আইপিএল মানেই গ্যালারি জুড়ে সেই ভেঁপুর মিউজিক! বিখ্যাত সুরটির পেছনে রয়েছে কোন ইতিহাস?

Famous Trumpet of IPL : গ্যালারি থেকে রিংটোন, ভারত আর আইপিএলকে জুড়ে রেখেছে ওই বিশেষ সুর, সেই স্পেশাল ভেঁপুর শব্দ।

inscript
২ মিনিট
আইপিএল মানেই গ্যালারি জুড়ে সেই ভেঁপুর মিউজিক! বিখ্যাত সুরটির পেছনে রয়েছে কোন ইতিহাস?

বিশ্বকাপ ফুটবল শেষ হয়ে গিয়েছে অনেকদিন হল। এবার ক্রিকেটের জন্য রাত জাগার পালা। শুরু হয়ে গিয়েছে টি-২০ ক্রিকেটের মহারণ। গোটা বিশ্বের ক্রিকেট মহল এখন তাকিয়ে রয়েছে ভারতের দিকে। ৩১ মার্চ থেকেই জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হয়ে গিয়েছে এবছরের আইপিএল। দেশ বিদেশের নামী খেলোয়াড়রা একেকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির জার্সি গায়ে নামবেন। তারপর ‘চার ছক্কা হইহই’-এর হাত ধড়ে মেতে উঠবে উপমহাদেশ। কে জিতবে এবছরের আইপিএল, এই প্রশ্নে এখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে দ্বন্দ্বযুদ্ধ। তবে সবে তো আরম্ভ হল, এখনও অনেকটা দিন পেরনো বাকি। সেইসঙ্গে সামনেই আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ আর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। তাই উত্তেজনা আরও তুঙ্গে।

তবে এসবের মাঝে উঠে আসে টুকরো টুকরো কিছু স্মৃতি, টুকরো কিছু মুহূর্ত। আর সেই সব মুহূর্তকে জুড়ে রেখেছে একটা বিশেষ আওয়াজ। ২০০৮ সাল থেকে শুরু হওয়া আইপিএলের প্রতিটা দৃশ্যের সঙ্গে একেবারে জড়িয়ে গিয়েছে সেই শব্দ। বলা ভালো, একটি বিশেষ সুর। এই স্টোরিটি যখন লেখা হচ্ছে, তখনও স্টেডিয়ামের দর্শকরা হয়তো চিৎকার করে উঠছেন এই আওয়াজ শুনে। গ্যালারি থেকে রিংটোন, ভারত আর আইপিএলকে জুড়ে রেখেছে ওই বিশেষ সুর, সেই স্পেশাল ভেঁপুর শব্দ। নিশ্চয়ই এতক্ষণে আপনার কানেও বেজেছে সেই আওয়াজ!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বয়স পেরিয়েছে ৪১, কমেনি পেশির জোর, আইপিএল মানে আজও সেই 'বৃদ্ধ' এমএস ধোনি

CSK Dhoni Oldest Captain Ever : তাই তো মাঠে নেমে পড়েছেন ‘ক্যাপ্টেন কুল’। স্টেডিয়াম জুড়ে আবার চিৎকার ‘ধোনি! ধোনি!’

সবচেয়ে মজাদার ব্যাপার হল, আইপিএলের শুরু থেকে এই ট্রাম্পেট মিউজিক ছিল না। ২০০৯ সালে আইপিএলের দ্বিতীয় মরসুমে প্রথমবার এটি সামনে আসে। খেয়াল করে দেখবেন, সেবার বিখ্যাত এই টি-২০ লিগটি দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলা হয়েছিল। দেশের বাইরে সেটাই ছিল প্রথম আইপিএল। তখনও এই লিগের শীর্ষ কর্তা হিসেবে বসে আছেন ললিত মোদি। তিনি ভাবলেন, এই টুর্নামেন্ট নিয়ে এমন কোনও থিম মিউজিক করা যায়, যা সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের মনে গেঁথে যাবে? মিউজিক শুরু হলেই সবাই মেতে উঠবেন? আর যা আইপিএলকে আলাদা পরিচিতি দেবে?

সেই সময় আইপিএলের মার্কেটিং হেড ছিলেন ফ্রাঙ্কোস পিয়েনার। তিনি নিজে বিশ্বকাপজয়ী রাগবি অধিনায়ক। তাই খেলার মাঠের রসায়ন আর খেলার সঙ্গে দর্শকদের মনস্তত্ত্বের ব্যাপারটি ভালোই বুঝতেন। ললিত মোদির সঙ্গেও এই ব্যাপারে কথাবার্তা বলছিলেন। একটা তো থিম মিউজিক থাকা জরুরি! কিন্তু কী করা যায়? কী এমন মিউজিক, যা দর্শকদের জুড়ে দেবে একসঙ্গে? একদিন রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে এসবই ভাবছিলেন ফ্রাঙ্কোস পিয়েনার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সামনেই ভারতের টি-২০'র মরসুম, প্রথম আইপিএলের এই খেলোয়াড়রা এখন কোথায়, জানেন?

IPL 1st Edition Players : কোথায় সেই ক্রিকেটাররা? প্রথম আইপিএলের সেরকমই কয়েকজন খেলোয়াড়ের দিকে ফিরে তাকানো যাক একবার।

হঠাৎই তাঁর চোখে ভেসে এল কিছু দৃশ্য। সেই দৃশ্য তাঁর খেলোয়াড় জীবনের অঙ্গ। তিনি যখন রাগবি খেলতেন, তখন স্টেডিয়ামে এক প্রকারের ভেঁপু বেজে উঠত। চলতি ভাষায় সেটাকে বলা হতো ‘বাগল’। সেই আওয়াজের সঙ্গে সঙ্গে চনমনে হয়ে উঠতেন সমস্ত দর্শক। চিৎকার শুরু করতেন তাঁরা। খেলোয়াড়রাও উজ্জীবিত হতেন। সেরকমই কোনও সুর যদি দেওয়া যায় আইপিএলে?

ব্যস, বাকিটা ইতিহাস। আজ যে বিখ্যাত সুরটির জন্য আইপিএল পরিচিত, যা শুনলে একডাকে মেতে ওঠে গোটা স্টেডিয়াম, সেটি আসলে ট্রাম্পেটের আওয়াজ। স্পেনের একটি গান ‘En Er Mundo – Pepe El Trompeta’-র একদম শুরুর সুরটা নিয়েই তাকে আরেকটু অন্যরকম করে সামনে আনা হয়েছে। সাধারণত, স্পেনের বিখ্যাত বুল ফাইটিংয়ের সময় এই সুরটি বাজানো হয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সেই দেশের ইতিহাসও। এখন সেটাই হয়ে গিয়েছে আইপিএলের থিম মিউজিক। তবে বাইশ গজের গণ্ডি ছাড়িয়ে আজ ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে এটি। ইতিহাস এভাবেই হঠাৎ করে সব বদলে দেয়, তাই না!

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।