ঘুরতে ঘুরতে যদি একদিন উল্টে যায় পৃথিবী! জানেন, ঠিক কী কী ঘটবে আপনার সঙ্গে?

Earth's Opposite Rotation: পৃথিবী সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে চলবে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, পৃথিবীতে জীবন তখনও স্বাভাবিকভাবেই চলবে।

inscript
৩ মিনিট
ঘুরতে ঘুরতে যদি একদিন উল্টে যায় পৃথিবী! জানেন, ঠিক কী কী ঘটবে আপনার সঙ্গে?

মনে করুন, একদিন সকালে উঠে পৃথিবীর ইচ্ছা হলো 'আজ কুছ তুফানি করতে হ্যায়'! ব্যাস, বলা নেই, কওয়া নেই সে দুম করে এতদিনের অভ্যাস পালটে ঘুরতে শুরু করলো পূর্ব থেকে পশ্চিমে! এতকাল তো সে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘুরত, তাই সূর্য, চাঁদ এবং সমস্ত মহাজাগতিক বস্তু যা যা আমরা দেখতে পাই সবসময় সেই দিক থেকে ওঠে এবং পশ্চিমে অস্ত যায়। তবে হতেই তো পারে, একদিন আমাদের এই গ্রহটি উল্টোদিকে ঘুরতে শুরু করল। পৃথিবী সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে চলবে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, পৃথিবীতে জীবন তখনও স্বাভাবিকভাবেই চলবে।

এই হাইপোথেটিক্যাল চিন্তনে গবেষকরা এমন এক পৃথিবীর কল্পনা করেছেন যা ঠিক পৃথিবীর মতোই কিন্তু তা পশ্চিম দিকে ঘুরছে। আমরা পৃথিবীর গতি আটকাতে পারি না এবং উল্টোতেও পারি না। যদি পৃথিবী ঘূর্ণন বন্ধ করে দেয় তবে, সর্বনাশা সুনামি হবে, মহাসাগর সব মেরুর দিকে চলে যাবে, কোনও চৌম্বক ক্ষেত্র থাকবে না, আর কী কী যে হবে ভাবলেই প্রেশার বেড়ে যেতে পারে। তাই, ধরা যাক, এসব সত্য নয়, ধরা যাক এটি কল্পনার পৃথিবী, যে পৃথিবী আগামিকাল সকাল থেকেই অন্যভাবে ঘুরবে।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত

দীর্ঘদিন ধরে মহাভারত অশুদ্ধ হওয়া আর সূর্য পশ্চিমে ওঠার যে প্রবাদ দিয়ে আসি আমরা, ঘুম থেকে উঠে দেখবেন সত্যি হয়ে গেছে! সকালে প্রথম যে বিষয়টি লক্ষ্য করা যাবে তা হলো পশ্চিমে সূর্যোদয়। এটি যে প্রধান জিনিসটি পরিবর্তন করবে তা হচ্ছে আবহাওয়া।

বাণিজ্য বায়ু

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পৃথিবীর সমস্ত মানুষ যদি একই সময়ে একইসঙ্গে লাফ দেন, কী হবে?

Jump on Earth: ওই ৫০ হাজার মানুষ একসঙ্গে লাফিয়ে ০.৬ মাত্রার ভূমিকম্প তৈরি করতে পেরেছিল।

নিরক্ষরেখায় বাণিজ্য বায়ু আর পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হবে না এবং মধ্য অক্ষাংশে পূর্ব-প্রবাহিত বাতাস, যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে, কিন্তু আর্জেন্টিনা এবং অস্ট্রেলিয়ার অংশেও আর সেই দিকে প্রবাহিত হবে না। এই গ্রহের জীববৈচিত্র্য অভিযোজনের উপর নির্ভর করে যা বিকাশে দীর্ঘ সময় লাগে। অবশ্যই অনেক অনেক প্রজাতি এর দ্বারা প্রভাবিত হবে। এর একটি সহজ উদাহরণ হচ্ছে, বিষুবরেখার বাণিজ্য বায়ু সাহারা থেকে আমাজনে পুষ্টি নিয়ে আসে, এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যকে বাঁচতে সাহায্য করে। এই বায়ু ছাড়া সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটি ঘটবেই না।

সমুদ্রের স্রোত

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পৃথিবীর মতো দেখতে এই গ্রহ থেকেই আসছে রহস্যময় তরঙ্গ! শেষ হবে প্রাণের সন্ধান?

