আগ্নেয়গিরি থেকে উড়ছে মুঠো মুঠো সোনা! যে আশ্চর্য ঘটনা তাক লাগিয়েছে বিজ্ঞানীদের

Volcano In Antarctica: আগ্নেয়গিরি লাভা উদগীরণ করে শোনা যায়, তাই বলে সোনা! কিন্তু ঘটছে ঠিক এমনটাই। আন্টার্কটিকা ১৩৮টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মধ্যে অন্যতম মাউন্ট ইরেবাস থেকে বেরিয়ে আসছে প্রতিদিন রাশি রাশি সোনার গুঁড়ো।

Sohini Das
৩ মিনিট
আগ্নেয়গিরি থেকে উড়ছে মুঠো মুঠো সোনা! যে আশ্চর্য ঘটনা তাক লাগিয়েছে বিজ্ঞানীদের

হাওয়ায় উড়ছে সোনা। তবে এ সোনা 'সোনার পাথরবাটি', 'সোনার ছেলে' বা 'সোনার বাংলা'-র মতো নয় মোটেও। এ সোনা আসল সোনা। বাজারে যার গায়ে হাত দিতেই ছ্যাঁকা লাগে আমজনতার। আপাতত বাজারে ১ গ্রাম সোনার দাম চলছে আট হাজার টাকার আশেপাশে। আর সেই বহুমূল্য সোনাই এবার উড়ছে হাওয়ায়। আন্টার্কটিকার কাছে মাউন্ট ইরেবাস নামে একটি আগ্নেয়গিরি নাকি এবার তেমনই সোনা নির্গমন করছে।

বিশ্বাস হচ্ছে না তো! আগ্নেয়গিরি লাভা উদগীরণ করে শোনা যায়, তাই বলে সোনা! কিন্তু ঘটছে ঠিক এমনটাই। আন্টার্কটিকা ১৩৮টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মধ্যে অন্যতম মাউন্ট ইরেবাস। সম্প্রতি ন্যাশনাল এরোনটিকস অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আর্থ অবজারভেটরির তরফে সম্প্রতি জানানো হয়েছে এই তথ্য। ১২,৪৪৮ ফুট উঁচু মাউন্ট ইরেবাস থেকে প্রায় ৬২১ মাইল দূরে জমছে ওই সোনার গুঁড়ো। নাসা আর্থ অবজারভেটরির তরফে জানানো হয়েছে, আরও নানা ধরনের ধাতু ও পদার্থ বেরিয়ে আসে ওই আগ্নেয়গিরির লাভামুখ থেকে। সোনাও তার মধ্যে একটি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সোনা-রুপোর সঙ্গে জোর টক্কর! কীভাবে ভারতীয় বাজারে এত জনপ্রিয় হয়ে উঠল অক্সিডাইস?

Trendy aluminium jewellery : একে সাশ্রয়ী, তায় আবার পরিবেশ-বান্ধব, কীভাবে ভারতীয় বাজারে জনপ্রিয় হয়ে উঠল অ্যালুমিনিয়াম গহনা

প্রতিদিন যে পরিমাণ সোনা উদগীরণ করছে আগ্নেয়গিরিটি, তার পরিমাণ ৮০ গ্রামের কাছাকাছি তো হবেই। বাজারে যার দাম কম করে হলেও ৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি তো হবেই। যা মাসের হিসেব করলে দাঁড়ায় প্রায় দেড় কোটি টাকার সোনা। মার্কিন স্পেস এজেন্সি নাসা জানাচ্ছে, আগ্নেয়গিরিটি আসলে ভূত্বকের একটি পাতলা স্লাইসের উপরে রয়েছে। যার ফলে গলিত শিলার পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে আরও সহজে উপরে উঠে আসতে পারে। যা গ্যাস ও বাষ্পের মাধ্যমে বাতাসে নির্গত করে দিচ্ছে মাউন্ট ইরেবাস। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মাঝেমধ্যে নাকি স্ট্রোম্বোলিয়ান অগ্নুৎপাতও দেখা যায় মাউন্ট ইরেবাসে। তখন আশপাশে ছিটতে ছিটকে পড়ে বোমার মতো পাথর। যা প্রায় কয়েকশো মিটার পর্যন্ত ছিট়কে যায়।

