মানুষের বিষ্ঠায় দূষিত সঙ্গম! কুম্ভে স্নান ডেকে আনতে পারে যে বিপজ্জনক রোগগুলি

Maha Kumbh Ganga Pollution: এই দূষিত জল ছুঁলেই গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সংক্রমণ, ত্বকের ফুসকুড়ি, চোখ জ্বালা এবং টাইফয়েড এবং হেপাটাইটিস এ-এর মতো গুরুতর অবস্থা সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে।

inscript
৩ মিনিট
মানুষের বিষ্ঠায় দূষিত সঙ্গম! কুম্ভে স্নান ডেকে আনতে পারে যে বিপজ্জনক রোগগুলি

মানুষের মলে যে ব্যাকটেরিয়া থাকে, তাতে এখন পরিপূর্ণ মহাকুম্ভের পবিত্র জল। সেই জলে পাপ ধুচ্ছেন সাধারণ মানুষ। পাপের নামে ধুয়ে যাচ্ছে আরও নানাকিছুই, যা সাধারণ সময়ে মানুষের কাছে 'ঘৃণ্য' হলেও পুণ্যের খাতায় সবই 'জায়েজ'। শুধু স্নান করছেন না, বোতলে, বড় পাত্র সেই জল ভরে নিয়ে আসছেন মানুষ সেই জল। বিলিয়ে দিচ্ছেন পড়শিদের মধ্যে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের প্রতিবেদনের পরে, জাতীয় গ্রিন ট্রাইব্যুনাল প্রয়াগরাজের গঙ্গায় মাত্রাতিরিক্ত মল ব্যাকটেরিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জানা গিয়েছে, মহা কুম্ভ মেলা চলাকালীন মানুষের ও প্রাণীদের মলে থাকা কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে।

গত ১২-১৩ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড একটি পর্যবেক্ষণে জানায়, নদীর জলের বায়োকেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (BOD) মান স্নানের জলের কাঙ্খিত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। সেই প্রতিবেদনে আরও জানা গিয়েছিল যে, মহাকুম্ভের সময়, বিশেষত শুভ দিনগুলিতে বিপুল সংখ্যক লোক গঙ্গায় স্নান করার ফলে মলের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। এই এলাকায় স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (STPs) সাধারণত চালু থাকলেও, শাহী স্নান এবং উৎসবের অন্যান্য মূল আচার-অনুষ্ঠানের সময় দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের গঙ্গা নদীর সঙ্গমে সরকারি দাবি অনুযায়ী ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ ডুব দিয়েছেন। সহজেই অনুমেয়, ওই জলের অবস্থা এখন ঠিক কী?

এই কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া আসলে কী?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'১৪৪ বছর' আসলে রাজনৈতিক প্রচার! এবারের মহাকুম্ভ সত্যিই বিরল?

Maha Kumbh 2025 Myth: যদি শেষ মহাকুম্ভ মেলা ১৪৪ বছর আগে অর্থাৎ ১৮৮১ সালে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে হিসেবমতো তখন ভারতে ব্রিটিশদের শাসন। তাহলে ইংরেজদের খাতায় নিশ্চয়ই এত বড় সমাগমের উল্লেখ রইবে।

উষ্ণ রক্তের প্রাণী এবং মানুষের অন্ত্রে মল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। এগুলি সাধারণত জলে সম্ভাব্য দূষণের সূচক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ কোনও জলে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি থেকে বোঝা যায় যে জলে ক্ষতিকারক রোগজীবাণু যেমন ভাইরাস, পরজীবী বা অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াও থাকতে পারে, যা প্রাণী এবং মানুষের অন্ত্র থেকে নির্গত মল থেকে উদ্ভূত হয়।

পানীয় জল, সাঁতার বা অন্যান্য বিনোদনমূলক ক্রিয়াকলাপের জন্য জল নিরাপদ কিনা তা নির্ধারণ করতে প্রায়শই জলে কলিফর্ম আছে কিনা তা পরীক্ষা করেই জলের গুণমান মূল্যায়ন করা হয়। মলে থাকা কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া দূষণের ভয়াবহ ভূমিকা রয়েছে স্বাস্থ্যের উপর। এই ব্যাকটেরিয়া বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া এবং আরও গুরুতর সংক্রমণ সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ফলত, এই মুহূর্তে সঙ্গমের জলে যারা পাপ ধোবেন বলে ডুব দিচ্ছেন, তাঁদের নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকা উচিত।

কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড বা CPCB বলছে, গঙ্গা এখন মলে থাকা কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ব্যাপকভাবে দূষিত। আর এর মূল কারণ অপরিশোধিত পয়ঃনিষ্কাশন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পদপিষ্ট গরিবরাই! উচ্চবিত্তদের জন্য মহাকুম্ভে কী আয়োজন? চমকে দেবে বিলাসের বহর

Maha Kumbh 2025: উচ্চবিত্তদের কুম্ভ! বাথটাব, রেইন শাওয়ার, গরম এবং ঠান্ডা জলের বাথরুম, হিটারের উত্তাপ, বিনামূল্যে ওয়াইফাই – পাঁচতারা হোটেলে যা থাকে সব আছে সেখানে!

মলে থাকা কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া কতটা ক্ষতিকর?

