ঋণগ্রহীতাদের মাথায় হাত! কতটা সমস্যায় ফেলবে RBI-র রেপো রেট বৃদ্ধি?

কানাঘুষোয় বিষয়টা শোনা যাচ্ছিল বেশ অনেকদিন ধরে। আর সেই আশঙ্কা সত্যি করে এবার রেপো রেট ৫০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। অন্যদিকে, ফিক্সড ডিপোজিট ফেসিলিটি হার যা পূর্বে ছিল ৪.১৫ শতাংশ, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৬৫ শতাংশ। অন্যদিকে মার্জিনাল স্ট্যান্ডিং ফ্যাসিলিটির হার এই নতুন ঘোষণার পর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.১৫ শতাংশে। ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির কারণেই এই রেপো রেট বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে RBI, এমনটাই জানিয়েছেন গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। কিন্তু, মানুষের জীবনে কতটা বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে এই সিদ্ধান্ত? RBI এর রিপোর্ট বৃদ্ধির পর সরকারি এবং বেসরকারি সমস্ত ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ঋণগ্রহীতাদের কাঁধেও চাপবে ইএমআই এর বর্ধিত বোঝা। তাহলে এরকম একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণটা ঠিক কী? আর এই সিদ্ধান্ত কতটা সমস্যার মুখে ফেলবে সাধারণ মানুষকে।

সাধারণ মানুষের পকেটের ফের ধাক্কা দিয়ে মেয়ে মাসের পর জুন মাসে আবারো রেপো রেট বৃদ্ধি করেছে RBI। এই নিয়ে পরপর দুই মাস রেপো রেট বৃদ্ধি করল RBI। বুধবার গভর্নর শক্তিকান্ত দাস জানিয়েছেন, ৫০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করা হয়েছে এই রেপো রেট। মনিটারি পলিসি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর ফলে RBI রেপো রেট ৪.৪০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হলো ৪.৯০ শতাংশ। যার ফলশ্রুতি, বিভিন্ন ব্যাংকের লোনের ইএমআই-এর পরিমাণ বাড়বে আর কিছুদিনের মধ্যেই। RBI এর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব দেখা গেল শেয়ারবাজারেও। সকালের এই ঘোষণার পরেই বুধবার বিকেলে বাজারের পতন ঘটে। তীব্র অস্থিরতার সাক্ষী রইল ভারতীয় শেয়ার মার্কেট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রেপো রেট বৃদ্ধির সবথেকে বড় প্রভাব পড়বে শিল্পের ওপর। শিল্পের জন্য নেওয়া ঋণ এবং সুদের হার আগের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে। সাথেই সমস্যা বাড়বে সাধারণ মানুষের।

রেপো রেট কী?

রেপো রেট হল আসলে একটি নির্দিষ্ট সুদের হার, যে সুদের হারের ওপর নির্ভর করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ভারতের অধীনস্থ সমস্ত ব্যাংকে টাকা ঋণ দেয়। যখন দেশে মূল্যবৃদ্ধির পারদ চড়তে থাকে, এবং জিনিসপত্রের দাম মোটামুটি আকাশছোঁয়া হয়ে যায়, সেই সময় RBI বাধ্য হয় রেপো রেট বৃদ্ধি করতে। একই সাথে সুদের হার বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয় বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাংক। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, রেপো রেট বৃদ্ধির ফলে মূল্যবৃদ্ধি অনেক সময় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

তবে যারা ব্যাংকে অর্থ সঞ্চয় করেন, তাদের কাছে কিন্তু এ বিষয়টি লাভজনক হয়ে ওঠে। রেপো রেট বৃদ্ধির ফলে সেভিংস ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে প্রভাব পড়ে। ব্যাঙ্কগুলি এই দুটো অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে সুদের হার বৃদ্ধি করতে পারে। তবে সাধারণত এইটুকু রেপো রেট বৃদ্ধিতে ব্যাংকের তরফ থেকে সুদের হার বৃদ্ধি করা হয় না। কিন্তু মাথায় হাত পড়ে ঋণগ্রহীতাদের। তাদের ক্ষেত্রে এই রেপো রেট বৃদ্ধি অশনিসংকেত হয়ে ওঠে।

এই রেপো রেট বৃদ্ধি করার অর্থ কী?

