সমুদ্রের তলায় গচ্ছিত ১১১ বছরের ভয়ংকর ইতিহাস! অবাক করবে টাইটানিকের সেই বিরল ছবি

Titanic : কেমন আছে টাইটানিক, প্রথমবারের মতো দেখা গেল বিরল দৃশ্য...

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
সমুদ্রের তলায় গচ্ছিত ১১১ বছরের ভয়ংকর ইতিহাস! অবাক করবে টাইটানিকের সেই বিরল ছবি

১১১ বছরের পুরনো একটি জাহাজের ধ্বংসাবশেষ প্রকাশ্যে এসেছে। যে সে জাহাজ নয়, টাইটানিক। বিশ্বের ইতিহাসে যার উপস্থিতি ক্ষণিকের হলেও অস্বিত্ব বহু বহু সময়ের। শুনতে অবাক লাগলেও এমন এটাই সত্যি। সম্প্রতি নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে আটলান্টিক মহাসাগরের তলায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা একটা ইতিহাসের ছবি। বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ।

সেই অমোঘ দৃশ্য। আটলান্টিকের বরফগলা জলে ভাসছে দরজার একটা পাল্লা। সেটুকুকেই খড়কুটোর মতো আঁকড়ে রয়েছেন নায়িকা। নায়ক জ্যাকও লুটোচ্ছে প্রাণপণ ওই ভাসমান পাল্লা আঁকড়েই। পরে অবশ্য একটি স্পিডবোট এসে নায়িকা রোজকে বাঁচায় তবে নায়ক হারিয়ে যান অতল গভীরেই। ছবির নাম ‘টাইটানিক’। ১৯৯৭-এ মুক্তি প্রাপ্ত হলিউডি এপিক। যা কেবল ইংরেজি ভাষাই নয় ঘোর ধরায় অন্যান্য ভাষাভাষীদের মধ্যেও। তবে এ ঘটনা কেবল গল্প নয়, ঘোর বাস্তব থেকে তুলে আনা পটচিত্র মাত্র।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শেষ জীবিত যাত্রী ছিলেন ভারতেরই বাসিন্দা, টাইটানিক নিয়ে যে তথ্য অজানা অনেকেরই

Titanic : টাইটানিকের শেষ জীবিত যাত্রী ছিলেন নাকি ভারতের বাসিন্দা

সিনেমাটি ১৯৯৭ সালের হলেও ঘটনাটা আরও অনেকদিন আগের। যে ঘটনার পর কেটে গিয়েছে প্রায় ১১১ বছর। তবে এতো বড় একটা ঘটনা স্মৃতি থেকে আবছা হয়ে যাওয়ার জন্য হয়তো এই কটা বছর খুবই কম সময় হয়ে গেল! আজও দগদগে ঘা হয়ে আছে সেই ঘটনা। সেই সময়ের কেউই হয়তো j আর বেঁচে নেই, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ঘটনার ভয়াবহতা বিয়ে বেরিয়েছে আগামী প্রজন্মও। যার জের আরও বহাল।

‘টাইটানিক’ নিছক দুর্ঘটনা নাকি জাহাজডুবির কোনও ছক, আজও উত্তর মেলেনি এমন আরও অনেক প্রশ্নের। কেবল ইতিহাসের পাতায় বিভীষিকার মতো থেকে গিয়েছে জাহাজের এই নামটুকু। সিনেমার সেই টাইটানিক যদিও আসল ছিল না। পুরোটাই সাজানো। কিন্তু আসল টাইটানিক কেমন ছিল সেই নিয়ে একটা সম্যক ধারণা দিয়েছিল ওই ছবি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোনওদিন ডোবেইনি আসল টাইটানিক! আড়ালে ছিল কোন ষড়যন্ত্র?

Titanic: বিশেষজ্ঞরা বলেন, আকার এবং আয়তনের প্রায় প্রায় সমান হওয়ার কারণে কেউ ধরতেই পারেনি, বেলফাস্ট বন্দর থেকে অলিম্পিক বেরোয়নি বরং বেরিয়েছিল নাকি টাইটানিক।

সিলভার স্ক্রিনের টাইটানিক ক্রমশ বাড়িয়েছে আগ্রহ। আর সেই আগ্রহই ঠেলে দিয়েছে আসল টাইটানিকের দিকে। ১৯১১ সালে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর বুকে ওরকম একটা জাহাজ তৈরি করাই ছিল এক আবিষ্কার। যার অন্দরমহলটাও ছিল দেখবার মতো। কারুকার্য এবং মানুষের সৃজনশীলতার মিশেল ছিল সে জাহাজ। আজও এতগুলো দিন পেরিয়ে এসে যা নিয়ে আগ্রহ টলে না এক রত্তিও। সেই জাহাজের ধ্বংসাবশেষ আজও জমে ছিল আটলান্টিকের গভীরে। এবার প্রথমবারের মতো সামনে এল সেই ছবি, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। গভীর সমুদ্রের ম্যাপিং ব্যবহার করে আটলান্টিক মহাসাগরে ৩ হাজার ৮০০ মিটার (১২,৫০০ ফুট) নিচে অবস্থিত টাইটানিকের প্রথম পূর্ণ আকারের ডিজিটাল স্ক্যান তৈরি করা হয়েছে বলেই খবর।

পুরো জাহাজের স্পষ্ট থ্রিডি দৃশ্য উঠে এসেছে স্ক্যানে। দেখলে মনে হবে যেন আটলান্টিকের পানি নিষ্কাশন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ১৯১২ সালে ডুবে যাওয়া টাইটানিকের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, সে সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, আসল ঘটনার দিন ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে জাহাজটি একটি বিশাল বরফের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। ভয়াবহ আকস্মিক দুর্ঘটনায় তলিয়ে যান প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ। তারপর থেকে বিভিন্ন সময় বহু গবেষকই এ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন তবে আজও বহু প্রশ্নের উত্তর থেকে গিয়েছে অজানা। ১৯৮৫ সালে প্রথম টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকবার অনুসন্ধান চালানো হয়। যদিও আটলান্টিকের ওই স্থানটি এতটাই গভীর এবং অন্ধকার যে, কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ ক্যামেরায় পুরোপুরি দেখা সম্ভব হয়নি।

তবে সাম্প্রতিক স্ক্যানে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ সম্পূর্ণরূপে ধারণ হয়েছে। ২০২২ সালের গ্রীষ্মে গভীর সমুদ্রের ম্যাপিং সংস্থা ম্যাগেলান লিমিটেড এবং আটলান্টিক প্রোডাকশনস এই স্ক্যান কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই বিষয়ে তৈরি ডকুমেন্টটিও সামনে এসেছে ইতিমধ্যেই। সূত্রের খবর, আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে প্রায় চার হাজার মিটার গভীর অংশে ২০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে প্রতিটি কোণ থেকে ৭ লক্ষাধিক ছবি তোলা হয় জাহাজটির। সেই ছবিগুলো দিয়ে একটি সঠিক থ্রিডি তৈরি করা হয়েছে। আর এই থ্রিডি চিত্র আগামীদিনে টাইটানিক জাহাজ সম্পর্কে বহু জমে থাকা প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট করবে বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।