জ্বলছে আগুন, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে টানা বিক্ষোভ, ইজরায়েলের অবস্থা কতটা ভয়ংকর?

Israel Political Crisis Netanyahu : সবকিছুর মূলে রয়েছে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর বিতর্কিত বিচার বিভাগ সংস্কারের সিদ্ধান্ত।

inscript
৩ মিনিট
জ্বলছে আগুন, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে টানা বিক্ষোভ, ইজরায়েলের অবস্থা কতটা ভয়ংকর?

রাস্তায় রাস্তায় নেমে পড়েছে জনতা। দেশের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে দিনরাত প্রতিবাদ করছেন। সরকারের বিরুদ্ধে চলছে এই বিক্ষোভ। একটু একটু করে সেই ছবিটা ভয়ংকর আকার নিচ্ছে। আগুন জ্বলছে, খোদ প্রধানমন্ত্রীর ছবি পোড়ানো হচ্ছে। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ছড়িয়ে পড়ছে সেই বিক্ষোভের আগুন। সেইসঙ্গে চলছে সমানে লাঠিচার্জ, গ্রেফতার, জলকামান ছোঁড়া। বিগত বেশ কয়েকদিন ধরে ইজরায়েলের পরিস্থিতিটা এরকমই। বলা ভালো, এই সামান্য কয়েকটা শব্দের থেকেও ভয়ংকর। খোদ সরকারের বিরুদ্ধে এই বিপুল প্রতিবাদ প্রায় গৃহযুদ্ধের চেহারা নিয়েছে। সবার মুখে একটাই কথা, ইজরায়েল প্রশাসন মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নিতে চায়। গণতন্ত্রকে মাটিতে মিশিয়ে দিতে চায়। তাই আওয়াজ তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই চলছে এমন পরিস্থিতি। প্রতিবাদ, বিক্ষোভের এই ঢেউ বাড়তে বাড়তে এখন ধর্মঘটের পর্যায় চলে গিয়েছে। অচল হয়ে গিয়েছে বিমানবন্দর, সমুদ্র বন্দরগুলি। এদিকে এই বিক্ষোভে ছাত্ররা তো বটেই, শিক্ষক, ডাক্তাররাও যোগ দিয়েছেন। যোগ দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের বেশকিছু কর্তা। সবার মুখে একটাই মন্ত্র, ইজরায়েলের গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হবে। অরাজকতার হাত থেকে মুক্ত করতে হবে। দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, ব্যবসা, ব্যাঙ্ক সমস্ত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় সবকিছু। আর এই সবকিছুর মূলে রয়েছে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর বিতর্কিত বিচার বিভাগ সংস্কারের সিদ্ধান্ত।

ইজরায়েল এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে নেতানিয়াহু কোনও নতুন নাম নয়। এর আগেও টানা ১২ বছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। সম্প্রতি নির্বাচনে জয়ী হয়ে ফের একবার সরকার গঠন করেছেন তিনি। তবে এবারের এই প্রশাসন আর মন্ত্রীদের নিয়েই যত বিপত্তি। বলা হচ্ছে, এই সরকার অত্যন্ত গোঁড়া এবং উগ্র জাতীয়তাবাদ প্রচার করছে। ইহুদিরাই তাদের কাছে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। তবে সবকিছু ছাড়িয়ে সামনে এসেছে বিচার বিভাগ সংস্কারের প্রস্তাবনা। সেখানে নেতানিয়াহু সরকার বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেমন –

১) ইজরায়েলের বিচারক নিয়োগকারী কমিটি আগে স্বাধীনভাবে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারত। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, তাদের ওপর নেতানিয়াহু সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। কাকে নিয়োগ করা হচ্ছে, কী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে সমস্ত কিছুর ওপর সরকারের নজরদারি থাকবে।

২) সংস্কারের ফলে আদালতের ক্ষমতা অনেকটা কমে যাবে। তার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও বেশি করে হবে। যে আইন অসাংবিধানিক বলে খারিজ করা হয়েছিল, সেগুলো পাস করতে তাহলে কোনও সমস্যা হবে না।

৩) ইজরায়েলের সংসদ বা পার্লামেন্টের ক্ষমতা এমনভাবে বাড়ানো হয়েছে, যাতে সবাই একজোট হয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তও নাকচ করতে পারেন। সেই সিদ্ধান্ত একেবারে ওলটপালটও করে দিতে পারবেন।

৪) প্রধানমন্ত্রী সহ ইজরায়েলের কোনও নেতা বা মন্ত্রী যদি কোনও কাজে অপরাধী হন, কিংবা দায়িত্ব পালন করতে অপারগ হন, তাহলেও তাঁকে তাঁর পদ থেকে সরানো যাবে না। আগে আদালতে গেলে তদন্ত করার পর সেই কাজটি বিচারক করতে পারতেন। এখন সেই নিয়মও আগের থেকে অনেকটাই কঠিন করা হচ্ছে। এক বাক্যে বলতে গেলে, আদালত, বিচার ব্যবস্থার ওপর সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

ঠিক এই জায়গা থেকেই বিক্ষোভের শুরু। কারণ, খোদ প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নামে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে তা নিয়ে তদন্তও চলছে। ইজরায়েলের একটা বড় অংশের মানুষের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতি ঢাকার জন্য, আর অন্যদের দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করার জন্যই এই ব্যবস্থা। আদালত, বিচার ব্যবস্থাকে গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ মানা হয়। সেখানেই সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকলে সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন?

এরইমধ্যে ইজরায়েলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োভ গালান্ট প্রধানমন্ত্রীকে এই সংস্কারের পরিকল্পনা পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তার ফল? ইয়োভকে মন্ত্রিত্ব থেকে তাড়াতাড়ি সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই বিক্ষোভ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কারও কারও মতে, বিগত কয়েক দশকের সবচেয়ে ভয়ংকর রাজনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে ইজরায়েল। যেখানে গণতন্ত্র রক্ষাই মূল জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিটলারি শাসন থেকে ইজরায়েলকে বেরিয়ে আসতে হবে, এই মন্ত্রই শোনাচ্ছেন সেই দেশের বাসিন্দারা।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিক্ষোভ, প্রতিবাদ আর ধর্মঘটের জেরে অচলাবস্থা গোটা ইজরায়েল জুড়ে। সেই দেশের অর্থনীতিও সংকটের মুখে। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, আপাতত এই পরিকল্পনা কিছুদিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হল। পার্লামেন্টের পরবর্তী অধিবেশনে এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তাঁর বক্তব্য, এরকম গৃহযুদ্ধ চায় না ইজরায়েল। যাতে তাড়াতাড়ি এই প্রতিবাদ, বিক্ষোভ বন্ধ হয়, অচলাবস্থা কেটে যায়, তারই প্রার্থনা করেছেন নেতানিয়াহু। কিন্তু এই কথায় আদৌ কি চিঁড়ে ভিজবে? সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।