মে মাসে ৪০ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তারপরে আবারো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করা হলো রেপো রেট। এর ফলে আপনি যদি ব্যাংকের থেকে ঋণ গ্রহণ করেন সেক্ষেত্রে আপনাকে বেশি সুদ দিতে হবে। অর্থাৎ আপনাকে ঋণে যে ইএমআই দিতে হয়, তা আগের থেকে অনেকটাই বেশি হবে। অর্থাৎ বাড়ি-গাড়ি ও ব্যক্তিগত ঋণের অর্থভার বৃদ্ধি পাবে বেশ অনেকটাই। মূলত ভোগ এবং চাহিদা এই দুয়ের উপরে রেপো রেট নির্ভর করে। তাই মুদ্রাস্ফীতিতে লাগাম দেওয়ার জন্যই এই রেপো রেট বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে RBI।

ব্যাংক ঋণের সুদ বৃদ্ধি পাবে কেন?

আগেই বলেছি, রেপো রেট হল সেই সুদের হার যার নিরিখে ব্যাংক RBI থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ গ্রহণ করতে পারে। অর্থাৎ যদি কোন ব্যাঙ্ক RBI এর থেকে এই মুহূর্তে ঋণ গ্রহণ করে, তাহলে তাকে এখন RBI কে বেশি অর্থ ফেরত দিতে হবে। ফলে ব্যাংকের হাতে অর্থ কমবে। অন্যদিকে, আগেরবার যখন রেপো রেট বৃদ্ধি করা হয়েছিল তখন সিআরআর বা নগদ জমার অনুবাদ অনেকটা বৃদ্ধি করা হয়েছিল প্রত্যেকটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ ব্যাংকের কাছে গচ্ছিত নগদ আমানতের যে নির্দিষ্ট পরিমাণ রাখতে হয় RBI এর কাছে, সেই মাত্রা অনেকটা বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়েছিল। এর অর্থ হলো, যে সমস্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক RBI এর নিয়ন্ত্রনে চলে তাদের হাতে ফান্ড অনেকটা কমবে। অর্থাৎ, প্রথমত, তারা ঋণ দেওয়ার জন্য আগের থেকে অনেকটাই কম অর্থ হাতে পাবে, এবং দ্বিতীয়ত, যখন RBI ঋণের উপরে সুদ বৃদ্ধি করছে, সেই সময় ব্যাঙ্কগুলিকেও তাদের ঋণ এর উপরে শুধু বৃদ্ধি করতে হবে, না হলে ব্যাংক চলতে পারবে না।

তবে এবারে কিন্তু, RBI এর তরফ থেকে রিভার্স রেপো রেট বৃদ্ধি করা হয়নি। রিভার্স রেপো রেটও এক ধরনের সুদের হার। তবে এটির অর্থ, ব্যাঙ্কগুলি RBI কে যে অর্থ ঋণ হিসেবে দেয়, তার উপর RBI যে সুদ ব্যাঙ্কগুলিকে দেয় সেই সুদের হার। মূলত মুদ্রাস্ফীতির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের রেপো রেট বৃদ্ধি করলেও, এই মুহূর্তে প্রায় ৬ শতাংশ থেকে ছাড়িয়ে ৭ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে মুদ্রাস্ফীতির হার। সহ্যের উর্ধ্বসীমা প্রায় অতিক্রান্ত। তাই পরপর দুই মাসে ৯০ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট বৃদ্ধি করল RBI।

আপনার উপরে কতটা প্রভাব পড়বে?

RBI এর রেপো রেট বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তের ফলে সুদের হার বৃদ্ধি পাবে একেবারে রাতারাতি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সরকারি এবং বেসরকারি সমস্ত ব্যাংক তাদের সুদের হার বৃদ্ধি করবে। সেই ক্ষেত্রে আপনি যদি কোনো ঋণ গ্রহণ করে থাকেন তাহলে রেপো রেট বৃদ্ধির ফলে আপনার ইএমআই এর ক্ষেত্রে ঋণ বাবদ আরও বেশি টাকা দিতে হবে। ফলে মাসিক বেতন একই থাকলেও ইএমআই এর কারণে কিন্তু আপনার খরচ অনেক বৃদ্ধি পেয়ে যাবে। গাড়ির লোন, শিক্ষা লোন এবং বাড়ির লোনের ক্ষেত্রে ইএমআই আরো বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুন-হু হু করে বাড়বে রান্নার তেল, খাদ্যদ্রব্যের দাম? সংকটের মুখে ভারতীয় অর্থনীতি?

