অন্তর্বর্তী বাজেটে মধ্যবিত্তের হাতে পেনসিল? আয়কর নিয়ে যা জানালেন নির্মলা
Interim Budget 2024: সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজেটের সেই লাল বিফকেস উধাও হয়েছে। তার বদলে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর হাতে শোভা পায় আজকাল একটি লাল কভার বিশিষ্ট ট্যাব।

সামনেই লোকসভা ভোট। প্রথা মেনেই এ বছর সংক্ষীপ্ত বাজেট প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২০১৯ সালের অন্তর্বর্তী বাজেটে বেড়েছিল আয়কর ছাড়ের উর্ধ্বসীমা। তবে ২০২৪ সালে মধ্যবিত্তের জন্য কার্যত কিছুই রইল না বাজেটে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন অবশ্য বললেন, ভোটের বছর বলেই তেমন কোনও বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হল না। তবে আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত যে কর কাঠামো বহাল রয়েছে, পরের বাজেট পর্যন্ত তার সময়সীমা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন নির্মলা। কার্যত তাঁর এই ঘোষণায় একটু হতাশই দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি।
পুরনো কর কাঠামো অনুযায়ী এতদিন ২ লক্ষ ৫০ টাকা আয়ের উপর থেকে সর্বনিম্ন হারে আয়কর প্রযোজ্য ছিল। ২০২৪ সালের অন্তর্বর্তী বাজেটে তা ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩ লক্ষ করা হতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছিল। সেক্ষেত্রে বছরে ১২৫০ টাকা সাশ্রয় হওয়ার কথা। ৫.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে কর দিতে হবে না। একই সঙ্গে পুরনো এবং নতুন, দুই কর কাঠামোতেই ‘স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন’-এর পরিমাণ ৫০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০,০০০ টাকা করা হতে পারে বলেও সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় বাজেট সামনে আসার পর দেখা গেল, বাস্তবে তেমন কিছুই হল না আসলে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Budget 2024 Lakhpati didis Scheme : লাখপতি দিদি প্রকল্পের সুবিধা পেতে মহিলাদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক৷
সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজেটের সেই লাল বিফকেস উধাও হয়েছে। তার বদলে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর হাতে শোভা পায় আজকাল একটি লাল কভার বিশিষ্ট ট্যাব। ডিজিটাল দেশে সেই লাল কভারে ঢাকা ট্যাব থেকেই কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। সাধারণত লোকসভা ভোটের বছর ১ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করা হয় না। বরং ভোটের পর, নতুন সরকার গঠন হলে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ বাজেট পড়া হয়। সেই প্রথা মেনেই ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের বছরে অন্তর্বর্তী বাজেট ঘোষণা হয়েছে বৃহস্পতিবার। মূলত সরকারি খরচ ও কাজে যাতে বাধা না আসে, তার জন্য নির্বাচনের আগে ‘ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট’ বা অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ হয়। অন্তর্বর্তী বাজেটে সাধারণ ভাবে বড় কোনও ঘোষণা হয় না। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগেও অন্তর্বর্তী বাজেটে আয়কর ছাড়ের সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে কাউকেই আয়কর দিতে হবে না বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।
বর্তমানে দেশে দু’টি আয়কর কাঠামো চালু রয়েছে। একটি পুরনো। অন্যটি নতুন। নতুন কর কাঠামোয় ঊর্ধ্বসীমা ৭ লক্ষ টাকা। সেখানে করের হার কম, কিন্তু কোনও কর ছাড় মেলে না। পুরনোয় এখনও নানা ছাড় চালু রয়েছে। ভোটের আগে মানুষের আশা-আকাঙ্খা ছিল অনেকটাই। আয়কর থেকে গৃহঋণ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার কিছুটা হাত উপুর করবে কেন্দ্র, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল মানুষের। অনেকেই ভেবেছিলেন, নির্মলার এই বাজেট শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্তদের মুখে সামান্য হলেও হাসি ফোটাতে পারবে। তবে ২০২৪ বাজেট তেমন ভাবে মধ্য়বিত্তের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারল না।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Budget 2023: নতুন ট্যাক্স ব্যবস্থায় বছরে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর কোনও কর দিতে হবে না সাধারণ মানুষকে!

অবশ্য আয়করের ক্ষেত্রে তেমন কোনও আশার কথা শোনাতে না পারলেও, মধ্যবিত্তদের জন্য অন্য একটি সুখবর রয়েছে এই বাজেটে। নির্মলা জানিয়েছেন. এবার নাকি মধ্যবিত্তদের জন্য নয়া আবাস যোজনা আনতে চলেছে কেন্দ্র। এমনিতে কেন্দ্র পিএম আবাস যোজনার আওতায় গ্রামীণ এবং শহুরে এলাকায় নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং গরিব নাগরিকদের বাড়ি তৈরিতে সাহায্য করে। গ্রামীন এলাকায় সরাসরি গরিব নাগরিকদের বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়া হয়। যা পিএম আবাস যোজনা গ্রামীণ হিসাবে পরিচিত। আবার কোভিডকালে শহর এলাকায় নিম্ন মধ্যবিত্তদের জন্য পিএম আবাস যোজনা (শহর) চালু করা হয়। সেই প্রকল্প এখন বন্ধ। ফলে মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্তরা আবাস যোজনার কোনও সুবিধা পাচ্ছেন না।
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এদিন জানিয়েছেন, মধ্যবিত্তদের জন্য এবার নতুন আবাস যোজনা চালু করা হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা গ্রামীণ প্রকল্পের সাফল্যও তুলে ধরেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, "কোভিড কালে কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হলেও পিএম আবাস যোজনার কাজ চলেছে। আমরা প্রায় ৩ কোটি বাড়ি তৈরির লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে গিয়েছি। আগামী পাঁচ বছরে ওই প্রকল্পে আরও ২ কোটি বাড়ি বানানোর টার্গেট নিয়েছি আমরা।" একই সঙ্গে নির্মলার ঘোষণা, দেশের এক কোটি বাড়ির ছাদে সৌরশক্তি প্রকল্প বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অযোধ্যার রামমন্দির উদ্বোধনের পবিত্র দিনে এই ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকী ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের প্রাপ্য আটকে রাখা নিয়ে টানাপড়েন চলছে কেন্দ্র-রাজ্যের। তবে নির্মলার এ বারের বাজেটে সেই টানাপড়েন মেটার আভাস মিলেছে বলেই জানাচ্ছে অভিজ্ঞমহল।
এদিন বাজেট ভাষণে নির্মলা দাবি করেছেন, মোদি সরকার দেশের সর্বাঙ্গীন বিকাশ চায়। তাই নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তদেরও জীবন জীবিকার মান বাড়াতে হবে। নির্মলার দাবি, গত ১০ বছরে সাধারণ নাগরিকদের আয় বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে আবাস যোজনা যতই আশার কথা শোনাক না কেন, আয়কর নিয়ে কোনও নতুন ঘোষণা না আসায় খানিকটা হলেও মুখ ভার মধ্যবিত্তের। আর তার ছায়া কি পড়তে চলেছে আসন্ন ভোটে? ভোটবাক্সে কি এর প্রত্যুত্তর পেতে চলেছে তারা, নাকি রামমন্দির, হিন্দুরাষ্ট্র ও ধর্মের আফিম দিয়েই সেই শূন্যতা ভরিয়ে দিতে পারবে বিজেপি সরকার,সেটাই এখন দেখার।
















