হুজুগের ঠেলা সামলাতে ল্যাজেগোবরে! জিবলি ছবির চাহিদায় যে সমস্যার মুখে OpenAI

Ghibli Image: সকাল-বিকেল মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া ভরিয়ে দিচ্ছেন নিজেদের জিবলি ছবি দিয়ে৷ তবে মানুষের এই সামাজিক হুজুগে টালমাটাল ChatGPT!

inscript
৩ মিনিট
হুজুগের ঠেলা সামলাতে ল্যাজেগোবরে! জিবলি ছবির চাহিদায় যে সমস্যার মুখে OpenAI

সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে কেবলই জিবলির ছড়াছড়ি! স্টুডিও জিবলির 'সিগনেচার স্টাইল' থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে AI এমন ছবি ঢালাও তৈরি করছে। কিংবদন্তি জাপানি অ্যানিমেশন স্টুডিও জিবলির শিল্পীরা অবশ্য প্রতিটি ছবি হাতে আঁকতেন। জাপানি অ্যানিমেটর এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হায়াও মিয়াজাকি এই শিল্পের নেপথ্যে। তবে, অগণিত মানুষের কাছে জিবলিকে জনপ্রিয় করে তুলল এআই। ইতিহাস জেনে বা না জেনেই, অজস্র মানুষ, সকাল-বিকেল সোশ্যাল মিডিয়া ভরিয়ে দিচ্ছেন নিজেদের জিবলি ছবি দিয়ে৷ তবে মানুষের এই সামাজিক হুজুগে টালমাটাল ChatGPT! চ্যাটজিপিটির ইমেজ-জেনারেশন টুলের উপর মারাত্মক চাপ পড়ছে এই জিবলি ছবি বানানোর। মানুষের চাহিদা সামলে ছবির জোগান দিতে গিয়ে ল্যাজেগোবরে হয়ে গিয়ে অবশেষে OpenAI-এর সিইও স্যাম অল্টম্যানকে বিবৃতি দিতে হয়েছে!

প্ল্যাটফর্মের সার্ভার এবং ইঞ্জিনিয়ারিং দলের উপর যে বিশাল চাপ পড়ছে, তা সামলাতে X-এ একটি পোস্ট করে OpenAI-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান বলছেন, "আপনারা কি দয়া করে ইমেজ তৈরির বিষয়ে একটু শান্ত হতে পারেন? এ চরম পাগলামি! আমাদের দলের লোকেদেরও তো ঘুম দরকার।"

can yall please chill on generating images this is insane our team needs sleep

— Sam Altman (@sama)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
উপচে পড়ছে জিবলি ছবি! শিল্পীর আসল শৈলী নকল করে শাস্তি পাবে AI?

Studio Ghibli AI Art:মিয়াজাকি বা স্টুডিও জিবলি কখনও AI-কে তাঁদের শৈলী ব্যবহারের অনুমতি দেননি। তবুও ব্যবহারকারীরা অনায়াসে জিবলির মতো ছবি তৈরি করতে পারছেন।

স্টুডিও ঘিবলি বিশ্ব-বিখ্যাত জাপানি অ্যানিমেশন স্টুডিও। স্পিরিটেড অ্যাওয়ে, মাই নেবার টোটোরো এবং হাউলস মুভিং ক্যাসলের মতো অসাধারণ সিনেমার জন্ম দিয়েছে এই স্টুডিও। বিশ্ববিখ্যাত অ্যানিমেটর হায়াও মিয়াজাকি এবং ইসাও তাকাহাতা স্টুডিও জিবলির প্রতিষ্ঠাতা। এই জিবলি ঘরানার ছবিগুলি নরম, চরিত্রগুলি পেলব, পটভূমি বেশ রঙিন, চরিত্ররা অভিব্যক্তিপূর্ণ এবং আবেগপূর্ণ। খানিক স্বপ্নের মতো, নস্টালজিক দৃশ্যপট। এই ঘরানাকে অনুকরণ করেই ওপেনএআই অজস্র ছবি তৈরি করে দিচ্ছে। ব্যবহারকারীরা নিজেদের ছবিও জিবলি শৈলীতে তৈরি করে নিতে পারছেন এই AI টুল দিয়ে।

জিবলি স্টুডিওর চলচ্চিত্রগুলি মিয়াজাকির নির্দেশনায় কাজ করা শিল্পীদের সমবেত প্রয়াস। দ্য উইন্ড রাইজেস সিনেমাটির কথাই ধরা যাক। এই অ্যানিমেশন সিনেমার প্রতিটি ফ্রেম হাতে আঁকা এবং জলরঙে আঁকা। একটি দৃশ্য আছে জমজমাট বাজারের। শুধু এই ছবিটি সম্পূর্ণ হতে এক বছরেরও বেশি সময় লেগেছে। মিয়াজাকি সম্মানিত হয়েছেন র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারে। সেই শিল্পীর ছবির ঘরানা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় উপচে পড়ছে। সৌজন্যে, কোনও মানুষ শিল্পী নন। সৌজন্যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

it's super fun seeing people love images in chatgpt.

but our GPUs are melting.

we are going to temporarily introduce some rate limits while we work on making it more efficient. hopefully won't be long!

chatgpt free tier will get 3 generations per day soon.

— Sam Altman (@sama)

জিবলি ছবির উত্থানে নানা নৈতিক প্রশ্নও উঠছে। লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী যেভাবে মিয়াজাকির শৈলীতে AI ছবি তৈরি করতে ChatGPT ব্যবহার করছেন, তা শিল্পের স্বত্বাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আসল শিল্পীর অনুমতি ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তাঁর শৈলীর অনুকরণ করে বাজারে ছেড়ে দেওয়া কি অপরাধ নয়? তবে এইসব নৈতিকতার ধার ধারে না হুজুগে মানুষ। নিজেদের ছবি, বন্ধুর ছবি, পরিবারের ছবি, সিনেমার চরিত্র, রাজনৈতিক নেতা সবাই এখন মিয়াজাকির জিবলি শৈলীতে স্নাত! স্যাম অল্টম্যান বলছেন, এই বিপুল চাহিদা সামলাতে গিয়ে তাঁদের প্ল্যাটফর্মের ‘GPU’ গলে যাচ্ছে।

X-এ অল্টম্যান আরও জানিয়েছেন, প্রবল চাহিদার মুখে পড়ে পরিষেবা চালু রাখার জন্য সারা দিন-রাত কাজ করছে তাঁদের দল। তবে এই চাহিদা অভূতপূর্ব! এমন বিপুল চাহিদা তিনি এর আগে দেখেননি। জিবলি ছবির চাহিদার আকস্মিক বৃদ্ধির ফলে ওপেনএআই ChatGPT ইমেজ জেনারেশন টুলে একটি 'সীমা' বেঁধে দিতে বাধ্য হয়। স্যাম অল্টম্যান স্বীকার করেছেন যে সার্ভারে চাপ পড়েছে বিপুল। মোটামুটি সেসব সারানো গিয়েছে। তবে হুজুগের ঠেলায় তা যে আবার বিগড়ে যাবে না এমন নিশ্চয়তা নেই৷

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।