ঘন ঘন বদলাচ্ছেন মোবাইল, স্মার্ট ওয়াচ! পৃথিবীকে যেভাবে গিলে খাচ্ছে ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য

E Waste Management: ২০২২ সালে সারা বিশ্বে যে ৬২ বিলিয়ন কেজি ই-ওয়েস্টের হদিস মিলেছিল তার অর্ধেকটাই কোনও না কোনও খনিজ পদার্থ, আর বাকি অর্ধেকের সিকি ভাগেরও বেশি প্লাস্টিক।

Shamim Haque Mondal
৫ মিনিট
ঘন ঘন বদলাচ্ছেন মোবাইল, স্মার্ট ওয়াচ! পৃথিবীকে যেভাবে গিলে খাচ্ছে ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য

"এ লোহা ভাঙা, টিন ভাঙা... আছে নাকি ভাঙাচোরা?" ছোটবেলায় এই আওয়াজ শুনলে আমরা দৌড় দিতাম, পাছে ভাঙা খেলনা, পুরনো ব্যাটারি বদল দিয়ে চানাচুর মেলে! এখনও মাঝে মধ্যে সে ডাক শোনা যায়। তবে সেই ডাক কিঞ্চিৎ বদলে গেছে। এখন কানে আসে, "পুরনো কম্পিউটার বিক্রি করবেন, মনিটর বিক্রি করবেন, ভাঙা মোবাইল ফোন বিক্রি করবেন।" যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্জ্য পদার্থও কেমন বদলে গেছে। টিন ভাঙা, লোহা ভাঙার তালিকা লম্বা হতে হতে ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই-ওয়েস্টে এসে ঠেকেছে। কী নেই এই তলিকায়! আমাদের পুরনো ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রিন্টার, মেমোরি কার্ড, হার্ড ড্রাইভ, সিডি, ডিভিডি, পেন ড্রাইভ, আরও কত কী! সকাল থেকে রাত অবধি সবসময়ই আমরা কোনও না কোনও ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের সঙ্গে ঘর করছি। কিছুদিন ব্যবহারের পর আবার নতুন নতুন মডেলের দিকে ঝুঁকছি, হরেক রকমের সুবিধার জন্য। ফলত দিনে দিনে লম্বা হচ্ছে ই-ওয়েস্টের ফিরিস্তি। ২০২২ সালে বিশ্বে ই-ওয়েস্টের পরিমাণ ছিল ৬২ মিলিয়ন টন, যা ২০১০ সালে উৎপন্ন ই-ওয়েস্টের প্রায় দ্বিগুণ! এইভাবে চলতে থাকলে ২০৩০ সালের গোড়ায় এর পরিমাণ দাঁড়াবে ৮২ মিলিয়ন টন!

আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারের যেকোনও ইলেকট্রনিক গ্যাজেট খারাপ হলেই পরিণত হয় ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই-ওয়েস্টে। এই ব্যাপারে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনায় এগিয়ে আছে পাশ্চাত্যের উন্নত দেশগুলি, কারণ ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ব্যবহারের প্রবণতা সেখানে অনেক বেশি। ২০২২ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইউরোপে মাথা পিছু ১৭.৬ কেজি, অস্ট্রেলিয়াতে ১৬.১ কেজি, আমেরিকাতে ১৪.১ কেজি, এশিয়াতে ৬.৪ কেজি ও আফ্রিকাতে মাত্র ২.৫ কেজি ইলেকট্রনিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে কিছু খারাপ হলে সারানোর পরিবর্তে নতুন যন্ত্রপাতি কেনাই বেশি সাশ্রয়ী। এশিয়া ও আফ্রিকাতে ইলেকট্রনিক বর্জ্য কম উৎপন্ন হলেও এর কুফল তারাই বেশি ভোগ করে, কারণ উন্নত বিশ্ব বেশিরভাগ ই-ওয়েস্ট রপ্তানি করে ভারত, বাংলাদেশ, আফ্রিকার মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে। তারপর সেগুলো যতটা সম্ভব নিষ্কাশন করে আবার কাঁচামাল হিসাবে নিজেদের দেশে আমদানি করে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গঙ্গার পবিত্র উৎসমুখে এবার মানববর্জ্য! গঙ্গোত্রীতে যে ভাবে ছড়াচ্ছে দূষণ