Mysterious Signal from Earth Like Planet : সেখানেও ঘুরে বেড়াচ্ছে আমাদেরই মতো অজানা প্রাণীরা? আপাতত সেই সম্ভাবনার দিকেই নজর রাখছেন বিজ্ঞানীরাও।

সমুদ্রের স্রোতও ঘূর্ণন এবং উপকূলীয় অঞ্চলে বায়ু দ্বারা প্রভাবিত হয়। মহাসাগরে গরম বা ঠান্ডা জলের প্রতিষ্ঠিত প্রবাহ সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হবে, সমগ্র গ্রহ জুড়েই অদ্ভুত সব প্রভাব দেখা যাবে।

মরুভূমি এবং মরুভূমিহীনতা

২০১৮ সালের একটি গবেষণায় পৃথিবীর উল্টোদিকে ঘোরা নিয়ে বলা হয়, সাহারায় এর স্পষ্ট প্রভাব দেখা যাবে। সাহারাতে কোনও মরুভূমিই থাকবে না। আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য আজকের তুলনায় অনেক বেশি সবুজ হবে। দক্ষিণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ক্যারিবিয়ান, মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনাতে উল্টে মরুভূমি তৈরি হবে। জাপান এবং চিনের পূর্ব উপকূলেও তাই-ই হবে।

বাতাস এবং স্রোতের পরিবর্তন তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতকেও প্রভাবিত করবে। যে অঞ্চলগুলি এখন মরুভূমি সেগুলি আরও অনেক বেশি গরম এবং শুষ্ক হবে, অন্যান্য অঞ্চলেও পরিবর্তন হবে। ইউরোপ অনেক ঠান্ডা এবং ভেজা হবে।

সব গ্রহের ঘূর্ণন একই নয়

সৌরজগতের সমস্ত গ্রহ একই দিকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। কিন্তু একটি গ্রহকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া অসম্ভব নয়। ইউরেনাস একটি বড় সংঘর্ষের সম্মুখীন হয়েছিল যা গ্রহটির ঘূর্ণনে প্রভাব ফেলে। সূর্যের চারপাশে ৮৪ বছর ধরে প্রদক্ষিণ করার সময় এর মেরুগুলি গ্রীষ্মকালে সরাসরি সূর্যের দিকে নির্দেশ করে।

আরও মজার বিষয় হচ্ছে শুক্র গ্রহকে নিয়ে। পৃথিবীর যমজ গ্রহ, শুধু পৃথিবীর চেয়ে মারাত্মক গরম। এই গ্রহে দিন অত্যন্ত ধীর, পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ২২৪ গুণ বেশি ধীর এবং এটি বিপরীত দিকে ঘোরে। তাই শুক্র গ্রহে সূর্য পূর্ব দিকে অস্ত যাবে। অবিরাম মেঘের আচ্ছাদন থাকবে গ্রহে এবং এটি হতে ১০০ দিনের বেশি সময় লাগবে! এর কারণ অনিশ্চিত।

সূর্যের মহাকর্ষীয় টান এবং এর অভ্যন্তরীণ আচরণের কারণে গ্রহটি ১৮০ ডিগ্রি উল্টে গেছে, এমন হতে পারে। আরেকটি কারণ হতে পারে, শুক্রের বায়ুমণ্ডলে অন্যান্য গ্রহের টান এটির ঘূর্ণনকে স্থবির করে দেয় এবং তারপরে এটিকে উল্টে দেয়।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?