প্রেম বড় বালাই! গিন্নির খোঁজে পায়ে হেঁটেই মহারাষ্ট্র থেকে তেলঙ্গানায় জনি দ্য টাইগার

Tiger: শীতকাল আসলে বাঘেদের মিলনের মরসুম। আর সে সময়ে সঙ্গীহীন থাকতে মোটেও চায়নি জনি। তাই সময় থাকতেই বেরিয়ে পড়েছিল সে।

Sohini Das
৩ মিনিট
প্রেম বড় বালাই! গিন্নির খোঁজে পায়ে হেঁটেই মহারাষ্ট্র থেকে তেলঙ্গানায় জনি দ্য টাইগার

প্রেমিক বা প্রেমিকার খোঁজে ডেটিং অ্যাপের দ্বারস্থ হন অনেকেই। প্রেমের মরসুমে টিন্ডার, বাম্বলে উপচে পড়ে ভিড়। তা কবি তো এমনিই বলেছেন, 'ইয়ে ইশক নেহি আসান, আগ কা দরিয়া হ্যায়, ডুবকে যানা হ্যায়'। এদিকে, বাঘেদের না আছে ডেটিং অ্যাপের সুবিধা, না রয়েছে তাদের জন্য স্বয়ংবর সভার ব্যবস্থা। তাই বলে কি প্রেম নেই? তাই বলে 'একা বোকা' হয়ে বসে থাকলেই বা চলে নাকি! তা-ই প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সুদূর মহারাষ্ট্র থেকে তেলঙ্গানা চলে এল একটি সঙ্গীহীন বাঘ। প্রেমের টানে কার্যত এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে পাড়ি দেওয়ার এমন ঘটনা দেখে অবাক বনকর্মীরা।

মহারাষ্ট্রের নান্দেড় জেলার টিপেশ্বর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য় থেকে রওনা হয়েছিল সে। সঙ্গীর খোঁজে সম্প্রতি তেলেঙ্গানার কাওয়াল টাইগার রিজার্ভে চলে এসেছে বাঘটি। সাধারণত অভয়ারণ্যের প্রতিটি বাঘকে ট্র্যাক করতে রেডিও কলার ব্যবহার করে থাকে বন দফতর। জনি নামক এই পুরুষ বাঘটির রেডিও কলার ট্র্যাক করে বনকর্তারা জানতে পেরেছেন, সেই অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে যাত্রা শুরু করেছিল জনি। অবশেষে প্রায় দু-মাস যাত্রা করে তেলঙ্গানা পৌঁছেছে বাঘটি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ক্রিসমাস কেক ও থলকাবাদের বাঘ

Christmas In Barbil: বাইরে প্রথা মেনে বারা স্যার সান্তা হয়ে বেরোচ্ছেন, সিস্টার অ্যানি এসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে, গাল টিপে আদর করে অস্ফুটে বলেছিলেন, ‘বি ব্রেভ সান’।

শীতকাল আসলে বাঘেদের মিলনের মরসুম। আর সে সময়ে সঙ্গীহীন থাকতে মোটেও চায়নি জনি। তাই সময় থাকতেই বেরিয়ে পড়েছিল সে। তেলঙ্গানার আদিলাবাদ জেলার বনকর্তা প্রশান্ত বাজিরাও পাতিল অবশ্য জানাচ্ছেন, বাঘেদের ক্ষেত্রে এ অবশ্য খুব ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। আশপাশের অঞ্চলে সঙ্গী খুঁজে না পেলে মাঝেমধ্যেই দীর্ঘ যাত্রা করে থাকে বাঘেরা। এক্ষেত্রে নির্মল জেলার কুন্তলা, সারঙ্গাপুর, মামাদা, পেম্বি মণ্ডল এলাকার বিভিন্ন এলাকা দিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে বাঘটিকে। এমনকী হায়দরাবাদ-নাগপুর NH-44 হাইওয়েও অতিক্রম করতে দেখা গিয়েছে জনি দ্য টাইগারকে। কিন্তু প্রেমের খোঁজে বাঘটির এই দীর্ঘ পথ পেরোনো কিন্তু বেশ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় মানুষ ও বনকর্মীদের জন্য।

