ভারতের সঙ্গে মেলামেশা ক্ষতিকর, চিনের কাছে নালিশ মলদ্বীপের

Maldivian President on India: 'ভারতের সংস্পর্শ ক্ষতিকর' দাবি করে মলদ্বীপে অবস্থিত যাবতীয় ভারতীয় সেনাকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে মলদ্বীপ। বেজিং-এর কাছে ক্রমশ ঋণ বেড়ে চলেছে মলদ্বীপের।

Sindhu Som
৩ মিনিট
ভারতের সঙ্গে মেলামেশা ক্ষতিকর, চিনের কাছে নালিশ মলদ্বীপের

ভারতের সঙ্গে সবরকম সম্পর্ক চুকিয়ে দেওয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে গত বুধবার চিনের সঙ্গে কুড়িটি চুক্তিতে আবদ্ধ হলেন মলদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ মুইজ্জু। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার চুক্তিতে দুটি দেশই লাভবান হবে বলে মনে করছেন তিনি।

মুইজ্জুর বেজিং-প্রীতি নতুন ঘটনা নয়। সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে ট্যুইট বিতর্কে জড়িয়েছে মলদ্বীপ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লাক্ষাদ্বীপ ভ্রমণের ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার পর লাক্ষাদ্বীপ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন মলদ্বীপের কয়েকজন আধিকারিক। সেই বিষয়েই ভারত আসতে চেয়েছিলেন মুইজ্জু। আগ্রহ দেখায়নি দিল্লি। এরপরে মলদ্বীপ যাওয়ার বিমান একের পর এক বাতিল করে ভারতীয় ভ্রমণ সংস্থাগুলি। তারকাদের তরফে লাক্ষাদ্বীপ যাওয়ার প্রচার শুরু করা হয়। সঙ্গে সামাজিক মাধ্যম জুড়ে 'বয়কট মলদ্বীপ' প্রচার চালানো হয়।

গত মঙ্গলবার রাতে মুইজ্জু বেজিং পৌঁছান। চিনের ফুজিয়ান শহরে দিন দুয়েক থাকেন তিনি। চিন থেকে মলদ্বীপে আরও পর্যটক পাঠানোর জন্য চিন সরকারের কাছে আবেদন জানান মুইজ্জু। তিনি বলেন, “কোভিডের আগে চিন থেকে সর্বোচ্চ পর্যটক পেতাম আমরা। পূর্বাবস্থায় যাতে ফিরতে পারি, তার চেষ্টাই করা উচিত আমাদের।"

চিনের রাষ্ট্রপতি জানান, তিনি চিন থেকে মলদ্বীপগামী বিমানের সংখ্যা দু'গুণ বাড়িয়েছেন। এতে মলদ্বীপ এবং চিন─উভয় দেশই লাভবান হবে বলে আশা করছেন তিনি। মলদ্বীপের পর্যটন ক্ষেত্রটিতে ২০২২ সালে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৭৯ শতাংশ বলে জানিয়েছে এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাঙ্ক।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বলিউডের মন্দারমণি! কেন সব তারকাই মলদ্বীপ ঘুরতে যান?

India-Maldives row : ছুটির সেরা গন্তব্য হয়ে ওঠার পিছনে অন্যতম আরেকটি কারণ হচ্ছে এখানে ওয়ান আইল্যান্ড-ওয়ান রিসর্ট ব্যবস্থা রয়েছে।

মলদ্বীপ পর্যটন মন্ত্রক কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে ভারত থেকে সবথেকে বেশি পর্যটক পেয়েছিল মলদ্বীপ। ২ লক্ষ ৯ হাজার ১৯৮ জন ভারতীয় পর্যটক এ'বছর মলদ্বীপে আসেন। দ্বিতীয় স্থানে ছিল রাশিয়া। ২ লক্ষ ৯ হাজার ১৪৬ জন রাশিয়ান পর্যটক এসেছিলেন ২০২৩ সালে। চীন থেকে এসেছিলেন ১ লক্ষ ৮৭ হাজার ১১৮ জন।

