হাসিনার প্রশংসা মমতার মুখে, তিস্তা চুক্তির ভবিষ্যৎ কোন পথে?

Mamata-Hasina relation: হাসিনা-মমতা সম্পর্কের আবহে আলো দেখবে তিস্তা চুক্তি?

Ramen Das
৩ মিনিট
হাসিনার প্রশংসা মমতার মুখে, তিস্তা চুক্তির ভবিষ্যৎ কোন পথে?

তিস্তা তুমি কার, হাসিনার না মমতার! ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং দুই দেশের মধ্যে তিস্তা জলবন্টন চুক্তির টানাপড়েনে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা নিয়ে ঠাট্টা করেই একথা বলেন অনেকে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাহিদা পূরণে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তি যে বাধা সৃষ্টি করছে এমন দাবিও করেন কেউ কেউ। কিন্তু এই জল চর্চার আবহেই বিতর্ক উসকে দিয়েছে হাসিনার ভারত সফর। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে চলা এই সফরের মূল কেন্দ্র এবার নয়া দিল্লি। কে সফরে উল্লেখযোগ্যভাবে নেই পশ্চিমবঙ্গের উপস্থিতি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত, বাণিজ্য থেকে শুরু করে সমস্ত ক্ষেত্রেই সর্বাধিক ভূমিকা পালন করে পশ্চিমবঙ্গ।

এখানেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। সোমবার নয়া দিল্লিতে পা দিয়ে মমতা প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, ''মমতা আমার বোনের মতো, চাইলেই দেখা করতে পারি!'' আর এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বিজেপি তথা কেন্দ্রকে ফের আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোরে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলার নেতাদের নিয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচন সংক্রান্ত বৈঠকে মমতা বলেন, ‘'হাসিনাজি নয়া দিল্লিতে এসেছেন। আমার সঙ্গে ওঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুব ভাল। দুর্গাপুজোর সময়ে আমি ওঁকে চিঠি দিই। উনি আমাকে শাড়ি পাঠান। আম পাঠান, কখনও ইলিশ পাঠান। আমি শুনেছি, উনি এই সফরে আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু দিল্লি তা শোনেনি। এই প্রথম দেখলাম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে এসেছেন, অথচ বাংলাকে বাদ দেওয়া হল।'' মমতার এই মন্তব্যের পরেই হাসিনা সফরে বাংলাকে ইচ্ছাকৃত বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। যেখানে শিকাগো, রোম এমনকী, চিনে মমতাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও কেন্দ্রের বাধায় সেই সফর করতে পারেননি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, এই অভিযোগও ওঠে। ফের হাসিনার সঙ্গে মমতার সাক্ষাৎ না হওয়া নিয়েও সেই বিতর্কই চরমে উঠেছে। যদিও দেশের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে মমতার এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আলো দেখতে পারে তিস্তা চুক্তি? বাংলাদেশ যা চায়

এরকম অবস্থায় শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফর শেষে বাংলাদেশ ও ভারত কি অবশেষে তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারবে? না কি আরও একবার হতাশ হয়ে ফিরতে হবে হাসিনাকে?

