হারলেও ত্রিপুরার ভোটের 'কিংমেকার' তারাই, বিজেপির কপালের ভাঁজ বাড়াল তিপ্রা মথা

Tripura Assembly Election 2023 : এই লাল-হলুদই গোটা দেশের সংবাদমাধ্যমের লাইমলাইটের নিচে। তিপ্রা মথা – এই নামটিই এখন রাজনীতির আলোচ্য বিষয়

inscript
৩ মিনিট
হারলেও ত্রিপুরার ভোটের 'কিংমেকার' তারাই, বিজেপির কপালের ভাঁজ বাড়াল তিপ্রা মথা

এর আগে গোটা ভারত এই বিশেষ দলটির নাম শুনেছে কিনা, সত্যিই জানা নেই। লাল-হলুদ পতাকার মধ্যে একটা আনারসের ছবি। এক ঝলকে দেখে মনে হবে, ইস্টবেঙ্গলের কোনও ফ্যান ক্লাব। কিন্তু এই লাল-হলুদের সঙ্গে ময়দানের ফুটবল আর লড়াইয়ের কোনও যোগ নেই। এমনকী, এই বাংলারও কোনও যোগ নেই। আপাতত এই লাল-হলুদই গোটা দেশের সংবাদমাধ্যমের লাইমলাইটের নিচে। তিপ্রা মথা – এই নামটি রাতারাতি ভারতের রাজনীতির জগতে আলোচ্য বিষয় হয়ে গিয়েছে। আর এই নামটিই কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে দিয়েছে বিজেপির।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি, সোমবার ত্রিপুরায় ছিল বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব। বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ ছিল ভোট গণনার দিন। সেখানেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফের একবার মসনদ দখল করল বিজেপি। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা ডঃ মানিক সাহার মুখের চওড়া হাসিই সেই কথা বলে দিচ্ছে। দোলের আগেই ত্রিপুরার বিজেপি সমর্থক, নেতারা গেরুয়া আবির খেলায় মেতেছেন। আনন্দের মধ্যেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বিজেপি শিবিরে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
‘নোটা’র কাছেও গো হারা হারল তৃণমূল! কেন ত্রিপুরায় এমন ভরাডুবি হল জোড়াফুলের?

Tripura assembly election 2023 results : ২০২১ সালের পুরভোটে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় প্রায় ২০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল তৃণমূল। সেবারের ভোটে জেতা প্রার্থীও ছিল জোড়া ফুলের। তবে কেন এমন পরিস্থিতি হল?

কেন? গত নির্বাচনের থেকে ফল এবার বেশ খানিকটা খারাপ হয়েছে। গুজরাতের মতোই ত্রিপুরাতেও রেকর্ড গড়বে গেরুয়া শিবির, এমনই আশায় ছিলেন নেতারা। কিন্তু সেই কাজ হল না। অন্যদিকে, বাম-কংগ্রেস জোট আশা নিয়ে থাকলেও, দিনের শেষে সেভাবে কিছুই হল না। আর এই সমস্ত ছবিটার পেছনে রয়েছে তিপ্রা মথা পার্টি (Tipra Motha)। সঙ্গে রয়েছেন তাদের সুপ্রিমো প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য দেববর্মণ।

এর আগে এই আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলটির নাম বিশেষ শোনা যায়নি। এর উত্থানও খুব বেশিদিন আগের ঘটনা নয়। তার আগে আসা যাক প্রদ্যোত মাণিক্য দেববর্মণের ব্যাপারে। যারা ইতিহাস চর্চা করেন, তাঁরা এই নামটি দেখেই কিছুটা আন্দাজ করে নিয়েছেন। হ্যাঁ, প্রদ্যোত ত্রিপুরার বিখ্যাত, ঐতিহাসিক রাজ পরিবারের সন্তান। ত্রিপুরার শেষ রাজার ছেলে তিনি। মাণিক্য দেববর্মণ বংশের রক্ত বইছে তাঁর শরীরে। কাজেই গোটা ত্রিপুরা জুড়ে তাঁর পরিচিতি, কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে থাকবে, সেটা স্বাভাবিক। অসংখ্য মানুষ তাঁকে চেনেন। তবে প্রথমদিকে তিনি কংগ্রেসের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নির্বাচনে ডাহা ফেল বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল, এই মাস্টারস্ট্রোকেই ত্রিপুরায় বাজিমাত বিজেপির

Tripura Assembly Election 2023 : রাস্তায় রাস্তায় গেরুয়া আবির নিয়ে নেমে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিজেপি নেতা থেকে প্রার্থী, প্রত্যেকের মুখেই চওড়া হাসি।

২০১৯ সাল নাগাদ প্রদ্যোত মাণিক্য দেববর্মণ ত্রিপুরার কংগ্রেসের সভাপতি হন। কিন্তু খুব বেশিদিন সেই পদে থাকেননি তিনি। হাতে গোনা কয়েক মাস পরই কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন প্রদ্যোত। তারপর একটি সামাজিক সংগঠন তৈরি করেন। নাম ‘তিপ্রা ইন্ডিজেনাস প্রোগ্রেসিভ রিজিওনাল অ্যালাওয়েন্স’। সেখান থেকেই আজকের তিপ্রা মথা পার্টির উত্থান।

