SPADEX মিশন: নতুন বছরে প্রথম মহাকাশ অভিযানে সফল হবে দেশ?

SpaDex Mission: এবারের অভিযানের বিশেষত্বই হচ্ছে এই স্বয়ংক্রিয় ডকিং-আনডকিং মেকানিজম। সেজন্যই প্রায় পৌনে চারশো কোটির এই মিশনের নাম ‘স্পেস ডকিং এক্সপেরিমেন্ট’ বা SpaDeX

Shamim Haque Mondal
৩ মিনিট
SPADEX মিশন: নতুন বছরে প্রথম মহাকাশ অভিযানে সফল হবে দেশ?

কথা ছিল ৭ জানুয়ারি দেশের প্রথম সফল ডকিং পর্যবেক্ষণ করবে উৎসাহী জনতা। চন্দ্রযান বা ইসরোর অন্যান্য সফল অভিযানের পর এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল দেশজুড়ে। কিন্তু যান্ত্রিক কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে ৯ জানুয়ারিতেও ডকিং স্থগিত রাখে ইসরো এবং পরবর্তী সম্ভাব্য দিন ঘোষণা করে ১১ জানুয়ারি। তবে অন্যান্যবারের মতো এবার আর সেই দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না বলেও জানিয়ে দেয়। সদ্য একটি সফল উৎক্ষেপণ দিয়ে বছর শেষ করেছিল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। গত ৩০ ডিসেম্বর PSLV-C60 রকেটে করে SDX01 এ SDX02 নামক দু'টি উপগ্রহকে মহাকাশে পাঠায় তারা। ২২০ কেজি ভরের উপগ্রহ দু'টির নাম যথাক্রমে 'চেজার' ও 'টার্গেট'। সফল উৎক্ষেপণের পর এখন প্রতিক্ষার পালা, কখন তারা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে তথা লোয়ার অর্বিটে মিলিত হবে অর্থাৎ ডক করবে, পরে আনডক করবে সফলভাবে।

এবারের অভিযানের বিশেষত্বই হচ্ছে এই স্বয়ংক্রিয় ডকিং-আনডকিং মেকানিজম। সেজন্যই প্রায় পৌনে চারশো কোটির এই মিশনের নাম ‘স্পেস ডকিং এক্সপেরিমেন্ট’ বা SpaDeX, যার মুখ্য উদ্দেশ্য আগামী দশ বছরের মধ্যে মহাকাশে ভারতের নিজস্ব স্পেস স্টেশন, অন্তরীক্ষ স্টেশন স্থাপন করা। যেখান থেকে ভবিষ্যতে মহাকাশে নজরদারি চালানো যাবে, স্পেসওয়াক করা যাবে, ও এই মাইক্রোগ্র্যাভিটি অবস্থায় গবেষণা চালানো যাবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হচ্ছে না স্পেসএক্সের মহাকাশযানের উৎক্ষেপণ, কীভাবে পৃথিবীতে ফিরবেন সুনীতারা?

Sunita Williams: ফের থমকে গেল স্পেস এক্সের সেই মিশন। ৩০ অগস্ট, শুক্রবারই উৎক্ষেপণের কথা ছিল সেই মহাকাশযানের। তবে শেষ মুহূর্তে এসে পিছিয়ে গেল সেই সফর।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই ডকিং আসলে কী? সোজা কথায়, অত‍্যন্ত দ্রুত গতিতে ভ্রমণকারী দু'টি মহাকাশযানকে নিখুঁতভাবে প্রান্তিককরণে নিয়ে আসা এবং বাহ্যিক কোনও সাহায্য ছাড়াই তাদেরকে সংযুক্ত করা। স্পেস স্টেশন থেকে যন্ত্রপাতি ও মহাকাশচারীদের স্থানান্তর করার জন্য ডকিং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এই মিশনে ইসরোর PSLV-C60 লঞ্চার দু'টি মহাকাশযানকেই ৪৭৫-কিমি পরিধি বিশিষ্ট বৃত্তাকার কক্ষপথে নিরক্ষরেখার সঙ্গে ৫৫ ডিগ্রি কোণে স্থাপন করে। এমনকী উপগ্রহ দু'টির বেগও ছিল আলাদা আলাদা, যাতে কক্ষপথে স্থাপনের একদিনের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে হয় ১৫ থেকে ২০ কিমি।

