মুসলিম মানেই 'জঙ্গি'? বেঙ্গালুরুর সাম্প্রতিক ঘটনা তুলে ধরছে যে অসুখ

Karnataka professor Suspended: এতখানি অবিশ্বাস, এতখানি সন্দেহ কি শুধু একটি ঘটনার ফসল? নাকি এই অবিশ্বাস, এই সন্দেহ আমাদের ভিতরে ছিলই...

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
মুসলিম মানেই 'জঙ্গি'? বেঙ্গালুরুর সাম্প্রতিক ঘটনা তুলে ধরছে যে অসুখ

২৬ নভেম্বর শুক্রবারের ঘটনা। পুরোদমে ক্লাস চলছে বেঙ্গালুরুর মণিপাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির একটি ঘরে। হঠাৎ শুরু হয় ছাত্র শিক্ষকের মুখোমুখি বচসা। উত্তেজিত অধ্যাপক ক্লাস চলাকালীনই সেই ছাত্রটিকে বলে বসেন 'সন্ত্রাসী'। ব্যাস তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি আরও গরম হয়ে যায়। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এই ঘটনাটির একটি ভিডিও। আর এই ভিডিওকে ঘিরেই এখন আলোচনা তুঙ্গে। ছাত্রটির পরিচয় যায় হোক না কেন, তার ধর্মীয় পরিচয় মুসলিম বলেই কি এরূপ সম্মোধন? একথাই নিয়েই সরগরম নেট পাড়া। এমনকী এই ঘটনা এতটাই প্রভাব ফেলে যে তার জেরে এমআইটি কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয় তড়িঘড়ি সেই অধ্যাপককে সাসপেন্ড করতে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ তদন্তেরও নির্দেশ দেয় তারা।

ক্লাসরুমের এই ঘটনাটি টেনে এনে হাজারও প্রশ্ন। কী থেকে এই বচসার সূত্রপাত, একজন শিক্ষক কি কোনো ছাত্রকে এভাবে সম্মোধন করতে পারেন ইত্যাদি আরও কিছু। তবে এসবের বাইরে যে প্রশ্নটা আরও বেশি করে ভাবাচ্ছে তা হল ছাত্রটি মুসলিম, তার মানে মুসলিম মাত্রই কি সে সন্ত্রাসী?

এ প্রসঙ্গে ঘটনাটির দিনটি ভুলে চলবে না। ঘটনাটা যেদিন ঘটে সেদিন ছিল নভেম্বরের ২৬। অর্থাৎ মুম্বাইয়ের ভয়ংকর সেই জঙ্গি হামলার বর্ষপূর্তি। দেশ জুড়ে সেদিন যখন সেই দগদগে স্মৃতি রোমন্থন করেছেন অনেকে, ঠিক তখনই বেঙ্গালুরুর একটি ক্লাস রুমে সরব হচ্ছেন শিক্ষক। এ কেবল কাকতালীয় বলা চলে না। জনসংখ্যার বিচারে ভারতে মুসলিমদের স্থান হিন্দুদের ঠিক পরে হলেও এ দেশ তো হিন্দুস্তান। তাই সেই দম্ভ আঁকড়ে চোখে ঠুলি এঁটেছেন অনেকেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কর্নাটক থেকে ইরান, হিজাব বিতর্কই মেলালো দুই দেশের মুসলিম নারীদের?

Hijab controversy Iran: এই বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইরানে প্রচলিত কিছু  রীতি রেওয়াজ, যা বছরের পর বছর ধরে দমিয়ে রেখেছিল সে দেশের নারীদের। ইরানে জনপরিসরে নারীদের বাধ্যতামূলক হিজাব পরাসহ রয়েছে কঠোর পর্দাবিধি।

ব্রিটিশ উপনিবেশের ফলে ধীরে ধীরে ভারতের সর্বত্র মুসলিম শাসনের অবসান হয়। কারোর যুদ্ধে মৃত্যু হয়, কেউবা বশ্যতা স্বীকার করে নেয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই মুসলিম শাসক শূন্য হলেও ভারত মুসলিম শূন্য হয়নি। সেই প্রশ্নও ওঠে না। অনেক হিন্দুত্ববাদীদের বলতে শোনা যায়– সেদিন পলাশির প্রান্তরে সিরাজকে খতম করতে না-পারলে সারা ভারত ‘দার-উল-ইসলাম (ইসলামি দেশ)-এ পরিণত হত। শতশত বছর ধরে দোর্দণ্ডপ্রতাপ সুলতান-বাদশা নবাব-সম্রাটরা যা পারেনি, তা সিরাজ বা পরবর্তী মুসলিম শাসকরা পারত! কিন্তু কোন্ অঙ্কে? উত্তর তো মেলে না! তবে কীসের এই আগ্রাসন? তবে কি পাঁচিলের এ পার থেকে ও পারে এতটাই কম দেখা যায় যে এক সম্প্রদায়কে নিয়ে অন্য সম্প্রদায়ের মনে জমাট বেঁধেছে নানা ভুল ধারণা? আর এরই অনিবার্য পরিণতি হিসেবে বেড়েছে সন্দেহ৷