Pollution In Gangotri: গঙ্গার উৎসমুখ, যা এতদিন পৃথিবীর পবিত্রতম স্থান হিসেবে ধার্য করা হত, সেই জায়গাও মানববর্জ্যে কলুষিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই ট্রাইব্যুনালের তরফে রাজ্যকে এ সংক্রান্ত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আসলে ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের চক্রে অধিকাংশ কোম্পানিই নিত্য নতুন পণ্য তৈরিতে ব্যস্ত। স্মার্ট ফোনের ক্যামেরার সামান্য পরিবর্তন করে, বা দু-একটা নতুন ফিচার ঢুকিয়ে সব সময়ই হরেক রকমের মডেল মার্কেটে নিয়ে আসছে এই কোম্পানির। হয়তো অনেক সময় সে সব ফিচার কোনও কাজেই লাগে না আমজনতার। কিন্ত এর ফলে ইলেকট্রনিক বর্জ্য জমে জমে পাহাড় হচ্ছে। আগেকার ফোনগুলোর ব্যাটারি খুব সহজেই বদলানো যেত কিন্ত এখন প্রায় সব স্মার্ট ফোনে সোল্ডারিং ব্যাটারি ব্যবহার করায় ব্যাটারির সমস্যার জন্য সেগুলির জীবনকাল ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে, আর পরিণত হচ্ছে ই-বর্জ্য পদার্থে। প্লাস্টিকের মতোই এদেরও বিনাশ করা বেশ শক্ত, কারণ এতে থাকা অধিকাংশ উপাদানই পরিবেশের সঙ্গে মেশে না।

২০২২ সালে সারা বিশ্বে যে ৬২ বিলিয়ন কেজি ই-ওয়েস্টের হদিস মিলেছিল তার অর্ধেকটাই কোনও না কোনও খনিজ পদার্থ, আর বাকি অর্ধেকের সিকি ভাগেরও বেশি প্লাস্টিক। এতে থাকা বিভিন্ন খনিজ পদার্থ, যেমন লেড, আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম, প্রভৃতি পরিবেশের প্রভূত ক্ষতিসাধন করছে, এমনকী এর ভিতরে ৫৮ হাজার কেজি পারদ ও ৪৫ মিলিয়ন কেজি প্লাস্টিক মিলেছে, পরিবেশের জন্য যেগুলি খুবই ক্ষতিকারক। এতে থাকা অ্যান্টিমনির কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয় আমাদের চোখ, ত্বক, হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস। এতে থাকা বিসমাথ আবার শ্বাসকষ্ট, অনিদ্রার মতো রোগের জন্যে দায়ী। ফুসফুসের ক্যানসার, পাকস্থলীর সমস্যা, আলসার, অ্যালার্জি প্রভৃতির উৎস ক্যাডমিয়াম, যেটি প্রায় প্রতিটি ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের প্রয়োজনীয় উপাদান, এমনকী অতি মাত্রায় এটি মানব দেহে প্রবেশ করলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। থাইরয়েডের সমস্যা, অ্যাস্থমা প্রভৃতি বাড়ে কোবাল্টের জন্য। ই-বর্জ্যে থাকা আর একটি ক্ষতিকর খনিজ মলিবডেনাম, যেটি হাত, পা, হাঁটু, কনুই প্রভৃতি অঙ্গে ব্যথা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া জীবজগৎ ও পরিবেশের ওপর লেড বা সীসার প্রভাব আমরা সবাই কম বেশি জানি। এর ফলে আমাদের মস্তিষ্ক, কিডনির ক্ষতি হতে পারে, বাড়তে পারে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা। এই উপাদানগুলি অসাবধানতা বশত আশে পাশে ফেলে দিলে, মাটির আর্দ্রতার সংস্পর্শে এসে ভূ-গর্ভস্থ জলকেও দূষিত করে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৬০৪টি তাজমহলকে ঢেকে ফেলতে পারে ভারতের প্লাস্টিক-বর্জ্য! সামনে এল যে ভয়ঙ্কর তথ্য

world’s biggest plastic polluter: পৃথিবীর অন্যতম দূষণকারী চার দেশ, নাইজিরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চিন এবং পাকিস্তানকেও ছাপিয়ে গিয়েছে সম্প্রতি ভারত প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদনে।

কীভাবে মুক্তি মিলবে এর থেকে? সেজন্য আমাদের ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ বা এর রিসাইক্লিং সম্পর্কে জানতে হবে। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট বা কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যেই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সর্বাধিক সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। ধাতব এবং অধাতব উপাদানগুলির নিয়মমাফিক পৃথকীকরণ ও পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষতিকর পদার্থের প্রভাবকে অনেকটা কমিয়ে আনা যায়। সে জন্য ই-বর্জ্য জমা ও বাছাই করার জন্য স্তূপ করে রাখা হয়। তারপরে ভেঙে বা গলিয়ে ফেলা হয়। তবে এই পদ্ধতিতে ঝুঁকিও রয়েছে। ই-বর্জ্য পদার্থ গলানোর সময় বাতাসে প্রচুর দূষিত গ্যাস মেশার আশঙ্কা থাকে, যেগুলি মানবদেহে ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া বর্জ্য পদার্থ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের ডিএনএ-র গঠনের ক্ষতি হতে পারে। বৈদ্যুতিন দ্রব্যের কেসিং-এর মধ্যে থাকা পলিভিনাইল ক্লোরাইড পরিবেশের ক্ষতি করে। ফলে ঠিক পদ্ধতি অবলম্বন না করলে এই বর্জ্যের প্রক্রিয়াকরণও বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে।

