বিশ্বের 'অশ্লীলতম' উৎসব! জাপানের এই পুরুষাঙ্গের মিছিল কেন এত জনপ্রিয়?

Japan Phallus Festival: কানামারা মাতসুরির শোভাযাত্রায় মূলত তিনটি মিকোশি বা বিশাল পুরুষাঙ্গ থাকে।

Madhurima Dutta
৩ মিনিট
বিশ্বের 'অশ্লীলতম' উৎসব! জাপানের এই পুরুষাঙ্গের মিছিল কেন এত জনপ্রিয়?

ভদ্রতা ও নম্র আচার-ব্যবহারে যদি কোনও দেশের সুনাম থাকে, তা নির্দ্বিধায় জাপান। জাপানিরা নম্র, কখনও কোথাও দেরি করে না এবং ভীষণ ভব্য আচরণে অভ্যস্ত। জাপানিদের জীবনযাপন যে কারণে বহু মানুষের অনুকরণীয়। তবে এই নরম, ভদ্র মানুষদের একটি উৎসবে গেলে খানিক ধাক্কা লাগতে পারে ভাবাবেগে! টোকিওর ঠিক দক্ষিণে কাওয়াসাকিতে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় এমন এক ধর্মীয় উত্সব যা জাপানিদের সম্বন্ধে সেই চিরাচরিত ধারণা খানিকটা বদলাতেও পারে, জাগাতে পারে বিশেষ আগ্রহও। কানামারা মাতসুরি বা 'স্টিল ফ্যালাস উৎসব’ হচ্ছে পুরুষাঙ্গের উৎসব!

এপ্রিলের প্রথম রবিবার কাওয়াসাকি জুড়ে সর্বত্র চোখে পড়বে নানা রঙ এবং আকারের পুরুষাঙ্গ। বিশাল এক মিছিল ঘুরে বেড়ায় শহরের রাস্তায়, আর সেই মিছিলের মূল আকর্ষণ বিশাল লিঙ্গ মিকোশি বা উপাসনালয়ের রেপ্লিকা। প্রতিটি মিকোশি বয়ে নিয়ে যান সাজগোজ করা মানুষ। কিছু কিছু পুরুষ আবার ফান্ডোশি মানে লয়েনক্লথের অন্তর্বাস পরেই শোভাযাত্রায় বেরিয়ে পড়েন। কানামারা মাতসুরি বহিরাগতদের কাছে 'অদ্ভুত' বা 'অশ্লীল' হলেও আসলে জাপানের মানুষদের কাছে এ এক গুরুতর ধর্মীয় উৎসব, যা জাপানের প্রকৃতি-উপাসনাকারী শিন্তো ধর্মের সঙ্গে যুক্ত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দেওয়ালে, দরজায় সর্বত্র আঁকা পুরুষাঙ্গ! ভুটানের এই রহস্যময় রীতির আসল কারণ কী?

Bhutan Phallus Painting: ভুটানে গৃহপ্রবেশের সময়, পুরুষাঙ্গের চিহ্নগুলি ছাদের চারটি কোণে এবং একটি বাড়ির ভিতরে স্থাপন করা হয়।

কথিত আছে, এই পুরুষাঙ্গের উৎসবের জন্ম এডো যুগে। স্থানীয় কিংবদন্তি অনুযায়ী, একটি রাক্ষস এক মহিলার প্রেমে পড়ে কিন্তু সেই মহিলাকে অন্য কারও প্রেমে পড়তে দেখে আর সইতে পারেনি। সেই রাক্ষস তখন ওই মহিলার যোনির মধ্যে লুকিয়ে পড়ে। যখনই কোনও প্রেমিকের সঙ্গে যৌনতায় যেতেন ওই মহিলা তখন সেই প্রেমিকের লিঙ্গে কামড়ে দিত রাক্ষস। এই অসুবিধা থেকে বাঁচতে এক ফন্দি আঁটেন ওই মহিলা! তিনি ইস্পাতের তৈরি একটি লিঙ্গ নিজের যোনিতে প্রবেশ করান। বুঝতে না পেরে রাক্ষস দেয় মোক্ষম কামড়। ব্যাস, দাঁত ভেঙে কুটিকুটি! রাক্ষসটি শেষমেশ পালিয়ে যায়।