এতখানি অবিশ্বাস, এতখানি সন্দেহ কি শুধু একটি ঘটনার ফসল? নাকি এই অবিশ্বাস, এই সন্দেহ আমাদের ভিতরে ছিলই, ঢাকাঢুকি দেওয়া ছিল নানা আবরণের আড়ালে, সাম্প্রতিক ঘটনা কেবল সেই আবরণগুলিকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। এর কারণ কী? কেন এমন একটা ভুল ধারণা ক্রমশ অনেকের মস্তিষ্কেই গেঁথে যাচ্ছে যে, মুসলিম মাত্রই সন্ত্রাসবাদী? তবে কি পাঁচিলের এ পার থেকে ও পারে এতটাই কম দেখা যায় যে এক সম্প্রদায়কে নিয়ে অন্য সম্প্রদায়ের মনে জমাট বেঁধেছে নানা ভুল ধারণা? আর এরই অনিবার্য পরিণতি হিসেবে বেড়েছে সন্দেহ৷

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারতে রোহিঙ্গাদের জন্য ফেরানো মুখ, অন্য শরণার্থীদের জন্য দরজা খোলা! কোথায় যাবেন ওঁরা

মিজোরামের সরকার দারুণভাবে বরণ করছে মায়ানমারের চিন থেকে আসা শরণার্থীদের। এই ধরনের ভিন্নতার একমাত্র প্রধান কারণ কি তাহলে জাতি এবং ধর্ম?

১৪ বছর আগের মুম্বাই হামলা ছাড়াও ২১ বছর আগেই টুইন টাওয়াল হামলা, সারা বিশ্বে মুসলমানদের অবস্থান এমন করে দিয়েছে যে আজ নিজেকে সন্ত্রাসবাদী নয় এমনটাও আলাদা করে প্রমাণ করাটাই দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে অনেক জায়গায়। আর এই ঘটনাকেই ব্যাবহার করে এসেছেন সুযোগ-সন্ধানীরা। কখনও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোণঠাঁসা করা হচ্ছে মুসলিমদের, কখনও আবার বাংলার বুকে চলছে দেদার তোষণ নীতি। মানুষের মনের মধ্যে পরিকল্পিতা ভেদাভেদ গেঁথে নেওয়া হচ্ছে এভাবেই।

একটা ঘোর আতঙ্ক যেন থেকে গিয়েছে মজ্জায় মজ্জায়। সেটা ১৪ বছর আগের জঙ্গি হামলায় হোক অথবা সাম্প্রতিক বর্ধমান বিস্ফোরণ! মানুষ ভয় পেয়েছে। আর থেকেই রাগ হয়েছে। এসব মেনে নিলেও কিছুতেই শিক্ষকের এই আচরণকে সমর্থন করে যায় না। সমাজ গড়ার কারিগর নিজেই যদি এই টালমাটাল পরিস্থিতির হাল ধরতে না পারেন উপরন্তু একপেশে চিন্তাকে ধরে বসে থাকেন তবে সে ক্ষতি বিরাট এক সামাজিক ক্ষতি। এই যে দিকে দিকে এতো গালভরা কথা আর ইফতার পার্টির ধুম, তারপরও বিভেদের মাঝে মিলনের দরজাটা টা কী খুলছে না! তবে তো মিথ্যাই এ সব কিছু।

যদিও মণিপাল ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে এ ঘটনার বিরোধিতা করা হয়েছে। উক্ত ভিডিওর শিক্ষকও ক্ষমা চেয়েছেন। মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো সত্যিই পাপ। কোনো ধর্মের যে জোর নেই, মানবতার সে অদ্ভুত জোর আছে অবশ্যই। যা কিনা পৃথিবীর সব ধর্মকে গিলে খেয়ে কোনও একটা ছাতার তলায় সমস্ত মানুষকে আশ্রয় নিতে বাধ্য করবে। করবেই। অতীতে যেমন হয়নি, ভবিষ্যতেও যে তেমনটা হবে না এমন তো নয়।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।