ভারত থেকে বিদায় হোয়াটসঅ্যাপের? পরিষেবা বন্ধ নিয়ে ঠিক কী জানাল মেটা?

WhatsApp in India: তবে এবার ভারতীয়দের জন্য বন্ধ হতে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই অ্যাপ। তেমনই আশঙ্কার কথা জানাল হোয়াটসঅ্যাপের মাদার সংস্থা মেটা।

Sohini Das
৩ মিনিট
ভারত থেকে বিদায় হোয়াটসঅ্যাপের? পরিষেবা বন্ধ নিয়ে ঠিক কী জানাল মেটা?

সকালে দিনশুরু থেকে শুরু করে রাতে চোখবোজা পর্যন্ত, যে অ্যাপটি না হলেই আমাদের নয়, তা বোধহয় হোয়াটসঅ্যাপ। এমনকী পৃথিবীর সর্বাধিক ব্যবহৃত মেসেজিং অ্যাপগুলির মধ্যে অন্যতম মার্ক জুকেরবার্গ সংস্থা মেটার আওতায় থাকা এই মেসেজিং অ্যাপটি। তবে এবার ভারতীয়দের জন্য বন্ধ হতে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই অ্যাপ। তেমনই আশঙ্কার কথা জানাল হোয়াটসঅ্যাপের মাদার সংস্থা মেটা।

হোয়াটসঅ্যাপের সব চেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এর গোপনীয়তা। এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন ফিচারের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপে যে কোনও চ্যাট অন্য যে কোনও মেসেজিং অ্যাপের তুলনায় অনেক বেশি সুরক্ষিত বলে দাবি করে হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ। সেই এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন পলিসি নিয়েই এবার প্রশ্নের মুখে হোয়াটসঅ্যাপ। ২০২১ সালে কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষিত তথ্যপ্রযুক্তি মামলায় সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে হোয়াটসঅ্য়াপ। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নিজেদের গোপনীয়তা সংক্রান্ত নিয়ম তারা লঙ্ঘন করবে না কিছুতেই। হাইকোর্টে সে কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। মেটার তরফে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে ভারত ছেড়ে চলে যেতেও রাজি হোয়াটসঅ্যাপ।

মেটার তরফে আইনজীবী এদিন আদালতে জানিয়েছেন, গোপনীয়তার কারণেই মানুষের মন জিততে পেরেছে হোয়াটসঅ্যাপ। এত মানুষের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের অন্যতম কারণ তার এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন পলিসি। ফলে তার সঙ্গে কোনও মতেই আপস করবে না মেটা। এই মুহূর্তে ভারতের বাজারে ৯০ কোটিরও বেশি হোয়াটসঅ্যাপ ইউজার রয়েছেন। যারা প্রতিদিনের কাজে এই অ্যাপটিতে কার্যত অপরিহার্য বানিয়ে ফেলেছেন। হোয়াটসঅ্যাপ ভারত থেকে বিদায় নিলে বড়সড় সমস্যার মুখে পড়বেন তাঁরা। একই সঙ্গে অসুবিধায় পড়বে হোয়াটসঅ্যাপও। কারণ এই বিপুল সংখ্যক ইউজার তারা হারাবে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি দফতর একটি নতুন আইন আনে। সেই ইনফরমেশন টেকনোলজি (ইন্টারমিডিয়েটরি গাইডলাইনস অ্যান্ড ডিজিটাল মিডিয়া এথিক্স কোড) আইনের আওতায় বলে দেওয়া হয়েছিল, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াট্‌সঅ্যাপের মতো সমাজমাধ্যমগুলিকে নতুন নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রয়োজনে চ্যাট অনুসরণ করে কোনও ভাইরাল তথ্যের উৎস সন্ধান করতে হবে। যা আদতে হোয়াটসঅ্যাপের এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন নীতির বিরোধী।

কী এই এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন পরিষেবা? সূত্রের খবর, এই পলিসির কারণেই কোনও চ্যাট সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। বাইরের কেউ চাইলেও এই কথপোকথনের নাগাল পান। সেই গোপনীয়তা নীতি এমনই, সেই কথপোকথন পড়তে পারে না মেটা খোদও। এদিকে ২০২১ সালের কেন্দ্রের ওই আইনের আওতায় হোয়াটসঅ্যাপকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে প্রয়োজনে ওই নিয়মের বেড়াজাল সরিয়ে ফেলা যায়। আর তাতেই রাজি হয়নি মেটা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি' বন্ধ হয়ে গেলে কার অসুবিধা সবচেয়ে বেশি?

