কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির প্রতিবাদ করতে ১৪ ঘণ্টা সময় কেন নিলেন মমতা?

Mamata Banerjee Arvind Kejriwal: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রতিবাদে ঢিলেমি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নীরবতা আসলে কি 'সেটিং তত্ত্ব'-রই প্রমাণ নয়?

inscript
৩ মিনিট
কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির প্রতিবাদ করতে ১৪ ঘণ্টা সময় কেন নিলেন মমতা?

দিদির জন্মদিনে তিনি শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান, সুস্থ জীবনের কামনা করেন। দিদি মাথায় চোট পেয়ে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটালে সঙ্গে সঙ্গে সুস্থতার কামনা করে টুইট করে জানান তিনি আছেন পাশে। রাজনৈতিক সৌহার্দ্য কাকে বলে টুইটে টুইটে প্রমাণ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা আর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল জোট শরিকও। আসন ভাগাভাগির কোনও খেলাতেই মমতা নেই। অথচ তিনি ইন্ডিয়া জোটে কিন্তু খাতায় কলমে আছেন। আছেন অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। সেই কেজরিওয়ালকেই ইডি গ্রেফতার করেছে আবগারি নীতি কেলেঙ্কারিতে। দেশজুড়ে শোরগোল ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা। অথচ এই একটি ঘটনার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সময় নিলেন ১৪ ঘণ্টা! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য এখনও! দোলা সেন, ডেরেক ও'ব্রায়েনের মতো কয়েকজন কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির বিরোধিতায় তড়িঘড়ি পোস্ট করেছেন ঠিকই, কিন্তু তৃণমূলের মুখেরা দীর্ঘক্ষণ চুপ রইলেন কেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রতিবাদে ঢিলেমি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নীরবতা আসলে কি 'সেটিং তত্ত্ব'-রই প্রমাণ নয়? মমতা জানেন তাঁর দলের শাহজাহান থেকে শুরু করে পার্থ চট্টোপাধ্যায় সকলেই জেলে। অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের বাড়িতে তল্লাশি চলছে। এই অবস্থায় নীরবতা বা প্রতিবাদ করতে সময় নেওয়া প্রমাণ করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুর নরম করছেন ভেতরে ভেতরে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের রাজনৈতিক সম্পর্ক কিন্তু কখনই খারাপ ছিল না। সম্প্রতি পড়ে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা চোট পাওয়ার পরে কেজরিওয়াল টুইটে খোঁজ করেছিলেন। মমতা নিজে সেই টুইটের উত্তরও দেন। তাহলে ইডির কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির ঘটনায় সামান্য প্রতিবাদ করতে কেন এত সময় নিলেন মমতা? লোকসভা নির্বাচনের আগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেফতারির ঘটনা নিঃসন্দেহে সারা দেশের রাজনীতিতে এক বিশাল ঘটনা। কিছুকাল আগেই ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে গ্রেফতার করা হয়। তৃণমূলের একাধিক নেতাও জেলে। তৃণমূল বারবার বলে এসেছে ইডি-সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে বিজেপি রাজনৈতিক ফায়দা লোটে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেফতারিতে কি ভয় বেড়েছে তৃণমূলের। এই চুপ থাকা, এই দীর্ঘ বিরতি নিয়ে আসলে নিজেদের বাঁচাতে চাইছেন মমতা?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল গ্রেফতার! বিজেপির দিল্লি দখলের মোক্ষম অস্ত্র এটিই?

CM Arvind Kejriwal Arrested by ED: আবগারি নীতিতে মদের হোম ডেলিভারি এবং দোকানগুলি রাত্রি ৩টে পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। লাইসেন্স থাকলে বিক্রেতা যা ইচ্ছা ছাড়ও দিতে পারে।

I vehemently condemn the arrest of Arvind Kejriwal, the sitting elected Chief Minister of Delhi elected by the people. I have personally reached out to Smt Sunita Kejriwal to extend my unwavering support and solidarity. It's outrageous that while elected opposition CMs are being…

— Mamata Banerjee (@MamataOfficial)