এক্ষেত্রে প্রপালশন সিস্টেমটি এমনভাবে বানানো হয়েছে যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘টার্গেটের’ বেগ কমতে কমতে ‘চেজারের’ বেগের কাছাকাছি চলে আসবে। কিন্তু মিশনের প্রথম মাইলস্টোনের মধ্যে তাদের মধ্যবর্তী ব‍্যবধান থাকবে ২০ কিমি। তারপর তাদের মধ্যে দূরত্ব কমতে কমতে ৫ কিমি, ১.৫ কিমি, ৫০০ মিটার, ২২৫ মিটার, ১৫ মিটার, ৩ মিটার, তারপর আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, অর্থাৎ ডকিং। আগে ঠিক ছিল ৭ জানুয়ারি সম্পন্ন হবে ডকিং। পরপর দু'দিন ডকিং সফল না হওয়ায় ইসরো তাদের এক্স হ‍্যান্ডেলে জানিয়ে দেয়, মহাকাশযানগুলি ১.৫ কিলোমিটার দূরত্বে হোল্ড মোডে রয়েছে, সকালের মধ্যে আরও ৫০০ মিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এবার আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে যাচ্ছেন ভারতীয় নভোশ্চর! নয়া মাইলফলক ছুঁতে পারবে ISRO?

ISRO-NASA Mission: আপাতত যেদিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ, তা অবশ্যই নাসা ও ইসরোর যৌথ অভিযান Axiom Space AX-4। যেখানে প্রথমবার আন্তর্জাতিক স্পেস সেন্টারে নভোশ্চর পাঠাতে চলেছে ভারত।

স্যাটেলাইট দু'টি আনডকিং-এর মাধ্যমে দূরে চলে যাওয়ার আগে তাদের ভেতরে বৈদ্যুতিক শক্তির আদানপ্রদান হওয়ার কথা। তারপর কার্যক্রম শুরু করবে তাদের সঙ্গে থাকা পেলোড। 'চেজারে’ থাকছে উচ্চমানের বিশ্লেষণী ক্ষমতা সম্পন্ন ক‍্যামেরা, অপরদিকে ‘টার্গেটে’ রয়েছে অপেক্ষাকৃত ছোট বহুবর্ণী পেলোড ও রেডিয়েশন মনিটর। এই যন্ত্রগুলি ভবিষ্যতে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশের অধ্যয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক মূল্যবান তথ্য আমাদের সরবরাহ করবে, যা ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের অগ্রগতির একটি অপরিহার্য উপাদান।

এই PSLV-C60 রকেটের চতুর্থ পর্যায়ে রয়েছে ‘PSLV অর্বিটাল এক্সপেরিমেন্টাল মডিউল’ বা POEM-4, যেটিতে দু'ডজন পেলোড রয়েছে, এদের মধ্যে ১৪টি বানিয়েছে দেশের বিভিন্ন ইসরো সেন্টার, আর বাকি ১০টি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রাইভেট সংস্থা। আনডকিং সম্পন্ন হওয়ার পর স‍্যাটেলাইট দু'টি কাজ করতে শুরু করবে।

মহাকাশে নিজস্ব স্পেস স্টেশন তৈরি করা ছাড়াও এই SPADEX মিশনের অন্যতম লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালের চন্দ্রযান-৪ মিশনে ডকিং-আনডকিং মেকানিজম ব্যবহার করা, যাতে চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে কেজি তিনেকের বেশি নমুনা সংগ্রহ করে আনা যায়। একবার এই ডকিং-আনডকিং ক্ষেত্রে পারদর্শী হয়ে উঠতে পারলে ভারতের মহাকাশ ভবিষ্যত আরও উজ্জ্বল হবে, তখন বিদেশি কোনও স্পেস এজেন্সির সহায়তা ছাড়াই কক্ষপথে থাকা যেকোনও নভোযান থেকে নভোচারীদের আনডক করে অন্য নভোযানে ডক করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। ইসরোর চেয়ারম্যান এস সোমনাথ জানান, তিনি আরও জটিল ডকিং সিস্টেম সহ ভারী মহাকাশযান সম্বলিত SpaDeX মিশনের ব‍্যপারে আশাবাদী, যাতে ভারত স্পেস ভিশন ২০৪৭-এর দিকে ক্রমশ এগিয়ে যাবে। এই মিশন পুরোপুরি সফল হলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চিনের পরে ভারত হবে বিশ্বের চতুর্থ দেশ, যারা এই অটোমেটিক ডকিং সিস্টেমের শিরোপা অর্জন করবে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।