WhatsApp University: প্রথম দিন থেকেই এই সরকার যে কোনও ব্যর্থতার দায় নিতে চায়নি, উল্টে হোয়াটসঅ্যাপ হয়ে উঠেছে তাঁদের একমাত্র মাধ্যম, যা দিয়ে তাঁরা দেশের অধিকাংশ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে রাখতে পারেন।

শুক্রবার সেই মামলাটির শুনানি ছিল দিল্লি হাইকোর্টে। যেখানে বিচারপতি মনমোহন ও বিচারপতি মনমীৎ প্রীতম সিংহ অরোরার বেঞ্চে হোয়াটসঅ্যাপের তরফে আইনজীবী সাফ জানিয়ে দেন, যে পদ্ধতিতে হোয়াটসঅ্যাপ ওই গোপনীয়তা রক্ষা করে, তা ভাঙা অসম্ভব। কারণ সেটা করতে হলে প্রতিটি চ্যাটের দীর্ঘতালিকা দীর্ঘ সময়ের জন্য সঞ্চয়ে রাখতে হবে হোয়াটসঅ্যাপকে। যা তাদের পলিসিবিরুদ্ধ। কারণ কবে কোন চ্যাটের গোপনীয়তা ভাঙার প্রয়োজন হবে, তা তো বলা যায় না। ফলে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি মেসেজ বছরের পর বছর ধরে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে মেটাকে। যা অসম্ভব বলেই আদালতে জানিয়েছেন আইনজীবী। হোয়াটসঅ্যাপের তরফে এ দিন আদালতে সাফ জানানো হয়েছে, সত্যিই যদি হোয়াটসঅ্যাপকে কেন্দ্রের ওই আইন মানতে হয়, তাহলে ভারত ছেড়ে চলে যাওয়া ছাড়া আর উপায় থাকবে না মার্ক জুকেরবার্গের সংস্থা মেটার।

এদিকে কেন্দ্রের তরফে আইনজীবী আদালতে যুক্তি দিয়েছেন, বহু সময়েই হোয়াটসঅ্যাপের অপব্যবহার হয় আজকের দিনে। হোয়াটসঅ্যাপের মতো অ্যাপকে হাতিয়ার করে আপত্তিকর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় সমাজমাধ্যমে। যা আসলে সমাজ এবং জনমানসের জন্য ক্ষতিকর। অনেক সময় সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বার্তাগুলির জন্য বড়সড় অশান্তিও তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতি আটকাতেই ২০২১ সালে ওই আইনটি চালু করা হয়।

তবে ওই আইনটি মানতে অস্বীকার করেছে হোয়াটসঅ্যাপ। কেন্দ্র জানিয়েছেন, অনলাইন সুরক্ষা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষতিকর কনটেন্টের ছড়িয়ে পড়া আটকাতেই মূল প্রেরককে চেনা বা শনাক্ত করা জরুরি। আর সেই ভুয়ো খবর বা হিংসা ছড়ানো অভিযুক্তকে চিহ্নিত করার দায়িত্বও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলির। আর সেই সব সমস্যাগুলিতে চিহ্নিত করতে অ্য়াপগুলোর নিজস্ব মেকানিজম থাকা জরুরি বলেই জানিয়েছে কেন্দ্রে। তবে সে কথা মানতে নারাজ হোয়াটসঅ্যাপ। প্রাইভেসি ও ওইসব ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনতে কী করা উচিত, তা ভাবার কথা জানিয়েছে হাইকোর্ট। এখন কেন্দ্রের সঙ্গে বিবাদে ভারতকে হোয়াটসঅ্যাপহারা হতে হয় কিনা, আপাতত সেটাই ভাবাচ্ছে আম আদমিদের।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।