ঋণগ্রহীতাদের ওপর চাপ

খুব শীঘ্রই সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাংক গৃহ ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি করতে চলেছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এখনো পর্যন্ত যে হিসাব সামনে এসেছিল, সেই অনুযায়ী চলতি বছরের এপ্রিল মাসে যে সমস্ত গৃহঋণে ৬.৫ শতাংশ ছিল সুদের হার, জুন মাসে তা ৭.৫ শতাংশ হওয়ার দিকে এগোতে শুরু করেছে। লাগাতার রেপো রেট বৃদ্ধির ফলে ফ্লোটিং রেটে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে চলেছে। যদি কোন ব্যক্তি ২০ বছরের জন্য ৭ শতাংশ হারে গৃহ ঋণ গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে রেপো রেট বৃদ্ধির পর এবার তাকে ৭.৫০ শতাংশ হারে ঋণ মেটাতে হবে। অর্থাৎ সবমিলিয়ে নির্ধারিত মেয়াদের থেকে বাড়তি আরো ২৪ মাস ইএমআই গুনতে হবে তাকে। শুধু তাই নয়, ইএমআই অ্যাডজাস্টমেন্টের কারণে এবার থেকে প্রতি মাসে প্রতি ১ লক্ষ টাকার জন্য ৩০ টাকা করে বেশি দিতে হবে ওই ব্যক্তিকে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এই মুহূর্তে এস বি আই এর তরফ থেকে বছরে ৭.১ শতাংশ সুদের হারে ৩০ বছরের মেয়াদে যদি ২০ লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়া হয় তাহলে মাসিক ইএমআই দাঁড়ায় ১৩,৪৪১ টাকা। রেপো রেট বৃদ্ধির ফলে যদি হোম লোনের সুদের হার ৭.১ থেকে বাড়িয়ে ৮ শতাংশ করা হয় তাহলে এই ইএমআই বেড়ে দাঁড়াবে ১৪,৬৭৫ টাকা। গাড়ির ঋণের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে সুদের হার ৭.৪৫ শতাংশ। যদি সেই সুদের হার এই মুহূর্তে ৮.৩৫ শতাংশ করে দেওয়া হয়, তাহলে যে ব্যক্তি ২০ বছরের মেয়াদে ১০ লক্ষ টাকার গাড়ির লোন গ্রহণ করেছেন তাঁর ইএমআই ৮,০২৫ টাকা থেকে বেড়ে হবে ৮,৫৮৪ টাকা। আবার এসবিআই এর ব্যক্তিগত ঋণ এর ক্ষেত্রেও সুদের হার এই মুহূর্তে ৭.০৫ শতাংশ। এই অবস্থায় যদি সুদের হার ৭.৯৫ করে দেওয়া হয় তাহলে ১০ বছরের মেয়াদে নেওয়া ১০ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত ঋণের ইএমআই ১১,৬৩৭ থেকে বেড়ে হবে ১২,১০৬ টাকা।

ইএমআই কীভাবে সামলাবেন?

রেপো রেট বৃদ্ধির পরে ইএমআই সামলানোর এই মুহূর্তে একটাই রাস্তা খোলা রয়েছে, এবং সেটা হল ব্যালেন্স ট্রান্সফার বিকল্প। সহজ ভাষায় বলতে গেলে এটি একটি এমন পরিষেবা যাতে গ্রাহকরা তাদের মোট বকেয়া ঋণের ব্যালেন্স অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরিত করতে পারেন। অর্থাৎ যে ব্যাংক বকেয়া ঋণের পরিমানে কম সুদ গ্রহণ করবে সেই ব্যাংকের মাধ্যমে বাকি ঋণ আপনি শোধ করতে পারবেন। যদি আপনার বকেয়া ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি হয়, তাহলে আপনি এই পদ্ধতি ব্যবহার করুন।তবে বকেয়া ঋণের পরিমাণ খুব একটা বেশি না হলে এই পদ্ধতি ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ এক্ষেত্রে কিন্তু বাড়তি কিছু চার্জ আপনাকে দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে আপনার লাভ খুব একটা হবে না।

