ফেলে দেওয়া বর্জ্য থেকেই কোটি কোটি টাকা, আয়ের চেষ্টায় অসাধ্য সাধন এই মহিলার

Vermicompost : কেঁচো থেকে সার তৈরি বিষয়টা একটি অদ্ভুত শুনতে লাগলেও, এটা সত্যিই। কলেজে পড়াকালীন এই বিষয়ে আগ্রহ অনুভব করেন উত্তরপ্রদেশের সানা খান

Kankana Mukherjee
২ মিনিট
ফেলে দেওয়া বর্জ্য থেকেই কোটি কোটি টাকা, আয়ের চেষ্টায় অসাধ্য সাধন এই মহিলার

কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটে সাপ বেরোনোর কথা হয়তো অনেকেই শুনে থাকবেন, তাই বলে কেঁচো খুঁড়েই কোটি কোটি টাকার ব্যবসার কথা হয়তো আগে শোনেননি। এই অসম্ভবকেই সম্ভব করলেন উত্তরপ্রদেশ মিরাটের বাসিন্দা সানা খান। ভার্মিকম্পোস্ট অর্থাৎ কেঁচো সার প্রস্তুত করেই আজ শীর্ষে উঠে এসেছেন তিনি। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল ছোট থেকেই, যদিও প্রবেশিকা প্রতীক্ষায় ফলাফল ভালো হয়নি তাঁর। তখনই ঠিক করেন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বেন। জীবনের বদলের শুরু হয়তো তখনই শুরু হয়ে গিয়েছিল তাঁর। অবশেষে ফাইনাল ইয়ারে পড়ার সময় তাঁর ভার্মিকম্পোস্ট প্রোজেক্ট-এ কাজ পড়ে। আর এই প্রোজেক্ট সামলানোর সময়েই হাতে কলমে সার প্রস্তুতির কাজ শিখে যান তিনি।

কেঁচো থেকে সার তৈরি বিষয়টা একটি অদ্ভুত শুনতে লাগলেও, এটা সত্যিই। কলেজে পড়াকালীন এই বিষয়ে আগ্রহ অনুভব করেন সানা। তার পর কলেজ পাশ করে ঠিক করেন বাণিজ্যিকভাবে এই কেঁচো সার প্রস্তুতি শুরু করার কথা। এই পদ্ধতিতে এতটাই আকৃষ্ট হয়ে পড়েন যে বড় আকারে প্রকল্প করার ঝোঁক তৈরি হয় তাঁর। এর পর থেকেই শুরু হয় বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো প্রজনন পদ্ধতি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মিড ডে মিল প্রকল্পের নেপথ্যে এক বাঙালি, ভারত চিরতরে ভুলেছে এই বিজ্ঞানীকে...

Mid Day Meal Scheme: ১৯৪৩ সালে, দুর্ভিক্ষের সময় অনাহারে থাকা শিশুদের জন্য সহজ এবং পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প হিসাবে প্রথম সয়া দুধের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন শশাঙ্ক।

সানা বলেন, ২০১৪ সালে তাঁর ভাইয়ের কাছে টাকা নিয়ে SJ Organics ভার্মিকম্পোস্টিং কোম্পানি স্থাপন করেন তিনি। যদিও শুরুতেই ধাক্কা খেতে হয়েছিল তাঁকে। প্রথম ব্যবসায়িক মডেল বিশেষ কাজ করেনি। কিন্তু থেমে থাকেননি সানা। নতুন করে পথ খুঁজেছেন। সাফল্যও এসেছে অচিরেই। এরপর তিনি দুগ্ধজাত এবং বায়োডিগ্রেডেবল গৃহস্থালির বর্জ্য আনার জন্য একটি বিকল্প পথ খোঁজেন, এই বিষয়ে কাজ করা জন্য নিযুক্ত করেন ঠিকাদার। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালের মধ্যে সানার সংস্থায় ৫০০ টন বর্জ্য আমদানি হয়েছে এবং প্রতি মাসে এই পরিমান বর্জ্য থেকে ১৫০ টন ভার্মিকম্পোস্ট তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে এই কোম্পানি বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ১ কোটিরও বেশি। এখানেই শেষ নয়, প্রায় ত্রিশটি পরিবারের রুজিরুটির ভারও নির্ভর করছে এই সানা খানের কোম্পানির ওপরই।

সানার স্বপ্নের এই তো সবে শুরু, কেবল উত্তর প্রদেশে আটকে থাকতে চান না তিনি। তাঁর এই শিল্প, এই কাজকে ছড়িয়ে দিতে চান গোটা দেশে। বর্তমানে যখন বর্জ্য পদার্থ নিয়ে দূষণের মাত্রা আকাশ ছোঁয়া সারা দেশে, ঠিক তখনই বিকল্প পথের সন্ধানে সানা। জানা গিয়েছে, সানার সংস্থা এখন ভার্মিকম্পোস্ট তৈরির প্রশিক্ষনও দিচ্ছে। মিরাটের ১০০টিরও বেশি স্কুল এখন এই কাজে নিযুক্ত আছে। একদিন এই সব স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাই ছড়িয়ে পড়বে দেশ জুড়ে আর তার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়বে এই স্বপ্নও। বর্জ্য পদার্থকে কার্যত সোনায় রূপান্তর করার এই সফরে সানা এখন তৈরি। দেশ জুড়ে জৈব চাষ পদ্ধতি আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে তাঁর হাত ধরে, এ বিষয়ে আশাবাদী সকলেই।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।