টাইটানিকের মধ্যে 'ডেস্টিনেশন ওয়েডিং'! ভাঙা জাহাজকে ঘিরে যেভাবে চলে বিপুল ব্যবসা...

Marriage on Titanic Deck: জলের তলায় টাইটানিকে গিয়ে বিয়ে সম্ভব, একথা ২০০১ অবধি কেউ ভাবেননি!

inscript
২ মিনিট
টাইটানিকের মধ্যে 'ডেস্টিনেশন ওয়েডিং'! ভাঙা জাহাজকে ঘিরে যেভাবে চলে বিপুল ব্যবসা...

টাইটান ডুবে যাওয়ার ঘটনা টাইটানিকের নস্টালজিয়াকে ঝাঁকুনি দিয়ে জাগিয়ে তুলেছে ফের। টাইটানিকের প্রাচীন আভিজাত্যের পাশাপাশি উঠে এসেছে নব্য টাইটানের বিপুল খরচের খতিয়ানও। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মানুষ হাঁ হয়ে গিয়েছে টাইটানে চেপে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শনের হাল হকিকত জেনে। পরিদর্শন বা অনুসন্ধান বললে কিঞ্চিৎ ভুল হবে। এ এক এমন অ্যাডভেঞ্চার, যার সামর্থ রয়েছে কেবল ধনকুবেরদেরই!

সমুদ্রে কেবল টাইটানিকই ডুবেছিল এমন নয়। ফলে সমুদ্রের অতলে এমন বহু বহু জাহাজের ধ্বংসাবশেষই মেলে। তবে সামরিক জাহাজ, যেগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাগরে ডুবে গেছে সেখানে যাওয়া অভিযাত্রী, পর্যটক এবং সাধারণ মানুষদের নাগালে নেই। রয়েছে বিবিধ নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু আন্তর্জাতিক জলসীমায় শুয়ে থাকা টাইটানিক জাতিসংঘের শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা UNESCO দ্বারা সুরক্ষিত। টাইটানিককে আজও ছুঁয়ে দেখা যায় পকেটে ভালোমতো কানাকড়ি রইলেই। টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণ এবং ধ্বংসাবশেষ লুঠ হয়ে যাওয়া প্রতিরোধের লক্ষ্যে পরবর্তীতে ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিও করেছে।

ফলে, সাধারণ মানুষ এখনও টাইটানিকের সন্ধানে মহাসাগরের গর্ভে ডুব দেওয়ার অনুমতি পান এবং যদি ব্যবস্থা করা যায় তাহলে শতবর্ষ প্রাচীন নিমজ্জিত টাইটানিকের ভেতরে ঢোকার অনুমতিও পেতে পারেন। তবে জিনিসপত্র নিজের মনে করে বাড়ি নিয়ে আসতে পারবেন না। শুধুমাত্র একটি সংস্থা- আরএমএস টাইটানিক ইনকর্পোরেটেডকে (RMS Titanic, Inc) আইনত ধ্বংসাবশেষ থেকে জিনিস উদ্ধার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দৈব না দুর্বিপাক! টাইটানিকের অতল রহস্যে হারাল টাইটানও

Titan submersible: টাইটানিকের রহস্যভেদ করতে পাঁচ যাত্রীকে নিয়ে অতল সমুদ্রে রওনা হয়েছিল সাবমার্সিবেল টাইটান। কিন্তু শেষপর্যন্ত ফেরা হল না তার।

সুতরাং চাইলে যাওয়াই যায়। শুধু যাওয়া যায় না, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং-ও সম্ভব! এর আগে বেশ কিছু পর্যটক টাইটানিকে ঘুরতে গিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে একজন দম্পতি টাইটানিক জাহাজের ডেকে বিয়েও করেন। নিউইয়র্কের ডেভিড লেইবোভিটজ এবং কিম্বারলে মিলার, ডাইভিং কোম্পানি সাবসি এক্সপ্লোরারের একটি প্রতিযোগিতায় জিতে ২০০১ সালে টাইটানিকের ডেকে চড়ে বিয়ে সেরে ফেলেন। সমুদ্রের তলদেশে ৪ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এই অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটিয়েছিলেন তারা।

রাশিয়ান গবেষণা জাহাজ আকাদেমিক কেলডিশে চড়ে নীচে নেমে তারা বিয়ে করেছিলেন। ওয়েডিং গাউন বা স্যুট পরা তো সম্ভব ছিল না। স্থানের সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে দম্পতি বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন জলের তলার বিশেষ পোশাক পরেছিলেন। টাকা থাকলে ভূতের বাবার শ্রাদ্ধ সম্ভব একথা বিশ্ব জানে, জলের তলায় টাইটানিকে গিয়ে বিয়ে সম্ভব, একথা ২০০১ অবধি কেউ ভাবেননি! স্বাভাবিকভাবেই এই প্রতিযোগিতা এবং বিয়ে নিয়ে বিবধ বিতর্ক দেখা দেয়। টাইটানিকের ইতিহাসবিদ ব্রায়ান টাইসহার্স্ট বলেই ফেলেছিলেন, টাইটানিকের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে নষ্ট করে এই দম্পতি বহু বহু মানুষকে অপমান করেছেন। তাতে অবশ্য কর্ণপাতও করেননি বর কনে! উল্টে লেইবোভিটজ সেই সময়ে বলেছিলেন, টাইটানিককে কবরস্থান হিসাবে দেখেন না তারা।

ওশানগেটের টাইটান সাবমার্সিবলের বিস্ফোরণের পরে টাইটানিক যাত্রীদের উত্তরসূরিরা কিন্তু প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের সকলের কাছেই টাইটানিক তাঁদের পূর্বজদের সমাধিস্থল। এই সমাধিক্ষেত্র পরিদর্শন বন্ধ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন সকলেই।

ব্রেট গ্ল্যাডস্টোনের প্রপিতামহ টাইটানিক বিপর্যয়ে মারা গিয়েছিলেন ১৯১২ সালে। তিনি ইনসাইড এডিশনকে জানিয়েছেন, এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে যেখানে সেই জাহাজের শোষণ নিয়ে চিরকালই অস্বস্তিতে ছিলেন তিনি। তাঁর ঠাকুমা দিদার মৃতদেহ কখনও পাওয়াই যায়নি, সমস্তই তলিয়ে গিয়েছিল। এই সকল মানুষের 'আত্মা' টাইটানিকের কবরস্থানে আছে বলেই বিশ্বাস তাঁর। শুধু তাঁর না, তাঁর মতো স্বজন হারানো অনেকেরই। তাই টাইটানিককে এমন 'বারোয়ারি' করে দেওয়া যায় কিনা, সেই প্রশ্ন এতকাল পর ফের চাগাড় দিয়েছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।