ইভিএমের সঙ্গে মেলানো হবে ভিভিপ্যাট স্লিপ? লোকসভা ভোটের মধ্যেই যে বড় সিদ্ধান্ত জানাল সুপ্রিম কোর্ট

EVM-VVPAT case: সেই মামলাটি শুক্রবার সরাসরি খারিজই করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। জানিয়ে দিয়েছে ইভিএমের ভোটের সঙ্গে ভিভিপ্যাটের স্লিপ একশো শতাংশ মিলিয়ে দেখা সম্ভব নয়।

Sohini Das
৩ মিনিট
ইভিএমের সঙ্গে মেলানো হবে ভিভিপ্যাট স্লিপ? লোকসভা ভোটের মধ্যেই যে বড় সিদ্ধান্ত জানাল সুপ্রিম কোর্ট

ইভিএমের ভোটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হোক ভিভিপ্যাট স্লিপ। সেই দাবি নিয়ে মামলা করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। লোকসভা ভোট চলাকালীন সেই মামলার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত। বুধবারই সেই মামলার রায় জানানোর কথা ছিল সুপ্রিম কোর্টের। তবে সেদিন নির্বাচন কমিশনারের কাছে এই সংক্রান্ত বেশ কিছু বিষয় জানার ছিল আদালতের। সেই মামলাটি শুক্রবার সরাসরি খারিজই করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। জানিয়ে দিয়েছে ইভিএমের ভোটের সঙ্গে ভিভিপ্যাটের স্লিপ একশো শতাংশ মিলিয়ে দেখা সম্ভব নয়। শুক্রবার এই রায় দিয়েছে বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও দীপঙ্কর দত্তের বেঞ্চ।

এই সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি আবেদন জমা পড়েছিল অনেক দিন আগেই। দীর্ঘদিন ধরেই ইভিএম কারচুপির অভিযোগ এনে সরব বিরোধীরা। ২০১৯ ভোটের পরেই দুটি মামলা দায়ের হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। তার মধ্যে একটি দায়ের করেন আইনজীবী অরুণ কুমার আগরওয়াল। একই দাবি নিয়ে মামলা করে এডিআরও। আইনজীবী আগরওয়ালের দাবি ছিল, সরকার ৫ কোটি টাকা খরচ করে ২৪ লক্ষ ভিভিপ্যাট কিনেছে। আর ভোটগণনার সময় তাক মধ্যে মাত্র ২০ হাজার ভিভিপ্যাট স্লিপ যাচাই করা হয়ে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এলোপাথাড়ি ভাবে পাঁচটি ইভিএম ও ভোটার ভেরিফায়েড পেপার অডিট ট্রেল (ভিভিপ্যাট) বেছে নিয়ে তার স্লিপ মিলিয়ে দেখা হত এতদিন। সেই সংখ্যাটা ১০০ শতাংশ করার আর্জি জানিয়ে আদালতে মামলা দায়ের হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভিভিপ্যাট মামলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে কমিশন! কী জবাব দিলেন নির্বাচনী আধিকারিক?

EVM-VVPAT case: সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়দানের কথা ছিল বুধবার। তার আগে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার বেঞ্চ বেশ কয়েকটি প্রশ্ন রাখল ইলেকশন কমিশনের সামনে।

সেই মামলার শুনানি ছিল বুধবার। কার্যত ওই দিনই রায়দানেরও কথা ছিল। তবে সেদিন বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের বেঞ্চ একগুচ্ছ প্রশ্ন সামনে রেখেছিল ইলেকশন কমিশনের। সেদিনই সেই সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছিল কমিশন। তবে সেদিনের জন্য় রায়দান স্থগিত রেখেছিল বিচারপতিদের বেঞ্চ। শুক্রবার সেই রায় জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতে খারিজ হয়ে গেল ইভিএম-ভিভিপ্যাট সংক্রান্ত সব কটি মামলা। ভিভিপ্যাট স্লিপ ও ইভিএমের ভোট ১০০ শতাংশ মিলিয়ে দেখার আবেদনও খারিজ হয়ে গেল আদালতে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট মেলালেই ভোটারদের ভোট সঠিক জায়গায় যাবে?

VVPAT Slip Counting: সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, প্রতি বিধানসভা পিছু দুটো করে ভিভিপ্যাট গোনা হবে ২০১৯ সালে। দুটো করে মেশিন গুনলেই ইভিএম নিয়ে মানুষের বিশ্বাস ফিরবে?

তবে সুপ্রিম কোর্ট ইলেকশন কমিশনের জন্য দু'টি নির্দেশ জানিয়েছে। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, ইভিএমে দলীয় প্রতীক লোড করার পর লোডিং ইউনিটটি সিল করে তবেই পোলিং এজেন্ট ও প্রার্থীদের উপস্থিতিতে সেটি যথাযোগ্য জায়গায় সুরক্ষিত রাখতে। সিম্বল লোডিং ইউনিটটি সিল করে যথাযথ জায়গায় রাখার পর সেটিকে ফলাফল ঘোষণার পর অন্তত ৪৫ দিনের জন্য স্টোররুমে রাখতে হবে। সঙ্গে থাকবে ইভিএমও। এখানেই শেষ নয়। ভোটের রেজাল্টের সাত দিনের মধ্যে যদি কেউ এ নিয়ে লিখিত ভাবে অভিযোগ দায়ের করে, সেক্ষেত্রে কন্ট্রোল ইউনিট, ব্যালট ইউনিট ও ভিভিপ্যাটের ৫ শতাংশ বার্ন্ট মেমরির সেমিকন্ট্রোলারটি ভোটিং মেশিন নির্মাণকারী সংস্থাগুলির ইঞ্জিনিয়ারদের দিয়ে যাচাই করাতে হবে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট এ-ও জানিয়েছে, যে প্রার্থীরা যাচাইয়ের জন্য লিখিত অনুরোধ করেছেন, এই যাচাইয়ের খরচ তাঁদেরই বহন করতে হবে। যদি সেই পরীক্ষায় ইভিএম যাচাইয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে সেই টাকা ফেরত পাবেন অভিযোগকারী।

২০০০ সাল থেকে এ দেশে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার শুরু হয়। যেখানে ব্যালট ইউনিটটি ভিভিপ্যাট নামক একটি মেশিনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। ইভিএম মেশিনে ভোট দেওয়ার পরেই ভিভিপ্যাট মেশিনে প্রার্থী ও প্রতীক লেখা একটি কাগজ উঠে আসে, এবং সেখান থেকে তা একটি নির্দিষ্ট স্টোরেজে জমা হয়। প্রতি বছরই ভোট কাটতে না কাটতে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ আনে বিরোধীরা। সেই দুর্নীতি বন্ধ করতেই আদালতে জমা পড়েছিল আবেদন।

সুপ্রিম কোর্ট বুধবারই জানিয়ে দিয়েছিল, তারা কোনও নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আবেদনকারীরা ভোটে ব্যালট পেপার ফিরিয়ে আনার জন্য যে দাবি করেছিল, সেই দাবিও খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশ জুড়ে ভোটের মাঝেই ইভিএম ও ভিভিপ্যাট সংক্রান্ত সব আবেদন পুরোপুরি নাকচ করে দিল শীর্ষ আদালত। ফলে এই মামলার রায়দানের পরেও ভোটিংয়ের কোনও প্রক্রিয়ায় কোনও বড়সড় বদল আসছে না এই লোকসভা ভোটেও।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।