‘ইন্ডিয়া আউট' প্রচার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নভেম্বরে জেতেন মুইজ্জু। তাঁর মতে, চিন মলদ্বীপের অন্যতম নিকট বন্ধু এবং উন্নয়নের সহযোগী দেশ। 'ভারতের সংস্পর্শ ক্ষতিকর' দাবি করে মলদ্বীপে অবস্থিত যাবতীয় ভারতীয় সেনাকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে মলদ্বীপ। বেজিং-এর কাছে ক্রমশ ঋণ বেড়ে চলেছে মলদ্বীপের। তারপরেও চিনের বিনিয়োগই চাইছেন মুইজ্জু।

ওইদিন চিনের রাষ্ট্রপতি শি চিনপিং গ্রেট হলে সর্বসমক্ষে মুইজ্জুকে 'পুরনো বন্ধু' বলে উল্লেখ করেন। ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপপুঞ্জে আরও লগ্নি করতে চলেছে চিন। শি চিনপিং মুইজ্জুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “চিন এবং মলদ্বীপের সম্মুখে এখন এক ঐতিহাসিক সুযোগ। আমরা পূর্বাবস্থায় ফিরে যাব, এবং ভবিষ্যত নির্মাণ করব।" চিন এবং মলদ্বীপের এই নতুন চুক্তিতে মলদ্বীপের প্রভূত উন্নতি সম্ভব। একই রকম ভাবে বিনিয়োগের পথে পা বাড়িয়েছে শ্রীলঙ্কাও।

চিনপিং তাঁর ভাষণে বলেন, “চিন মলদ্বীপের জাতীয় সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী এবং সর্বান্তকরণে তাকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করতে ইচ্ছুক। ম্লদ্বীপের সঙ্গে আমদানি-রফতানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেজিং। যদিও বিশ্ব ব্যাঙ্ক গত অক্টোবরে এ'ব্যাপারে সতর্কবার্তা জারি করেছে। তাদের আশঙ্কা, মলদ্বীপে বর্তমান সীমার অধিক চিনের বিনিয়োগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সার্বভৌমত্ব। মহামারীর সময়েও মলদ্বীপের আভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ প্রায় শূন্যের পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।

১২ জানুয়ারি মেলে ফিরে মুইজ্জু লি কিয়াং এবং অন্যান্য চিনা আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চান। চিনের কাছে মলদ্বীপের ঋণ প্রায় ১.৩৭ বিলিয়ন ডলার। যার ২০% জনতার ঋণ। বিশ্ব ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ও ভারতের কাছে মলদ্বীপের ঋণ যথাক্রমে ১২৪ মিলিয়ন ডলার ও ১২৩ মিলিয়ন ডলার। তারপরেও বেজিং-কে মুখ্য ঋণদাতা হিসেবে পেতে চাইছে মলদ্বীপ। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট প্রদত্ত তহ্য অনুযায়ী, চিনের বিভিন্ন ফার্মগুলি আরও ১.৩৭ বিলিয়ন ডলার বিন্যোগ করেছে মলদ্বীপে। বিশেষত ২০১৪ সালে মলদ্বীপ বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পে যোগ দেওয়ার পরেই বাড়ে এই বিনিয়োগ। সে'সময় মুইজ্জু এই প্রকল্পের খুব প্রশংসা করেছিলেন। বলেছিলেন, “মলদ্বীপের ইতিহাসে পরিকাঠামোর উন্নয়নের স্বার্থে এমন প্রকল্প পাওয়া দুষ্কর।"

২০১৪-র ডিসেম্বরে মলদ্বীপ এবং চীন আরেকটি বাণিজ্যিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিল। সে সময় মলদ্বীপের রাষ্ট্রপতি আবদুল্লা ইয়াসমিন। যদিও পরবর্তী রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ সেই চুক্তি কার্যকর করেননি। মুইজ্জু সেই চুক্তিটিকেই উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন, এফটিএ দুই দেশের বাণিজ্যিক সুসম্পর্কের নিদর্শন।

লিখেছেন
Sindhu Som
Sindhu Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।