কানায়ামা জিনজার পুরোহিতরা এই উৎসবের আয়োজক। বৃহত্তর ওয়াকামিয়া হাচিমাঙ্গুর একটি 'উপ-তীর্থস্থান' হচ্ছে কানায়ামা জিনজা। বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে, কানায়ামা এমন একটি স্থান হয়ে উঠেছে যেখানে দম্পতিরা উর্বরতা এবং বৈবাহিক সম্প্রীতির জন্য প্রার্থনা করে আসছেন। এডো যুগে অর্থাৎ ১৭ থেকে ১৯ শতকের মধ্যে, যৌনকর্মীরা নিজেদের যৌনরোগ বা সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিডেড ডিজিজ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এই উপাসনালয়েই প্রার্থনা করত। এমনকী সেই সময়ে উর্বরতা এবং যৌন স্বাস্থ্যকে কেন্দ্র করে একটি উত্সবও পালিত হতো। কিন্তু এই ঐতিহ্যটি ১৮০০-র দশকের শেষ দিকে এসে হারিয়েই যায়। ১৯৭০-এর দশকে, তৎকালীন প্রধান পুরোহিত হিরোহিকো নাকামুরা এই উৎসবকে ফের ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন। তারপর থেকেই পালিত হচ্ছে এই নতুন কানামারা মাতসুরি, পুরুষাঙ্গের এক ব্যাপক এবং সুস্পষ্ট উদযাপন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
২,০০০ বছর আগেও ছিল সেক্স টয়! ৭ ইঞ্চির প্রাচীন 'ডিলডো' আবিষ্কার গবেষকদের!

Ancient Sex Toy: গবেষকদের বিশ্বাস, যৌনাঙ্গে প্রবেশের জন্য নয়, সম্ভবত যোনির ক্লিটোরিসকে উদ্দীপিত করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল এই ডিলডো।

জাপানিদের যৌন জীবন নিয়ে বিশেষ তথ্য মেলে না। খুব সম্প্রতি, কানামারা মাতসুরি বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে। ঠিক পাঁচ বছর আগে জাপানের এই উৎসব বিশ্বখ্যাত হয়ে ওঠে। মাতসুকো ডিলাক্স নামে একজন জাপানি টিভি ব্যক্তিত্ব নিজের ক্রস-ড্রেসিং এবং প্রো-সেক্সুয়ালিটি মতামতের জন্য সুপরিচিত। তার নামের সঙ্গ মিল থাকা এই উত্সবটি বিদেশের পাশাপাশি জাপানের নিজস্ব নাগরিকদের কাছেও অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে৷

কানামারা মাতসুরির শোভাযাত্রায় মূলত তিনটি মিকোশি বা বিশাল পুরুষাঙ্গ থাকে। প্রথমটি সোজা এবং চকচকে কালো ধাতু দিয়ে তৈরি। শিস দিতে দিতে উপাসকদের একটি দল এই পুরুষাঙ্গ বয়ে নিয়ে যায়। দ্বিতীয়টি, পুরনো কাঠের তৈরি, প্রাচীন। তৃতীয়টি বহন করে জোসো গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীর মানুষ এলিজাবেথ কাইকান নামক একটি ক্রস-ড্রেসিং ক্লাবের সদস্য। উজ্জ্বল মেকআপ এবং রঙিন উইগ পরে থাকেন তারা। হাওয়াতে মিকোশিকে তুলে ঝাঁকান। এখানেই শেষ না। শোভাযাত্রায় লিঙ্গ আকৃতির সবুজ, নীল, বেগুনি এবং গোলাপী রঙের ললিপপও খেতে খেতে এগিয়ে যান মানুষ। সন্তানদের কাঁধে চাপিয়ে এই শোভাযাত্রায় পা মেলান জাপানের মানুষ।

অনেকেই উত্সবটিকে মজার বিষয় হিসাবেই দেখেন। কিন্তু এই উপাসনালয়ের প্রাক্তন প্রধান পুরোহিত কিমিকো নাকামুরার (যিনি উত্সবটি ফের চালু করেছিলেন সেই হিরোহিকোর স্ত্রী) মতে এই উৎসবের একটি রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণও রয়েছে৷

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।