চন্দননগরে বামেদের জয় বঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মোড়? যে সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে

চন্দননগর পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটের ক্ষেত্রে সিপিআই(এম) গত কয়েক মাস ধরে প্রচার কৌশলে যে অভিনবত্ব এবং আন্তরিকতা এনেছে, সেটি কিন্তু তাঁদের এই অসাধ্য সাধনের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি।

Gautam Roy
৫ মিনিট
চন্দননগরে বামেদের জয় বঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মোড়? যে সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে

চন্দননগর পৌর নিগমের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট নির্ধারিত সময়ে হতে পারেনি এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে। সম্প্রতি সেই ভোট হয়েছে এবং সেখানে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী অশোক গঙ্গোপাধ্যায় জিতেছেন। চন্দননগর পৌর নিগমের এই ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে সিপিআই(এম) প্রার্থীর জেতাটা সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী সংগ্রামের ইতিহাসে কোনও মামুলি ব্যাপার হিসেবে দেখাটা ঠিক নয়। মূলত শিক্ষিত মধ্যবিত্ত মানুষের প্রতিনিধিত্বে ভরা চন্দননগর পৌর নিগমের এই ১৭ নম্বর ওয়ার্ডটিতে সিপিআই (এম) শেষ জিতেছিল ১৯৮৬ সালে। সেই সময় দ্বিতীয় বামফ্রন্ট সরকার রাজ্যে ক্ষমতাসীন। তারপর প্রায় দীর্ঘ ৩০ বছর ওই ওয়ার্ডে কোনও বাম প্রার্থী জেতেননি। অথচ বামফ্রন্টের শাসনকালে, চন্দননগর পৌর বোর্ডের শাসনভার বামফ্রন্টেরই হাতে ছিল।

আজ যখন রাজ্য বিধানসভায় বামফ্রন্টের একজনও প্রতিনিধি নেই, এই রাজ্য থেকে লোকসভায় বামফ্রন্টের একজন প্রতিনিধি নেই, একমাত্র নদিয়া জেলার তাহেরপুর পৌরসভা বামফ্রন্টের দখলে আছে, তখন নির্ধারিত দিনের পরবর্তী সময়ে যে ভোট হয়েছে, সেখানে সিপিআই (এম) প্রার্থীর জেতাটা গুরুত্বপূর্ণ বটে।

এই গোটা কার্যক্রমের বিশ্লেষণে প্রবেশের আগে করোনাকালের পূর্ববর্তী সময়ের একটি ঘটনা পাঠকদের সামনে তুলে ধরতে চাই। চন্দননগরের রবীন্দ্রভবনে গান গাইতে আসবেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী অদিতি মহসিন। আয়োজক সংস্থার কার্যালয়টি ঠিকভাবে চিনি না। ঘটনাচক্রে যেদিন ওই অনুষ্ঠানের টিকিটটি কাটতে গিয়েছি, সেইদিন দেখা হয়ে যায় চন্দননগরের বাম আমলের এক মেয়রের পত্নীর সঙ্গে। তিনি আমাকে অদিতি মহসিনের গানের অনুষ্ঠানের আয়োজকদের কার্যালয়টি চিনিয়ে নিয়ে যান। পরবর্তীকালে ওই আয়োজকদের একজন আমাকে হঠাৎ জিজ্ঞাসা করে, আপনি ওই ভদ্রমহিলাকে সঙ্গে করে কেন এসেছিলেন আমাদের আমাদের কার্যালয়ে টিকিট কাটতে? তাঁকে বলি, আপনাদের কার্যালয়টি আমি চিনতাম না। উনি আমাকে চিনিয়ে নিয়ে এলেন। সেই ব্যক্তিটি বলেন, আসলে আমরা আগে যখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতাম, তখন পৌরনিগমের মেয়র যেহেতু ওঁর অতি নিকট জন, সেই কারণে উনি ফোন করে অনুষ্ঠানের সবথেকে দামি টিকিট রেখে দিতে বলতেন আমাদের কাছে। সেই টিকিটে ওঁরা দলবল বেঁধে অনুষ্ঠান দেখতেন। বলা বাহুল্য, কোনওদিন একটি টিকিটেরও দাম তাঁদের কাছ থেকে পাইনি।

এই ঘটনাটি এই কারণে উল্লেখ করলাম যে, বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন একটা পর্যায়ে এসে একটা অংশের স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা বা তাঁদের আত্মীয়-পরিজনদের কৃতকর্ম সাধারণ মানুষকে বামফ্রন্টের রাজনৈতিক কর্মসূচির সুফল থেকে বিচ্যুত করে একটা ছোট অংশের অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে এমন একটা বিরক্তির জায়গায় পৌঁছে দিয়েছিল, যার ফল বামফ্রন্টকে নির্বাচনী সংগ্রামের ক্ষেত্রে আজও অনেকখানি দিয়ে চলতে হচ্ছে।

