ফের ইডি-র তলব, এবার কোন ঘটনায় বিপাকে মহুয়া?

Mohua Moitra: আগামী ১১ মার্চ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। যতদূর জানা যাচ্ছে, বিদেশি মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের একটি মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চলেছেন ইডি অফিসারেরা।

Sohini Das
৩ মিনিট
ফের ইডি-র তলব, এবার কোন ঘটনায় বিপাকে মহুয়া?

'ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন' মামলায় ইতিমধ্যেই সাংসদ পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন কৃষ্ণনগরের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তবে তার পরেও মিলল না রেহাই। আরও একবার বিপাকের মুখে মহুয়া। ফের বহিষ্কৃত সাংসদকে সমন পাঠাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (ইডি)। আগামী ১১ মার্চ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। যতদূর জানা যাচ্ছে, বিদেশি মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের একটি মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চলেছেন ইডি অফিসারেরা।

ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন মামলায় ফেঁসে সাংসদ পদ হারিয়েছেন মহুয়া, খুব বেশিদিন হয়নি। দুবাইয়ের ব্য়বসায়ী বন্ধু দর্শন হিরনন্দানি থেকে টাকা আদানির বিরুদ্ধে লোকসভায় প্রশ্ন করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেই মামলায় জল গড়িয়েছিল অনেক দূর। সংসদীয় ই-মেল অ্যাকাউন্ট ও পাসওয়ার্ড অপব্যবহারেরও অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। আর এই সবের ফলাফল হিসেবেই গত বছরের ডিসেম্বরে লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত হন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এবার হিরানন্দানির অফিসে ইডি! মহুয়া মৈত্রকেই ঘুরপথে শিক্ষা দিতে চাইছে বিজেপি?

ED raids Hiranandani Group : মহুয়া মৈত্রর ঘটনা কি তবে নতুন করে ফিরতে চলেছে শিরোনামে?

এরই মধ্যে দিন কয়েক আগেই হিরানন্দানি গোষ্ঠীর চারটি কার্যালয়ে অভিযান চালায় ইডি। রিয়েল এস্টেট ডেভলপার হিরানন্দানি গ্রুপের তিনটি মুম্বই অফিস ও একটি পানভেল অফিসে চলে তল্লাশি। জানা গিয়েছিল, ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (FEMA)-এর আওতায় বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে হিরানন্দানি গ্রুপের বিরুদ্ধে। তবে এই প্রথম নয়, ২০২২ সালেও হিরানন্দানি গ্রুপের প্রায় ২৫টি অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল আয়কর দফতর।

হিরানন্দানির অফিসে ইডি-র অভিযানের পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল, এবার কি বিদেশি মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের মামলায় নাম জড়াতে চলেছে মহুয়া মৈত্রেরও। আর হলও ঠিক তেমনটাই। এবার সেই মামলাতেই ইডি ডেকে পাঠাল বহিষ্কৃত সাংসদকে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দিল্লির দফতরে ইডি ডেকে পাঠিয়েছিল মহুয়াকে। যতদূর জানা যায়, বিদেশি মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের মামলাতেই তাঁকে ডেকে পাঠানো হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। সে সময় হাজিরা এড়ান মহুয়া। বরং তিন সপ্তাহের জন্য সময় চেয়েছিলেন তিনি। ইডি সূত্রে খবর, বিদেশি মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে মহুয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। অফিসারদের নজরে বিদেশি মুদ্রার লেনদেনের কয়েকটি ঘটনা রয়েছে।'

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বহিষ্কার হওয়ার পরেও কেন সরকারি বাংলো ছাড়ছেন না মহুয়া মৈত্র?

Mahua Moitra Bungalow : গত ৮ জানুয়ারি ডিওই কেন মহুয়া তাঁর সরকারি বাংলো খালি করেননি সেই সম্পর্কে তিন দিনের মধ্যে জবাব চেয়ে একটি নোটিশ জারি করেন।

'ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন' কাণ্ডে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট হেনস্থার মুখে পড়েছেন মহুয়া। সেই মামলার তদন্তভার রয়েছে সিবিআইয়ের হাতে। প্রাথমিক তদন্ত অবশ্য করেছিল সংসদীয় কমিটিই। তাদের তদন্ত-রিপোর্টের ভিত্তিতেই পদ খোয়াতে হয়েছিল মহুয়াকে। কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদের বহিষ্কারের সুপারিশ এসেছিল লোকসভার এথিক্স কমিটির কাছ থেকেই। তারা মহুয়ার বিরুদ্ধে ৪৯৫ পৃষ্ঠার রিপোর্ট জমা দেয়। তৃণমূল ও কংগ্রেস সেই রিপোর্ট পড়ে দেখার সময় চাইলেও তা দেননি স্পিকার। রাতারাতি বহিষ্কার করা হয় মহুয়াকে।

এখানেই শেষ নয়। ঘরে-বাইরে সব জায়গাতেই যেন ধাক্কা খাচ্ছেন মহুয়া। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে এবং আইনজীবী জয় দেহাদ্রাই, যাঁরা প্রথম মহুয়ার বিরুদ্ধে 'ঘুষ নিয়ে প্রশ্ন' করার মামলা দায়ের করেন, তাঁরা যাতে মহুয়ার বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও 'ভুয়ো ও মানহানিকর' বিষয়বস্তু পোস্ট বা প্রচার না করেন, তা নিশ্চিত করতে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন মহুয়া। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায় দিল্লির উচ্চ আদালতে।

তার মধ্যেই ফের ইডি-র সমন এসে পৌঁছলো মহুয়ার হাতে। লোকসভা ভোটের আগে আগে বিজেপির হাতে নয়া অস্ত্র তুলে দেবে না তো মহুয়ার নয়া মামলা। এমনিতেই নানা দিক থেকে চাপে তৃণমূল সরকার। সন্দেশখালি থেকে শুরু করে ভোটের আগে এক এক করে প্রভাবশালী নেতা, মন্ত্রীর পদত্যাগ থেকে দলত্যাগ, সে সময় মহুয়া মৈত্রকে নতুন মামলায় নতুন করে ইডি-র ডাক কতটা বিপাকে ফেলবে তৃণমূল নেতৃত্বকে? সেই উত্তরটা অবশ্য মিলবে ১১ মার্চের পরেই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।