লোকসভা নির্বাচনে যতই সকলে ইন্ডিয়া জোটে থাকুন না কেন, কেজরিওয়াল আর মমতা একটি সিদ্ধান্তে একমত হয়েছিলেন। মমতা স্পষ্ট বলেছিলেন রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও আসন ভাগাভাগি নয়। ওদিকে কেজরিওয়ালও বলে দেন পঞ্জাবে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, নিজের রাজ্যে বিজেপিকে ২০ টির বেশি আসন পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে ফেলেছে তৃণমূল। একাধিক আসনে বিজেপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দুর্বলতম প্রার্থী দিয়ে, বেশ কিছু আসনে ভোট কাটাকাটির অঙ্কে বিজেপিকে বড় অংশ পাইয়ে দিতে চেয়েছে তৃণমূল। এই 'সেটিং'-এর কারণেই একা লড়তে চেয়েছে তৃণমূল। যাতে নিজের গড় ধরে রাখা যায় আর দলের দুর্নীতির মাথাদেরও ইডি-সিবিআই অস্ত্র থেকে রক্ষাকবচ জোগানো যায়। তাই কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির তেড়েফুঁড়ে বিরোধিতা করলে আখেরে তৃণমূলের সামনের সারির নেতাদেরই বিপদ হতো। তাই নরম স্ট্রোক খেলে আদতে একদিকে বিজেপির মনরক্ষা করতে চাইছে তৃণমূল, অন্যদিকে ইন্ডিয়া জোটকেও বলতে চাইছে 'পাশে আছি'।

কেজরিওয়ালের গ্রেফতারিকে ‘লজ্জাজনক ও অসাংবিধানিক’ বলেছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধি বঢ়রা। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন, এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ার, সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি, এসপি প্রধান অখিলেশ যাদব এর নিন্দা করেছেন। বাংলায় বিজেপির রাজ্যসভাপতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, মাফলারের পর হাওয়াই চটি। এই ইঙ্গিত যে আসলে খানিক ফাঁপা তা নানা তথ্য দিয়ে প্রমাণ করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এই লোকসভা নির্বাচনে জান লড়িয়ে দেবেই তৃণমূল। তার জন্য যেখানে যেভাবে আচরণ করতে হয় তাতে প্রস্তুত ঘাসফুল শিবির। দলের একাধিক নেতা-মন্ত্রী নানা দুর্নীতিতে জেলে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ রইলেও তিনিই একমাত্র এখনও ছোঁয়া বাঁচিয়ে চলতে পেরেছেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, কয়লা পাচার মামলায় ১০ জুলাই পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেরার জন্য দিল্লিতে তলব করবে না ইডি। স্বাভাবিকভাবেই, আদালতের এই নির্দেশ তৃণমূলের জন্য বিরাট এক অর্জন!

লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে অভিষেক ব্যস্ত থাকবেন। ফলে তাঁকে দিল্লিতে তলব করা যাবে না। ১০ জুলাই মানে ভোট শেষ, ভোট গণনা শেষ, ফলাফল জেনে সরকার গড়াও শেষ। ততদিন অবধি অভিষেককে ছুঁতেও পারবে না ইডি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিষেককে বাঁচানোর এই ব্যবস্থাটি বিজেপির অসম্মতিতে হয়নি মোটেও। তৃণমূল আর বিজেপির মধ্যেকার বোঝাপড়াতেই অভিষেক বাড়তি সময় পেয়েছেন। নির্বিঘ্নে রাজ্যে প্রচার করার সুযোগ পেয়েছেন। সবটাই বিজেপির আনুকূল্যে। তাই এই মুহূর্তে অরবিন্দের পাশেও থাকব আবার বিজেপি বিরোধিতার সুরেও হালকা গেয়ে চলব পথেই আস্থা রাখছে তৃণমূল। এখনও ভোট হয়নি, ফলাফলও তাই জানা নেই। এদিকে বিজেপির আগ্রাসনের সামনে বিস্তর দুর্নীতির বোঝা নিয়ে নির্ভীকও থাকা যাচ্ছে না। তাই নরমপন্থাতে ভরসা রেখেই এগোচ্ছে তৃণমূল।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।