এই দুই ধরনের সিনেমার রিমেক করেই বলিউড টিকে আছে। সে জন্যই 'বাহুবলী', 'পুষ্পা' কিংবা 'আরআরআর' এলে পাগল হয়ে যান দর্শক। ছোটেন হলে। অতিমারি, লকডাউন পরবর্তী সময়ে সেই ধারা অনেকটা ভেঙেছিল 'পাঠান'। নতুন অবতারে শাহরুখকে দেখতে হলমুখো হয়েছিল যে দর্শক, সেই দর্শকই শাহরুখের জওয়ান দেখতে ভেঙে ফেলল সর্বকালের রেকর্ড। বিভিন্ন অনলাইন সাইটগুলিতে 'জওয়ান' ছবির টিকিট বুকিং পরিস্থিতির দিকে তাকালে চোখ কপালে উঠবেই। প্রায় প্রতিটি মাল্টিপ্লেক্সেই দিনে সাত-আটটা করে শো রাখা হয়েছে জওয়ানের। আর প্রতিটি শো-ই হাউজফুল। টিকিটের বিপুল দাম, কানায় কানায় পূর্ণ হল- তার পরোয়া না-করেই 'জওয়ান' দেখতে মেঘ-বৃষ্টি-রোদ মাথায় করে হলে ছুটছেন দর্শক। একেও যদি ম্যাজিক না-বলেন, তো কাকে বলবেন।
৭ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে অ্যাটলি কুমার পরিচালিত ছবি 'জওয়ান'। মুক্তি পাওয়ার এক সপ্তাহ আগে থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল অ্যাডভান্স বুকিং। ভারত-পাক ম্যাচের টিকিট বিক্রি করতে গিয়ে যেমন কালঘাম অবস্থা বিসিসিআইয়ের, তার চেয়েও শোচনীয় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে প্রেক্ষাগৃহগুলিকে। হ্যাঁ, মুক্তির দু-দিন পার হয়ে গেলেও দর্শকের উত্তেজনায় কিছুমাত্র রাশ টানা যায়নি। ভোর চারটে-পাঁচটায় উঠে সিনেমাহলে লাইন দিচ্ছেন দর্শক। নাচে-উল্লাসে ভাসছে প্রেক্ষাগৃহ। শাহরুখ ম্যাজিক, তার সঙ্গে দক্ষিণী ছবির জাদু, একসঙ্গে মিশলে যে বিস্ফোরণটা ঘটতে পারে, তেমনটাই ঘটছে ঠিক। শুধুমাত্র একটি বা দু'টি রাজ্যে নয়, গোটা ভারত জুড়েই ছবিটা একই।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
SRK's Body Double Prashant Walde in Jawan: কিং খানের বডি ডাবল প্রশান্ত দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সুপারস্টারের সঙ্গে এই কাজটি করে চলেছেন। জওয়ান সিনেমাতেও আছেন তিনি।

প্রথম দিনেই প্রায় ৭৫ কোটি টাকার ব্যবসা করে ফেলেছিল জওয়ান। শনিবার, দ্বিতীয় দিনেও বজায় রইল সেই ধারাবাহিকতা। এ দিনও কম করে হলেও ৫০-৫৩ কোটির মতো ব্যবসা তো করেইছে 'জওয়ান'। একবার নয়, একাধিক বার হলে গিয়ে টিকিট কেটে জওয়ান দেখছেন দর্শক। হিসেব বলছে, মাত্র দু'দিনে ছবির আয় দাঁড়াবে ১২৭ কোটি টাকায়। এ দৃশ্য হিন্দি ছবির দুনিয়ায় শেষ কবে দেখেছিল দেশ, বলা কঠিন। কিন্তু শাহরুখ খান মানেই যেন সব অসম্ভব সম্ভব। আজ থেকে নয়, সেই কবে থেকে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
SRK's Jawan Movie Release: জওয়ান মুক্তি পাচ্ছে ৭ তারিখ, বৃহস্পতিবার। মানে ওই সপ্তাহান্তে হল উপচে পড়া ভিড় হবেই!
