নেতানিয়াহুর হুমকির পরেই ইরানে জারি রেড অ্যালার্ট! কোন দিকে যাচ্ছে ইজরায়েল-ইরান অশান্তি?

Israel Iran Conflict: ইতিমধ্যেই ইরানে জারি হয়ে রেড অ্যালার্ট। বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইজরায়েলের ইরানের উপর ক্ষুদ্রতম আগ্রাসনও বিরাট এবং ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

Sohini Das
৩ মিনিট
নেতানিয়াহুর হুমকির পরেই ইরানে জারি রেড অ্যালার্ট! কোন দিকে যাচ্ছে ইজরায়েল-ইরান অশান্তি?

ফের আরও একটা বড় যুদ্ধশুরুর মুখে বিশ্ব। বছর খানেক আগে ইউক্রেনের সঙ্গে হঠাৎ করেই যুদ্ধ লাগিয়ে দিয়েছিল রাশিয়া। সেই যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। এখনও মাঝেমধ্যেই দফায় দফায় ইউক্রেনে আঘাত হানে রুশ সেনা। থামেনি মাস ছয়েক আগে শুরু হওয়া ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন যুদ্ধও। মধ্যিখান থেকে শেষ হয়ে গিয়েছে গাজা শহর। প্রায় ৩৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এই ৬ মাসে। এবার ইরান নতুন করে সংঘাতে জড়িয়েছে ইজরায়েলের সঙ্গে। ইরানের সঙ্গে রয়েছে লেবাননের জঙ্গিগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের জঙ্গিগোষ্ঠী হাউথি এবং প্রচ্ছন্ন ভাবে ইন্ধন জোগাচ্ছে প্যালেস্টাইনের জঙ্গিগোষ্ঠী হামাস।

গত শনিবার মধ্যরাতে ইজরায়েলে প্রায় তিনশো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। তার পর থেকে চুপচাপ রয়েছে ইজরায়েল। কিন্তু রেকর্ড বলছে, চুপ করে থাকার বান্দা নয় তারা। ইজরায়েলের ওয়ার ক্যাবিনেট দফায় দফায় বৈঠক করেছে গত কয়েকদিনে। ইরানকে জবাব দিতে কোন পর্যায়ে যেতে চলেছে ইজরায়েলের বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকার, তা বুঝে উঠতে পারছে না কেউ-ই। কারণ যতদিন যাচ্ছে, ইজরায়েলের আগ্রাসন ততই বাড়ছে। ইজরায়েলের বর্তমান সরকার এখনও পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে আগ্রাসী সরকার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভয়ঙ্কর সাইবার হামলা থেকে পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংস! যে যে পথে ইরানকে জবাব দিতে পারে ইজরায়েল

Israel Iran Conflict: ইরানের সঙ্গে ইজরায়েলের এই অশান্তি লেগেছে বেশ অনেকদিন ধরেই। এর মধ্যে আবার ইরানকে মদত দিচ্ছে লেবাননের জঙ্গিগোষ্ঠি হিজবুল্লাহ। হামাসের পরোক্ষ উস্কানি তো রয়েইছে।

হামাসের হামলার পর একদিনের মাথায় গাজায় যুদ্ধঘোষণা করেছিল ইজরায়েল। তেমন কিছু যাতে ইরানের ক্ষেত্রে না করে ইজরায়েল, তার জন্য নেতানিয়াহু সরকারকে বারবার সাবধান করেছে আমেরিকা। ইরানও জানিয়েছে, ইজরায়েল হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিলে যুদ্ধের পথে হাঁটবে না তারাও। তবে ইজরায়েল সেই পথ ধরবে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ বুঝবারই বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর দেশ কীভাবে নিজেদের রক্ষা করবে, সে সিদ্ধান্ত তাদের। এ ব্যাপারে অন্য কোনও দেশের কোনও পরামর্শ শুনবে না ইজরায়েল। বুধবারই ব্রিটিশ বিদেশমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও জার্মান বিদেশমন্ত্রী অ্যানালেনা বেয়ারবকের সঙ্গে দেখা করেন নেতানিয়াহু। ইজরায়েল যাতে ফের কোনও ভয়াবহ যুদ্ধে না জড়ায়, সে বিষয়ে কথা বলতেই ইজরায়েলে আসেন তাঁরা। তবে সেই বৈঠক কাজে এসেছে বলে মনে হয় না। কারণ সেই বৈঠকের পরেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, ইজরায়েল রাষ্ট্র নিজেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু করবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইরানকে ‘সবক’ শেখাতে কতদূর যাবে ইজরায়েল? ভারতকেও ভুগতে হবে ফল?

