নতুনভাবে ইতিহাস লেখার নিদান অমিত শাহের, 'হিন্দুরাষ্ট্রের' পথে আরও এক ধাপ?

Amit Shah on distorting History: বিজ্ঞান মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইতিহাস বিকৃতির কথা বললেন অমিত শাহ। আদতে কারা করছে সেই কাজ?

Aritra Som
৫ মিনিট
নতুনভাবে ইতিহাস লেখার নিদান অমিত শাহের, 'হিন্দুরাষ্ট্রের' পথে আরও এক ধাপ?

গতকাল, ২৪ নভেম্বর ছিল অহম জেনারেল লাচিত বারফুকানের ৪০০ তম জন্মদিবস। সতেরশো শতকে সরাইঘাটের যুদ্ধে শক্তিশালী মুঘল সেনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। নিজের অহম সৈনিকদের নিয়ে কার্যত আটকে দিয়েছিলেন মুঘলদের। তাঁরই ৪০০ তম জন্মদিবস উদযাপিত হচ্ছে নয়াদিল্লিতে। তিনদিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান কেন্দ্রীয় প্রশাসন এবং আসাম সরকার। গতকাল বিজ্ঞান ভবনের সেই অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের ‘ইতিহাস বিকৃতি’র প্রসঙ্গ টানেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর কথায়, “আমি নিজে ইতিহাসের একজন ছাত্র। এর আগেও অনেকবার ইতিহাস বিকৃতির প্রসঙ্গ আমার কানে এসেছে। আমাদের দেশের ইতিহাসকে নানাভাবে বিকৃত করা হয়েছে। এবার সেসব ঠিক করার সময় এসে গিয়েছে।”

এখানেই থামেননি তিনি। এরপর দেশের ইতিহাসবিদ, অধ্যাপক ও ছাত্রদের কাছে ইতিহাস ‘ঝাড়াই বাছাই’ করার অনুরোধও রাখেন। অমিত শাহ বলেন, “আপনাদের জিজ্ঞেস করছি, কে আমাদের আসল ইতিহাসগুলোকে সামনে আনতে দিচ্ছে না? কে আমাদের আটকাচ্ছে? আপনাদের কাছে অনুরোধ, আপনারা দেশের ইতিহাসের আসল তথ্যগুলো সামনে আনুন। নতুনভাবে সেগুলি লিখুন। তৈরি করুন। এসব দেখেই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উৎসাহিত হবে। কেন্দ্রীয় সরকারও এই কাজে আপনাদের সহযোগিতা করবে।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভক্তদের 'রামসেতু' আদৌ কি ছিল? কী রহস্য লুকিয়ে এই 'ভাসমান পাথরে'!

Truth of Ramsetu: রামভক্তদের বিশ্বাসে আঘাত লাগলেও ইহাই সত্য যে, এই পাথর বা শিলাখণ্ডগুলি ভাসমান নয়। কোনওদিন ছিলও না।

কেবল অমিত শাহ নয়, বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা, মন্ত্রীদের ধারণার এমন প্রতিফলন বহুদিন ধরেই সামনে আসছে। এখানেই প্রশ্ন, শাহবাবুদের কাছে ‘ইতিহাস বিকৃতি’র অর্থ ঠিক কী? ইতিহাস একটা বিশাল বড়ো সময়রেখা। একটা বিরাট ক্যানভাস। যে ক্যানভাস জাতপাত, ধর্ম, দল মানে না। যে বই কেবল ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা লিখতে থাকে। তাহলে কি কেউ কোনওদিন নিজেদের মতামত চাপিয়ে দেয়নি? অবশ্যই দিয়েছে। শাসক এবং ক্ষমতার ধর্মই যে সমস্ত কিছুকে নিজেদের অনুকূলে নিয়ে আসা। হীরক রাজার মতো একজন শাসক দূরবীন দিয়ে সর্বক্ষণ নজর রাখছেন চারিদিকে। একটু এদিক থেকে ওদিক হলেই ভয়, গদি হারানোর চিন্তা। অতএব, আমি যেমনটা চাইছি, তেমনটাই যেন হয়। সেই এজেন্ডাই আমায় পরেরবার ক্ষমতায় নিয়ে আসবে। মগজধোলাইয়ের মেশিন বসুক প্রতিটা মোড়ে মোড়ে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিজেপির গান্ধী-মুক্ত ভারতের কৌশল না কি মোদি আমলেই যোগ্য সম্মান পাচ্ছেন নেতাজি!