অথবা যদি আপনি নতুন ঋণগ্রহীতা হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার সুদের হার কমানোর জন্য বেশি ডাউনপেমেন্ট এবং দীর্ঘমেয়াদী ঋণ গ্রহণ করতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে আপনি যে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রাখেন সেই ব্যাংকের সঙ্গেই যোগাযোগ করবেন, তাহলে আপনার ব্যাংকের সঙ্গে সুদের হার নিয়ে দর কষাকষি করতে সুবিধা হবে। এছাড়াও যদি এমন কোন ব্যাংক আপনি পেয়ে থাকেন, যেখানে আপনার ব্যাংকের থেকে কম সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে তাহলে সেরকম ব্যাংকে ঋণ গ্রহণ করতে পারেন।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামে প্রভাব

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য লাগাতার দ্বিতীয় দফায় রেপো রেট বৃদ্ধি করার ঘোষণা করা হয়েছে রিজার্ভ ব্যাংকের তরফ থেকে। তবে এতে কি আদৌ কোনো মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ হবে? এই বিষয়টা কিন্তু অবশ্যই সময়সাপেক্ষ। কিন্তু অবশ্যই দাম বৃদ্ধি হতে পারে খাদ্যদ্রব্যের এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের। কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেপো রেট বৃদ্ধি করলে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে খাদ্যপণ্যের যোগান কিছুটা কমে যায়। মানুষের হাতে টাকা কমলে পণ্যের চাহিদা কমে যায়। রেপো রেট বৃদ্ধির পেছনে এটাই কিন্তু মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু এতে মধ্যবিত্তের কি আদৌ কোন সুবিধা হবে? এমনিতেই করোনাভাইরাস অতিমারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন এর মধ্যে যুদ্ধের ফলে খাদ্য দ্রব্যের মূল্য অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। রেপো রেট বৃদ্ধির ফলে এটা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। উদাহরণস্বরূপ, ভোজ্যতেলের সিংহভাগ অংশ কিন্তু ভারত আমদানি করে থাকে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে এই দুই তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কারণে দেশে রেপো রেট বৃদ্ধির ফলে দেশের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম অনেকটা বাড়বে। এখনই মুদ্রাস্ফীতি কমানো সম্ভব হবে না, কিন্তু মধ্যবিত্তের জিনিস কিনতে কিন্তু অনেকটাই বেগ পেতে হতে পারে।

শেয়ার মার্কেটে প্রভাব

রিজার্ভ ব্যাংকের রেপো রেট এবং শেয়ার মার্কেটের ওঠানামা কখনোই সরলরৈখিক অনুপাতে চলে না। যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরফ থেকে রেপো রেট বৃদ্ধি করা হয় তাহলে সরাসরি তার প্রভাব পড়ে শেয়ার মার্কেটের উপর। এর ফলে শেয়ার মার্কেটের গ্রাফ হঠাৎ করে কিছুটা নিচে নেমে যেতে পারে। এমনিতেই বুধবার থেকে এই শেয়ার মার্কেট এর গ্রাফ নিচের দিকে নামতে শুরু করেছে। রেপো রেট বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের পকেটের যেহেতু টাকা কমতে থাকে, তাই স্বাভাবিকভাবেই তারা কোন কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে দু'পা পিছিয়ে আসেন। চাহিদা কম থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সেই শেয়ারের দাম পড়বে। এক্ষেত্রে সংস্থার সামগ্রিক দাম অনেকটা কমে যাবে।

ভবিষ্যতে কি আরও বাড়বে রেপো রেট

রিপোর্ট অনুযায়ী আগামী সপ্তাহে রেপো রেট আরো ৪০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করতে পারে RBI। এছাড়াও অগাস্টের পর্যালোচনাতেও রেপো রেট আরো ৩৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি পেতে পারে। যদি এমনটা না হয় তাহলে আগামী সপ্তাহে RBI ৫০ বেসিস পয়েন্ট এবং অগাস্ট মাসে ২৫ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সম্প্রতি RBI গভর্নর শক্তিকান্ত দাস বলেছেন, মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশের সন্তোষজনক স্তরের আওতায় নিয়ে আসার চাপের কথা মাথায় রেখে নীতিগত কারণে রেপো রেট বৃদ্ধি করবে RBI। এটা এমন কিছু বড় ব্যাপার হবে না।

More Articles

;