পৃথিবীর ভয়াবহ যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুতে ব্যবহৃত হতো চাকা! নারকীয় যে ইতিহাস অবাক করবে

Breaking Wheel Torture: এই ধরনের নির্যাতন সাধারণত সেই ব্যক্তিদেরই করা হতো, যাদের প্লেগ ছড়ানোর জন্য সন্দেহ করা হতো।

inscript
৩ মিনিট
পৃথিবীর ভয়াবহ যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুতে ব্যবহৃত হতো চাকা! নারকীয় যে ইতিহাস অবাক করবে

দেহকে ৩৫ টুকরো করে কেটে ছড়িয়ে দেওয়া বেশি ভয়াবহ না কি গিলোটিনে মাথা কেটে নেওয়া? ধারালো যন্ত্রে দেহ ঢুকিয়ে ফালাফালা করে দেওয়া বেশি যন্ত্রণাদায়ক না কি ইলেকট্রিক চেয়ারে বসিয়ে শক দেওয়া ক্রমাগত? যন্ত্রণার কোনও তুল্যমূল্য কি হয় আদৌ? শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মৃত্যুকে কতটা যন্ত্রণাদায়ক করে তোলা যায় তা নিয়ে পরীক্ষা তো কম হয়নি। ইতিহাসে শিহরণ জাগানো এমন বহু ভয়ঙ্কর মৃত্যুর নজির রয়েছে, যা মনে পড়লে আজও কেঁদে ফেলবেন বেশিরভাগ মানুষই। নিষ্ঠুরতা এবং চরম অস্বাভাবিক পদ্ধতিতে হত্যার একটি নজির পৃথিবী কাঁপিয়ে দিয়েছিল। কিছুকাল আগেই আবিষ্কৃত এক কঙ্কালের পরীক্ষা করে যা তথ্য মিলেছে, তা স্তব্ধ করে দেওয়া মতোই।

জার্নাল অব আর্কিওলজিক্যাল সায়েন্স বলছে, মিলান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিকরা মধ্যযুগীয় এক ব্যক্তির কঙ্কাল আবিষ্কার করেছেন। ওই ব্যক্তিকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, অমন চূড়ান্ত বেদনাদায়ক নির্যাতন পদ্ধতি তুলনাহীন! শিরচ্ছেদ করা হয়েছিল ওই ব্যক্তির কিন্তু তার পদ্ধতিটি ছিল অদ্ভুত। কঙ্কালটিকে পরীক্ষা করে জানা গিয়েছে, বয়স কমই ছিল তার। ১৭ থেকে ২০ বছর বয়সের মধ্যেই মৃত্যু হয়েছিল। ১৩ শতকের কোনও এক সময়ে উত্তর ইতালির মিলানে একটি ক্যাথেড্রালের কাছে তাকে সমাহিত করা হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
স্তনবৃন্ত, কাটা জিভ দিয়ে বেল্ট, চেয়ার তৈরি- রাতের ঘুম কেড়েছে বীভৎসতম এই সিরিয়াল কিলাররা

Serial Killer: 'দ্য চেসবোর্ড কিলার' নামেই ডাকা হত আলেকজান্ডার পিচুস্কিনকে। রাশিয়ার সিরিয়াল কিলার আন্দ্রেই চিকাটিলোর সঙ্গে নাকি প্রতিযোগিতা করে ৪৯ জনকে হত্যা করে চেসবোর্ড কিলার আলেক্সান্ডার।

কঙ্কালটির প্রাথমিক পরীক্ষাতেই দেখা গিয়েছিল, বাহু এবং পায়ে একই জায়গাতে ক্ষত ছিল তার। সাফ বোঝা যাচ্ছিল, এই ক্ষত ইচ্ছাকৃত কোনও কিছুর আঘাতের ফলেই সৃষ্ট। ঐতিহাসিক রেকর্ডের উপর ভিত্তি করে গবেষকরা অনুমান করেন, ওই ব্যক্তিকে কুখ্যাত 'চাকা' বা 'ব্রেকিং হুইল' বা 'ক্যাথারিন হুইল' ব্যবহার করে নির্যাতন করা হয়েছিল। চাকা দিয়ে হত্যা? কেমন ছিল এই চাকা?