চন্দননগর পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটের ক্ষেত্রে সিপিআই(এম) গত কয়েক মাস ধরে প্রচার কৌশলে যে অভিনবত্ব এবং আন্তরিকতা এনেছে, সেটি কিন্তু তাঁদের এই অসাধ্য সাধনের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। নির্ধারিত দিনে ওই ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোট হতে না পারার কারণে জনসংযোগ থেকে যে সিপিআই(এম) ওই এলাকায় নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছিল, তা কিন্তু নয়। নির্ধারিত দিন থেকে পরবর্তীকালে যেদিন ভোট হলো, ভোট থাকুক আর না থাকুক, প্রায় প্রতিটি ভোটারদের সঙ্গে সাধারণ কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে নেতৃত্ব যে নিবিড় জনসংযোগ স্থাপন করতে পেরেছিল, তাতে সাধারণ মানুষের এই ধারণা এবং প্রত্যয় জন্মেছে যে, আজকের সিপিএমে স্থানীয় স্তর থেকে শুরু করে জেলা স্তর হয়ে, রাজ্য স্তর পর্যন্ত যে নবীন প্রজন্মের, বাস্তববোধ-সম্পন্ন, সংকীর্ণতাবোধের ঊর্ধ্বে ওঠা ব্যক্তিগণ নেতৃত্বে আছেন, তাঁরা এই নিবন্ধের শুরুতে যে প্রাক্তন মেয়রদের আত্মীয়-পরিজনের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হলো, তাঁদের থেকে সম্পূর্ণ পৃথক।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সাদা কাপড়ে এক ছিটে কালি, কেন ঝালদায় গো-হারা হারতে হল তৃণমূলকে?

কোনও নির্বাচনে এমন লজ্জাজনক পরাজয়ের ইতিহাস তৃণমূলের যেমন নেই, তেমনই হেরে যাওয়ার পর তৃণমূলের কোনও প্রার্থীও এতদিন এতখানি চড়া সুরে দলের একাংশর বিরুদ্ধেই এভাবে তোপও দাগেননি।

রাজনৈতিক স্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে, রাজনীতি এবং ক্ষমতাকে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার সোপান হিসেবে আজকের প্রজন্মের সিপিআই(এম)-এর সর্বস্তরের নেতৃত্ব যে পরিচালিত হবে না- এই বোধ, এই প্রত্যয়ের ওপরে দাঁড়িয়ে কিন্তু চন্দননগর পৌর নিগমের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ, তার মধ্যে যেমন বামপন্থী সমর্থকরা আছেন, তেমন দক্ষিণপন্থী সমর্থকরাও আছেন, তাঁরা স্থানীয় প্রশাসনের সঠিক দিকনির্দেশে, নিজেদের ওয়ার্ডে বামপন্থী প্রার্থীর প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করেছেন।

কোনও পৌর নিগমের একটি ওয়ার্ডে বামপন্থীরা জেতার নিরিখে যেমন এককথায় বলতে পারা যায় না, নির্বাচনী সংগ্রামের ক্ষেত্রে বামপন্থীরা খরা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন, তেমনই একথাও বলতে পারা যায় না যে, সাধারণ নির্বাচনে রাষ্ট্রশক্তি শাসককে জেতানোর ক্ষেত্রে যতখানি তৎপর থাকে, উপনির্বাচন বা কোনও টেকনিক্যাল কারণে পরবর্তী সময়ে যে ভোট হয়, সেখানে তার থেকে শতগুণ বেশি তৎপরতা দেখা যায় না।

বামফ্রন্টের সময়কালে যে কোনও উপনির্বাচনে শাসক বামফ্রন্টকে পরাজিত করে বিরোধী শিবিরের জেতার ঘটনা কোনও অভিনব ব্যাপার ছিল না। দ্বিতীয় বামফ্রন্ট সরকারের আমলে বেলগাছিয়া পূর্ব কেন্দ্রের উপনির্বাচনে সেই সময়ের দোদণ্ডপ্রতাপ বাম প্রার্থীকে হারিয়ে কংগ্রেসের অমর ভট্টাচার্য জিতেছিলেন। এমন উদাহরণ লোকসভার উপনির্বাচনের ক্ষেত্রেও আছে।গীতা মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর সাবেক পাঁশকুড়া আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্রম সরকারের জেতার ঘটনা এই প্রসঙ্গে বলতে হয়। পৌরসভা, পঞ্চায়েত সমস্ত জায়গাতেই বামফ্রন্টের আমলে বিরোধীদের উপনির্বাচনে জেতার উদাহরণ আছে।