১৯৭২ সাল থেকে মাউন্ট ইরেবাসের ক্যালডেরা বা বিরাটাকৃতির জ্বালামুখের মধ্যে তৈরি হয়েছে একটি লাভা-হ্রদ। পৃথিবার দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি বলে মনে করা হয় মাউন্ট ইরেবাসকে। নিউইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট দফতরের তরফে জানা গিয়েছে, শুধু আগ্নেয়গিরি হিসেবেই নয়, ওই লাভা-হ্রদটিও নাকি বিশেষ বিখ্যাত। আন্টার্কটিকার আবহাওয়া চরম ভাবাপন্ন। ওই ভয়ঙ্কর ঠান্ডাতেও কখনও হিমায়িত হয় না বা জমে যায় না। সবসময়েই গলিত লাভা জমে থাকে ওই হ্রদের উপরিতলে। যা বেশ বিরল বলেই মত বিজ্ঞানীদের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে আশ্চর্য 'সোনালি ডিম'! যেসব সামুদ্রিক রহস্যের কুলকিনারা পায়নি বিজ্ঞান

Pacific Ocean Mystery: সমুদ্র আসলে এক আশ্চর্য। বিশ্বের সমগ্র সমুদ্রের মাত্র ৫ শতাংশ জয় করতে পেরেছে মানুষ। বাকি ৯৫ শতাংশই অজানা, অচেনা। এই যে বিপুল ব্যাপক সমুদ্র, তার কিছুই জানা হয়নি মানুষের। তার অনেক কিছুই আজও অনাবিস্কৃত।

এদিকে এই ইরেবাস আগ্নেয়গিরি নিয়ে গবেষণা চালানোও বেশ কঠিন। আন্টার্কটিকার আবহাওয়া এতটাই চরম, যে বিজ্ঞানীরা ওই আবহাওয়ায় একটানা গবেষণা চালাতে পারেন না। ডিসেপশন অ্যাইল্যান্ড আন্টার্কটিক বলে একটি একটি এলাকাই ওই দ্বীপ ও আগ্নেয়গিরির উপর নজর রাখে। মজার ব্যাপার এই ডিসেপশন আইল্যান্ড নিজেও কিন্তু একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির ক্যালডেরা, যেখানে ১৯৭০ সালে শেষবার অগ্নুৎপাত হয়েছিল। এই আগ্নেয়গিরির উপর নজর রাখার জন্য হাতে গোনা কয়েকটি যন্ত্র মোচায়েন করা রয়েছে। যেখান থেকে পাওয়া ডেটা অনুসারেই সামান্য গবেষণা করা গিয়েছে এই মাউন্ট ইরেবাস আগ্নেয়গিরি নিয়ে।

সেই মাউন্ট ইরিবাসই নাকি ধোঁয়ার মধ্যে দিয়ে সোনা নির্গত করে প্রায় প্রতিদিন। এই সোনার ধুলো ছড়িয়ে পড়ে মাউন্ট ইরেবাস থেকে এক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বাতাসে। এখানকার বাতাস পরীক্ষা করে সোনার সন্ধান মিলেছে বলে জানান বিজ্ঞানীরা। শুধু ভারতেই নয়, ভারতের মতো বহু দেশেই সোনা সৌভাগ্যের প্রতীক। তাছাড়া পৃথিবীর অন্যতম মূল্যবান এই ধাতুটির কদরই আলাদা। প্রায় প্রতিদিনই গহনার সোনার দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। অথচ অ্যান্টার্কটিকার এই সক্রিয় আগ্নেয়গিরি প্রতিদিন বাতাসে হেলায় উড়িয়ে দিচ্ছে মুঠো মুঠো সোনা। সেই সব সোনা সংগ্রহ করে ফুলে ফেঁপে উঠবে কোনও দেশ, তেমন সম্ভাবনা নেই। সারা বছর বরফে আচ্ছাদিত এই মাউন্ট ইরেবাস আগ্নেয়গিরির নাগাল পাওয়া মুখের কথা নয় মোটেও। পৃথিবীর এক অন্যতম আশ্চর্য হয়েই প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকার সোনা বাতাসে উড়িয়ে দিচ্ছে মাউন্ট ইরেবাস।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।