বনকর্মীরা মনে করছেন, যে পথ দিয়ে জনি হাঁটছে, তাতে কানওয়াল টাইগার রিজার্ভে এসে বাঘটির গন্তব্য শেষ হতে পারে। তা অবশ্য কানওয়াল ব্যাঘ্র প্রকল্পের জন্য আশার খবরই বটে। কারণ চোরাশিকারি ও ক্রমাগত বনক্ষয়ের কারণে বাঘের সংখ্যা তলানিতে ঠেকেছে সেখানে। ২০২২ সাল থেকে কোনও বাঘই আর তার পাকা আস্তানা বানায়নি এই টাইগার রিজার্ভটিকে। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়, আসার পথে অন্তত ৫টি গবাদি পশু শিকার করেছে বাঘটি। একাধিক গরু শিকারেরও চেষ্টা করেছে, তবে তাতে সফল হয়নি সে। বনকর্তারা অবশ্য বলছেন, বাঘটির থেকে মানুষের তেমন কোনও ঝুঁকি নেই। কিন্তু আশপাশের এলাকার মানুষজনকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, জনিকে শেষ দেখা গিয়েছে উটনুর এলাকায়। সেখানে একটি গবাদি পশু হত্যা করেছে সে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মানুষের মতো গোনা অসম্ভব! কীভাবে গভীর জঙ্গলে গোনা হয় বাঘের সংখ্যা?

50 Years of Project Tiger : ১৯৭৩ সালে যখন বিষয়টা প্রথম শুরু হয়, বনকর্মীরা বাঘের পায়ের ছাপ শনাক্ত করতে কাঁচ এবং মাখনের কাগজ ব্যবহার করতেন।

বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, আপাতত কেরামেরির জঙ্গলে দুটি স্ত্রী বাঘ রয়েছে জনির নিশানায়। তাদের প্রস্রাবের ঘ্রাণ অনুসরণ করে করে এগোতে চাইছে জনি। আসিফবাদেও একটি মহিলা বাঘ রয়েছে। তার থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে বাঘটি। তেলেঙ্গানার বন উপদেষ্টা কমিটির প্রধান ড এলুসিং মেরু অবশ্য এই ঘটনায় বেশ উচ্ছ্বসিত। তেলেঙ্গানায় হঠাৎ একটি পুরুষ বাঘ বেড়ে যাওয়াকে আশাজনক বলেই মনে করছেন তিনি। তিনি এ-ও জানান, শীতের মরসুম আসার আগেই বাঘেদের এই ধরনের উদ্যোগ অস্বাভাবিক নয় একেবারেই। তবে জনি নামক বছর ছয়েকের এই বাঘটি প্রায় এক মাস আগে মহারাষ্ট্রের পৈনগঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ছেড়েছিল। সঙ্গিনীকে খুঁজতে খুঁজতে প্রথমে মহারাষ্ট্রের নান্দেড় জেলায় পৌঁছয়। সেখান থেকে ইয়াভাতমাল জেলার তিপেশ্বর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হয়ে আদিলাবাদ জেলার সীমানা পেরিয়ে তেলঙ্গানায় প্রবেশ করে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, মহারাষ্ট্র ছেড়ে এত দূরের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে হঠাৎ কেন রওনা দিল বাঘটি। মহারাষ্ট্রের তাডোবা জঙ্গলে অন্তত তিনটি মহিলা বাঘ রয়েছে। তাদের দিকে না গিয়ে মহারাষ্ট্র থেকে এত দীর্ঘ পথ হেঁটে কেন তেলঙ্গানা আসতে গেল সে? আসলে মহারাষ্ট্র ও তেলঙ্গানা, এই দুটি রাজ্য একটি সীমানা ভাগ করে থাকে। সেই সীমানার রাস্তা ধরেই তেলঙ্গানা চলে এসেছে বাঘটি বলে মনে করা হচ্ছে। আসলে তাড়োবা টাইগার রিজার্ভ ও টিপেশ্বর বন্যাপ্রাণী অভয়ারণ্য দুটি জঙ্গলেরই সরাসরি অ্যাক্সেস রয়েছে তেলঙ্গানার উত্তরপ্রান্তে অবস্থিত কাওয়াল টাইগার রিজার্ভের। তা সত্ত্বেও বছর দুয়েক ধরে বাঘের চিহ্নমাত্র নেই এই জঙ্গলটিতে। দিনে দিনে আবাসস্থল সঙ্কুচিত হওয়ার কারণে বাঘের সংখ্যা সেখানে তলানিতে ঠেকেছে। বর্তমানে, করিডোর এবং বাফার এলাকা সহ কাওয়াল রিজার্ভে কয়েকটি বাঘ রয়েছে বটে। তবে তারা সেখানে স্থায়ী ভাবে থাকে না। খুব ঘন ঘন জায়গা বদলাতে থাকে তারা।

তবে তেলঙ্গানার এই বাঘের খরা এবার কাটতে চলেছে বলেই আশাবাদী তেলঙ্গানার বন দফতর। কয়েক মাস আগেই তাড়োবা থেকে একটি পুরুষ বাঘ চলে এসেছে তেলঙ্গানায়। এবার এল জনি। আপাতত শার্দুল সমাজের নতুন প্রজাতির আশাতেই বুক পেতেছে তেলঙ্গানা বনদফতর।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।