তৃণমূল কংগ্রেস এই রাজ্যে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কি সাধারণ নির্বাচন, কি পৌর নির্বাচন, কি পরবর্তী কোনওরকম উপনির্বাচনে শাসক শিবির ব্যতীত কোনও অংশের বিরোধী শিবির জিতেছে, তেমন কোনও দৃষ্টান্ত নেই। তার মানে এই নয় যে, চন্দননগর পৌর নিগমের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে শাসক শিবির নিজেদের শাসনযন্ত্রকে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করেনি। এই সমস্তকিছুকে অতিক্রম করে সাধারণ মানুষ যে বামফ্রন্টের প্রার্থী অশোক গঙ্গোপাধ্যায়কে চন্দননগর পৌর নিগমের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে জিতিয়েছে, সেই সাফল্যের পিছনে প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় জেলা নেতৃত্বর কথা। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সমস্ত রকমের সংকীর্ণতাকে কাটিয়ে নির্বাচনী সংগ্রামে নিয়োজিত করার ক্ষেত্রে সিপিআই(এম) দলের হুগলি জেলার বর্তমান নেতৃত্ব, বিশেষত তাঁদের নতুন সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ যে কৃতিত্ব রেখেছেন, তা নির্বাচনী রাজনীতির ক্ষেত্রে এই নতুন ইতিহাস রচনায় একটা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে হুগলি জেলায় সিপিআই(এম) দলটি গোষ্ঠীরাজনীতির দীর্ণতায় তাঁদের রাজনৈতিক শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের থেকে বিপক্ষ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রেই বেশি সময় খরচ করেছে। অনিল বসু এবং রূপচাঁদ পালের দ্বন্দ্ব এক সময়ের বাম আন্দোলনের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হুগলি জেলা থেকে ধীরে ধীরে নির্বাচনী রাজনীতিতে বামপন্থীদের কোণঠাসা করেছে। এই প্রসঙ্গে বিশেষ করে উল্লেখ করতে হয়, কেবলমাত্র আরামবাগ মহকুমায় নয়, গোটা হুগলি জেলায় সাধারণ মানুষের সিপিআই(এম) সম্পর্কে একটা বিরূপ মনোভাব তৈরি করে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিল বসুর গোষ্ঠীতন্ত্রের দাপট বিশেষভাবে দায়ী।

এই প্রসঙ্গে আরও একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করতে হয়। নয়ের দশকের প্রথম দিকের সময়কাল। ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ তখনও ধ্বংস করেনি হিন্দু সম্প্রদায়িক শিবির। তবে সামাজিক বিভাজনের সবরকমের চেষ্টা হিন্দু সাম্প্রদায়িক শিবির চালাচ্ছে। এইরকম এক সময় আরামবাগ মহকুমার হরিণখোলা থানার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মুন্ডেশ্বরী নদীর বালিখাদ ঘিরে অনিল বসুর আশ্রিত একটা বড় অংশের সঙ্গে স্থানীয় সিপিআই নেতৃত্বের জোরদার সংঘাত বাঁধে। বলা বাহুল্য, এই অনিল বসুর গোষ্ঠীর লোকজনরা তখন সিপিআই(এম) দলের ভেতরে থেকেই ওই দলটির সাড়ে সর্ব্বনাশ ঘটাচ্ছিল।

জয়নাল খান নামক অনিল বসুর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি, অনিলের দৌলতেই যে সিপিআই(এম)-এর স্থানীয় নেতা, যাঁকে ঘিরে বেআইনি বালি তোলার অভিযোগ ছিল, তিনি গিয়ে জড়ো হন সিপিআই শিবিরে। গোটা ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধান করতে তখন হরিণখোলা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন সিপিআই-এর সংসদ গীতা মুখোপাধ্যায়। হরিণখোলার ভূঁইয়ারা গ্রামে তিনি একটি জনসভাও করেছিলেন। এরপর হরিণখোলা থানায় তৎকালীন এসডিপিও-র সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করেন। সর্বজনশ্রদ্ধেয়া সাংসদ গীতা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে পুলিশের একজন জেলা স্তরের অফিসার যেভাবে গলা তুলে উচ্চগ্রামে তুলে কথাবার্তা বলেছিলেন, তা মনে করলেও শিউরে উঠতে হয়।বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীকালে আরও জল ঘোলা হয়। দিমিত্রভ পড়া, না-পড়া নিয়ে স্বয়ং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর সঙ্গে এই পর্যায়ে গীতা মুখোপাধ্যায়ের বিতর্ক খবরের কাগজের পাতার শিরোনাম দখল করেছিল।

তখন আরামবাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে সিপিআই(এম)-এর নাম করে অনিল বসুর ঘনিষ্ঠ লোকজনদের যে কর্মকাণ্ড, তা কেবলমাত্র আরামবাগ মহকুমাতেই সিপিআই(এম)-কে বা বামপন্থীদের, সাধারণ মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন করেনি, রাজ্যজুড়ে করেছিল। যার ফলশ্রুতি আমরা দেখতে পেয়েছিলাম ২০১১ সালের ভোটবাক্সে।

লিখেছেন
Gautam Roy
Gautam Roy
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাহুলদের মিছিল, পুলিশের বাধায় ধর্না বিরোধীদের

Opposition March to EC Office: এসআইআর ও ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করলেন রাহুল গান্ধী-সহ ইন্ডিয়াা জোটের বিরোধী সাংসদরা। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ স্লোগান ওঠে। তবে কমিশনের দফতরে পৌঁছনোর আগেই মিছিল আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ।

ফর্ম ৬ বদলের অনুমোদন দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট: তাহলে বদল করল কে?