Netaji Subhash and Mahatma Gandhi: মোদির মুখে বারবার নেতাজির নাম এবং জাতীয়তাবাদে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়দের ভূমিকা উঠে এসেছে। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে খানিকটা নিষ্ক্রিয় হয়েছেন মহাত্মা গান্ধী।

এই বছরই প্রতীচী ট্রাস্টের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই ইতিহাস বিকৃতি থেকেই সাবধান করে দিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। সেখানের তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বারবার জানান, ইতিহাসের মূল উদ্দেশ্য হল সত্য সাধনা। সমস্ত দান-ধ্যান, কল্যাণমূলক কাজের পাশে উঠে আসে সংগ্রাম, বিদ্রোহ, মিথ্যাচারের চেষ্টা। সেখানে তার একটা অংশ না জানানো মানে সেই সত্যের প্রতি অন্যায় করা। সেটা চূড়ান্ত অপরাধ। কথাপ্রসঙ্গে উঠে আসবে বর্তমান কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের কথা। সেখানে সিলেবাস থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে মুঘল সাম্রাজ্যের কথা। সেটা ইতিহাস বিকৃতি নয়? খুব পুরনো দিনে যেতে হবে না। ২০০২-এর কুখ্যাত গুজরাট দাঙ্গার কথাও সিলেবাস থেকে বাদ গিয়েছে। এই দাঙ্গায় কোন দলের নাম বারবার উঠে এসেছিল, সেটা নিশ্চয়ই সবার জানা। তাহলে এই প্রসঙ্গে অমিত শাহের বক্তব্য ঠিক কী?

কিংবা ধরা যাক বহু বিতর্কিত বাবরি মসজিদের কথা। বিজেপি, আরএসএস সহ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির দাবি, স্বয়ং ভগবান রাম ওই জায়গায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আচ্ছা, রাম বা রামায়ণ ভারতের আবহমান বয়ে চলা মহাকাব্যের অংশ। রামায়ণেরও অনেক রকমফের রয়েছে। কিন্তু রামায়ণের কাহিনি যে ইতিহাস স্বীকৃত, রাম ঐতিহাসিক একজন ব্যক্তি, সত্যিই তাঁর উপস্থিতি ছিল, সেটা কি কোথাও স্বীকৃত হয়েছে? অথচ বাবর ইতিহাস স্বীকৃত এক ব্যক্তি। বাবরি মসজিদও তাই। অথচ স্রেফ ‘বিশ্বাসের বশে’ একটা স্থাপত্যকে ভেঙে দেওয়া হল। একই বক্তব্য জ্ঞানব্যাপী মসজিদকে ঘিরেও। তাজমহল নিয়েও লড়াই চলছে বহুদিন। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বারবার হুংকার দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, তাজমহল ও জ্ঞানব্যাপী- উভয়ই প্রথমে হিন্দুদের মন্দির ছিল। শিবলিঙ্গ ছিল। সেসব ভেঙে ‘বিদেশি শাসকরা’ এই স্থাপত্য তৈরি করেছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিজেপি মানেই 'অশিক্ষিত'? বাজপেয়ী থেকে যোগী, কার দৌড় কতটা

BJP: একবার দেখে নেওয়া যাক বিজেপি নেতাদের সত‍্যিকারের যোগ‍্যতার বহর।

এটা ঠিকই, একটা সময় মুসলিম শাসকরা দেশজুড়ে বহু মন্দির ভেঙেছেন। ইতিহাস তো সেই সত্য অস্বীকার করেনি! সোমনাথ মন্দিরকে ধ্বংস করার চেষ্টার কথাও স্বীকার করে আমাদের ইতিহাস। কিন্তু কেবল মুসলিমরাই কি দায়ী? বাংলায় বর্গি আক্রমণ ভুলে গিয়েছি কি? গড় পঞ্চকোট থেকে ছেলেভোলানো ছড়া, বর্গি হামলার ইতিহাস তো জ্বলজ্যান্ত হয়ে আছে। অনেক শৈব শাসকরা বিষ্ণু মন্দির ভেঙেছেন, বৈষ্ণবদের অত্যাচার করেছেন। তাহলে বারবার ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা আদতে কারা করছেন? জবাব আছে অমিত শাহবাবুদের কাছে?

স্বয়ং যোগী আদিত্যনাথ নামকরণের ব্যাপারে সিদ্ধহস্ত। উঠতে বসতে নাম পরিবর্তনের ব্যাপারে প্রবল উৎসাহী তিনি। এলাহাবাদের নাম বদলে দিয়ে রেখেছেন ‘প্রয়াগরাজ’, ফৈজাবাদ হয়েছে ‘অযোধ্যা’, মুঘলসরাই হয়েছে ‘পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় নগর’ ইত্যাদি ইত্যাদি। এই তালিকা শেষ হওয়ার নয়। নাম পরিবরতনা হচ্ছে ,আভাল কথা। কিন্তু এখানে কোনও সূত্র দেখতে পাচ্ছেন? যাহা ছিল আর যাহা হইল, এর মধ্যে খুব পরিষ্কার একটি একমুখী স্রোত কাজ করছে। ইতিহাসের ‘ঘর ওয়াপসি’ বলা যায় কি? কেবল শহরের নাম নয়, আজমগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামও বদলে করা হয়েছে ‘মহারাজা সুহলদেব বিশ্ববিদ্যালয়’। আগ্রায় নির্মীয়মাণ মুঘল মিউজিয়ামের পরিচয় হবে শিবাজীর নামে। এঁরাও অবশ্যই ইতিহাসের অংশ, সন্দেহ নেই। কিন্তু কেন্দ্রীয় শাসক দল তথা বিজেপির এমন ইতিহাস কি একটি নির্দিষ্ট অংশকে মুছে ফেলতে চাইছে? ইতিহাস বিকৃতি আসলে কি তাঁরাই করছেন না বারবার? সমস্ত জায়গা থেকে একটা নির্দিষ্ট শ্রেণীর, নির্দিষ্ট ধর্মের, নির্দিষ্ট জাতির ইতিহাসকে মুছে ফেলে যে গৈরিকীকরণের সূত্রপাত, সেটা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেই প্রভাবিত করছে না?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
উগ্র হিন্দুত্বর বিরুদ্ধে জেহাদ! দলিত জাগরণের নেপথ্যের নায়ক পেরিয়ার

