ইডি-র হাতে 'কালীঘাটের কাকু'র কণ্ঠ-রিপোর্ট, কীভাবে মেলানো হল ভয়েস ক্লিপ?

Sujay Krishna Bhadra: রাত পোহালেই লোকসভার ভোট। সেসময় তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়ে কালীঘাটের কাকুর গলা রহস্যের কিনারা।

Sohini Das
৩ মিনিট
ইডি-র হাতে 'কালীঘাটের কাকু'র কণ্ঠ-রিপোর্ট, কীভাবে মেলানো হল ভয়েস ক্লিপ?

গলা দিয়ে যায় চেনা। এবার সেই চেনা গলাই ভোটের আগে বিপাক বাড়াল তৃণমূলের। একের পর এক দুর্নীতি এমনিতেই গলায় কাঁটার মতো বিঁধে রয়েছে ঘাসফুল শিবিরেই। রাত পোহালেই লোকসভার ভোট। সেসময় অস্বস্তি বাড়িয়ে কালীঘাটের কাকুর গলা রহস্যের কিনারা করে ফেলল তদন্তকারী দল। বৃহস্পতিবারই 'কালীঘাটের কাকু' ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠস্বরের ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এসেছে ইডির। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেটের তরফ থেকে সরকারি ভাবে কিছু জানানো না হলেও সেই রিপোর্ট ইতিবাচক বলেই কোনও কোনও সূত্রের খবর।

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকু। বেহালায় জন্ম, বেড়ে ওঠা। কাজের জায়গা নিউ আলিপুরে। সেখান থেকে কীভাবে হয়ে উঠলেন কালীঘাটের কাকু তার হালহদিস জানে না প্রায় কেউই। কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে পা রাখার পর তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ নাকি ডাকতেন কাকু বলে। সেই থেকেই হয়ে গেল কালীঘাটের কাকু। টালির ঘর, ছোট্ট মুদির দোকান থেকে শুরু করে নিয়োগ দুর্নীতির অন্যতম মাথা হয়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ার। শুধু নিয়োগ-দুর্নীতিই নয়, কয়লা মামলাতেও ডাক পেয়েছিলেন সুজয়কৃষ্ণ।

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই নানা অসুস্থতার টালবাহানায় হাসপাতালেই ছিলেন সুজয়কৃষ্ণ। মাঝে একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদ্‌যন্ত্রের অস্ত্রোপচারও হয় সুজয়কৃষ্ণের। তাঁকে হেফাজতে নিতে চেয়ে বার বার ইডির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের জন্যও কম কালঘাম ছোটেনি ইডির। একাধিক বার নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করলেও এসএসকেএম হাসপাতালের তরফে আসে বারবার বাধা। গত বছর ডিসেম্বরের শুরুতেও জোকা ইএসআই হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্স নমুনা সংগ্রহের কাজে গিয়েও ফিরে আসতে বাধ্য হয়। অবশেষে গত জানুয়ারি মাসে বাধ্য় হন সুজয়কৃষ্ণ নমুনা দিতে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শুধুই 'কালীঘাটের কাকু'! এসএসকেএমের ছত্রছায়ায় আর কোন কোন প্রভাবশালী?

Kalighater Kaku: তবে শুধুই কি কালীঘাটের কাকু! নাকি এসএসকেএমের ছাতা রয়েছে আরও অনেক সুজয়কৃষ্ণদের মাথাতেই? জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট

সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের বাড়িতে ইডি প্রথম যেদিন যায়, সেদিনই ইডির অন্য আরেকটি দল গিয়েছিল বিষ্ণুপুর থানায় কর্মরত সিভিক ভলিন্টিয়ার রাহুল বেরার বাড়িতে। ইডি রাহুল বেরার ফোনটি বাজেয়াপ্ত করে। জানা যায় 'কাকু' সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তিনি। ইডি জানিয়েছিল, সিভিক ভলান্টিয়ার রাহুল বেরার সঙ্গে একজনের মোবাইলে কথোপকথনের ফাইল ইডির হাতে আসে। ওই কথোপকথনের অন্য প্রান্তে থাকা ব্যক্তিটি হলেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র, দাবি ইডির। কী কথোপকথন ছিল যার জন্য এত উদ্বিগ্ন ইডি? ইডি জানাচ্ছে, ওই ফোনের অডিওতে শোনা গিয়েছে, রাহুল বেরাকে মোবাইলে থাকা শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত সব তথ্য মুছে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কে নির্দেশ দিয়েছেন? কালীঘাটের কাকু? ‘কাকু’-ই নেপথ্যে কিনা তা প্রমাণ করতেই কণ্ঠস্বরের নমুনা প্রয়োজন ছিল ইডির।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তাঁর কণ্ঠস্বরের খোঁজে হন্যে ইডি! কীভাবে 'কালীঘাটের কাকু' হলেন বেহালার সুজয়কৃষ্ণ?

Kalighater Kaku Voice Test: সুজয়ের দাদা বিপিএল কার্ডের উপভোক্তা। পর্ণশ্রী থানা এলাকায় ছোট্ট এক চিলতে বাড়িতে তাঁর বসবাস। অথচ সুজয়বাবুর হাতে আসত লক্ষ লক্ষ টাকা। কীভাবে? ভাবিয়েছে ইডির গোয়েন্দাদের।

বারবার সুজয়কৃষ্ণের কণ্ঠস্বর পরীক্ষায় বাধা দেওয়ার ব্যাপারে প্রশ্নের মুখে পড়ে এসএসকেএম কর্তৃপক্ষ। সেই মামলার জল গড়ায় হাইকোর্ট পর্যন্ত। হাইকোর্টের নির্দেশেই জানুয়ারির গোড়ায় কাকুর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করে ফরেন্সিকে পাঠানো হয়। গত ৩ জানুয়ারি গভীর রাতে মুখ খোলেন সুজয়কৃষ্ণ। জানা গিয়েছিল, বারবার তিনটি বাক্যই নাকি সুজয়কৃষ্ণকে দিয়ে বলানো হয়েছে। কী সেগুলো? 'আপনার নাম কী?', 'আপনার স্ত্রীর নাম কী?' এবং 'আমার সাহেবকে কেউ ছুঁতে পারবে না'। সুজয়কৃষ্ণের বলা সেসব কথা নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করা হয়।

সহজে মুখ খোলানো যায়নি সুজয়কৃষ্ণকে দিয়ে। প্রায় রাত কাবার হয়ে যায় সেই নমুনা সংগ্রহের কাজে। অবশেষে সেই পরীক্ষার ফল হাতে এল ইডি-র। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত বছর মে মাসে গ্রেফতার হন সুজয়কৃষ্ণ। জানা যায়, তিনি অভিষেকের পারিবারিক সংস্থা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের পদস্থ কর্তা ছিলেন। এই দুর্নীতিতে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের প্রশ্নে জড়িয়ে যায় এই সংস্থার নাম। মামলায় ধৃত তৃণমূলের প্রাক্তন যুবনেতা কুন্তল ঘোষের একটি চিঠির সূত্রে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। ইডি এবং সিবিআই একাধিকবার সুজয়কৃষ্ণকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার সাহেবকে কেউ ছুঁতে পারবে না। তাঁর কাছে পৌঁছতে হলে আমার মাধ্যমে যেতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরেই টালবাহানা চলছিল এই রিপোর্ট নিয়ে। বারবার চেয়েও তা হাতে পাননি ইডির তদন্তকারীরা। কলকাতা হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়েছিল ইডিকে। পরবর্তীকালে রিপোর্ট চেয়ে সেন্ট্রাল ফরেন্সিক ল্যাবে চিঠি পাঠায় ইডি। অবশেষে বৃহস্পতিবার মুখবন্ধ খামে ওই নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ইডি-র। সূত্রের খবর, আগামী সোমবার ইডি তা আদালতে পেশ করতে পারে। এই রিপোর্ট কি ভোটের মুখে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার উপর থেকে তুলে দিতে চলেছে বিরাট বড় পর্দা। সুজয়কৃষ্ণের এই রিপোর্ট ভোটের বাজারে কতটা বিপদে ফেলতে চলেছে ঘাসফুল শিবিরকে! থাকছে প্রশ্ন।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।