এক টন ই-ওয়েস্ট নিষ্কাশন করে প্রায় ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত সোনা পাওয়া যেতে পারে, যেখানে এক টন সোনার আকরিক থেকে মাত্র ৫ গ্রামের মতো সোনা পাওয়া যায়। তা সত্ত্বেও উন্নত দেশগুলো নিজেদের দেশে এই ই-ওয়েস্ট রিসাইকেল করে না! কেন? কারণ সেখানে এইসবের জন্য কঠোর নিয়মনীতি রয়েছে। যার ফলে এই ই-ওয়েস্ট থেকে বিভিন্ন ধাতব পদার্থ নিষ্কাশন করতে যা খরচা লাগে, তার থেকে নিয়মে বা বেনিয়মে এশিয়া বা আফ্রিকার দেশগুলিতে সেগুলি রপ্তানি করা সোজা, কারণ সেখানে শ্রমিক আইন অত কড়া নয়, শ্রমের দামও কম। যদিও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার জন্য অধিকাংশ কোম্পানিই প্রাকৃতিক খনিজের দিকে তাকিয়ে থাকে। শুধুই উৎপাদন মূল্যের নিরিখে বিচার করলে হবে না, নিষ্কাশিত খনিজ পদার্থ নতুন ইলেকট্রনিক গেজেট তৈরিতে ব্যবহার করতে পারলে ই-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট কিছুটা সহজ হবে, তাতে দাম একটু বেশি পড়তে পারে।

যে কোনও নতুন ইলেকট্রনিক গ্যাজেট কেনা মানেই পরিবেশে ই-ওয়েস্ট বাড়ানো। তাহলে এই আধুনিক যুগে, মানুষ ই-গ্যাজেট ব্যবহার বন্ধ করে দেবে? এটা কোনও সমাধান হতে পারে না। আমাদের সচেতন হতে হবে, সরকার ও প্রশাসনকে ইতিবাচক ভূমিকা নিতে হবে, এই সমস্ত নীতি বাক্য হাজারবার বলেও কোনও লাভ নেই। আগামীতে ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের ব্যবহার কমানোই পথ। প্রয়োজন ছাড়া শুধু চোখের আরামের জন্যে বারবার স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ এসব না বদলানো, টুকটাক খারাপ হয়ে যাওয়া যন্ত্রাংশ বদলে পুনরায় যন্ত্রকে ব্যবহারের চেষ্টা করা, নিত্যান্ত ব্যবহারের অযোগ্য পদার্থগুলোকে এখানে ওখানে না ফেলে অন্তত নিষ্কাশনের সঙ্গে যুক্ত ফেরিওয়ালাদের কাছে ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করা, মানসম্মত গ্যাজেট ব্যবহারের চেষ্টা করাই এর থেকে মুক্তির পথ। সরকারের কাছে দাবি জোরদার করতে হবে যে, শুধু আইন প্রণয়ন করে নয়, তার পর্যাপ্ত বাস্তবায়ন করে ই-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, কারণ আমরা একেবারে চরম সীমারেখার উপরেই দাঁড়িয়ে আছি!

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।

ছয় দশকে কতটা সফল ভারত-নেপাল গান্ডাকচুক্তি?

Gandak dam history: নেপালের হিমবাহ থেকে পাথর ধসের পর জল নেমেছে ত্রিশূলী-কালীগণ্ডক হয়ে বিহারে। বাল্মীকিনগর বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। কিন্তু, ১৯৫৯ সালের গান্ডাক চুক্তি কি সত্যিই নেপাল ভারত দুই দেশের ‘সমন্বিত স্বার্থ’ রক্ষা করল? নেপালের তরাইয়ে জল মেলে না, ক্ষতিপূরণ মেলে না কৃষকদের। ৬০ বছরের পুরনো বাঁধ প্রকল্পকে নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন মহিলারাই, ঝুঁকিতে ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন

Nepal Flash Floods: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন ঝুঁকিতে। বন্যার পর তাঁদের সামনে কী কী স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে? রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নারীদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ জরুরি?