Israel Iran Conflict: ইতিমধ্যেই ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের প্রভাব এসে পড়েছে ভারতে। যুদ্ধের আবহে ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করেছে এয়ার ইন্ডিয়া।

ইরানের উপর কোন কোন ভাবে হামলা করতে পারে ইজরায়েল, সেই ভাবনায় উদ্বেগে বিশ্ব। এমনই এক সময়ে ইজরায়েলের উত্তরে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে লেবাননের জঙ্গিগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সেই হামলায় অন্তত ১৪ জন ইজরায়েলি সেনা জখম হয়। যাঁদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দীর্ঘদিন ধরেই ইজরায়েলে একের পর এক হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লা। যবে থেকে হামাসের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে নেতানিয়াহু সেনা, তার পর থেকেই ইজরায়েলে হামলার সংখ্যাও বাড়িয়েছে হিজবুল্লাহ। বুধবার ইজরায়েলের আরব আল- আরামশির বেদুইন গ্রামে চলে হামলাটি।

যদিও গত শনিবার ইরানের হামলা তেমন ক্ষতি করতে পারেনি ইজরায়েলের। ইরানের ছোড়া সমস্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রই আকাশেই ধ্বংস করেছে ইজরায়েল ও তার মিত্র দেশগুলি। ওই হামলায় একজন জখম হয়, আর ইজরায়েলি সামরিক ঘাঁটির সামান্য ক্ষতি হয়। তবে সেই হামলার বদলা যে ইজরায়েল নেওয়ার জন্য পুরোমাত্রায় প্রস্তুত, তা বুধবারই বুঝিয়ে দিয়েছে ইজরায়েল।

ইতিমধ্যেই ইরানে জারি হয়েছে রেড অ্যালার্ট। বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইজরায়েলের ইরানের উপর ক্ষুদ্রতম আগ্রাসনও বিরাট এবং ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। গোটা বিশ্ব ইজরায়েলের উপর ইরানের এই হামলার নিন্দা করলেও হামাস কার্যত ইরানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ইজরায়েলের এটা প্রাপ্য ছিল বলেই একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে প্যালেস্টাইনের সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন হামাস। সব মিলিয়ে ইজরায়েলের হুঁশিয়ারি এবং ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি মিলে নয়া উদ্বেগের সৃষ্ট হয়েছে বিশ্ব রাজনীতিতে। ফের নতুন করে আরও একটা যুদ্ধ লেগে যাবে বিশ্বে। যুদ্ধ মানেই হাজার হাজার সাধারণ মানুষের মৃত্যু আর মানবাধিকারের লঙ্ঘন। ইউক্রেন থেকে গাজা, কোথাওই যুদ্ধ কোনও সমাধানসূত্র খুঁজে দিতে পারেনি। শুধু অসংখ্য মানুষকে গৃহহীন, স্বজনহীন, বান্ধবহীন করেছে। কার্যত সেই যুদ্ধের বিরোধিতা করছে বিশ্বের সব ক'টি সুস্থ ভাবনাচিন্তার দেশই। তবে রাষ্ট্রপুঞ্জ হোক বা, অন্যান্য দেশের মধ্যস্থতা- কোনও কিছুই কোনও যুদ্ধকে রুখে দিতে পারেনি। ইজরায়েল-ইরানের ক্ষেত্রে কি তা পারবে? থাকছে প্রশ্ন।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।