Periyar Erode Venkatappa Ramasamy: ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট ব্রিটিশ শাসকরা ক্ষমতা থেকে সরলে তিনি ঘটনাটিকে ‘উচ্চবর্ণীয় হিন্দুত্ববাদীদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর’ বলে ‘মৌনদিবস’ পালন করেছিলেন।

আরেকটু যদি তলিয়ে দেখি, ইতিহাস কাকে বলে? মুঘল শাসন, ফরাসি বিপ্লব, স্বাধীনতা আন্দোলনই কি কেবল ইতিহাসের মানদণ্ড? আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যা হচ্ছে, সেটাও ইতিহাসের দর্শনকে প্রভাবিত করছে। ২০১৪ সাল থেকে সেই জীবনে অদ্ভুত এক বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভব হয়েছে। ‘হোয়াটসআপ ইউনিভার্সিটি’। বিভিন্ন ‘নিত্যনতুন’ তথ্যের সঙ্গে আমরা প্রতিদিন পরিচিত হচ্ছি, যা আদতে একেবারেই সত্য নয়। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে অহরহ ভুয়ো খবরের প্রচার, ছয়লাপ, শাসক দলের আইটি সেলের তাণ্ডব- সবই এখন প্রচণ্ডভাবে সত্য। যে ‘সত্যের’ বশে এবিভিপির এক নেত্রী মঞ্চে দাঁড়িয়ে গলা খুলে বলতে পারেন, ভারত এখনও স্বাধীন হয়নি। ইংরেজরা ৯৯ বছরের লিজে দিয়েছে এই স্বাধীনতা। বিশেষ করে করোনাকালীন ভারতে যেখানে সবাই ঘরবন্দি, সেখানে এমন ভুয়ো খবরের সমারোহ প্রচুর দেখা গিয়েছে। ২০১৪ সালের রাওয়ালপিন্ডি বাজারের ছবি ভাইরাল হয়ে যায় কলকাতার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার ছবি হিসেবে। আমরাও কিছু না ভেবে ঝাঁপিয়ে পড়ি দোষারোপের ঝুলি কাঁধে নিয়ে। ২০২০ সালেই তেলেনিপাড়ার সাম্প্রদায়িক গণ্ডগোলের কথা আশা করি সবার মনে পড়বে। সেখানেও ইন্ধন জুগিয়েছিল এই ভুয়ো খবরই। আইটি সেলের অহরহ প্রচারের দরুণ জনতা এটাই ভেবেছিল, মুসলিমরাই হলেন করোনার প্রকৃত বাহক ও ধারক। এছাড়াও পাকিস্তানের ভিডিও প্রচার করে বলা হয়, তেলেনিপাড়ায় ‘হিন্দু খতরেমে হ্যায়’। মনে আছে সাম্প্রতিক সময় দিল্লি দাঙ্গা? তাই এখন গণ্ডগোল হলে পুলিস সবার আগে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। কারণটা সহজেই অনুমেয়।

কেন এই কথাগুলো এল? কারণ, দৈনন্দিন ঘটে চলা এমন ঘটনাও ইতিহাসেরই অংশ। ক্রমাগত ভুয়ো খবর ছড়িয়ে সত্যকে বিকৃত করা কি ইতিহাসেরও বিকৃতিকরণ নয়? ইতিহাস যুক্তি দেখে, তার নিজস্ব বিজ্ঞানচেতনা আছে, নিজস্ব দর্শন আছে। সেসব মুছে ফেলে একপাক্ষিক সত্য বা অর্ধসত্য বা মিথ্যা প্রচার কি আদৌ ভারত নামক দেশকে সম্মানিত করছে? অমর্ত্য সেন বারবার শিক্ষকদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়েছেন। আর অমিত শাহরা সেই শিক্ষক ছাত্রদেরই আহ্বান জানাচ্ছেন ইতিহাস বদলানোর জন্য। অবশ্য আগামী কয়েক বছরে এই কাজটি শুরু হলে আশ্চর্য হবেন না অনেকে। ইতিমধ্যেই দেশের অধিকাংশ রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি। কেন্দ্রেও তাদেরই সরকার। “কে আমাদের আটকাচ্ছে?” অমিত শাহের একটি কথাতেই সেই ঔদ্ধত্য সামনে আসে। অর্থ, ক্ষমতা, সংবাদমাধ্যম, আইটি সেল সমস্ত কিছুই যখন হাতে, তখন তথ্য বিকৃতি করতে ক্ষতি কি?

লিখেছেন
Aritra Som
Aritra Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।