এই রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের মূল কাজ আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা। এনিয়ে বিভিন্নভাবে প্রচারও করেন প্রদ্যোত মাণিক্য দেববর্মণ। তিপ্রা মথার মূল লক্ষ্য হল, ত্রিপুরা ও তার সংলগ্ন আদিবাসীদের জন্য আলাদা রাজ্য তৈরি করা। তার নাম ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’। সেখান থেকেই অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে মূল বিরোধিতা শুরু। এর আগে ২০২১ সালে ত্রিপুরার ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিসট্রিক্ট কাউন্সিলের নির্বাচনে অংশ নেয় তিপ্রা মথা। সেখানে জয়ের মুখও দেখে এই দলটি। তখন থেকেই ত্রিপুরার আঞ্চলিক রাজনীতির অন্যতম ফ্যাক্টর হয়ে যায় প্রদ্যোত দেববর্মণ ও তাঁর তিপ্রা মথা দলটি।

২০২৩-এর বিধানসভা নির্বাচনেও এই দলটি যে ভোগাবে, তা বিলক্ষণ জানত বিজেপি ও বাম-কংগ্রেস। তাই নির্বাচনের আগেই নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করেছিল সব পক্ষই। কিন্তু তিপ্রা মথার মূল শর্ত ছিল একটাই, জিতলে গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড ও আদিবাসীদের সংরক্ষণের দাবি মানতে হবে। সেই কথা লিখিত আকারে আগে দিতে হবে। তারপরই জোটের ভাবনা। এই শর্তে কেউই রাজি না হওয়ায় নির্বাচনে একাই লড়ার সিদ্ধান্ত নেয় তিপ্রা মথা।

আর ফলাফল? প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত প্রদ্যোত দেববর্মণের দলের। কেবল ১২টি আসন জেতাই নয়, নির্বাচনে বিজেপি আর অন্যান্য বিরোধীদের মাঝে দাঁড়িয়ে আসল কিংমেকারের ভূমিকাও পালন করেছে তিপ্রা মথা। বিজেপির আশানুরূপ ফল না হওয়ার পেছনেও এরাই দায়ী। তাই এখন থেকেই কপালে চিন্তার ভাঁজ বেড়েছে মানিক সাহাদের। কে জানে, আবার কোন ঝড় শুরু করে এই নতুন দলটি!

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বাম বসন্ত ফিরবে বার্লিনে? শতাব্দীর সংগ্রাম শেষে আবার নতুন ভোর

Left-Wing Resurgence in Hitler’s Berlin: হিটলারের বার্লিনে ফিরছে বামপন্থা। তরুণরা সংক্রমিত। ইতিহাসের এই বিদ্রূপ আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে শতাব্দীপ্রাচীন দুঃস্বপ্নের নগরীতে।

চশমা যখন টেকসঙ্গী, কীভাবে কাজ করে এআই গ্লাস?

Meta AI Glasses: চশমা ব্যক্তিগত এআই সহকারী। চোখের ইশারা ও মৌখিক নির্দেশে কল, ছবি তোলা, ভিডিও রেকর্ডিং থেকে গুগল সার্চ—সবই যখন সম্ভব, তখন এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে? আর ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও এআই-নির্ভর এই চশমা আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কতটা সুরক্ষিত রাখবে?

টাকার বিনিময়ে বিজেপি-র প্রচার করেছেন সায়ক! আর আইনি জালে জড়ালেন অলিপাবের নিরীহ কর্মী

Sayak Chakraborty Olypub controversy: নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতরের মোট খরচ ছিল ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই খরচ হয়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা। সেই প্রচারের একটি অংশ ছিল সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

SRFTI: কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে?

SRFTI Clash: SRFTI-তে ডানপন্থী সংগঠনের অনুষ্ঠান ঘিরে কেন আপত্তি জানালেন পড়ুয়ারা? বক্তৃতায় কী বলা হয়েছিল, যা নিয়ে তৈরি হয় উত্তেজনা? কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে? পড়ুয়া ও আয়োজকদের পাল্টা অভিযোগের মধ্যে আসল ঘটনা কী?

যে নির্বাচন কমিশনার ভোট চুরি আটকেছিলেন

Election reforms of T. N. Seshan: ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন কমিশনারের চেয়ারে বসেছিলেন যে ব্যক্তি, সেই টি. এন. শেষন বলেছিলেন, 'আমাকে এই পদে বসাবেন না, আমি আপনাদের অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াব।'

ছদ্ম-বিরোধী তৈরিই কি তবে ভারতের রাজনীতিতে ক্ষমতার নতুন কৌশল?

Indian opposition politics: বিরোধীদের সরাসরি নিষিদ্ধ না করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ, আইনি ফাঁকফোকর এবং সুপরিকল্পিত দল ভাঙার মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে অনুগত ‘ছদ্ম-বিরোধী’।

EXCLUSIVE: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে ভোট না-করানো তৃণমূলের বড় ভুল, নিজেদের ভুল নিয়েও আলোচনার দরকার ছিল: কুণাল

Kunal Ghosh on Mamata Banerjee: ইনস্ক্রিপ্টে ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে তিনি একদিকে যেমন দাবি করেছেন মমতাকে ভয় পেয়েই তাঁকে বারবার নিশানা করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে দলের ভুলত্রুটি স্বীকার করে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।