শুধু হিন্দিতেই নয়, তামিল ও তেলুগু ভাষাতে জওয়ান দেখতেও উপচে পড়ছে হলগুলি। শুরুর ছবিটা যদি এটা হয়, তাহলে আগামিদিনে কোথায় গিয়ে পৌঁছবে 'জওয়ান' সিনেমার ভবিষ্য়ৎ, ভাবলে হিন্দি ছবি নিয়ে আশা জাগে বইকি। এই যে বাঁধভাঙা জনপ্রিয়তা, জওয়ান ছবির জন্য মানুষের আবেগকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কিং খান নিজে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দর্শকদের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, জানিয়েছেন, "যতদিন না দর্শকদের কাছে ফের নয়া অবতারে ধরা দিচ্ছেন শাহরুখ, ততদিন জওয়ান-পার্টি চলুক।"

প্রথম দিনের নিরিখে এমন মারকাটারি লাভের মুখ দেখেছে হাতে গোনা কয়েকটা হিন্দি ছবিই। প্রথম দিনে 'পাঠান' ছবির বক্স অফিস কালেকশন ছিল ৫৫ কোটির কাছাকাছি। 'কেজিএফ টু' প্রথম দিনে করেছিল ৫২.৪০ কোটির ব্যবসা। 'ওয়্যার' ছবির প্রথম দিনের কালেকশন ছিল ৫০.৬৫ কোটি, ঠাগস অব হিন্দুস্তান করেছিল ৪৮.২৫ কোটির ব্যবসা। ভারত করেছিল ৪১.৬৫ কোটি, 'বাহুবলি ২' করে ৪০.৭৫ কোটির ব্যবসা, সলমন খান-সোনম কপূর অভিনীত 'প্রেম রতন ধন পায়ো' ছবির প্রথম দিনের কালেকশন ছিল ৩৯.৩০ কোটি টাকা। সানি দেওয়ালের কামব্যাক ছবি 'গদর ২'-ও দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে। সেই ছবি প্রথম দিনে করেছে ৩৯ কোটির ব্যবসা। ভাইজান অভিনীত সুলতান প্রথম দিনে করেছিল ৩৬.৬০ কোটির ব্যবসা। আর এই সমস্ত সিনেমার বক্স অফিসকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রেকর্ড গড়ে ফেলেছে জওয়ান। প্রথম দিনেই ৭৫ কোটি টাকার ব্যবসা, মুখের কথা নাকি। গোটা ভারতবর্ষে তো বটেই, শুধু বাংলার সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখলেও অবাক হতে হয়। এত দিনের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে সেই সব অখ্যাত প্রেক্ষাগৃহেও সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করেছে 'জওয়ান'-ই। শাহরুখ খান বলে কথা, এমনটাই বোধহয় প্রত্যাশা ছিল প্রযোজনা সংস্থা রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের। না, শুধুই প্রত্যাশা বললে আসলে ভুল হবে, একে এক ধরনের আত্মবিশ্বাসও বলতে পারেন। কারণ শুধু নায়ক নন, এই ছবির প্রযোজকও খোদ শাহরুখ এবং তাঁর স্ত্রী গৌরী খান।
এই ছবিতে দর্শকদের জন্য এক এক্কে দুই অবতারে ধরা দিয়েছেন বলিউড বাদশা। একাধারে তিনি হিরো, একাধারে তিনি ভিলেন। কাকে ছেড়ে কাকে দেখবেন দর্শক। গোড়া থেকেই ভক্তদের কাছে এক বিপুল পরিমাণ উত্তেজনা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে জওয়ান। ধীরে ধীরে সুতো ছেড়েছেন প্রযোজক-পরিচালক এবং ছবির নেপথ্যে থাকা টিম। 'জওয়ান' নিয়ে হইচই শুরু হয়ে গিয়েছিল 'পাঠান' মুক্তির আগে থেকেই। প্রচারের সেই স্ট্র্যাটেজি যে কাজে এসেছে, তা বলে দিচ্ছে বক্সঅফিসই। শুধু যে বক্সঅফিস কথা বলছে, তা নয়। সমস্ত ছবিবোদ্ধা মহল থেকেই এখনও পর্যন্ত ভালো ' রিভিউ' পেয়েছে জওয়ান। ফলে শুধুই যে শাহরুখ ম্যাজিকেই ব্লকবাস্টার জওয়ান, তা বলার কিন্তু জো নেই। ছবির নিজস্ব মেধা এবং বিষয়বস্তুর জোরেও সুপারডুপার হিট 'জওয়ান'। আর নিখাদ শাহরুখভক্ত যাঁরা, যাঁরা শুধুমাত্র শাহরুখকে দেখতেই হলমুখো হবেন, তাঁদের জন্যে ছবি জুড়ে ডবল বোনাঞ্জা অফার তো রয়েইছে।
