Supreme Court on Form 6 Changes: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আদালত অনুমোদন করেনি। তাহলে ফর্ম ৬-এ অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিল? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে আদালত।

ব্রাজিলের ভোটে লুলার ধাক্কা, ফ্লাভিওর উত্থান: কেন বদলাচ্ছে সমীকরণ?

Brazil presidential election 2026: প্রথম দফায় ফ্লাভিওর প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা ছিল কার্যত অপ্রত্যাশিত। কারণ, অধিকাংশ প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষাতেই লুলাকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ভোটের এই সংখ্যার আড়ালে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো—কেন বোলসোনারোবাদ এখনও এতটা শক্তিশালী?

‘দিল্লিতে রক্ত ঝরলে কলকাতাও আঘাত পায়’: যাদবপুরে নেহা বোরার কণ্ঠে প্রতিরোধের ঐক্যের বার্তা

Neha Bora Jadavpur University: নেহার কথায়, “আমার গলার অবস্থা, আমার শরীরের অবস্থা যা—ঠিক একই পরিস্থিতি আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের, সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI)। আর এই যন্ত্রণা যদি কেউ বুঝতে পারে, তবে দিল্লির রাজপথে যাদের রক্ত ঝরেছে, যাদবপুরে যাদের উপর হামলা হয়েছে, এসআরএফটিআই-তে যাদের উপর আক্রমণ হয়েছে—আমরাই একে অপরের ব্যথা সবচেয়ে ভালো বুঝি।”

‘যেই আসে লঙ্কায় সেই হয় রাবণ’: আসলে কেমন শাসক ছিলেন আসলে লঙ্কেশ?

Ravana character analysis: ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন মানুষ কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামিতে জেরবার, তখন ১৮৬১ সালে প্রকাশিত 'মেঘনাদ বধ কাব্য' সমাজকে একদম গোড়া থেকে নাড়িয়ে দিল। শিক্ষিত যুবক সমাজকে ভাবতে বাধ্য করল এই মহাকাব্য।

‘ভাই’ থেকে ‘বিরোধী’, কুড়ি বছর পর ফের একসঙ্গে: SIR যেভাবে কাছে আনল উদ্ধব ও রাজকে

Uddhav Thackeray Raj Thackeray: জনসভা থেকে রাজ ঠাকরে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, বাদ পড়া এই দুই কোটি মানুষ আসলে কারা? দিল্লির দরবারে যখন এই বিষয়ে আলোচনা হবে, তখন সমস্ত রাজনৈতিক দলের উচিত এই এসআইআর প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানানো। একই সঙ্গে তিনি ইভিএমের বদলে পুরনো ব্যালট পেপারে ভোট করানোর জোরালো দাবি তোলেন।

গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে কংগ্রেসের ব্লুপ্রিন্ট কী?

Electoral demands of congress leaders: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে ৩ সেপ্টেম্বর, সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’, অমিত শাহ ‘অবৈধ মন্ত্রী’, সকল মুখ্যমন্ত্রীরা ‘অবৈধ’। কংগ্রেসের দাবি, লোকসভা ও সকল বিধানসভা ভেঙে ব্যালট পেপারে পুনঃনির্বাচন করানো হোক। এসআইআরে ১৩ কোটি নাগরিকের নাম বিলোপ, ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, ২০২৩-এর সিইসি নিয়োগ আইন চ্যালেঞ্জ, এই সকল বিষয় উঠে এসেছে সাংবাদিক সম্মেলনটিতে। সামনে রয়েছে ইন্ডিয়া ব্লকের দলগুলির ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের অফিসের দিকে পদযাত্রা। ইতোমধ্যে, কালই রাহুল গান্ধী দেশজুড়ে বিভিন্ন গণআন্দোলনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ‘সত্যাগ্রহ’ নামক একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করেছেন।

আরও চাপে জ্ঞানেশ কুমার, দু'দশকের পুরনো মামলায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ

Gyanesh Kumar Under Scrutiny: ২০০৬ সালে কেরলের পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের সচিব থাকাকালীন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে ফের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেরল সরকার। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোকে এই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।