বাংলাদেশের অভ্যুত্থানে 'ডিপ স্টেট'-এর ভূমিকা ছিল? যা বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

Donald Trump on Bangladesh: ট্রাম্প বলেছেন, "সত্যি বলতে, আমি বিষয়টা নিয়ে পড়ছি, কিন্তু আমি বাংলাদেশ বিষয়টা প্রধানমন্ত্রীর উপরেই ছেড়ে দেব।”

inscript
২ মিনিট
বাংলাদেশের অভ্যুত্থানে 'ডিপ স্টেট'-এর ভূমিকা ছিল? যা বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ট্রাম্প দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সময় থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে। ভারত আর বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নড়বড়ে। এদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির গভীর সখ্য। ফলে ভারত, বাংলাদেশ আর আমেরিকার সমীকরণ কী হবে এই নিয়ে চিন্তা ছিলই। সদ্য মার্কিন মুলুকে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গিয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় পড়শি দেশের অবস্থা সম্পর্কে তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প আর মোদির এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময়ই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'গভীর কোনও ভূমিকা' নেই।

বাংলাদেশের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের শুরুতেই জানিয়ে দেন, “আমাদের গভীর কোনও ভূমিকা ছিলও না… এটা এমন একটি বিষয় যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছেন এবং শত শত বছর ধরে কাজ হয়েও চলবে। সত্যি বলতে, আমি বিষয়টা নিয়ে পড়ছি, কিন্তু আমি বাংলাদেশ বিষয়টা প্রধানমন্ত্রীর উপরেই ছেড়ে দেব।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১৮ লক্ষ কোটি টাকার দেনা চাপিয়ে গেছেন হাসিনা? যে বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ

Bangladesh Economy: ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি যখন শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসেন তখন সরকারের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ ছিল মাত্র ২ লক্ষ ৭৬ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা।

ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি বলেন, "বাংলাদেশ সম্পর্কে আমরা কী বিবৃতি দিচ্ছি, এটা নিয়ে দুই দেশের নেতার মধ্যেই আলোচনা হয়েছিল এবং প্রধানমন্ত্রী তাঁর মতামত ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী এবং পরিস্থিতিকে ভারত কীভাবে দেখছে সেই সম্পর্কে উদ্বেগগুলিও প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।” মিসরি বলছেন, “আমার মনে হয় যে আমরা আশা রাখি বাংলাদেশের পরিস্থিতিও এমন একটি দিকে এগিয়ে যাবে যেখানে আমরা তাদের সঙ্গে গঠনমূলক এবং স্থিতিশীলভাবে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারি। কিন্তু সেই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এবং প্রধানমন্ত্রী সেই মতামতগুলি রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।”

গত বছরের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। তারপর থেকেই ভারত আর বাংলাদেশের সম্পর্ক তিক্ত হয়েছে। সম্প্রতি সীমান্ত নিয়ে আবারও কূটনৈতিক প্রতিবাদ হয়েছে। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছিল। সেই আবেদনে ভারত এখনও সাড়া দেয়নি। বাংলাদেশে শেখ মুজিবুর রহমানের ৩২ ধানমন্ডির বাসভবন ধ্বংস করে দিয়েছে হাসিনা বিরোধী জনগণ। ফলে বাংলাদেশ, গত ছয় মাসে যে শান্ত হয়েছে কিছুটা, সেই দাবিও করা যায় না। বিক্রম মিসরি গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকায় গিয়েছিলেন। বাংলাদেশের পরিস্থিতি এবং হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার কথা বলা হলেও, বরফ গলেনি এতটুকুও।

হাসিনা গত বছর বঙ্গোপসাগরের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটির অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন। অভিযোগ করেন, এই অনুমতি না দেওয়ার জন্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কৌশলে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের সময় হাসিনার আওয়ামী লীগ এবং লীগ ঘনিষ্ঠ অন্যান্য সংগঠনের সমর্থকরা ওয়াশিংটনে ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের ডাক দিয়েছেন। ইউনূসকে 'সংখ্যালঘু হত্যাকারী' বলে দাগ্যে দিয়েছেন। এখন দেখার, ট্রাম্প তো মোদির উপর বাংলাদেশের 'ভার' ছাড়লেন। কিন্তু মোদি এই বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবেন আদৌ? অগাস্টের পর থেকে এখনও তিনি নিজে এই বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনও মতামতই ব্যক্ত করেননি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।