উত্তরপ্রদেশের জয় বিজেপিকে '২৪ দিল্লি বিজয়ের দিকে এগিয়ে দিল?

Aritra Dasgupta
৩ মিনিট
উত্তরপ্রদেশের জয় বিজেপিকে '২৪ দিল্লি বিজয়ের দিকে এগিয়ে দিল?

উত্তরপ্রদেশ যার দিল্লি তাঁর এই কথা যেন ভারতীয় রাজনীতিতে ক্রমেই ধ্রুবক হয়ে উঠছে। অতীত ইতিহাসের দিকে চোখ ফেরালে এই বিষয় আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু, লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ,চরন সিংহ থেকে ভারতীর রাজনীতির বর্ণময় চরিত্র ইন্দিরা গান্ধী সকলেই উত্তরপ্রদেশ থেকে লড়েই দিল্লির সিংহাসনে বসেছেন। এই তালিকা কিন্তু এখানেই শেষ নয়। বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং, অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং বর্তমান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদার দাস মোদী প্রত্যেকেই লোকসভা ভোটে লড়েছেন উত্তরপ্রদেশ থেকেই। পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট কীভাবে নয়াদিল্লির রাজনীতির নির্ধারক শক্তি হয়ে উঠেছে উত্তরপ্রদেশ।

২০২২ এর উত্তরপ্রদেশ বিজয় যেন ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিজেপিকে দিল্লির মসনদের দিকে খানিক এগিয়ে দিল। উত্তরপ্রদেশে জয় নিশ্চিত হতেই সংবাদমাধ্যমে এই কথা স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। এই প্রসঙ্গে মোদীর স্পষ্ট বক্তব্য ‘২০১৯ সালে লোকসভা জিতে আসার পরে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছিলেন ২০১৭ এর উত্তরপ্রদেশ বিজয় আপনার লোকসভা জয়ের রাস্তা পরিষ্কার করে দিয়েছে। আশা করবো সেই বিশ্লেষকরা এই ক্ষেত্রে ও বলবেন ২০২২ এর উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে বিজেপির জয় ২০২৪ এর লোকসভা ভোটে আবার বিজেপির জয়কেই নিশ্চিত করবে’।

এমনকি ভারতের সর্বাধিক বৃহৎ রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতা পাওয়ার পরই দলীয় কার্যালয়ে ২০২৪ এর লোকসভা ভোটের রোডম্যাপ ও বাতলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কেবল উত্তরপ্রদেশ নয়, পাশাপাশি উত্তরাখণ্ড, মণিপুর, গোয়া মিলিয়ে মোট চারটি রাজ্যেই জয়ী হয়েছে বিজেপি যা নিঃসন্দেহে লোকসভা ভোটের আগে বিজেপিকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে। আবার উত্তরপ্রদেশে বিজেপির পরপর দুবার ক্ষমতা লাভ সহজেই বুঝিয়ে দেয় হাথরসের ধর্ষণ বা লখিমপুর বিতর্ক সবকিছুকে ভুলে মানুষ বিজেপিকেই বেছে নিয়েছে।

২০১৪ সালে কেন্দ্রে প্রথম ক্ষমতায় আসার পর থেকেই উত্তরপ্রদেশে বিজেপির ভোট ব্যাঙ্ক বরাবরই অটুট থেকেছে। উত্তরপ্রদেশের লোকসভা আসন দেশের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি এবং উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে জাতধর্মের ভূমিকা কোনও পোড়খাওয়া রাজনীতিকই অস্বীকার করবেন না। তাই উত্তরপ্রদেশে হিন্দু ভোটারদের মন ধরে রাখা বিজেপির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২০২২ এর উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট প্রমাণ করে উচ্চবর্ণ হিন্দু তো বটেই, নিম্নবর্ণ দলিত, জাতভ এমনকি মুসলিম ভোট ও প্রচুর মাত্রায় বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে। আবার বিজেপির এই ভোট প্রাপ্তি স্পষ্ট করে দেয় উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে বাকি দুটি দল সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজবাদী পার্টি বহুক্ষেত্রেই তাদের কমিটেড ভোটার ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এম্নকী বহুজন সমাজবাদী পার্টির বেশিরভাগ জাতভ সম্প্রদায়ের ভোটার ও এবার বিজেপিকেই ভোট দিয়েছে। এর থেকেই স্পষ্ট বিরোধীদের প্রতি উত্তরপ্রদেশের ভোটার বিশ্বাস করেনি। মুখ্যমন্ত্রী যোগীর প্রতি হাজার অভিযোগ সত্ত্বেও তাঁদের আস্থা অটুট।

