অ্যাডিনোভাইরাস কী, কেন এত শিশু আক্রান্ত হচ্ছে বাংলায়

AdenoVirus : প্রাথমিকভাবে সোয়াইন ফ্লু বা অন্যান্য ভাইরাল ফিভারের মতোই একটি ভাইরাস সংক্রমণ এটি। উপসর্গও প্রায় একই। তবে চিন্তার বিষয় হল এই ভাইরাসের মোকাবিলায় এখনও কোনও যথাযথ প্রতিষেধক বা টিকা বেরোয়নি।

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
অ্যাডিনোভাইরাস কী, কেন এত শিশু আক্রান্ত হচ্ছে বাংলায়

শীতের শেষ আর বসন্তের শুরু, এই সময়টা নিয়ে চিরকালই একটা চিন্তার মেঘ থাকে। একটা রোগের হাওয়া এই সময় বাতাসে বিয়েতে থাকে। সিজন চেঞ্জের সময় সর্দি, কাশি, জ্বর,এটা নতুন কিছুই নয়। তবে ইদানিং যেন সামান্য সর্দি জ্বর মামুলি কিছু থাকছে না আর। অজান্তেই ডেকে আনছে সমুহ বিপদ। চেনা রোগ অচেনা হচ্ছে প্রতি নিয়ত। একবার কাশি শুরু হলে সেই জের থাকছে মাসখানেক। ভিতরে ভিতরেই দানা বাঁধছে নয়া ভাইরাসের আতঙ্ক। করোনা, ডেঙ্গুর পর এবার রাজ্য জুড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে নয়া অ্যাডেনো ভাইরাস।

আশঙ্কার বিষয় হল, কলকাতা মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দেড় মাসে তিনজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এই অ্যাডেনো ভাইরাসের প্রকোপে। প্রাথমিকভাবে সোয়াইন ফ্লু বা অন্যান্য ভাইরাল ফিভারের মতোই একটি ভাইরাস সংক্রমণ এটি। উপসর্গও প্রায় একই। তবে চিন্তার বিষয় হল এই ভাইরাসের মোকাবিলায় এখনও কোনও যথাযথ প্রতিষেধক বা টিকা বেরোয়নি। উপসর্গ বা লক্ষণ বলতে জ্বর, সর্দি, কাশি, ফুসফুসের সংক্রমণকেই দায়ী করা হয়েছে যদিও। এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনই যে মূলত এই বিপদ ডেকে আনছে সে কথা জানিয়েছেন চিকিসকেরা। এই সময় এমনিতেই শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় আমাদের। পরিস্থিতি এমনটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে যে গোটা কলকাতা শহর জুড়ে বেলাগাম সংক্রমণ ক্রমশ বাড়ছে। জানা গিয়েছে এই রোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বেশিরভাগ শিশুদের। ফলে শিশু হাসপাতালে আইসিইউতে ইতিমধ্যেই সঙ্কট দেখা দিয়েছে বেডের। আইসিইউয়ে বেডের জন্য হাহাকার তো রয়েছেই পাশাপাশি রোগী উপচে পড়ছে জেনারেল বেডগুলিতেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে যান কবুল লড়াই করছেন চিকিৎসকেরা। কোথাও একই বেডে দুজন শিশুকে পাশাপাশি রেখেই চিকিৎসা করতে হচ্ছে।

কিন্তু কী এই অ্যাডেনো ভাইরাস?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দেহ থেকে অবিরাম রক্তপাত, ভূতের মতো চেহারা! মারাত্মক যে ভাইরাস ছড়াচ্ছে বিশ্বজুড়ে

Marburg Virus disease: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে এই রোগীদের চেহারা 'ভূতের মতো' দেখায়, চোখ কোটরে ঢুকে যায়, মুখ অভিব্যক্তিহীন হয়ে পড়ে, চরম আলস্য জাঁকিয়ে বসে।

সোয়াইন ফ্লু বা অন্যান্য ভাইরাল ফিভারের মতোই ভাইরাস সংক্রমণজনিত রোগ এটি। উপসর্গও প্রায় একই। প্রাথমিকভাবে বোঝার উপায় নেই কোথায় তফাৎ মামুলি সর্দি, জ্বর অথবা কাশির সঙ্গে। তবে রোগ প্রতিরোধে এখনও আলাদা করে কোনও টিকা নেই এক্ষেত্রে তাই বিপদ এড়াতে চিকিৎসা বলতে শুধুই সাপোর্টিভ কেয়ার।

কেন আচমকাই হুহু করে বাড়ছে অ্যাডেনো ভাইরাসের আতঙ্ক?

কলকাতা শহর ও পার্শ্ববর্তী শহর জুড়ে দাপিয়ে সম্প্রতি বেড়াচ্ছে অ্যাডেনো ভাইরাস। মূলত ৫ থেকে ১৪ বছরের বাচ্ছা এবং বেশি বয়স্কদের মধ্যেই এই রোগের শিকার হতে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, করোনা পরবর্তী সময় থেকেই শহরে ভাইরাসজনিত একাধিক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই রোগের ভয়াবহতার সব থেকে বড় দিকটি হল, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সামান্য সর্দি জ্বর ভেবে রোগ অনেকদিন পুষে রাখছেন, অবস্থা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছলে তবেই চিকিৎসকদের পরামর্শে ছুটে আসছেন। এবং হাতের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে বিষয়টি তখন। তাই বর্তমান আবহাওয়াকে অগ্রাহ্য করে সামান্য সর্দি জ্বর ভেবে ভিতরে ভিতরে পুষে রাখাই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হতে পারে।

কী কী সতর্কতা অবলম্বন করবেন?

যেহেতু এটিও একটি বায়ু দ্বারা সংক্রমিত রোগ তাই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার ডা. অঞ্জন চৌধুরীর কথায়, কোভিডের মতোই মাস্ক পরা, হাত ভালো করে ধোওয়া, যেখানে সেখানে থুতু না ফেলা, এগুলোই মেনে চলতে হবে প্রাথমিকভাবে। জ্বর-ঠান্ডায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পিসিআর টেস্ট করে অ্যাডিনোভাইরাস চিহ্নিত করা গেলেও এই ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ নেই। তাই উপসর্গ দেখে সেই মতো ব্যবস্থা নিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। সংক্রমণ ঠেকাতে উচ্চ মাত্রার কিছু অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তা দিয়েও সবসময় আয়ত্তে আনা যাচ্ছে না সংক্রমণ। তাই আপাতত ভরসা লাইফ সাপোর্টিভ কেয়ার।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।