মমতার এই সাক্ষাৎ আবহেই কড়া নাড়ছে অন্য ইঙ্গিতও। যেখানে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে দেখা গিয়েছে, সোমবার দিল্লিতে কূটনৈতিক পর্যায়ের এক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। যেখানে অতিথিদের বসার এক একটি টেবিলের নাম বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর নামে দেওয়া হয়। পদ্মা, মেঘনা, তিস্তা... সেই অনুষ্ঠানেই ঘনিষ্ঠ বৃত্তে মজার ছলে হাসিনা বলেন, ''ভারত পর্যাপ্ত জল দিচ্ছে না তাই ইলিশও পাঠাতে পারছি না। যদিও পুজোয় ইলিশ পাঠাতে অসুবিধা নেই!'' কূটনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন, এই মজার ছলেই হাসিনা ব্যক্ত করেছেন ভারত বাংলাদেশের জল বণ্টন চুক্তি আটকে থাকার আবহ। যেখানে তিস্তার জলের উপর কৃষিকাজ নির্ভরশীল, এমন বহু জায়গা বাংলাদেশে রয়েছে। তিস্তা তীরবর্তী ওই অঞ্চলে জলের অভাব মেটানো সম্ভব এই চুক্তির ফলে। তাতে বাংলাদেশের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে বাংলাদেশ তিস্তার জলের একটা বড় অংশ লাভ করলে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অংশের জেলায় অসুবিধা হবে। অনেক ক্ষেত্রেই সেচ অথবা কৃষিকাজে জলের একটা অভাব পরিলক্ষিত হতে পারে, এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তিস্তা নিতে আপত্তি ব্যক্ত করেছেন মমতা। যেখানে বারবার কেন্দ্রের তরফে সদিচ্ছা থাকলেও মমতার আপত্তিতে সেই চুক্তি সম্পন্ন হচ্ছে না, পরোক্ষে এইরকম একটা অবস্থা তৈরি করতে পেরেছে কেন্দ্র। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপেক্ষা করে তিস্তা নিয়ে এগোনো যে সম্ভব নয়, একথা বলেছিলেন প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

অনেকেই বলছেন, এই আবহেই প্রকাশ্যে বোনের মতো সম্পর্ক বললেও মমতা আর হাসিনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক আগের মতো আর না থাকার সম্ভাবনা বেশি! দুই নেত্রীই নিজের ক্ষমতার বৃত্তের জনগণের স্বার্থে কাজ করলেও বাংলাদেশের না তিস্তার জল পাওয়ার জন্য মমতার দোষ, এই বিষয়টি খানিকটা প্রতিষ্ঠিত পেয়েছে। আর সেই আবহেই উপহার দেওয়া নেওয়া অথবা দুই নেত্রীর প্রকাশ্য সম্পর্কে কোনও বিভেদ না ঘটলেও কূটনীতিক দিক থেকে কি সন্তর্পণে মমতাকে এড়িয়ে গেলেন হাসিনা! এই প্রশ্নের আবহেই জোরালো ভূমিকা পালন করছে, হাসিনার ৪ দিনের ভারত সফরের গতিপ্রকৃতি। দিল্লিতে দাঁড়িয়ে হাসিনা রোহিঙ্গা-ইস্যুতে বড় দেশ ভারতের অনেককিছু করার ক্ষমতা আছে বলেছেন। দুই দেশের সীমান্তে বয়ে চলা নদীর প্রবাহমানতা নিয়েও দুই দেশের ভূমিকার কথা বলেছেন তিনি। পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদি-শেখ হাসিনা দীর্ঘক্ষণ বৈঠক হয়েছে মঙ্গলবার। দুই দেশের মধ্যে ৭টি মউ স্বাক্ষর হয়েছে।

এদিকে ভারত সফরের প্রথম দিন সোমবার নয়া দিল্লির নিজামউদ্দিন দরগাহ ও মাজারে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হাসিনা। তাঁর বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পরে দিল্লিতে নির্বাসনে থাকার সময় তিনি প্রথম এই দরগাহ পরিদর্শন করেন। বৃহস্পতিবার রাজস্থামের আজমের শরিফ পরিদর্শনে যান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু 'বোনের মতো মমতা, চাইলেই দেখা করতে পারি,' বললেও বিশেষ ইচ্ছার বশে দীর্ঘ সময়ের ভারত সফরে মমতার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা জানাননি হাসিনা। অর্থাৎ প্রকাশ্যে দেখা করার ইচ্ছা ছিল, করতে পারিনি বা করব; এমন একটা ইন্ধন দিলেও আসলে মমতা এই সফরে গৌণ, এই বার্তাও দিয়েছেন হাসিনা। অর্থাৎ জল-বিবাদ যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের এগিয়ে চলার পথে একটা ভূমিকা পালন করছে, তা-ও প্রকাশ পেয়েছে হাসিনার যাবতীয় কার্যকলাপে, এমনও মনে করছেন কেউ কেউ।

লিখেছেন
Ramen Das
Ramen Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।