আবার উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের সর্ববৃহৎ অংশ হল লাভারথি সম্প্রদায়। এরা ও নিজেদের জাতিগত বিশ্বাসের জায়গা থেকে বিজেপিকেই ক্ষমতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ভোট দিয়েছে। ২০২২ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছে ৪১.২৯ শতাংশ ভোট। ২০১৭ এর নির্বাচনের থেকে খানিক হলেও বেড়েছে ভোট। প্রশ্ন হচ্ছে, এই অতিরিক্ত ভোট কীভাবে বিজেপির খাতায় এল? কংগ্রেস এবং বহুজন সমাজবাদী পার্টির বহু ভোটই তলায় তলায় বিজেপির কাছে গিয়েছে। বিএসপির যে মূল ভোটব্যাঙ্ক জাতভ গোষ্ঠী তারাও এবার বিভিন্ন কারণে বিজেপিকেই ভোট দিয়েছে। কারণ এদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই হিন্দুত্ববাদের যে কমন অ্যাজেন্ডা তা মিলে গিয়েছে।

এর পাশাপাশি ২০২৪ এ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির এগিয়ে থাকার অন্যতম কারণ এতদিনের প্রধান প্রতিপক্ষ কংগ্রেসের ধীরে ধীরে রাজনৈতিক জমি হারিয়ে ফেলা। শেষ দুটো লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের যে পরিসংখ্যান তা বিজেপির সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে পাল্লা দেওয়ার ক্ষেত্রে খুবই হতাশাজনক। তাছাড়া ও এই যে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভার ফলাফল তাতে ও প্রমাণিত কংগ্রেস নিজেদের রাজনৈতিক জমি হারিয়ে ফেলেছে। পাঞ্জাবের কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্ধ যে সাধারণ ভোটার গ্রহণ করেনি তা তাঁদের শোচনীয় হারেই স্পষ্ট। অন্যদিকে কংগ্রেসের মধ্যে নিজেদের জায়গা পুনরুদ্ধারের জন্য যে শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রয়োজন তাও বহুদিন থেকেই দিশা হারিয়েছে। আবার বিভিন্ন রাজ্যের আঞ্চলিক দলগুলিকে নিয়ে তৈরি যে নতুন ফ্রন্ট বিজেপির বিরুদ্ধে লোকসভা নির্বাচনে লড়বে বলে ভাবা হচ্ছে তাঁরাও কতটা সফল হবেন তা নিয়ে ও সংশয় থেকে যায়। সব মিলিয়ে বলাই যায় উত্তরপ্রদেশের বিপুল জয়লাভ বিজেপিকে দিল্লির সিংহাসন দখলের লড়াইয়ে একধাপ এগিয়ে দিল।

লিখেছেন
Aritra Dasgupta
Aritra Dasgupta
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

বরফের গভীরে নিউট্রিনোর খোঁজ: মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে এবারের পদার্থবিদ্যায় নোবেল

IceCube Neutrino Observatory: অ্যান্টার্কটিকার বরফের গভীরে কীভাবে কাজ করে আইসকিউব টেলিস্কোপ? কীভাবে অদৃশ্য নিউট্রিনো কণার সংকেত ধরে কৃষ্ণগহ্বর, ব্ল্যাজার এবং মহাবিশ্বের গভীর রহস্য উন্মোচন করছেন বিজ্ঞানীরা?

ইন্ডিয়া জোটের মিছিলে বাধা, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হলো রিট

INDIA bloc's march towards supreme court: সোমবার কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে ইন্ডিয়া ব্লকের ‘চলো দিল্লি’ মিছিল অনুষ্ঠিত হলো। রাহুল গান্ধীর দুই পাশে ছিলেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও নেহা বোরা। মিছিলে অংশ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, ডি রাজা, সুপ্রিয়া সুলে। ভগবান দাস রোডে মিছিল পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টে ‘রাহুল গান্ধী বনাম নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া’ নামে একটি রিট পিটিশন দাখিল হয়।

ব্যারিকেড ঘেরা দিল্লি, নজরদারির চোখে নাগরিক: নিরাপত্তা নাকি নিয়ন্ত্রণ?

Delhi Under Siege: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লি কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। ৩৫ হাজার পুলিশ, কাঁটাতারের ব্যারিকেড, ড্রোন নজরদারি, ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, ২৪ ঘণ্টার ইন্টারনেট শাটডাউন, ৭ হাজারের বেশি আটক। ওমর আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতির অভিযোগ তুলেছেন, দিল্লিতে 'কাশ্মীর মডেল'-এর প্রয়োগ চলছে।

প্রতিবাদের মানচিত্র থেকে মুছে গেল যন্তর মন্তর

Jantar Mantar protest site: আঠারো শতকে নির্মিত যন্তর মন্তর মূলত একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণকেন্দ্র। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহাসিক এই স্থাপনার পাশের রাস্তা হয়ে ওঠে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা প্রতিবাদীদের মিলনস্থল।

‘দুই নেহা’-র কাণ্ডে বিভ্রান্ত দিল্লি পুলিশ! AISA নেত্রী-কে আটকানো যাচ্ছে না কোনোভাবেই

AISA-র সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরাকে আটক করতে গিয়ে তাঁরই মতো দেখতে এক মেয়েকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। অথচ সেই সময় আসল নেহা বোরা দিল্লির কনট প্লেসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যারিকেড পেরিয়ে সামনের দিকে এগোচ্ছিলেন।