হুজুগের ঠেলা সামলাতে ল্যাজেগোবরে! জিবলি ছবির চাহিদায় যে সমস্যার মুখে OpenAI

Ghibli Image: সকাল-বিকেল মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া ভরিয়ে দিচ্ছেন নিজেদের জিবলি ছবি দিয়ে৷ তবে মানুষের এই সামাজিক হুজুগে টালমাটাল ChatGPT!

সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে কেবলই জিবলির ছড়াছড়ি! স্টুডিও জিবলির 'সিগনেচার স্টাইল' থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে AI এমন ছবি ঢালাও তৈরি করছে। কিংবদন্তি জাপানি অ্যানিমেশন স্টুডিও জিবলির শিল্পীরা অবশ্য প্রতিটি ছবি হাতে আঁকতেন। জাপানি অ্যানিমেটর এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হায়াও মিয়াজাকি এই শিল্পের নেপথ্যে। তবে, অগণিত মানুষের কাছে জিবলিকে জনপ্রিয় করে তুলল এআই। ইতিহাস জেনে বা না জেনেই, অজস্র মানুষ, সকাল-বিকেল সোশ্যাল মিডিয়া ভরিয়ে দিচ্ছেন নিজেদের জিবলি ছবি দিয়ে৷ তবে মানুষের এই সামাজিক হুজুগে টালমাটাল ChatGPT! চ্যাটজিপিটির ইমেজ-জেনারেশন টুলের উপর মারাত্মক চাপ পড়ছে এই জিবলি ছবি বানানোর। মানুষের চাহিদা সামলে ছবির জোগান দিতে গিয়ে ল্যাজেগোবরে হয়ে গিয়ে অবশেষে OpenAI-এর সিইও স্যাম অল্টম্যানকে বিবৃতি দিতে হয়েছে!

প্ল্যাটফর্মের সার্ভার এবং ইঞ্জিনিয়ারিং দলের উপর যে বিশাল চাপ পড়ছে, তা সামলাতে X-এ একটি পোস্ট করে OpenAI-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান বলছেন, "আপনারা কি দয়া করে ইমেজ তৈরির বিষয়ে একটু শান্ত হতে পারেন? এ চরম পাগলামি! আমাদের দলের লোকেদেরও তো ঘুম দরকার।"

 

স্টুডিও ঘিবলি বিশ্ব-বিখ্যাত জাপানি অ্যানিমেশন স্টুডিও। স্পিরিটেড অ্যাওয়ে, মাই নেবার টোটোরো এবং হাউলস মুভিং ক্যাসলের মতো অসাধারণ সিনেমার জন্ম দিয়েছে এই স্টুডিও। বিশ্ববিখ্যাত অ্যানিমেটর হায়াও মিয়াজাকি এবং ইসাও তাকাহাতা স্টুডিও জিবলির প্রতিষ্ঠাতা। এই জিবলি ঘরানার ছবিগুলি নরম, চরিত্রগুলি পেলব, পটভূমি বেশ রঙিন, চরিত্ররা অভিব্যক্তিপূর্ণ এবং আবেগপূর্ণ। খানিক স্বপ্নের মতো, নস্টালজিক দৃশ্যপট। এই ঘরানাকে অনুকরণ করেই ওপেনএআই অজস্র ছবি তৈরি করে দিচ্ছে। ব্যবহারকারীরা নিজেদের ছবিও জিবলি শৈলীতে তৈরি করে নিতে পারছেন এই AI টুল দিয়ে।

আরও পড়ুন- উপচে পড়ছে জিবলি ছবি! শিল্পীর আসল শৈলী নকল করে শাস্তি পাবে AI?

জিবলি স্টুডিওর চলচ্চিত্রগুলি মিয়াজাকির নির্দেশনায় কাজ করা শিল্পীদের সমবেত প্রয়াস। দ্য উইন্ড রাইজেস সিনেমাটির কথাই ধরা যাক। এই অ্যানিমেশন সিনেমার প্রতিটি ফ্রেম হাতে আঁকা এবং জলরঙে আঁকা। একটি দৃশ্য আছে জমজমাট বাজারের। শুধু এই ছবিটি সম্পূর্ণ হতে এক বছরেরও বেশি সময় লেগেছে। মিয়াজাকি সম্মানিত হয়েছেন র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারে। সেই শিল্পীর ছবির ঘরানা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় উপচে পড়ছে। সৌজন্যে, কোনও মানুষ শিল্পী নন। সৌজন্যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

 

জিবলি ছবির উত্থানে নানা নৈতিক প্রশ্নও উঠছে। লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী যেভাবে মিয়াজাকির শৈলীতে AI ছবি তৈরি করতে ChatGPT ব্যবহার করছেন, তা শিল্পের স্বত্বাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আসল শিল্পীর অনুমতি ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তাঁর শৈলীর অনুকরণ করে বাজারে ছেড়ে দেওয়া কি অপরাধ নয়? তবে এইসব নৈতিকতার ধার ধারে না হুজুগে মানুষ। নিজেদের ছবি, বন্ধুর ছবি, পরিবারের ছবি, সিনেমার চরিত্র, রাজনৈতিক নেতা সবাই এখন মিয়াজাকির জিবলি শৈলীতে স্নাত! স্যাম অল্টম্যান বলছেন, এই বিপুল চাহিদা সামলাতে গিয়ে তাঁদের প্ল্যাটফর্মের ‘GPU’ গলে যাচ্ছে।

X-এ অল্টম্যান আরও জানিয়েছেন, প্রবল চাহিদার মুখে পড়ে পরিষেবা চালু রাখার জন্য সারা দিন-রাত কাজ করছে তাঁদের দল। তবে এই চাহিদা অভূতপূর্ব! এমন বিপুল চাহিদা তিনি এর আগে দেখেননি। জিবলি ছবির চাহিদার আকস্মিক বৃদ্ধির ফলে ওপেনএআই ChatGPT ইমেজ জেনারেশন টুলে একটি 'সীমা' বেঁধে দিতে বাধ্য হয়। স্যাম অল্টম্যান স্বীকার করেছেন যে সার্ভারে চাপ পড়েছে বিপুল। মোটামুটি সেসব সারানো গিয়েছে। তবে হুজুগের ঠেলায় তা যে আবার বিগড়ে যাবে না এমন নিশ্চয়তা নেই৷

More Articles