মহাকুম্ভ মেলা চলাকালীন, কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, মলে থাকা কলিফর্মের মাত্রা প্রতি ১০০ মিলিলিটার জলে ২,৫০০ ইউনিটের নিরাপদ সীমার চেয়ে অনেক বেশি। অর্থাৎ গঙ্গার জলে স্নান এই মুহূর্তে বেশ বিপজ্জনক। মহাকুম্ভ উপলক্ষ্যে কোটি কোটি তীর্থযাত্রী প্রয়াগরাজে ভিড় করার কারণে, জলবাহিত রোগের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আশেপাশের এলাকা থেকে অপরিশোধিত পয়ঃনিষ্কাশনের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এই জল সরাসরি ছোঁয়াও এখন বিপজ্জনক।

এই দূষিত জল ছুঁলেই গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সংক্রমণ, ত্বকের ফুসকুড়ি, চোখ জ্বালা এবং টাইফয়েড এবং হেপাটাইটিস এ-এর মতো গুরুতর অবস্থা সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। দূষিত জলের ফোঁটায় শ্বাস-প্রশ্বাসের সংক্রমণ হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক এবং ছোট শিশু, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাঁদের বিপদ বেশি।

যারা তীর্থযাত্রী, বিপদ শুধু তাঁদেরই নয়। এই দূষণ স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্যও ভয়াবহ অবস্থা তৈরি করছে। যে মানুষরা তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের জন্য গঙ্গার জলের উপর নির্ভর করেন, জলে মলে থাকা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ক্রমাগত বাড়তে থাকায়, ত্বক, পরিপাকতন্ত্র এবং শ্বাসযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্থ হবে তাঁদের। দীর্ঘদিন ধরে এই দূষণের ফলে মূত্রাশয় এবং কোলন ক্যান্সার সহ নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সারের আশঙ্কাও চরম বেড়ে যেতে পারে।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

প্রতিদিন ওষুধ নয়, ছ’মাস অন্তর একটি ইঞ্জেকশন! HIV প্রতিরোধে নতুন দিশা Dr Reddy’s-এর

HIV Prevention: প্রতিদিন HIV প্রতিরোধের ওষুধ খাওয়ার বদলে ছ’মাস অন্তর একটি ইঞ্জেকশন! Dr Reddy’s-এর তৈরি জেনেরিক লেনাকাপাভির USFDA-র টেন্টেটিভ অনুমোদন পেয়েছে। বছরে মাত্র দু’টি ডোজেই যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে HIV-1 সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। কারা নিতে পারবেন এই ইঞ্জেকশন? দাম কত? কবে মিলবে ভারতের বাজারে?

করোনা সেরে গেলেও পিছু ছাড়ছে না ক্লান্তি! লং কোভিড নিয়ে নতুন গবেষণায় কী জানা গেল?

Long COVID: করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার পরেও অনেকের শরীরে থেকে যাচ্ছে ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ও স্মৃতিশক্তির সমস্যা। লং কোভিড নিয়ে নতুন মার্কিন গবেষণায় দেখা গেল, তিন বছরে প্রায় অর্ধেক রোগীর উপসর্গ কমেছে এবং এক-চতুর্থাংশ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু কোন ধরনের উপসর্গ থাকলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি? কী বলছে গবেষণা?

কলকাতা বন্দরে উদ্ধার সাড়ে ১৩ কোটি টাকার ই-সিগারেট, শরীরের কী কী ক্ষতি করে এই ইলেকট্রনিক সিগারেট?

E-Cigarette Side Effects: কলকাতা বন্দরে প্রায় ৫৫ হাজার ই-সিগারেট উদ্ধার করেছে রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর (DRI)। উদ্ধার হওয়া পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩.৫ কোটি টাকা। ভারতে নিষিদ্ধ এই ইলেকট্রনিক সিগারেট শরীরের কী কী ক্ষতি করতে পারে?

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর হতে পারে?

Fatty liver: ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর? অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে এই পরীক্ষাধীন ওষুধ লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে? প্রাণীর শরীরে আশাব্যঞ্জক ফল মিললেও মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা কি প্রমাণিত হয়েছে? ভবিষ্যতে কি গুরুতর ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন দিশা দেখাতে পারবে DT-109?

ইউক্রেনকে বিসর্জন দিয়ে পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প?

Trump Putin relationship: ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠতা বর্তমান বিশ্বরাজনীতির জটিল সমীকরণকে নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে?

বাংলার স্বাস্থ‍্যরক্ষায় সরকারি স্বাস্থ্যব‍্যবস্থা সংহত হওয়া জরুরি: অভিজিৎ চৌধুরী

Abhijit Chowdhury Interview: তিনি বাঙালির ‘লিভারের ডাক্তারবাবু’ বলেই সমধিক পরিচিত। দীর্ঘদিন সরকারি ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। অবসরের পরেও জড়িয়ে রয়েছেন চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে। সোনারপুরে গড়ে তুলেছেন ‘লিভার ফাউন্ডেশন’। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে তাঁর পরবর্তী স্টেশন ‘স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়’।

হঠাৎ হৃদযন্ত্র বন্ধ হলে কী করবেন? নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর জেনে নিন CPR-এর জরুরি নিয়ম

How to perform CPR: ধরুন, হঠাৎ কেউ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। ডাকলেও সাড়া দিচ্ছেন না, স্বাভাবিকভাবে শ্বাসও নিচ্ছেন না। এমন অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় নেই। তাহলে, কী করবেন তখন?

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।