ব্রেকিং হুইল ছিল মূলত নির্যাতনের যন্ত্র। ইওরোপিয় ইতিহাস বলছে, আধুনিক যুগের শুরুর আগে পর্যন্ত জনসাধারণের মৃত্যুদণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল এই চাকা। এই চাকাটি কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল তা সময় এবং স্থানের উপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন হতো। তবে এই চাকাটি সাধারণত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভেঙে ফেলার কাজেই লাগানো হতো।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মমি বিক্রি হতো ফুটপাথে! কেন দলে দলে মমি খাওয়ার হিড়িক উঠেছিল বিশ্বে?

Mummy Eating Mystery: ভিক্টোরিয়ানরা 'আনর‍্যাপিং পার্টি' আয়োজন করত। সেখানে ব্যক্তিগত বিনোদনের জন্য মিশরীয় মৃতদেহ খুলে দেওয়া হতো।

ঐতিহাসিক নির্যাতনের কিছু বিবরণ অনুযায়ী, নির্যাতনকারীরা ভারী কাঠের চাকাটি মানুষের গায়ে ফেলত। চাকার আঘাতে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভেঙে যেত। একবার তাদের শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যাথা হয়ে গেলে, ভাঙা অঙ্গগুলি চাকার স্পোকের ভিতরে ঢুকিয়ে দড়ি দিয়ে শক্তভাবে বেঁধে দেওয়া হতো। আঘাতগুলিকে আরও স্পষ্ট করতে, মানুষটিকে আরও কষ্ট দিতে ব্লেড, ভোঁতা কোনও জিনিস, আগুন, চাবুক বা লোহার রড গরম করে ব্যবহার করা হতো। এর পরে চাকাটিকে একটি খুঁটিতে বেঁধে পতাকার মতো ঝোলানো হতো। কষ্ট, যন্ত্রণা পেতে পেতে যখন মানুষটি আধমরা, তখন কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের জন্য এই চাকা থেকে ঝুলিয়ে রাখা হতো ওই ব্যক্তিকে। যতক্ষণ না প্রাণ বেরিয়ে যাচ্ছে, ওভাবেই ঝুলিয়ে রেখে দেওয়া হতো প্রকাশ্যে।

গবেষকরা বলছেন, সাধারণত কোনও জঘন্য অপরাধে অভিযুক্তদের উপরেই নিষ্ঠুর নির্যাতনের এই কৌশলটি প্রায়ই ব্যবহৃত হতো। কিন্তু উত্তর ইতালিতে, যেখানে এই মৃতদেহটি পাওয়া গিয়েছিল সেখানে এই ধরনের নির্যাতন সাধারণত সেই ব্যক্তিদেরই করা হতো, যাদের প্লেগ ছড়ানোর জন্য সন্দেহ করা হতো। স্রেফ সন্দেহের বশেই এমন ভয়াবহ অত্যাচার করে খুন করা হতো ওই ব্যক্তিদের!

তবে, এই কঙ্কালের ক্ষেত্রে যেন এটুকু নির্যাতনই যথেষ্ট ছিল না! কঙ্কালের ফরেনসিক বিশ্লেষণে তার খুলিতে এক অস্বাভাবিক রৈখিক ফাটলও দেখা গিয়েছে। গবেষকরা বলছেন, অদ্ভুতভাবে শিরচ্ছেদ করা হয়েছিল ওই ব্যক্তির। সেই সময় ভারী অস্ত্র দিয়ে মাথায় মারা হয়েছিল তাকে।

যে চাকা আদিম মানুষের সভ্যতার এক উল্লেখযোগ্য বাঁকবদল ঘটিয়েছিল, সে চাকাকেই মানুষ ব্যবহার করেছে এমন নির্যাতনের অস্ত্র হিসেবেও। সব চাকাই সামনের দিকে এগোয় না, কিছু চাকা আঁধারের উদ্দেশ্যেও রওনা দেয়। মধ্যযুগের ব্রেকিং হুইল আসলে সেই আঁধারেরই চাকা!

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।